গুলশানে জিম্মী ঘটনাঃ এখনই সাবধান হন, আরামে পরে দাড়ান

প্রধানমন্ত্রী অবিবেচক এবং দ্বায়িত্বজ্ঞানহীনের মত সংবাদ প্রচার করলে ভবিষ্যতে নানা চ্যানেলের সম্প্রচার করবার ক্ষমতা কেড়ে নেয়া হবে বলে হুমকী দিলেন আজ, আমি চাই উনি এটা করবেন।

তার আগে কিছু কথা আছে। উনার মুখে গর্ব দেখলাম আজ বক্তব্য প্রদানের সময়। এত বড় একটা ঘটনা ঘটে গেল, আর উনি গর্ব করছেন। কিসের গর্ব এটা? উনার তো শংকিত হবার কথা। জংগীদের সমূলে উতপাটনের জন্য সারা জাতির এবং সকল দলের সহযোগিতা চাইবার কথা।

শালার নিউজ চ্যানেলগুলার ব্যাপার স্যাপার আমি বুঝলাম না। স্পেশাল ফোর্স অভিযানে যাচ্ছে, আর কখন যাচ্ছে, কোন দিক দিয়ে যাচ্ছে এগুলো নানা চ্যানেলে বলে যাচ্ছে। উনাদের সেন্স অফ সেন্স দারুন। এই মুহুর্তে যদি ওইসব সাংবাদিকদের এবং নানা চ্যানেল মালিকদের পশ্চাদদেশ উন্মুক্ত করে তাতে চোখা বাশ প্রবেশ করানো হয়, তাহলে আমার মত আরও লাখ লাখ স্বপ্লবুদ্ধির মানুষও খুশী হবেন মনে হয়।

১ নং প্যারা কমান্ডো ব্যাটালিয়ান, নেভী সোয়াডস, পুলিশের সোয়াটস র‍্যাব, বিজিবি এবং পুলিশের সমর্থনে চমৎকার, ক্লিনিকাল একটি অভিযান পরিচালনা করেছে সবচেয়ে কম সময়ের প্রস্তুতিতে। আধুনিক বিশ্বের সব দেশেরও এত স্বল্প সময়ে এমন সফল অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা থাকে না। যদিও নানা চ্যানেল অভিযানের সারপ্রাইজ এইমেন্ট নষ্ট করে দিচ্ছিলো, তারপরেও ম্যাপ প্রস্তুত, তথ্য সংগ্রহের দ্রুততা সহ নানা খুটিনাটি ব্যাপারে পদক্ষেপ এবং পরিকল্পনাকে মনে হয়েছে খুব দ্রুত। যেই দ্রুত এই অভিযানের পক্ষে পরিকল্পনা দিয়ে থাকুক না কেন, তাই ছিল যথার্থ। এসব জঙ্গীরা সময় পেলে আরও দৃষ্টি আকর্ষিত হত আন্তর্জাতিক গন্মাধ্যমের এবং যারা বেঁচে আছেন, তাদের জীবনও বাচানো সম্ভব হতো না হয়তো। ভারতের দিল্লীতে হামলার সময় বিশেষ বাহিনী কতটা সময় নিয়েছিল আমরা তা জানি। যতটূকু জানা গেছে তাতে জঙ্গীরা গত রাতেই আনুমানিক ২০ জনকে জবাই করে হত্যা করে। তাই বাকীদের উদ্ধারে কমান্ড অভিযান দ্রুত পরিচালনা করা ছিল জরুরী।

এই হামলার সবচেয়ে বড় ব্যাপার ছিল এতে অংশ নেয়া সদস্যদের সংখ্যা। ৮-১০ জন এতে জড়িত থাকবার তথ্য জানা গেছে। জিম্মী করবার জন্য বা একটা বাড়িকে সুরক্ষিত করবার জন্য সংখ্যাটা বেশ বড়ই। যারা এসেছিলো হামলা করতে, তারা জানতো যে তাদের মৃত্যু নিশ্চিত। আর এ কারণেই তারা হয়ে ওঠে আরও ভয়ংকর।

