ব্রেক্সিট জয়ী হয়েছে। পরাজিত ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখন কী করবে?

ব্রেক্সিট জয়ী হয়েছে। পরাজিত ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখন কী করবে?
সাইয়িদ রফিকুল হক

বেশ কিছুদিন আগে থেকে শোনা যাচ্ছিলো এবার গ্রেট-বৃটেন ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন’ থেকে বেরিয়ে যাবে। কিন্তু বললেই তো আর হলো না। এর জন্য একটি নিয়মরীতি আছে। তাছাড়া, নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্রের দেশে গণতন্ত্র পুরাপুরি বিদ্যমান। তাই, বিষয়টি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের দিকে গড়ায়। আর এতে নির্বাচনের আগে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরুন এইব্যাপারে চূড়ান্ত-ফয়সালার জন্য বৃটেনবাসীকে গণভোটের আশ্বাস দেন। আর এই গণভোটে বৃটেনবাসী সিদ্ধান্ত নেবে তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকবে-কি-থাকবে না।
আর সেই মোতাবেক বৃটেনে গণভোট শেষ হয়েছে। আর এতে ব্রেক্সিটের পক্ষেই জয় হয়েছে। এবার বৃটেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাবে। আন্তর্জাতিক বিশ্বে গ্রেট-বৃটেনের ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ব্যাপারটা ব্রেক্সিট বা BREXIT নামে অভিহিত হয়েছে। এর মানে হলো: Britain Exit বা British Exit. অর্থাৎ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে গ্রেট-বৃটেনের বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াই হলো ব্রেক্সিট বা BREXIT.

চার-দশকের বেশি সময় ধরে ইউরোপীয় ইউনিয়নে গ্রেট-বৃটেন একটি প্রভাবশালী রাষ্ট্র হিসাবে অধিষ্ঠিত থাকলেও অতিসম্প্রতি তাদের রাষ্ট্রিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিরাট সমস্যার সৃষ্টি হয়। আর এর মূল কারণ হলো বৃটেনের মতো একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রের ইউরোপীয় ইউনিয়নের করতলে থাকা। ইউরোপের অধিকাংশ দেশই ইউরোপীয় ইউনিয়ন নামক আধুনিক-মোড়লদের সঙ্গে থেকে লাভবান হয়েছে। কিন্তু এতে দিনে-দিনে ক্ষয়িষ্ণু হয়েছে গ্রেট-বৃটেন। তাদের দেশে নানাসমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। আর তাই, এখান থেকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে বেরিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে পাউন্ডের দাম কমে যাওয়ায় বৃটেনবাসী ভয়ানকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে গেলে এখন তাদের সুদিন ফিরে আসবে বলে সবাই ধারণা করছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এতোদিন গ্রেট-বৃটেন সংযুক্ত থাকায় তাদের এই ইউনিয়নের নিয়মরীতি মেনে ইউরোপের অন্যান্য দেশের সঙ্গে সিরিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে শরণার্থীদের আশ্রয় দিতে হয়েছে। এতে তাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে লোকসানের সম্মুখীন হতে হয়েছে। আর বৃটেনে একবার ঢুকতে পারলে সম্মানজনক বেকারভাতার মাধ্যমে চাকরি না করেও আরামআয়েশে জীবনযাপন করার অভিপ্রায়ে অনেক অভিবাসীই বৃটেনে বসে-বসে খেতে আরম্ভ করছিলো। এজন্য ব্রিটিশ-সরকার বেকারভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে আইন পর্যন্ত সংশোধন করতে বাধ্য হয়। এর ফলে গ্রেট-বৃটেনের আসল নাগরিকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে তুরস্কের মতো আরও-কিছু সন্ত্রাসবাদী শয়তানরাষ্ট্র ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদান করতে পারে—এই আভাস পাওয়ার পর থেকেই ব্রিটিশ-সরকার নড়েচড়ে বসে। ব্যস, তারপর এই ব্যবস্থা। কিন্তু এখন প্রশ্ন হচ্ছে: পরাজিত ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখন কী করবে? আর তাদের মোড়লগীরী হুমকির সম্মুখীন হবে নাতো?

[বি.দ্র. ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, নর্দান আয়ারল্যান্ড ও ওয়েলসের সমন্বয়ে গ্রেট-বৃটেন গঠিত। তাই, এখানে বারবার গ্রেট-বৃটেন নামটিই ব্যবহার করা হয়েছে।]

সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।
২৪/০৬/২০১৬

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

78 − 68 =