মানবতাবাদ বনাম ধর্ম

মানুষের বিবর্তন সম্পর্কে নানা নৃতাত্ত্বিক মতবাদ আছে। খুব সম্ভবত আজকের সব মানুষ একই উৎস থেকে উদ্ভূত হয়ে পরে ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। মানুষের খুব নিকটাত্মীয় কিন্তু ভিন্ন উৎসজাত অন্যান্য শাখাগুলি অতীতে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ায় আজ শিম্পাঞ্জী ও গরিলা মানুষের নিকটতম আত্মীয়।

বিবর্তন তত্ত্ব অনুযায়ী, মানুষ আর পৃথিবীর বুকে চড়ে বেড়ানো অন্যান্য নরবানরেরা অনেক অনেককাল আগে একই পূর্বপুরুষ থেকে উদ্ভূত হয়ে বিবর্তিত হয়েছে এবং আলাদা আলাদা ধারা বা লিনিয়েজ তৈরি করেছে। সে হিসেবে আমরা আধুনিক নরবানরগুলোর সাথে সম্পর্কযুক্ত হলেও সরাসরি উত্তরসূরী নই। আমরা আসলে এসেছি বহুদিন আগে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া এক ধরনের সাধারণ পূর্বপুরুষ হিসেবে কথিত প্রাইমেট থেকে। বানর থেকে মানুষের উদ্ভব হয়নি, বরং সঠিকভাবে বলতে গেলে বলা যায় যে, প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষ প্রজাতিরও উদ্ভব ঘটেছে বহুদিন আগে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া এক ধরনের প্রাইমেট থেকে। শিম্পাঞ্জি, গরিলা এবং ওরাং ওটাং-এর মতো প্রাণীকূলেরও উদ্ভব ঘটেছে সেই একই সাধারণ পূর্বপুরুষ থেকে। প্রাণের বিকাশ এবং বিবর্তনকে একটা বিশাল গাছের সাথে তুলনা করা যায়। একই পূর্বপূরুষ থেকে উদ্ভূত হয়ে বিবর্তনীয় জাতিজনি বৃক্ষের বিভিন্ন ডাল পালা তৈরি হয়েছে । এর কোন ডালে হয়তো শিম্পাঞ্জির অবস্থান, কোন ডালে হয়ত গরিলা আবার কোন ডালে হয়ত মানুষ। অর্থাৎ, একসময় তাদের সবার এক সাধারণ পূর্বপুরুষ ছিলো, ১.৪ কোটি বছর আগে তাদের থেকে একটি অংশ বিবর্তিত হয়ে ওরাং ওটাং প্রজাতির উদ্ভব ঘটে। তখন, যে কারণেই হোক, এই পূর্বপুরুষের বাকি জনপুঞ্জ নতুন প্রজাতি ওরাং ওটাং এর থেকে প্রজননগতভাবে আলাদা হয়ে যায় এবং তার ফলে এই দুই প্রজাতির বিবর্তন ঘটতে শুরু করে তাদের নিজস্ব ধারায়। আবার প্রায় ৯০ লক্ষ বছর আগে সেই মুল প্রজাতির জনপুঞ্জ থেকে আরেকটি অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে এবং পরবর্তিতে ভিন্ন ধারায় বিবর্তিত হয়ে গরিলা প্রজাতির উৎপত্তি ঘটায়। একইভাবে দেখা যায় যে, ৬০ লক্ষ বছর আগে এই সাধারণ পুর্বপুরুষের অংশটি থেকে ভাগ হয়ে মানুষ এবং শিম্পাঞ্জির বিবর্তন ঘটে। তারপর এই দুটো প্রজাতি প্রজননগতভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তখন থেকেই একদিকে স্বতন্ত্র গতিতে এবং নিয়মে মানুষের প্রজাতির বিবর্তন ঘটতে শুরু করে, আর ওদিকে আলাদা হয়ে যাওয়া শিম্পাঞ্জির সেই প্রজাতিটি ভিন্ন গতিতে বিবর্তিত হতে হতে আজকের শিম্পাঞ্জিতে এসে পৌঁছেছে।
সেই বিবর্তন আজ তবে আমরা এমন এক দর্শনের মাঝে নিয়ে এসেছি যা দিয়ে মানব সভ্যতা শেষ করে দিচ্ছে মানব সভ্যতাকে।

