গজব ও গুজবের সত্য মিথ্যা সাত কাহন —

গুলশানে “হোলি আর্টিসান” নামের বেকারিতে আক্রমণ, জিম্মি ও ম্যাসাকার করা নিয়ে বেশ কিছু গুজব ছড়িয়েছে । এতে জানা যায় কেউ কেউ বলছে , স্পেনে ১ লা এপ্রিল তারিখে সরল মুসলমানদের বোকা বানিয়ে মসজিদে পুড়িয়ে মেরে ‘এপ্রিল ফুল’ নামে মুসলমানদেরকে বিদ্রুপ করার জন্য যে ঠাট্টা দিবস চালু করেছিল তার প্রতিশোধ নিতেই নাকি এই ঘটনা । এটাকে “জুন (রামাদান) ফুল” হিসেবে অচিরেই ঘোষণা করা হতে পারে।

কেউ বলছে, পবিত্র রমজান মাসের পবিত্রতা রক্ষা করার স্বার্থে গুলশানের ঐ রেস্তোরায় আল্লাহর শান্তির বানী নিয়ে কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছিলো রেস্তোরায় বোরকা পড়াতে । কর্তৃপক্ষ তাদের কথায় কান না দেওয়ার ফলে তারা তরবারী ও একে -৪৭ দিয়ে একটু ভয় দেখিয়েছে, পাশাপাশি তারা আল্লাহর শান্তি প্রতিষ্ঠার স্বার্থে একটু ঈমানী দায়িত্ব পালনের জন্য আল্লাহু আকবার বলেছে । আরেকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, বাস্তব ক্রসফায়ারটা কেমন সেটা দেশ বাসীকে দেখাতেই এই হামলা । তবে এতে আল্লাহ সত্যিই সর্বশ্রেষ্ঠ হয়েছে কিনা তা জানা যায় নাই ।

নির্ভরশীল সূত্র জানিয়েছে ঐ কাজটা যে “র” ও “মোসাদের” কাজ সেটা তারা নিশ্চত, কারন আল্লাহু আকবার ধ্বনি নাকি শুধু ওরাই দেয় , ওসব ধ্বনি কোন ঈমানদারের মুখ দিয়ে বের হয় না বলেই গুজব আছে । এছাড়া সবাই জানে ইসলাম শান্তির ধর্ম । হতে পারে কোরানের অপব্যাখ্যা করে ভুলিয়ে ভালিয়ে সহজ সরল মুসলমান ভাইদেরকে দিয়ে ভারত বা ইস্রাইল এই কাজ করিয়েছে বলে মডারেট মুসল্মান সমাজ মত দিয়েছে । এ ব্যাপারে মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ সাহেব অচিরেই বিবৃতি প্রদান করবেন। সে বিবৃতি কয়েক কোটি কপি করে সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়ার ব্যাপারে ধর্ম মন্ত্রণালয় কর্তৃক আয়োজিত এক বৈঠকে সবাই একমত পোষণ করবেন বলেই সবার আশা ।

এদিকে সাইট ইন্টেলিজন্স নামের এক মুসলিম বিদ্দেষী সংস্থা জানিয়েছে এই হামলাতে নাকি আইএস এর হাত রয়েছে । হাহহাহাহ কি হাস্যকর কথা !! মুসলিম বিদ্বেষীরা আর কত ভাবে ইসলামের বিরোধিতা করবে ? আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আমাদের সরকার বাহাদুর ও তথ্যভান্ডারের মাধ্যমে আমরা সবাই জানি এই দেশে কোন জংগী বা আইএস নাই । অতএব কে কি বলল তাতে আমাদের বিশ্বাসে কোন দাগ পড়বে না , দেশে আইএস বা জংগী বলে কিছুই নাই –এটাই সত্য । এসব বিরোধীদলের চক্রান্ত কীনা তা খতিয়ে দেখতে আইজিপি মহোদয়কে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

অবশ্য সরকারের নির্ভরশীল সূত্র জানিয়েছে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে ও সরকারের উন্নয়ন কর্ম যজ্ঞ দেখে হিংসার কারনেই বিএনপি-জামাত জোট এই ঘটনা ঘটিয়েছে, কিন্তু রহমত-মাগফিরাত-নাজাতের এই মাসে আল্লাহর রহমতে তাদের সকল ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে পারবেন বলেও তারা নিশ্চিত করেছেন ।

