ঢাকার সন্ত্রাসী হামলা এবং মডারেট মুসলিমদের হিপোক্রেসি

আমি বেশ কিছুদিন ধরেই ধর্ম নিয়ে লেখালেখি করায় অনেকেই আমাকে ইসলাম বিদ্বেষী বলেছেন, আমি নাকি শুধু ইসলাম ধর্ম নিয়েই লেখালেখি করি, আমি পদে পদে ইসলামের ভুল ধরি, আমি নাকি ইসলামের অপব্যাখ্যা দেই।

ইসলাম নাকি আসলে শান্তির ধর্ম, কিছু বিপথগামী লোক ইসলামকে ব্যবহার করছে।

আমি তাদেরকে বলব, আপনারা ইসলামের কিছুই জানেন না। এক পাতাও কোরান হাদিস পড়েন নাই। আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি, যদি কোন মুসলিম কোরান হাদিস অক্ষরে অক্ষরে পালন করে সে আজকের সমাজের চোখে ইসলামী জঙ্গি হিসেবে প্রমানিত হবে। যারা ইসলামের নামে বোমা হামলা করে তারা আপনাদের মত মোডারেট না, তারা ইসলামকে ভালবাসে। তারা কোরান হাদিস অনুসরন করে। তারাই ইসলামের শত্রুদের এই দুনিয়া থেকে মুছে দিতে চায়, তারা সমাজে শরিয়া আইন প্রয়োগ করতে চায়।

আমি সেই জন্যই ইসলাম নিয়ে লেখি, ইসলামের ভুল ত্রুটি তুলে ধরি। ধর্মকে আমিও সম্মান করি, যতক্ষন না পর্যন্ত কোন ধর্ম মানুষের প্রান নিচ্ছে। যদি কালকে খ্রিস্টান ধর্মের কেউ ধর্মের নামে মানুষ হত্যা করে আমাকে সরব পাবেন, প্রতিবাদ করতে দেখবেন।

আমি কি করব বলুন? অন্যন্য ধর্ম তো নারায়ে তাকবীর বলে বোমা ফাটায়না। নিরীহ মানুষ হত্যা করেনা। অন্য ধর্ম তো নাস্তিক হওয়ার কারনে মানুষ খুন করেনা, সমকামী হওয়ার কারনে ফাঁসি দিয়ে মানুষের প্রান নেয় না।

আজকে যারা আমাকে ইসলাম বিদ্বেষী বলছেন তাদের বাবা, মা, ভাই, বোন যদি ঢাকায় ইসলামী জঙ্গিদের হাতে মারা যেত, তখনও তারা ” ইসলাম শান্তির ধর্ম, ইসলাম এইসব সমর্থন করেনা ” এইসব বলতেন কিনা খুব জানতে ইচ্ছা করে।

মানবতার উপর কোন ধর্ম নাই। যে ধর্ম মানুষকে অন্ধ করে তোলে, যেই ধর্ম তথাকথিত ঈশ্বরের তৈরি মানুষকে ভালবাসতে নয়, হত্যা করতে আদেশ দেয়, আমি সেই ধর্মের বিরুদ্ধে লিখে গিয়েছি, লিখে যাব।

মানবতা মুক্তি পাক।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৭ thoughts on “ঢাকার সন্ত্রাসী হামলা এবং মডারেট মুসলিমদের হিপোক্রেসি

    1. “যখন নির্দেশ দান করেন
      “যখন নির্দেশ দান করেন ফেরেশতাদিগকে তোমাদের পরওয়ারদেগার যে, আমি সাথে রয়েছি তোমাদের, সুতরাং তোমরা মুসলমানদের চিত্তসমূহকে ধীরস্থির করে রাখ। আমি কাফেরদের মনে ভীতির সঞ্চার করে দেব। কাজেই গর্দানের উপর আঘাত হান এবং তাদেরকে কাট জোড়ায় জোড়ায়।”
      ( সূরা ৮- আয়াত ১২)

      “অত:পর যখন তোমরা কাফেরদের সাথে যুদ্ধে অবতীর্ণ হও, তখন তাদের গর্দানে মার, অবশেষে যখন তাদেরকে পূর্ণরূপে পরাভূত কর তখন তাদেরকে শক্ত করে বেধে ফেল। অত:পর হয় তাদের প্রতি অনুগ্রহ কর, না হয় তাদের নিকট হতে মুক্তিপণ লও। তোমরা যুদ্ধ চালিয়ে যাবে যে পর্যন্ত না শত্রুপক্ষ অস্ত্র সমর্পণ করবে! একথা শুনলে। আল্লাহ্ ইচ্ছা করলে তাদের কাছ থেকে প্রতিশোধ নিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তোমাদের কতককে কতকের দ্বারা পরীক্ষা করতে চান। যারা আল্লাহর পথে শহীদ হয়, আল্লাহ্ কখনই তাদের কর্ম বিনষ্ট করবেন না।”
      ( সূরা ৪৭- আয়াত ৪ )

      “আর তাদেরকে হত্যাকর যেখানে পাও সেখানেই এবং তাদেরকে বের করে দাও সেখান থেকে যেখান থেকে তারা বের করেছে তোমাদেরকে। বস্তুত: ফেতনা ফ্যাসাদ বা দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করা হত্যার চেয়েও কঠিন অপরাধ। আর তাদের সাথে লড়াই করো না মসজিদুল হারামের নিকটে যতক্ষণ না তারা তোমাদের সাথে সেখানে লড়াই করে। অবশ্য যদি তারা নিজেরাই তোমাদের সাথে লড়াই কর। তাহলে তাদেরকে হত্যা কর। এই হল কাফেরদের শাস্তি।
      ( সূরা২- আয়াত ১৯১ )