আর সেটা হলো ধর্ম

যা নির্মিত হয়েছিলো কিছু সুযোগ সন্ধানি মানুষ দ্বারা যারা নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থ কে টিকিয়ে রাখতে নিজেদের মতোবাদ প্রচার করেছে এরকম করে ৪০০০ হাজার ধর্মের তৈরি করে দিয়েছে
আপনারা একটা কথা ভাবুন,
সকল ধর্ম বলে মানুষ সৃষ্টিকর্তার (কথিত) অংশ দ্বারা তৈরি।
অর্থাৎ সবাই সৃষ্টিকর্তার আত্মজ তাই যদি হয় তবে তো সবাই তার সন্তান।
কোনো বাবা মা তার সন্তান কে বলেছে আমার মাথায় জল ঢালো তবে আমি তোমাকে খাবার দেবো….?
তবে এই ধর্ম কি ভাবে বলছে তোমাদের সৃষ্টিকর্তাকে খুশি করো তবেই ভাল থাকবে…?

এটা সম্ভব হয়েছে অমরত্বের ধারনার কারনে
মানুষ যে কোনো ভাবে তার ব্যক্তি সত্তাকে বাচিয়ে রাখতে চান কিন্তু সেটা এখনো সম্ভব না।
তাই তারা এক মায়ার জ্বাল সৃষ্টি করছে আর তা হলো পরোকাল
যেখানে আমার কোনো মৃত্যু নেই যেখানে আমি বেচে থাকতে পারবো অনন্ত কাল।
আজ থেকে সেই ৪০০ হাজার বছর আগে এই ধারনা দেওয়া খুব সহজ ছিলো কিন্তু একটাই প্রশ্ন ৪০০০ হাজার বছর আগে এতো সৃষ্টিকর্তা তৈরি হলো, কিন্তু গত ১০০ বছরে কেনো আর কোনো ধর্মের সৃষ্টি হলো না…?
কারন এখন এই চিন্তা কারো কাছে নিয়ে গেলে সে ধরে ফেলবে।
যেখানে আগুন ছিল এক কল্পনার বিষয় সেখানে আজ আগুন হাতের মুঠোয় তাই এখন আগুন নামক কোনো দেবতা আসলে তাকে কেউ গ্রহন করবে….?
ধর্মের উৎপত্তিলাভ :

মুসলমান ধর্ম:
কুরআনের সূরা ফাতিরে বলা হয়েছে,
“নিঃসন্দেহে আমি তোমাকে (মুহাম্মদ) পাঠিয়েছি সত্যের সাথে সুসংবাদদাতা এবং সতর্ককারীরূপে। আর এমন কোনো সম্প্রদায় নেই, যাঁদের মধ্যে একজন সতর্ককারী পাঠানো হয়নি।” ৩৫:২৪
এখানে কিছু প্রশ্ন :-
১। আমরা ধরে নিলাম ইসলাম যদি শুরু হয় মানব সভ্যতার প্রথমে তবে কেনো সব কিছু শুরু করতে হলো মুহম্মদ কে ….?
২। তিনি সব নবীর কথা বলেছেন কিন্তু অন্য কোনো নবী কেনো কিছু লিখে গেলেন না…?
৩। কোনো ধর্মের মূল যদি হয় তার প্রধান ধর্ম গ্রন্থ তবে কেনো তা শেষে আসলো…?
৪। একজন মানুষ তার এতোগুলো বিয়ে কেনো করবেন…?

