ঢাকা এ্যাটাক ও আইএস এর আগমন

আজকের “বাংলাদেশ একদিনে লাফ মেরে আজকের এই অবস্থায় আসেনাই। এর পিছনে বহু চাপা উল্লাস আর ফিসফিস, বহু ডিনায়াল আর ভিক্টিম ব্লেমিং, আর সময়ে অসময়ে ‘আলহামদুলিল্লাহ নাস্তিক মরসে’ ‘সন্ত্রাস কি কেবল শারীরিক, মানসিক সন্ত্রাস ও হতে পারে’ ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ ‘খতিয়ে দেখা হবে’ ‘উসকানিমূলক বই লিখবেননা’ ‘উগ্রতা পরিহার করুন’ ইত্যাদি আছে। হারামজাদা বালের দল আজকে কাউমাউ করিস না, তোদের সবগুলোর হাতে রক্ত লাইগা আছে তোরা দেখেও দেখবি না।”

কালকে রাতেই আইএস দাবি করেছিল তারা ২০ জনকে জবাই করেছে। একেবারে গুণে গুণে মিলে গেল। এরপরও বলবেন দেশে আইএস নাই? ১২ ঘন্টা আগে তারা যে ছবিগুলো প্রকাশ করেছিল সেগুলাও তো মিলে গেল। ঘটনা ঘটলো বাংলাদেশে, আর সেই ছবিগুলোই প্রকাশ করল আইএস। এরপরও কানেকশন খুজে পেতে সমস্যা হয়?
অবশ্য অলরেডি জাস্টিফিকেশন চলে আসছে। যারা সুরা পড়তে পারছে তাদের ছেড়ে দেয়া হইছে। ওয়েস্টার্ন ড্রেস পড়া দুই বাংলাদেশি মহিলাকে জবাই করা হয়েছে, কিন্তু হিজাব পড়া আরেকজনের সাথে ভাল ব্যবহার করা হয়েছে, তাকে রাতে খেতে দেয়া হয়েছে। নিশ্চিতভাবেই আইএস এর মাধ্যমে অনেকের মন জয় করে ফেলেছে।

প্রতিটা টার্গেট কিলিং এর পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী খুন হওয়া ব্যক্তির দোষ ধরতে চেষ্টা করেন, অর্থাৎ তিনি ইন্ডাইরেক্টলি বোঝাতে চান যে মরেছে সে নিজের দোষেই মরেছে, বিচার করার দরকার নাই। বিএনপির মন্ত্রীও এককালে এভাবেই বলতেন, আল্লার মাল আল্লায় নিয়ে গেছে। অধিকাংশ টেররিস্টকে গ্রেফতারের কিছুদিনের মাঝেই জামিনে মুক্তি হয়েছে, খুনের মাস্টারমাইণ্ডকে দেয়া হয়েছে ৫ বছরের সৌজন্য সাজা! সজীব ওয়াজেদ জয় ও বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, তার সরকার এইসব অপরাধ নিয়ে ডিল করতে চায়না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বলেছিলেন, এইসব হত্যাকাণ্ডের দায়ভার তাঁর সরকার নিবেন না।

ব্লগার মারছে, প্রতিবাদ করি নাই, উল্টা বলেছি, লিখলে তো মারবেই।
হিন্দু মারছে, প্রতিবাদ করি নাই, উল্টা বলেছি, এগুলা বিচ্ছিন্ন ঘটনা।
সমকামি মারছে, ভাল হইছে। এগুলা আমাদের সমাজের সাথে মানানসই না।
মাই ডিয়ার সংখ্যাগুরু জনতা, এবারে তোমাদের প্রতিক্রিয়া কি?

তারপরেও কি বলবেন বাংলাদেশে আইএস এর কোন কিছু নেই।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 9 = 1