স্বৈরশাসক জিয়াকে রাষ্ট্রপতি বলা আদালত অবমাননার শামিল

২০০৫ সালের ২৯ আগস্ট মাননীয় বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক ও বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবীরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করেন। ওই রায়ে, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত জারি করা সমস্ত সামরিক ফরমান অবৈধ ঘোষণা করা হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করার পর আওয়ামী লীগ নেতা খন্দকার মোশতাক আহমদ, একই বছরের ৬ নভেম্বর বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম এবং ২৯ নভেম্বর ১৯৭৬ জেনারেল জিয়ার ক্ষমতা গ্রহণ এবং সামরিক শাসন জারিকে অবৈধ ঘোষণা করে।

পুনরায়, হাইকোর্ট ২০১০ সালে সংবিধানের পঞ্চম ও সপ্তম সংশোধনী বাতিল করে দেয়া এক রায়ে যথাক্রমে জিয়াউর রহমান ও এরশাদের শাসনামলকে অবৈধ ঘোষণা করেছে। ২০১১ সালে মে মাসে এরশাদের সামরিক শাসন অবৈধ ঘোষণা করে সপ্তম সংশোধনী বিষয়ে হাইকোর্টের দেয়া রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ।

উল্লেখ্য পঞ্চম সংশোধনীতে যথাক্রমে মুশতাক, সায়েম, জিয়ার শাসনকে বৈধতা দেয়া হয়েছিল, ও সপ্তম সংশোধনীতে এরশাদের স্বৈরশাসনকে বৈধতা দেয়া হয়েছিল।

আদালতের রায় অনুযায়ী জিয়াউর রহমানকে সাবেক রাষ্ট্রপতি বলা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে তিনি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকেও ‘অবৈধ রাষ্ট্রপতি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। বিএনপির জন্ম গণতন্ত্রের মধ্য দিয়ে হয়নি বলে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ কথা ভুললে চলবে না, জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখল করেছিল হত্যা, ক্যু, ষড়যন্ত্রের রাজনীতির মাধ্যমে। জিয়ার ক্ষমতা দখল অবৈধ। সে সংবিধান লংঘন করেছে, আর্মি রুলস অ্যান্ড অ্যাক্ট লংঘন করেছিল। নিজেকে নিজে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা দিয়েছিল। শুধু তা-ই না, একাধারে সেনাপ্রধান, রাষ্ট্রপতি। একই অঙ্গে দুই রূপ নিয়ে রাষ্ট্র শাসন করেছিল। ঠিক আইউব খানের মতো।’

জিয়াউর রহমান ও এরশাদকে ‘অবৈধ রাষ্ট্রপতি’ আখ্যায়িত করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘হাইকোর্টের স্পষ্ট রায় আছে, জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা দখল অবৈধ। এরশাদের ক্ষমতা দখল অবৈধ। তাই পঞ্চম ও সপ্তম সংশোধনী বাতিল ঘোষণা হয়েছে। আর যারা একবার উচ্চ আদালত থেকে অবৈধ বলে ঘোষিত হয়েছে, তার মানে জিয়াউর রহমানকে যতই রাষ্ট্রপতি, রাষ্ট্রপতি বলা হোক, তাকে কিন্তু সাবেক রাষ্ট্রপতি বলা যবে না। যদি বলা হয়, তাহলে হাইকোর্টের রায়কে লঙগণ করা হবে। কারণ তার ক্ষমতা অবৈধ। সে যেসব মার্শাল ল অরডিন্যান্স জারি করেছে, সংবিধান সংশোধন বা যেসব আইন করেছে, সব বাতিল বলে ঘোষণা হয়েছে। কাজেই এখন সাবেক প্রেসিডেন্ট এরশাদ বা জিয়াউর রহমান, কেউ কিন্তু আর সাবেক প্রেসিডেন্ট না। সেটা বলা যাবে না। কারণ তারা ক্ষমতা দখলকারী। উচ্চ আদালত যখন এই ঘোষণা দেয়, তখন সকলকে এটা মানতেই হবে।’

অতএব, স্বৈরশাসক জিয়া এবং এরশাদকে রাষ্ট্রপতি বলাই আদালত অবমাননার শামিল। আর প্রথম রাষ্ট্রপতি-তো দূরের কথা। মেজর জিয়াকে বাংলাদেশের প্রথম স্বৈরশাসক বলা যেতে পারে, কোনক্রমেই প্রথম রাষ্ট্রপতি নয়। যারা এধরনের অপরাধ বা ইতিহাস বিকৃতি করার চেষ্টা করে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের উচিত হবে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

খোরশেদ আলম, লেখক ও গবেষক

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

97 − 92 =