একটা মানুষ তার নিজের সার্থ পরিচালিত করতে নিজের লোকবল বৃদ্ধি করবে আর এখানে তিনিও ব্যতিক্রম নন। তিনি ১০ বছর মক্কা বিজয় করতে এসেছেন কিন্তু লোকবলের অভাবে সম্ভব হয়নি।
তিনি নিজের মেয়ে কে বিয়ে দিয়ে,অন্যের মেয়েকে বিয়ে করে, চাচার মেয়েকে বিয়ে করে কিছু বীর যোদ্ধা তার পক্ষে নিয়ে আসেন এখনে তিনি নিজের ব্যক্তিদন্দ মিটাতে এক দল বদ্ধ উম্মত মানুষ কে ব্যবহার করেছেন।
এবং তিনি সেখানে জাতিগত দাঙ্গা তৈরি করে রেখেছেন। সেখানে বলির শিকার হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ।
তিনি যুদ্ধে নিহত শত্রুপক্ষের যোদ্ধা দের পরিবারের নারীদের গনিমতের মাল ঘোষনা করেন যাতে তার দলে কিছু যৌন উমত্ত মানুষ যোগ হয়।
তার মধ্যে মিথ্যা দিয়ে তাদের বিজয় করা একটা যুদ্ধ হলো,

খন্দকের যুদ্ধ (আরবি: غزوة الخندق‎) বা
আহযাবের যুদ্ধ (আরবি: غزوة الاحزاب‎) ৫ হিজরিতে (৬২৭ খ্রিষ্টাব্দ) সংঘটিত হয়।

এসময় ২৭দিন ধরে আরব ও ইহুদি গোত্রগুলি মদিনা অবরোধ করে রাখে। জোট বাহিনীর সেনাসংখ্যা ছিল প্রায় ১০,০০০ এবং সেসাথে তাদের ৬০০ ঘোড়া ও কিছু উট ছিল। অন্যদিকে মদিনার বাহিনীতে সেনাসংখ্যা ছিল ৩,০০০।
কিন্তু মুহাহ্মদ এতোটাই কুটবুদ্ধি সম্পন্ন ছিলেন যে তিনি সন্ধি করে তাদের উর আক্রমন করেন।

“এখন থেকে আমরাই তাদের উপর আক্রমণ করব, তারা আমাদের উপর আক্রমণ করবে না। এখন আমাদের সৈন্যরা তাদের দিকে যাবে।” (সহীহ বুখারি)

তা হলে কি ভাবে এই ধর্ম মানবতার ধর্ম হয় সেই প্রশ্ন আপনার কাছে….?!

হিন্দু ধর্ম :-

সিন্ধু নদীর তীরে সিন্ধু সভ্যতার মাঝে গড়ে ওঠে এই ধর্ম। সিন্ধু আর্যদের সমাজ শাষন করার জন্য একমাত্র অস্ত্র হয়ে ওঠে এই ধর্ম।

এরা সমাজ কে শাষন করার জন্য এতোটা নিচে নামে যে এরা সমাজ কে চার ভাগে বিভক্ত করে ফেলে যাতে তারা কোনো ভাবে তাদের ঐক্য বজায় না রাখতে পারেন।
এর জন্য তারা চার ভাগে ভাগ করে নেন।

হিন্দু ধর্মে চারটি বর্ণ হিন্দু ধর্মের বর্ণ হল-
১. ব্রাহ্মণ
২. ক্ষত্রিয়
৩. বৈশ্য
৪. শূদ্র

১. ব্রাহ্মণের অবস্থান:
ব্রাহ্মণ ‘ব্রহ্মা’- এর মুখ থেকে সৃষ্টি হয়েছে। তাই তারা ঈশ্বরের (ব্রহ্মার) পক্ষ থেকে কথা বলতে পারে।
‘ব্রহ্মা’ ব্রাহ্মণদের জন্য ছয়টি কাজ দিয়েছেন।
মনুসংহিতায় বর্ণিত-

‘‘অধ্যাপন মধ্যয়নং সজমং জাজসং তথা দানং প্রতিগ্রহেবওব ব্রাহ্মণা নাম কলপয়ৎ।’’

অর্থাৎ সৃষ্টিকর্তা ব্রাহ্মণের জন্য অধ্যয়ন, অধ্যাপনা, যজন, যাজন, দান এবং প্রতিগ্রহ- এই ছয়টি কর্তব্য পরিকল্পনা করলেন।

