সম্যাটা কোথায়? ….অনিচ্ছায়? নাকি অক্ষমতায়?

আমাদের বিগত সরকারের এক প্রধানমন্ত্রী ২০০৪ সালে দীপ্ত কন্ঠে ঘুষনা দিয়েছিলেন –
“এ দেশে বাংলাভাইয়ের কোন অস্তিত্ব নেই,বাংলাভাই মিডিয়ার সৃষ্টি”

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সে বক্তব্য কিছুদিন পরেই মিথ্যা প্রমানীত হয়েছিল।কয়েকদিন আগে সামুর ব্লগে এক লেখক আমার একটি লেখাকে ডিফেন্ড করতে যেয়ে বলে দিলেন এদেশে এখন নাকি জঙ্গী নেই।

আমাদের সরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়ও তৎকালীন প্রধান মন্ত্রীর মতই চোখ বুঝে বলে দিলেন এদেশে কোন আইএস নেই,এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা।ভাগ্যিস ওনি এটা বলেননি এ দেশে কোন জঙ্গীই নেই। মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মহোদয়ের বক্তব্যকে স্বাধুবাদ জানানো যেত যদি প্রকৃতপক্ষে এদেশে কোন জঙ্গীর অস্তিত্বের প্রমান না পাওয়া যেত।অথবা দেশের সকল জঙ্গীদের উৎকাত করে হাত ঝেরে বলে ফেলতেন এদেশে কোন জঙ্গী নেই। প্রকৃতপক্ষে সকল জঙ্গী সংগঠন গুলোরই আদর্শ মুটামুটি একই রকম আইএস, আলকায়দা, বকোহারাম ,জেমবি,হরকাতুল জিহাদ যাই হোক না কেন। কিন্তু এটা না করে নিজেকে দায় মুক্ত করার জন্য মুখস্ত বলে ফেললেন. এদেশে কোন আইএস নেই
তাহলে বিগত কয়েক বছর ধরে গুপ্ত হত্যা গুলো হচ্ছে এবং সবগুলো হত্যা কান্ড একই কায়দায় হচ্ছে,এগুলো কারা করছে?এর পেছনে নিশ্চই একক কোন আদর্শ জরিত। না , আমি এটা বলছিনা যে এর পেছনে শুধু আইএসই জড়িত।প্রতিটি হত্যাকান্ড ঘটিয়ে কোন না কোন জঙ্গী সংগঠন দায় স্বীকার করছে। এদের খুজেঁ বের করে কেন আইনের আওতায় নেয়া হচ্ছেনা ? কেন এই সমস্যার সমাধান করছেন না? যদি বলেন পারছে না তাহলে,ক্ষমতায় থাকার প্রয়োজন কি? অক্ষম হলে ক্ষমতা ছেড়ে দিন। আর এটা দি মেনে না নেন তাহলে কি ধরে নেব এর পেছনের পরোক্ষ কারন আপনারাই?

আমাদের মাননীয় সরকার প্রধান এক বক্তৃতায় বললেন সকল গুপ্তহত্যা তথা গুপ্ত হত্যাকারীর তথ্যই নাকি তাঁর কাছে আছে?
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবিনয়ে জিজ্ঞেস করি
-এটা কি জঙ্গীদের ভয় দেখালেন?এভাবে ভয় দেখালে একটা শিশুও ভয় পাবেনা ,জঙ্গীরা ভয় পাবে কি করে?
আর যদি প্রকৃত পক্ষেই আপনার কাছে এসব তথ্য থেকেই থাকে ,তাহলে কেন এদের বিরোদ্ধে কোন কার্যকরি পদক্ষেপ নিচ্ছেন না? এতে করে এটা প্রুভ করে যে আপনারা অক্ষম অথবা এর সাথে জড়িত।

প্রথা বিরোধী লেখক হুমায়ুন আজাদের উপর আক্রমনের মাধ্য দিয়ে মুক্তমনা লেখক,বুদ্ধিজীবি,প্রকাশক,অনলাইন এক্টিভিষ্ট ,ব্লগার হত্যার নিধন যজ্ঞ শুরু করেছিল বিভিন্ন জঙ্গী গোষ্টিগুলো তা আজ আর শুধু বস্তুবাদীদের মাঝেই সীমাবদ্ধ নেই। ধার্মিক হিন্দু পুরোহীত,বৌদ্ধ ভিক্ষু এমন কি উদারপন্থী মুসলিমদের উপরও আচড়ে পড়ছে এর উত্তাল ঢেউ। পায়ের আঙ্গুলে আক্রান্তকারী ব্যাকটিরিয় হাটু পার হয়ে কোমরে এসে পচঁন ধরেছে ,মাথা আক্রান্ত করতে আর কতক্ষন?
যখন নাস্তিক ব্লগারদের কুপিয়ে হত্যা করা হলো তখন সরকার,প্রশাসন এ বিষয়ে কথাই বলতে নারাজ।যদিও বা কেউ বিবৃতি দিয়েছে তাও ছিল দায়সাড়া।বরং আইন করে (৫৭ ধারা) মুক্তমনা লেখকদেরই মুখে তালা দেয়ার চেষ্টা করা হলো,তাদেই ভুল ত্রুটি ধরতে তৎপরতা চালানো হলো। কারন একটাই যারা ধর্মের বিরোদ্ধে,স্রষ্টার বিরোদ্ধে লেখে তাদের হত্যার বিরোধীতা করলে সংখ্যাগুরু আস্তিকের দেশে তাদের রাজনৈতিক ইমেজ নষ্ট হবে।আর রাজনৈতিক মতাদর্শের কারনে বরাবরই নিশ্চুপ থেকেছে আমাদের সরকার , আমাদের প্রশাসন।