অন্যদিকে বিএনপি-জামাত জোটের এক নির্ভরশীল সূত্র জানিয়েছে বিএনপি-জামাতের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার জন্য এবং সরকারের তলানিতে পড়া জনসমর্থন উর্ধ মুখি করতেই সরকার নিজেই এই নাটকের ঘটনা ঘটিয়েছে । নাটক যাতে কেউ ধরতে না পারে সেই জন্য তারা লাইফ টেলিকাস্ট বন্ধ করে নাটক শেষ করেছে । কিন্তু সরকারের এই ঘৃন্য কাজ কোন ভাবেই সফল হবে না । কারণ আল্লাহ তাদের সহায় আছে বলেই জানিয়েছেন ।

আল্লাহর সকল এজেন্সী ঈদের ছুটিতে থাকায় এবং আজ লাইলাতুল কদরের কারনে ফেরেস্তারা রোজার ছোয়াবের হিসাব রাখতে ব্যস্ত থাকায় আল্লাহ নিজে কার পক্ষে আছেন এবং কারা সত্য বলছেন সেটা জানা সম্ভব হয় নাই ।

সরকার ও মিডিয়া বলছে, গুলশানের এক বিদেশী রেস্টুরেটে যারা হামলা করেছে তারা দুর্বৃত্ত । এদিকে হামলা কারীরা প্রশ্ন রেখেছেন- তারা দুর্বৃত্ত পরিচয় পাওয়ার জন্য এক ঘাম ঝড়াচ্ছেন নাকি ??!! তারা ইহকালে ইসলামি জিহাদি হিসাবে স্বীকৃতি ও পরকালে উন্নতবক্ষা-আয়তলোচনা বাহাত্তর হুর নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েই ব্লগার থেকে শুরু করে কাফেরদেরকে কুপিয়ে আসছে । এবারও সেই স্বীকৃতি পাওয়ার জন্যই নাকি তারা এই কষ্ট সাধ্য হামলা চালিয়েছে । এর পরেও যদি সরকার তাদের অস্তিত্ব স্বীকার না করে তাইলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি দিবেন বলেও হুসিয়ারি দিয়েছেন । জানি না সরকার তাদের এই কষ্ট সাধ্য কাজের স্বীকৃতি দিবে কিনা । আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠা করে দেশে শান্তি আনাই নাকি তাদের এত চেষ্টার একমাত্র কারণ । তারা যে আল্লাহর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় এ কাজে লিপ্ত সেটার প্রমাণস্বরূপ পবিত্র কুরআনের বেশ কয়েকটি আয়াত সংবলিত ছোট পুস্তিকা বিতরণ করতে করতে এ ব্যাপারে নিশ্চিত করেছেন নিজেকে আল্লার সৈনিক পরিচয় দেয়া নূরাণী শশ্রূমণ্ডিত এক নওজোয়ান ।

মডারেট মুসলমানের একটি দল অবশ্য এসবের সাথে ইসলামের সম্পৃক্ততা নাকচ করে বলেছেন – আমি তো ফজরের নামাজ পড়ে কোরান তেলাওয়াত না করে দিনের কাজ শুরু করি না , কই আমি তো জিহাদী হই নাই । অন্য জনে বলেছেন তিনিও নাকি প্রতিদিন তাহাজ্জুদের নামাজ পড়েন কিন্তু তিনিও জংগী না । এসবই ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, যারা ইসলামের দোষ দেখে তারা মুসলিম বিদ্দেষী । অনেকেই আমাদের মিডিয়াকেও এই জংগী লালন পালনে অনেকটাই দায়ী করছেন । কারন কোন ঘটনা ঘটলেই তারা সেটা প্রচার করতে উঠে পড়ে লাগে । কিন্তু কেন ? তাদের এই প্রচারের ফলেই যে দেশে জংগী বাড়ছে সেটা তারা কবে বুঝবে ? তবে কি এই মিডিয়ারাই দেশ দ্রোহী ? অনেকে এই পেশার সাথে সকলকে ৩বছর মাদ্রাসায় পড়িয়ে ন্যায় ও নৈতিকতা শেখানোর একটা প্রকল্প হাতে নেওয়ার জোর দাবী জানিয়েছে ।

তবে অনেকেই এই আল্লাহু আকবার বলা ঐ দলের আল্লাহ প্রীতি দেখে খুসিতে কান্না কাটি করেছেন । অনেকেই সংগে সংগে দুহাত তুলে আল্লাহর কাছে মুনাজাত করেছেন বলেও জানা গেছে । তাদের জন্য ২ রাকাত নফল নামাজ পড়ে আল্লাহর দরবারে দুয়া করবেন বলেও কেউ কেউ জানিয়েছেন । কেউ কেউ তাদেরকে সেহেরী সরবরাহ করার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবী জানিয়েছেন । কিছু ব্যক্তি অবশ্য তাদেরকে মানসিক রুগী বলেও বর্ণনা করেছেন ।