ব্রাহ্মণ বা পুরোহিতদের স্বভাব সম্বন্ধে গীতায় বলা হয়েছে-
মানসিক স্থিরতা, সংযম, তপস্যা, পবিত্রতা, ক্ষমা, সরলতা, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও আস্তিক্য হল ব্রাহ্মণদের স্বভাবজাত। সুতরাং এ সম্পর্কীয় কাজগুলো শুধুমাত্র ব্রাহ্মণ বা পুরোহিতদের জন্য নির্দিষ্ট।
মোটকথা, হিন্দু সমাজে সবচেয়ে উচ্চশ্রেণী হল ব্রাহ্মণরা। যারা নানাবিধ চিন্তা-সাধনার মাধ্যমে এবং সৎকর্মের মাধ্যমে জীবনের নানাবিধ মূল্যবান দিক লাভ করার সামর্থ্য রাখে, তারাই হিন্দু সমাজে পুরোহিত শ্রেণীতে পরিণত হয়।

২. ক্ষত্রিয়দের অবস্থান:
যারা শাসন সংক্রান্ত কাজে পারদর্শী তারা এ সম্প্রদায়ভুক্ত। ক্ষত্রিয়রা যেহেতু ঈশ্বরের (ব্রহ্মার) বাহু থেকে সৃষ্টি হয়েছে, তাই তাদের কাজ হল প্রজা প্রতিপালন, দান, অধ্যয়ন ও কর্তব্য পালন করা।
মনুসংহিতা:-

‘‘প্রজানং রক্ষণং দান মজ্যিধ্যিয়ন সেবচ, বিষয়ে প্রশক্তির ক্ষত্রিয়ানাদ সমাগত।’’

অর্থাৎ সৃষ্টিকর্তা ক্ষত্রিয়দের জন্য প্রজা প্রতিপালন, দান, অধ্যয়ন, যজ্ঞ ইত্যাদি কর্তব্য পরিকল্পনা করলেন। দেশে শাসন ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দেশ ও সমাজকে বহিঃশক্রর আক্রমণ থেকে রক্ষা করার দায়িত্ব ক্ষত্রিয়দের উপর ন্যস্ত। প্রশাসনের আমলা ও সৈন্যরা ক্ষত্রিয় শ্রেণীভুক্ত।
এদের সম্পর্কে গীতায় বলা হয়েছে-
সাহস, তেজ, দক্ষতা, যুদ্ধে দৃঢ়পদ, দান এবং কর্তৃত্ব করার প্রবৃত্তি হল ক্ষত্রিয়দের স্বপ্ন।

৩. বৈশ্যদের অবস্থান:
হিন্দু ধর্মমতে, বৈশ্য জাতীয় লোকদেরকে ঈশ্বর পশুপালন, দান, যজ্ঞ, অধ্যয়ন, জল ও স্থলপথে বানিজ্য, কৃষিকর্ম, সম্পদ বৃদ্ধির জন্য বিনিয়োগ- এ সকল দায়িত্ব পালন করতে নির্দেশ দিয়েছেন।
মনুসংহিতায় বর্ণিত আছে-
‘‘পশু নাং রক্ষণং দান মজ্যিধ্যয়ন সেবচ, বণিক পথং কুসীদঞ্চ বৈশ্যম্য কৃষি সেবচ।’’
অর্থাৎ সৃষ্টিকর্তা বৈশ্যের জন্য পশু পালন, দান, যজ্ঞ, অধ্যয়ন, বাণিজ্য, কৃষিকর্ম- এ সব কর্তব্যের পকিল্পনা করলেন। সমাজে এ বর্ণের লোকেরা নানাবিধ ক্ষেত্রে উৎপাদনকারী, শিল্পী এবং কৃষক। এরা জীবন যাপনের প্রয়োজনীয় সমূদয় জিনিসপত্র তৈরি করতে নিয়োজিত।
গীতায় বলা হয়েছে-
‘‘বৈশ্যের স্বভাব হল- কৃষিকর্ম, গো-রক্ষা ও বাণিজ্য।’’

