এটি শুধু বুদ্ধি প্রতিবন্ধীদের জন্যে

(Shoaib Uddin) এর অভিজ্ঞতা থেকে
সকাল ৭টায় আমাদের ঢাকা টু চট্টগ্রামের দ্রুত গতির রকেট “সোনার বাংলা এক্সপ্রেসে” উঠলাম পরিবার নিয়ে…এক সেকেন্ডের ও কোন হেরপের হই নাই, একদম জাস্ট টাইমে রকেট দোউড়াতে শুরু করলো…২৪ মিনিটে এয়ারপোর্ট স্টেশন চলে আসলো…৮ মিনিট যাত্রী উঠার জন্য অপেক্ষা করলো…আবার যাত্রা শুরু, ৩ মিনিটের মদ্ধে গতি উঠিয়ে ক্ষিপ্র গতিতে দোউড়াতে শুরু করলো বুলেটের মতো করে……….
নরসিংদীর কাছাকাছি আসতেই কেবিন নক দিলো…কেবিনের দরজা স্লাইডিং করে খোলা মাত্রই আমাদের রকেটের বিমান বালা মুচকি হেসে গুড মর্নিং স্যার বললো…সদ্য ভার্সিটি পাস করা ইয়াং ছেলে যখন এরকম নাস্তার প্যাকেট সহ বিমান বালার গুড মর্নিং ডাক শুনে তখনকার অনুভূতি অপ্রকাশ্য 😉 ৪টা নাস্তার প্যাকেট দিয়ে তিনি বললেন, “ওয়েট স্যার, ওয়াটার বোতল দিচ্ছি”…ট্রলি করে কেবিনের ভিতর এসে ৪টা ওয়াটার বোতল দিয়ে গেলো, আমার ফ্যামিলি মেম্বারদেরকেও গুড মর্নিং এবং জাওয়ার সময় থ্যাংক ইউ দিলো…আমার ফ্যামিলি মেম্বারকে অনার করার বিষয়টা আমার থেকে জাস্ট অসাধারন লেগেছে…
এবার আসুন খাবার নিয়ে…যারা বলেন খাবার কম, তাদের উদ্দেশ্যে বলছি…প্যাকেট টা দেখেন, খাবার উপচে পরতেছে…দুইটা চিকেন চপ, দুইটা খেজুর, একটা জুস, একটা কেক, একটা আপেল, এক বোতল পানিসহ টোটাল ৬টা আইটেম…আর কি চান ভাই ???
যেকোন জার্নিতে কি এর বেশি খাবারের প্রয়োজন ??? আর যদি যুক্তি তর্ক করেন তাহলে বলবো ১৯৫ টাকার খাবার এটা জথেষ্ট মনে হয়েছে 🙂 কেননা ঠিক এরকম একটা খাবার প্যাকেজ ভালো রেষ্টুরেন্টে আপনার থেকে এই আইটেম গুলুর দাম এমনই রাখবে 🙂
সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে আমাদের রেলওয়ের সিনিয়ররা যদি খাবারের দামটা আলাদাভাবে না উল্লেখ করে যদি বলতেন, টিকেটের সাথে খাবার ফ্রি তাহলে আমার মতো বাংগালীরা খুশিমনে সন্তুষ্ঠ থাকতো…কেননা এই আমরাই গ্রীনলাইনে স্লিপিং কোচে ১৫০০ টাকার টিকেট কেটে ১ বোতল পানি নিয়েই খুশি, এমনও দেখেছি ২০১৩ সালে গ্রীন লাইন ৬০০ টাকার টিকেটের সাথে পানির বোতল দেই এটা নিয়ে সেকি সাজ সাজ রব ছিলো তখন 🙂
পরিশেষে বলতে চাই, খাবারের মান ১০/১০…ফুড ম্যেনু ১০/১০, যদিও কমার্শিয়াল হয়ে জাওয়ার কারনে প্রান জুস নিয়ে অনেকেই অসুন্তুষ্ঠ, তবুও বলবো ”প্রান দিয়েই যদি পরিবর্তনের শুরু হয়, তাহলে ভাই মন্দ কি, একটু অপেক্ষা করুন, ম্যানেজমেন্ট সব ঠিক করে দিবে” 🙂 …