কিন্তু আজ তো আর শুধু নাস্তিকদের হত্যা করা হচ্ছেনা,ধার্মিকদেরও হত্যা করা হচ্ছে বরং তাদেই বেশি হত্যা করা হচ্ছে।এদের বেশিরভাগই হিন্দু পুরোহীত,বৌদ্ধ ভিক্ষুও আছে।তবে এখনও কেন সরকার কোন কার্যকরি পদক্ষেপ নিচ্ছেনা? নাকি এখনও এটাই ভেবে বসে আছে তারা যে জঙ্গীরা তো শুধু হিন্দু ,বৌদ্ধদেরই মারছে ,আর যেহেতু তারা সংখ্যালঘু ভোটের রাজনীতিতে যেহেতু এদের তেমন কোন ভুমিকা নেই সব মরে সাফ হয়ে যাক ,আমাদের কি? একটু সুক্ষভাবে দেখলে দেখা যায় যে এদের শুরু দেশের সবচেয়ে সংখ্যালঘুদের(নাস্তিক) দিয়ে ,তার পরের ধাপ অপেক্ষাকৃত কম সংখ্যালঘুর (হিন্দু,বৌদ্ধ,খৃষ্টান)। ধারাবাহিক চিত্র তো এটাই বলে এর পরের ধাপ হবে এদের সংখ্যাগড়িষ্ট সাধারন মুসলিম। কৌশলগত কারনে এরা এভাবে এগুচ্ছে।আদর্শগত ভাবে ইসলামী জঙ্গী গোষ্টী গুলো সাধারন মুসলিমদের মত উদার আদর্শ পোষন করে না ।এরা মডারেট নয়,চরম মৌলবাদী।

এভাবে ধীরে ধীরে আমাদের এই স্বপ্নের দেশটাকে গ্রাস করে নেবে। তখন না থাকবে আমাদের বর্তমান আইন কানুন না থাকবে নারী নেত্রীত্ব ,ধর্মীয় আদর্শ অনুসারে জঙ্গীদের কাছে নারী নেতৃত্ব হারাম। অন্তত একটি কারনে হলেও আমাদের বর্তমান প্রধান মন্ত্রীর এ বিষয়টিকে একটু বেশি করে আমলে নেওয়া দরকার।
অনেকে বলে থাকেন,এই জঙ্গী হামলাগুলো ধর্মীয় আদর্শের জন্য হচ্ছেনা ।ধর্মকে ব্যবহার করে বর্তমান পৃথিবীর সম্রাজ্যবাদী দেশগুলো বিশেষ করে আমেরিকার একটি চাল মাত্র।এরা যে কোন প্রকারে একটি দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে,তার পর শান্তি প্রতিষ্ঠার নাম করে দেশটি দখল করে এর সম্পদ লুটে নেয়।যেহেতু তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো ধর্মের প্রতি সেন্সেটিভ তাই এরা এ কাজে ধর্মকে ব্যবহার করে। যদি তাও মনে নিই তাহলে আমাদের সরকার তথা প্রশাসনের গোয়েন্দা বিভাগ কি করার জন্য আছে? কেন তাদের পাতানো ফাঁদের দিকে আমরা ধীরে ধীরে এগুচ্ছি? এত ছোট একটি দেশ ! এর মধ্যে এত সব জঙ্গী গোষ্টির জন্ম হচ্ছে এবং বিস্তার লাভ করছে অথচ গোয়েন্দাদের হাতে কোন তথ্য থাকবেনা! এটা কি মেনে নেয়া যায়?

অনেককে বলতে শুনেছি বাংলাদেশে আইএস নেই,জঙ্গী নেই এরুপ বলাটা নাকি একটা কৌশল।কারন হিসাবে দেখানো হয় আইএস সহ অন্যান্য জঙ্গীদের যদি সরকার স্বীকার করে নেয়,তাহলে সম্রাজ্যবাদী দেশ গুলোর উদ্দেশ্য সাধনে সহায়তা করে হবে।তাই এদের অস্বীকার করে গোপনে গোপনে জঙ্গীদের দমন করে ফেলবে।
বেশ তো, ভাল কথা। কিন্তু কাজের কাজ হচ্ছে কোথায়? বিগত বছরগুলোর উপর একটু দৃষ্টিপাত করলে দেখা যাবে পুর্বে যদ সময় পরপর এবং যে পরিমানে জঙ্গী হামলা,গুপ্ত হত্যা গুলো হয়েছে বর্তমানে তার থেকে কম সময় ব্যাবধানে এবং বেশি পরিমানে সংঘটিত হচ্ছে। অর্থাৎ জঙ্গী তৎপরতা ক্রমশ বেড়েই চলচে। তাদের সংখ্যা,শক্তি সাহস ক্রমবর্ধমান ।আমরা আফগানিস্থান,পাকিস্থান,সিরিয়ার দিকে তাকালে দেখা যায় জঙ্গীদের প্রশ্রয়ের ফলে আজকে কি ভয়াবহ তাদের অবস্থা! এ অভিজ্ঞতাগুলো কি আমাদের সরকারের চেতনাকে পরিবর্তন করতে পারে না?

