আতংক

এক ধরনের আতংকে আমার লেখালেখি সবই বন্ধ হয়ে গেছে। থাকতে না পেরে মাঝেমাঝে অন‌্যের লেখা শেয়ার করি ফেসবুকে। কিন্তু আজ আবারো সাহস করে লিখতে বসলাম।

গত দেড় বছরে এরকম প্রায় অর্ধশত হামলায় প্রায় অর্ধশত মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। লেখক-প্রকাশক-বিদেশি অতিথি-শিক্ষক-বাউল-ইমাম-নামাজরত মুসল্লি-পুরোহিত-সেবায়েত-খ্রিস্টান-বৌদ্ধ ভিক্ষু। সবই টার্গেট কিলিং।

অথচ একটি ঘটনারও কোন সুরাহা হয়নি। সরকারের ইচ্ছাও নেই। তা এতদিনে সবাই বুঝেও গেছে।

এদিকে ‘আনসারুল্লাহ বাংলা টিম’একটার পর একটা টার্গেট তালিকা প্রকাশ করছে, পাশাপাশি তারা হত্যার দায় স্বীকার করছে্। তাদের সাথে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর যোগ থাকুক বা না থাকুক, সরকারের দায়িত্বশীল লোকজন একেকবার একেক তথ্য দিচ্ছেন, কখনো সংকটের গভীরতাকে আড়াল করতে চাইছেন, কখনো খুনিদের সুরে সুর মিলিয়ে আক্রান্তদেরই দোষারোপ করছেন, কখনো উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই একপেশেভাবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দোষারোপ করছেন।

আমার প্রশ্ন, এ ধরণের প্রতিটি ঘটনার পর আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল সাহেব মানুষকে আশ্বস্ত্ব করেন নিরাপত্তা দেয়ার বিষয়ে। আইন শৃংখলা রক্ষাকারি ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এজন্য কাজ করছে বলেও তিনি দাবি করে থাকেন। এরপরও গত কয়েক মাস ধরে এ ধরণের ঘটনা ঘটেই চলেছে। এসব দেখেও কি একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে ওই মন্ত্রীর বক্তব্যের সাথে একথার সাথে একমত হতে হবে? আমি কিন্তু একমত হতে পারছি না। দেশে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী মানুষকে হয়রানি ও নির্যাতনসহ সব কিছু ঠিকমতো করতে পারলেও নিরাপত্তা দিতে পারছেনা। তারা ব্যস্ত নিজের পকেটের স্বাস্থ্য সবল করা নিয়ে। কারণ এ নিয়ে কোন অভিযোগ আমলে নেওয়ার কেউ নেই। বরং এসব অপরাধিদের বাঁচাতে মানুষের ও তদবিরের কোন অভাব নেই। দলবাজ ও ঘুষ দিয়ে পোস্টিং পাওয়া এসব বাহিনীর সদস্যরা তাদের মূল কাজ বাদ দিয়ে অপরাধিদের বদলে নিরীহ নাগরিকদের হয়রানি ও নির্যাতনে জড়িয়ে পড়ছেন এ কারণেই।

ইসলামী জঙ্গিরা নাস্তিক-মুক্তমনা-প্রগতিশীল-সংখ্যালঘু-সমকামীদের হত্যা করলো, সরকার তখন বলেছিল, দেশে জঙ্গি নাই, এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা। কিন্তু আজকে গুলশান-২ এর মর্মান্তিক ও ভয়ংকর ঘটনা প্রমাণ করে, সরকারের সেই সময়ের বক্তব্যের অসাড়তা। বাংলাদেশ ইসলামী জঙ্গিদের দ্বারা আক্রান্ত এবং ইসলামী জঙ্গিরা সুসংগঠিত।

বাংলাদেশকে পাকিস্তান-আফগানিস্তান-মধ্যপ্রাচ্য-নাইজেরিয়ার মত পরিণতি হতে উদ্ধার করার এখন একটিই উপায়, তাহলো- ইসলামী জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে চুড়ান্ত বলপ্রয়োগ।

জামাত-বিএনপি-হিজবুত তাহরীর-জেএমবি-আনসার আল ইসলাম এরা সবাই ইসলামী জঙ্গি; এদের কঠোরহস্তে আইন ও বলপ্রয়োগের মাধ্যমে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে দমন করুন।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “আতংক

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

5 + 3 =