জঙ্গিবাদ মস্তিষ্কে, পোশাকে নয়

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার ডিপ্লোমেটিক জোন খ্যাত গুলশান-২ এ গত শুক্রবার জঙ্গিদের হামলা ২২ জন নিহত যাদের কে কুপিয়ে হত্যা করেছে ইসলামি জঙ্গিরা তাদের মধ্যে কয়েক জন কে ছেড়ে দিয়েছে কলেমা পড়তে পাড়ার কারনে।

শনিবার সকালে বাংলাদেশ আর্মির অপারেশনে নিহত জংগীদের পরিচয় পাওয়া যায় কয়েক ঘন্টা পর পুলিশ তাদের নাম প্রকাশ করেছে “আকাশ বিকাশ রিপন ডন…ইত্যাদি; কিন্ত সহজে অনুমান করা যায় এগুলা তাদের আসল নাম নয়। একদিন পর তাদের আসল পরিচয় পাওয়া যায়, তারা সকলে বাংলাদেশী নাগরিক, তারা আধুনিক সাজ সজ্জায় সজ্জিত ধনী পরিবারের সন্তান এবং ইংলিশ মিডিয়ামে পড়াশুনা করেছে। তাদের পুর্বের ছবি দেখে কেউ হয়ত বিশ্বাস করতে চাইবেনা তারা ইসলামী জংগী। বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের শেকড় ধরা হয় কাওমি মাদ্রাসা কে। হয়ত সত্য, সব কাওমি মাদ্রসা জঙ্গিবাদের সাথে যুক্ত নয় কিন্তু নিঃসন্দেহে বলা যায় বাংলাদেশের বেশির ভাগ কাওমি মাদ্রাসা জঙ্গিবাদের সাথে যুক্ত। তার অনেক প্রমান দেওয়া যায়। অবশ্যই গুলশানের হোটেল হলি অর্টিজানে হামলাকারী জঙ্গিরা কাওমি মাদ্রাসার ছিলনা। তা দেখে অনেকে খুশিতে গদগদ; অনেকে কাওমি মাদ্রাসাকে ধোঁয়া তুলশি পাতা বানাচ্ছে। কাওমি মাদ্রাসার শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘ দিনের। কাওমি মাদ্রসা কি শিখাচ্ছে এই প্রশ্ন বাংলাদেশের সকল শিক্ষাবিদের। যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তাদের দেশ সম্পর্কে জানেনা বা জানতে দেওয়া হয় না, যেখানে জাতীয় পতাকা উত্তলন করা হয়না, জাতীয় সংগীত গাওয়া হয়না হিন্দু কবির লিখা বলে। তাহলে বুঝতে হবে এটা একটা সাম্প্রদায়িক ও গোড়ামির আড্ডাখানা।

যাই হোক, গবেষনা ছাড়া বলা যায় বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা,সামাজিক ব্যবস্থা আর বড় রাজনৈতিক দলের রাজনীতিতে ধর্মকে অতিমাত্রায় ব্যবহার জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করছে । এখন সবার প্রশ্ন এই ধনী পরিবারের আধুনিক, ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ুয়া সন্তানেরা জঙ্গি হল কেন। এটা সোজা ও সহজ প্রশ্ন শুধু নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে নয় বাংলাদেশের সরকারী কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়েও জংগীবাদের বিস্তার আছে। জঙ্গি বলতে আমি শুধু চাপাতি বা আলীর তরবারী নিয়ে গর্দান কর্তন করা বুঝাই না। কথাবার্তা ও একজন মানুষের আদর্শিক দিক থেকে পর্যালোচনা করলে আপনার বুঝতে অসুবিধা হবেনা সে আসলে কতটা উগ্র। ধর্মের অনেক স্ববিরোধিতা আছে অন্ধের মত যারা ধর্মকে বিশ্বাস করে তারা এসব বিষয়ে প্রশ্ন করেনা কিন্ত যাদের মনে সন্দেহ বা সৃজনশীলতা উকি দেয় তারা ঐসকল স্ববিরোধী বক্তব্য বা বয়ানে প্রশ্ন করে। অনেকে এর সঠিক উত্তরদিতে পারেনা, আর না-পেরে এসব বিষয়ে প্রশ্ন করা যাবেনা বলে ও জাহান্নামের ভয় দেখায়। আসলে এই প্রশ্নের উত্তর সে নিজেই জানেনা। অথচ ধর্মে তার অগাধ বিশ্বাস।

বর্তমানে অনলাইন কেন্দ্রিক জঙ্গিবাদের প্রচার প্রচারণা চলে। অনলাইনে আন্তর্জাতিক জঙ্গিরা সদস্য সংগ্রহ করে হয়ত এই আধুনিক কোট-টাই পড়া জঙ্গিরা অনলাইনে ব্রেন ওয়াসড হয়েছিল, তাদের দেখানো হয়েছিল লোভ বেহস্তের। যেখানে তারা পাবে ৭২টা উর্বশী, ফলমূল। তাই তারা বেহেস্তে ৭২টা উর্বশির সাথে পাছা-মারামারি করতে দুনিয়া ত্যাগ করেছে। তাদের ভ্রান্ত ধারনা দিয়েছিল, তাদের গুরুরা বলেছিল খ্রিষ্টান হিন্দুরা ইসলামের শত্রু তাদের জবাই করলে তুমি তাড়াতাড়ি বেহস্ত পাবে।
তাই এ জিন্সপড়া ভদ্রলোকেরা জঙ্গি! আর এই ইউনিভার্সিটির ছাত্ররা জঙ্গি হয়েছে, এত আশ্চর্য হবার কি আছে! বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের গড ফাদার জামায়াতিরা তো স্কুল কলেজ ইউনিভার্সিটিতে সক্রিয়।

সোজা কথা বাংলাদেশে ইসলামী জঙ্গিবাদের অনেক শাখা-প্রশাখা আছে। কিছু নিয়ন্ত্রন করে জমায়াত শিবির। বিভিন্ন নামে-বেনামে আর কিছু নিয়ন্ত্রন করে কাওমি মাদ্রাসা। এই কাওমি মাদ্রাসায় আর্থায়ন করে বিএনপি আওয়ামিলীগ। বর্তমানে আওয়ামিলীগের নেতারা হয় ওয়াজের প্রধান অতিথি। তাদের সামনে বঙ্গবন্ধুকে ইসলামের শত্রু, তিনি পাকিস্থান ভেঙ্গেছেন বলে গালাগাল করা হয় আর আওয়ামিলীগের নেতারা চেয়ারে বসে তালিয়া বাজায় এটা হচ্ছে বাস্তবতা।

যারা কাওমি মাদ্রাসাকে ফেরেস্তার আড্ডাখানা বানাতে চাইছেন তাদের বলি, মুফতি হান্নান কাওমি মাদ্রাসার, শাইখ রহমান কাওমি মদ্রাসার, সফি হুজুর কাওমি মাদ্রাসার। হেফাজতের তান্ডব এত তাড়াতাড়ি ভুলে গেলেন?

ব্লগার ওয়াশিকুর রহমান হত্যাকান্ডের সাথে হাটাজারি মাদ্রসার ছাত্র জড়িত ছিলেন।

অতএব , জঙ্গিবাদ পোশাকে নয়, জঙ্গিবাদ আপনার মস্তিষ্কে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

29 + = 32