যাইহোক, গুলশান এরিয়াকে আমরা সুরক্ষিত বলি। আসলেই কি তাই? না রে ভাই, আমার কখনো মনে হয়নাই। বারবার যাতায়াত করি, কয়বার চেক করছে আমাকে? মনে হয় ২০ বারে এক বার। আবার কাগজ ঠিক থাকলেই ছেড়ে দেয়। বাড়ি বাদে যারা হেটে যায় বা রিক্সায় করে যায়, তাদের কি চেক করা হয়? একদমই না। তাহলে একদিন বা দুইদিন সময় নিয়ে গোলাবারুদ মজুদ করা এমন কঠিন আর কোথায় থাকলো? তবে এটা ঠিক যে এর পরিকল্পনা বেশ ভালো ছিলো। ব্যাপক গোলাবারুদ তারা মজুদ করেছিলো বা নিয়ে আসতে পেরেছিলো স্বল্প সময়ে। সঠিক সময়ও নির্ধারন করা হয়েছিলো। কারণ, তারাবীর আগে এই সময়টা থাকে অনেকটাই অরক্ষিত। আর ইফতারের ভারে দ্বায়িত্বরতরাও ঢিলামী দেন। হামলাকারীরা এসব দূর্বলতার সঠিক পর্যবেক্ষন করেছিলো সম্ভবত। সবচেয়ে ভয়ংকর কথা হচ্ছে অনেক মাধ্যম দাবী করেছে এই হামলা হয়েছে মাত্র একদিন আগে জেএমবির নেতা খালিদ সাইফুল্লাহকে মুক্ত করবার জন্য। মাত্র একদিনে তারা এতোবড়ো একটা পরিকল্পনা করে ফেললো? সময় পেলে তবে ওরা কতটূকু করতে পারতো?

আমিতো ভাবছি শেরাটন, ওয়েস্টিন, সোনারগার কথা। ওইসবে হামলা আমার চোখে আরও সহজ। দুটা মাইক্রো নিয়ে ঢুকে যাও, বোমা ফাটিয়ে, কিছু ব্রাশ ফায়ার করে হতভম্ব করে দাও এবং টেক কন্ট্রোল। কোথাও কি একটাও এসএমজি সামলাবার মত নিরাপত্তা ব্যবস্থা আছে? নাই মনে হয়। নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা অপ্রতুল।

এইদেশ এখন জঙ্গীদের জন্য অভয়ারন্য হবার পথে। সরকার তো নিজেই বলে এদেশে এইসব জঙ্গী নাই, আইএস নাই। ব্যবস্থা নিবে কি করে, যখন এসব নাই ই? সরকারই মাদ্রাসা শিক্ষায় টাকা ঢালে, নানা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে পৃষ্ঠপোষকতা করে। তাদের লক্ষ্যই তো ইসলাম কায়েম, শরীয়া প্রতিষ্ঠা। ধর্মগ্রন্থে যা সবচেয়ে সঠিক বলা আছে তারা তো তাই করবে। এখন তাদের সেই শিক্ষায় শিক্ষিত করে সরকার যদি তাদের ইসলামী রাষ্ট্র কায়েমে বাধা দেয়, তবে তা কেমন যেন লাগে না? নিজেই খাওয়ায় দাওয়ায় বড় করলেন, এরপর নিজেই বললেন, তোমার রেশন বন্ধ।

আমি খুব আশংকা নিয়ে তাবলীগ জামাতের জমায়েত দেখি। কেউ কি তাদের বয়ান শুনেছেন? পুরোটা শুনেছেন? জেহাদী কিছু শোনেন নাই? উস্কানীমুলক, জান প্রান দিয়ে লড়াই করবার মত আহবানের কিছু শোনেন নাই? নাকি আমি জেগে জেগে স্বপ্নে দেখি? এইসব তাবলীগ জামাতের মাধ্যমে পাকিস্তানী, আফগান, সৌদি বর্বরগুলাকে আপনারাই এইদেশে প্রবেশের সুযোগ দিচ্ছেন। পরিনতিটা একসময় খুব একটা ভালো হবে মনে হয়না।

সময় এখনো আছে। এইসব উগ্রপন্থী বেইন ওয়াশড কালোসাপদের নির্দয়ভাবে খতম করতে হবে। মানবিকতার বুলি এদের জন্য না। আরামে দাড়াবার আগে সাবধান হওয়া ভালো। নাহলে পশ্চাদদেশে ছাল বাকল আমাদেরই থাকবে না, ধরের উপর মস্তক থাকবে না।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “গুলশানে জিম্মী ঘটনাঃ এখনই সাবধান হন, আরামে পরে দাড়ান

    1. টনক নড়বে নাকি জানি না।
      টনক নড়বে নাকি জানি না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ধাপ্পাবাজি কমতেও পারে যদি মাথায় কিছু বুদ্ধি থাকে। মাত্র একদিনের মধ্যে যারা এমন শক্তি দেখাতে পারলো, তাদের প্রকৃত শক্তি আরও অনেক বেশি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

36 − 26 =