      “অত:পর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর । আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ্ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”
      ( সূরা ৯- আয়াত ৫ )

      “তারা চায় যে, তারা যেমন কাফের, তোমরাও তেমনি কাফের হয়ে যাও, যাতে তোমরা এবং তারা সব সমান হয়ে যাও। অতএব, তাদের মধ্যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, যে পর্যন্ত না তারা আল্লাহর পথে হিজরত করে চলে আসে। অত:পর যদি তারা বিমুখ হয়, তবে তাদেরকে পাকড়াও কর এবং যেখানে পাও হত্যা কর।
      ( সূরা ৪- আয়াত ৮৯ )

      “হে ঈমানদারগণ, তোমাদের নিকটবর্তী কাফেরদের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাও এবং তারা তোমাদের মধ্যে কঠোরতা অনুভব করুক্ আর জেনে রাখ, আল্লাহ্ মুত্তাকীদের সাথে রয়েছেন।”
      ( সূরা ৯- আয়াত ১২৩)

      “আল্লাহ্ তাদেরকে ভালবাসেন, যারা তাঁর পথে সারিবদ্ধভাবে লড়াই করে, যেন তারা সীসাগালানো প্রাচীর।”
      ( সূরা ৬১- আয়াত ৪ )

      “তোমাদের উপর যুদ্ধ ফরয করা হয়েছে, অথচ তা তোমাদের কাছে অপছন্দনীয়। পক্ষান্তরে তোমাদের কাছে হয়তো কোন একটা বিষয় পছন্দসই নয়, অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর হয়তোবা কোন একটি বিষয় তোমাদের কাছে পছন্দনীয় অথচ তোমাদের জন্যে অকল্যাণক। বস্তুত: আল্লাহ্ই জানেন, তোমরা জান না।”
      ( সূরা ২- আয়াত ২১৬ )

      “যারা আল্লাহ্ ও তাঁর রসূলের সাথে সংগ্রাম করে এবং দেশে হাঙ্গামা সৃষ্টি করতে সচেষ্ট হয়, তাদের শাস্তি হচ্ছে এই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা শূলীতে চড়ানো হবে অথবা তাদের হস্তপদসমূহ বিপরীত দিক থেকে কেটে দেয়া হবে অথবা দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে। এটি হল তাদের জন্য পার্থিব লাঞ্ছনা আর পরকালে তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি।”
      ( সূরা ৫- আয়াত ৩৩ )

      “সুতরাং যদি কখনো তুমি তাদেরকে যুদ্ধে পেয়ে যাও, তবে তাদের এমন শাস্তি দাও, যেন তাদের উত্তরসূরিরা তাই দেখে পালিয়ে যায়; তাদেরও যেন শিক্ষা হয়।
      ( সূরা ৮- আয়াত ৫৭)

      “তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ্ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ্ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে।
      ( সূরা ৯- আয়াত ২৯)

      1. আপনি তো বিরাট চালাক।
        আপনি তো বিরাট চালাক। মুহাম্মদের সাথে মুশরিক আর প্যাগানদের সাথে যুদ্ধের সময়ের কোরানের আয়াতগুলো অবতীর্ন হয়েছিল। কোরান খুব স্বাভাবিক ভাবেই সেই সময়কার মুশরিক আর প্যাগানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে বলছে, যারা ইসলাম ধর্মকে নিশ্চিহ্ন করতে চাইছিল। এটার সাথে এখনকার জংগীবাদ মিলিয়ে ফেলাটা নিতান্ত মুর্খতা।

  1. এ পর্যন্ত ইহুদী আর খৃষ্টানরা
    এ পর্যন্ত ইহুদী আর খৃষ্টানরা ইরাক, আফগানিস্থান, লিবিয়া , প্যালেস্টাইন এই চারটা দেশ প্রায় ধ্বংশ করেছে এবং প্রায় ২০লাখের উপর মানুষ হত্যা করেছে।

    হিটলার , মুসলিনি, স্ট্যালিন, মাওসেতুং এই কয়েকজন নাস্তিক ১০ মিলিয়নের উপর মানুষ হত্যা করেছে।

    কমিউনিস্ট রাশিয়া বসনিয়া আর চেচনিয়ায় লক্ষাধিক মানুষ করেছে।

    বৈদ্ধদেশ মিয়ানমার হাজার হাজার রোহিংগা প্রতিদিন হত্যা করছে।

    এগুলার ব্যাক্ষ্যা কি?

    1. হিটলার, মুসোলিনি, স্ট্যালিন,
      হিটলার, মুসোলিনি, স্ট্যালিন, মাও সেতুং এরা কি নাস্তিকতার নামে মানুষ হত্যা করেছিল? আপনি বললেন কমিউনিস্ট রাশিয়া বসনিয়া ও চেচনিয়ায় মানুষ হত্যা করেছে। কোন যুদ্ধটা নাস্তিকতা সম্পর্কিত ছিল? মিয়ানমারের হত্যাকান্ড কি ধর্মযুদ্ধ ছিল? পারলে একটু গুগলে যান। সব প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 1 = 3