লাস্ট ব্রিফিংটা হলো সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের প্রত্যেক্টা ভাইয়া, আপু, স্টাফ, টিকেট চেকারদের ব্যাবহার অমায়ীক লেগেছে…স্যালুট অল অব ইউ গাইজ…কিপ ইট আপ…বেষ্ট অব লাক.
‪#‎এবার‬ দেয়া যাক রামছাগলদের প্রপাগান্ডার উত্তর-
(Mohammad Safayet Khan Akash)এর অভিজ্ঞতা থেকে
“প্রোপাগান্ডা ১: “সোনার বাংলা এক্সপ্রেস দেখতে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ফ্ল্যাগের মত, সেইম কালার, সেইম প্যাটার্ন।”
—> সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের বাইরের অংশে ব্যবহার করা হয়েছে তিনটা মাত্র কালার। অলমোষ্ট পুরোটাই গাঢ় সবুজ, উপরে আর মাঝে রক্তলাল, এর মাঝে ডিজাইনের জন্য সাদা। এটা কিভাবে ইন্ডিয়ান ফ্ল্যাগকে রিপ্রেজেন্ট করে? ইন্ডিয়ান ফ্ল্যাগ মূলত হালকা সবুজ, কমলা আর সাদা রং দিয়েই গড়া, আর সাদার মাঝে চক্র টাইপের কি জানি একটা থাকে।
প্রোপাগান্ডা ২: “ট্রেনের ভেতরের ইন্সট্রাকশনস হিন্দীতে লেখা”
—> সবগুলো বগি ঘুরে দেখার সময় হয়নি, কয়েকটা দেখলাম, সবগুলো একই প্যাটার্নে বাংলায় আর ইংলিশে ইন্সট্রাকশনস দেওয়া। হিন্দী কই ভাউ? দেখলাম না তোহ :/ ট্রেনের বাইরের অংশও ঘুরে দেখলাম। বাংলাই ইউজ করা হইছে বেশি বাইরের অংশে, বাকিগুলো ইংলিশ।
প্রোপাগান্ডা ৩: “স্টাফরা ইন্ডিয়ান, তারা বাংলাদেশীদের সাথে বাজে বিহেভ করে”
—> টু বি অনেস্ট স্টাফরা যখন খাবার প্যাকেজ সার্ভ করতে আসছিলো তখন তাদের ব্যবহারে মুগ্ধই হইছি। এবং হ্যাঁ তারা বাংলাদেশীই। ট্রেনের এটেন্ডেন্সের সাথে ট্রেন রিলেটেড বেশ কয়েকটা ব্যাপারে কথা বলা লাগছে, হ্যাঁ সেও বাংলাদেশী। ইন্ডিয়ানদের কাজকাম নাই নিজেদের দেশ ফেলে আমাদের রেলওয়েতে জব করবে?
অপপ্রচার চালানোরও একটা লিমিট থাকে, লজিকও থাকা লাগে। লিমিট আর লজিকের মায়েরেবাপ করে প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে নিজেকে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী পরিচয় দিবেন না দয়া করে ..”
The National Flag of India is a horizontal rectangular tricolour of deep saffron, white and India green; with the Ashoka Chakra, a 24-spoke wheel, in navy blue at its centre.
তাও যদি কেউ বলে, সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ইন্ডিয়ান ফ্লাগকে রিসেম্বল করে, তার মুর্খতার দায়ভার অন্য কেউ নেবে না
ছবিটিও সাফায়েত খান আকাশ এর তোলা। এরপরও কেউ যদি ট্রেনে হিন্দি লেখা, স্টাফরা ইন্ডীয়ান – এইসব বলেন, তাহলে তার যে শরীরের ঠিক কোন জায়গায় জ্বলুনিটা জ্বলছে, টের পেয়ে যাবো

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

47 − = 40