বাংলাদেশ,শুনতে কি পাও?

ইতালীয় – “La speranza e l’ultima a morire” এর ইংরেজী তর্জমা হল- Hope is the last thing to die. ৭/১ এর ভয়াল রাতে যখন একের পর এক বিদেশী জবাই করে হত্যা করা হচ্ছিল,তখন ইতালীয়দের মনে ঠিক কতক্ষন পর্যন্ত “আশা” ছিল,জানতে ইচ্ছা করে। হলি আর্টিজানে যখন এসেছিলেন,কারো মনে কি ঘুনাক্ষরেও এসেছিল কি নৃশংস মৃত্যু ওত পেতে আছে দরোজার উপারে?

নিহত ২০ জনের মাঝে ৯ জন ইতালীয়,৭ জন জাপানিজ, ১ জন ভারতীয় ও তিনজন বাংলাদেশী। এই ধরনের হোস্টেজ ক্রাইসিস এর অভিজ্ঞতা এবারই প্রথম হল বাংলাদেশে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আন্তরিক তৎপরতায় অভিযান “সফল” হলেও আসল কাজ শুরু করতে হবে এখন। প্যাটার্নের দিক চিন্তা করলে বাংলাদেশ জঙ্গী আক্রমণের দ্বিতীয় ফেইজে প্রবেশ করল। আরো চিন্তার কারন নিহত ছয় জঙ্গীর পারিবারিক ও সামাজিক অবস্থান। খোজ নিয়ে দেখা যায় এদের অনেকেই উচ্চশিক্ষিত ও ধনাঢ্য পরিবারের ছেলে। উল্লেখ্যা নিহত এক জঙ্গী নির্বাস ইসলাম মালেশিয়ার মোনাস ইউনিভার্সিটির ছাত্র আর মোবাশ্বের ঢাকার স্কলাস্টিকার O-level এর ছাত্র। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে জঙ্গি হামলায় অভিযুক্ত নাফিস ও ছিলেন নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটির ছাত্র। সুতরাং জঙ্গিরা কেবল দরিদ্র পরিবার কিংবা মাদ্রাসা থেকে আসছে এই ধারনা আর থাকল না। অভিভাবকদের আরো অনেক বেশি সচেতন হবার সময় এখনি।

সিরিয়া থেকে বাংলাদেশের দূরত্ব (Bird fly) প্রায় ৫০০০ কি:মি: হলেও,আইসিস এর কর্মতৎপরতা বেশ ভালভাবে ছড়িয়ে গেছে তা বলাই বাহুল্য। প্রায় প্রতিটা ধর্মীয় সংখ্যালঘু,ব্লগার ও অনলাইন এক্টিভিস্ট হত্যার পর আইসিসের দায় স্বীকার, আইসিসের আন্তর্জাতিক ম্যাগাজিন “দাবিক” এ বাংলাদেশ নিয়ে একের পর এক আর্টিকেল ছাপানো এবং সম্প্রতি এই ঘটনা আইসিসের বাংলাদেশের প্রতি আগ্রহ এর চিত্র স্পষ্ট। এখনই জরুরী ব্যবস্থা গ্রহন করা না হলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ যে আইসিস এর “ব্রিডিং জোন” হিসেবে গড়ে উঠবে,সেটা সহজেই অনুমেয়। তাই সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচিত জঙ্গী দমনে দ্রুত ও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহন করা উচিত খুব বেশি দেরী হয়ে যাবার আগেই।

শেষ কথা: ইউরোর কোয়ার্টার ফাইনালে ইতালীয় নাগরিক নিহতের প্রতি সমবেদনা জানাতে কালো আর্মব্যান্ড পড়ে মাঠে নামে ইতালীর জাতীয় ফুটবল টিম। কিন্ত কি এক ভয়ানক অশুভ কালো চাদরে ঢেকে যাচ্ছে প্রিয় দেশ,সেটা কি বুঝতে পারছি? শ্বাপদেরা এগিয়ে আসছে খুব সন্তপর্ণে। শুনতে পাচ্ছ কি বাংলাদেশ?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 56 = 57