দেশী বিদেশীরা এই রমজান মাসে ঈদের বাজার করা বাদ দিয়ে ঐ রেস্তোরায় কেন গেছিল সেটা আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী খতিয়ে দেখবেন বলেই মনে হয় । বিদেশীদের ওখানে যাওয়ার পিছনে সরকারের উন্নয়ন বাধা গ্রস্থ করার কোন ষড়যন্ত্র ছিল কিনা সেটাও তদন্ত করা হবে বলেই অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে । জীবিতদেরকে পুলিশ রিমান্ডে নিবে কিনা সেটা এখনও জানা যায় নাই ।

এই ঘটনায় আমেরিকা সহ নানান দেশ বাংলাদেশকে নিয়ে আলোচনা করছেন — এমনটা শুনে গর্বিত এক মন্ত্রী গর্বে বুক ফুলিয়েছেন । তিনি বলেছেন একমাত্র লীগ সরকার ছাড়া দেশকে বিশ্বে এমন পরিচিতি নাকি কেউ দিতে পারে নাই । তাদের কারনেই দেশ ও জাতি এক আন্তর্জাতিক মাত্রা পেয়েছে বলেও গর্ব প্রকাশ করেছেন । জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যার ধর্ম ভিরুতা ও তথ্য রিজার্ভের কারনেই নাকি এত এত সাফল্য । আগামিতে যাতে আরও সাফল্য আসে সেদিকে নাকি তারা সজাগ দৃষ্টি রাখবেন । তিনি এসব ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসাবে দাবী করেন ও দেশের জনগনকে শান্ত থেকে ঈদের খুসি উৎযাপন করতেও আহবান জানিয়েছেন ।

অনেকে এসব ঘটনার জন্য যারা মাদ্রাসা শিক্ষাকে দায়ি করেছে তারা ধর্ম ভিরু পাবলিকের অনুভুতির তোপের মুখে পড়েছেন, তোপ থেকে বাঁচতে তাদের বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার শুনেও পুলিশ সাহায্য না করে দাঁত কেলিয়ে হেসেছেন বলেও কেউ কেউ দেখেছেন । পাবলিকের কথা – তারা টিভিতে শুনেছে আক্রমন কারীরা সবাই নাকি আধুনিক শার্ট প্যান্ট পড়া সাবেহী পোশাক ধারী ছিল কিন্তু মাদ্রসার পড়ুয়ারা কি ওমন পোশাক পড়ে ? তবে কেন শান্তি প্রতিষ্ঠার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে এই অভিযোগ ?

হামলাকারীরা এত অস্ত্র গোলাবারুদ নিয়ে কিভাবে এত নিরাপত্তা বেষ্ঠনী ভেংগে ওখানে গেল তা নিয়েও আছে নানান মত । অনেকেই এতে আল্লাহ রাহমানুর রহিমের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা আছে বলেও নিশ্চিত করেছেন । কেউ কেউ আবাবিল পাখির ঘটনা উল্লেখ করে জিব্রাইল ও আবাবিল পাখির মাধ্যমে অস্ত্র ও গোলাবারুদের সংস্থান হয়েছে বলে মত প্রকাশ করেন। কারন এক মাত্র আলাহর সাহায্য ছাড়া এত নিরাপত্তা চৌকি কি অস্ত্র নিয়ে পার হওয়া সম্ভব ?

নির্ভরযোগ্য এক সূত্র জানিয়েছে , বিবৃতিতে সই করা সেই লাখো আলেমের কাউকে শান্তির মহান গ্রন্থ নিয়ে আক্রমণকারীদের কাছে পাঠালে তারা আল্লাহর সেই গ্রন্থ থেকে শান্তির বানী শুনিয়ে আক্রমনকারীদেরকে নিরস্ত্র করতে পারতো বলে তাদের বিশ্বাস । কিন্তু এই নাস্তিক সরকারের মাঝে লুকিয়ে থাকা কিছু কাফেরদের জন্য সেটা সম্ভব হয় নাই বরং প্রাণ গেলো কিছু নিস্পাপ মানুষের । আগামীতে এমন ঘটনা ঘটলে সেই সব আলেমদেরকেই পাঠানো হবে বলেই সরকারের গুজব মন্ত্রনালয় নিশ্চিত করেছেন । ততদিন অপেক্ষা করা ছাড়া আর কি কিছু করার আছে ? আপসুস !!

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

77 − 69 =