৪. শূদ্রের অবস্থান:
শূদ্র যেহেতু ঈশ্বরের (ব্রহ্মার) পা থেকে সৃষ্টি হয়েছে, তাই এ বর্ণের লোকদের একমাত্র কাজ হল ব্রাহ্মন, ক্ষত্রিয় ও বৈশ্যের সেবা করা।
মনুসংহিতায় আছে-
‘‘একসেব তুশুদ্রস্য প্রভু কর্ম সমদিশৎ এতষসেব বর্ণনাং শুশ্রুষামন সুয়ায়া।’’
অর্থাৎ সৃষ্টিকর্তা শূদ্রের জন্য একটিমাত্র কর্তব্য পরিকল্পনা করলেন। আর তাহল- ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় ও বৈশ্য- এই তিন বর্ণের লোকদের সেবা করা এবং তাদের আদেশ পালন করা।

তবে দেখাই গেলো যে ধর্ম কখনো মানবতার কথা বলে না সব কোনো না কোনো রক্তক্ষয়ী সংর্ঘষ নিয়ে জন্মায় যা মানব সভ্যতার কোনো কাজেই আসে না।
কিন্তু মানবতাবাদ বলে মানুষের কথা,

“সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে কিছু নাই”

মানবতাবাদ হল গবেষণা, দর্শন ও অনুশীলনে এক ধরনের দৃষ্টিভঙ্গী যা মানবিক নীতি ও বিষয়াদি নিয়ে কাজ করে। এই শব্দটির বহু অর্থ হতে পারে, যেমন,

১) একটি ঐতিহাসিক আন্দোলন যাকে ইতালীয় রেনেসাঁসের সাথে বিশেষভাবে সম্পর্কায়িত করা হয়

২) একটি শিক্ষাবৃত্তিক কার্যপদ্ধতি যা সাহিত্যবিষয়ক উপাদান অথবা মানবিক বিষয়ের উপর গুরুত্বারোপ করে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান দান করে

৩) দর্শন ও সমাজবিজ্ঞানের বিচিত্র দৃষ্টিভঙ্গীগুলো যেগুলো যে কোন প্রকার “মানব প্রকৃতি” এর অস্তিত্ব ঘোষণা করে(এক্ষেত্রে প্রতি-মানবতাবাদ লক্ষণীয়)

৪) একটি ধর্মনিরপেক্ষ মতাদর্শ যা যুক্তি, নীতিশাস্ত্র, ও ন্যায়বিচারকে নৈতিকতা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়ার ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করে এবং সবপ্রকার অলৌকিকতা এবং ধর্মীয় শাস্ত্রকে প্রত্যাখ্যান করে।

সর্বশেষ এই অর্থটির উপর ভিত্তি করে ধর্মনিরপেক্ষ মানবতাবাদকে একটি জীবনবিধান বলা চলে। আধুনিক অর্থে মানবতাবাদ বলতে তাই অলৌকিকতা ও ঐশী কর্তৃত্বকে অস্বীকার করা বোঝায়। শব্দটির এই ভাবার্থকে প্রথাগত ধর্মীয় বৃত্ত্বে ব্যবহৃত “মানবতাবাদ” শব্দটির ভাবার্থের বিপরীতে দাঁড় করানো যেতে পারে। জ্ঞান আন্দোলনের প্রত্যাদেশবিরোধী আস্তিকতা বা একাত্মবাদ, পুরোহিততন্ত্রের বিরুদ্ধবাদ, ঊনবিংশ শতাব্দীর বিভিন্ন ধর্মনিরপেক্ষ আন্দোলন(যেমন, ইতিবাদ) এবং বিজ্ঞানের প্রসারের পরিপ্রেক্ষিতে এই তরিকার মানবতাবাদের জন্ম হয়েছে।

মানবতাবাদ, মানবতাবাদী সাহিত্যবিষয়ক সংস্কৃতির প্রতিও ইঙ্গিত করতে পারে।

তাই এই খুনের ধর্মের সাথে মানবতার বা মানবসভ্যতার পরিবর্তনের প্রশ্ন আপনার কাছে।

পর্ব- ১

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

81 − = 72