মতিঝিল শাপলা চত্তর যখন শিক্ষানীতি,নারীনীতি বন্ধের দাবীতে দখল নিল হেফাজত,যৌতবাহিনীর অভিজান পরিচালনা করল এদের সরাতে ।সাক্সেসফুলও হলো,আর এতেই তারা তৃপ্তির ঢেকুর তুলল। কিন্তু মনে প্রশ্ন জাগে হেফাজতের উদ্দেশ্য কি ছিল কেন গোয়েন্দা বিভাগের হাতে আগে আসলনা?এতবড় একটা ধংসাত্বক পরিকল্পনা করে ফেলল হেফাজত,তা নিশ্চই এক দিনে হঠাৎ করে সম্ভব হয়নি।অথচ আমাদের ইন্টিলিজেন্স অর্গানাইজেশনটি এর টিকিটিও টের পেলনা?এর কোন উত্তর হবে কি?

গোলসানের মত এমন হাই সিকিউরড জায়গায় এত গুলো অস্ত্র নিয়ে জঙ্গীরা আক্রমন করে বসল তার আগে আমাদের গোয়েন্দারা কিছুই জানতে পারলনা ?এখানেও তো একই কথাই প্রযোজ্য হঠাৎ করে কি এ আক্রমন? নিশ্চই এর পেছনেও দীর্ঘ্য সময়ের পরিকল্পনা রয়েছে। এখানেও আমাদের সরকার ব্যার্থতার পরিচয় দিয়েছে। অভিমানী ক্ষুব্দ মন তো এখন এটাই বলতে চাইছে বঙ্গভবন বা গনভবনও যদি কোন হাই টেকনোলজির দ্বারা জঙ্গীরা আক্রমন করে এটাও বোধহয় আমাদের গোয়েন্দা বিভাগ টের পাবেনা। এতে করে আমরা কি বুঝব?

গুলসান হত্যাকান্ডের পর আইএস টুইটের মাধ্যমে জানায় অন্যদেশ থেকে ২০জনকে ওরা হত্যা করেছে,যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক একটি সংস্থা জেনে যায় বিশজনের হত্যার খবর, আর আমাদের যৌতবাহিনী ভবনটির সামনে থেকে কিছুই জানতে পারেনি।তবে একবার বলেছে ভেতরে পাঁচটি লাশ দেখা গিয়েছে সেও নাকি ভারতের দেয়া তথ্যানুসারে।

এতে করে এটাই প্রমান হয় আমাদের প্রযুক্তি ভিত্তিক নজরদারী জঙ্গীদের কাছে যতেষ্ট অপরিপক্ষ।অথবা সরকার, প্রশাসন এর সাথে যুক্ত থেকে জঙ্গী দমনের নাটক করেছে।আর জনগনকে দেখাতে চেয়েছে দেখ আমরা জঙ্গী দমনে কতটা তৎপর।

আমরা কি এমন বাংলাদেশ চেয়েছিলাম?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “সম্যাটা কোথায়? ….অনিচ্ছায়? নাকি অক্ষমতায়?

  1. তৃতীয় বিশ্বের সবকিছুই চলে
    তৃতীয় বিশ্বের সবকিছুই চলে তৃতীয় শ্রেনীর মত। সামরিক বা গোয়েন্দাদের পেশাদারিত্বের সক্ষমতা বাড়াতে গেলেও সামনে চলে আসে নানা হিসাব নিকাশ। টাকা পয়সা নাই যে আমাদের। দেশটা আসলে ছোট না, জনসংখ্যার হসাবে অনেক বড় একটা দেশ। সেই অনুপাতে পুলিশ বা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য কেমন সেটা ভাবেন। খুব খুব খুবই কম।

    আর গুলশান কি নিরাপদ আসলেই? কিছু যানবাহন চেক করা হয়, পথচাঈ বা রিক্সা এম্বুলেন্স কি করা হয়? কিছুই করা হয়না। কঠোর নিরাপত্তা বেষ্ঠনী যাকে বলছে সবাই সেটা আসলে দুর্বল। অনেক ফাঁক আছে।

    সমস্যা সরকারেরও আছে। নাই নাই নাই বললে তো পদক্ষেপ তারা নেবেই না। এখন তো বড় ধাক্কা দিয়েই আছে যে সেটার প্রমান করলো। সকলক্ষেত্রে নজরদারী আর প্রচারণা বাড়ানো দরকার। সামান্যতম লক্ষনেও হতে হবে কঠোর, তা বৃহত্তর স্বার্থেই।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

11 − = 2