গুলশান ম্যাসাকার ও জঙ্গিবাদের করাল গ্রাস

শুরু হয়েছিল ব্লগার কিলিং দিয়ে , ধর্মীয় অনুভূতির কারণে প্রগতিশীল অনলাইন এক্টিভিস্টরা ব্যতীত আর কেউ তেমন সহানুভূতিশীল ছিলো না। প্রতিবাদ দূরের কথা। কিন্তু যতোই সময় বয়ে যেতে থাকে , বাড়তে থাকে হত্যার পরিধি। প্রকাশক , ইসলামী চিন্তাবিদ , মন্দিরের পুরোহিত ,গির্জার পাদ্রী , বৌদ্ধ ভিক্ষু ,সমকামী অধিকার এক্টিভিস্ট একে একে সবাই পরিণত হতে থাকেন চাপাতি হামলার শিকারে। কিন্তু শুধুমাত্র গুপ্তহত্যার মধ্যেই যে এসব সীমাবদ্ধ থাকবে না , তা আগেই আঁচ করা গিয়েছিল ভালোভাবেই। গত বছরের মাঝামাঝি থেকেই হঠাৎ দেশে বেড়ে যায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপরে নির্যাতনের হার। বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নারীদের উপরে নির্যাতন , বসতভিটা বেদখল ,আর উপাসনালয়ে হামলা বেড়ে যায় আশংকাজনকভাবে। বোঝাই যাচ্ছিল এসব কোন বিশেষ মহলের নীলনকশা বাস্তবায়নের সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা।

এর মধ্যে উদবেগজনক আরো একটি বিষয় পরিলক্ষিত হয়। সেটি হচ্ছে , বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে বিপুল পরিমাণে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার্। এগুলো যে বড় ধরনের নাশকতামূলক কার্যের জন্যই আনা হয়েছিল সেটা বুঝতে শার্লক হোমস হতে হয়না। চোখকান খোলা রাখাই যথেষ্ঠ।তথাপি রাষ্ট্রপক্ষ বরাবরই দেশে জঙ্গিবাদের অস্তিত্বের কথা অস্বীকার করে এসেছেন।মাননীয় স্বররাস্ট্রমন্ত্রীসহ অনেকেই “দেশে কোন জঙ্গি নাই” “এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা ” ইত্যাদি বলে পাশ কাটানোর চেষ্টা করেছেন বাস্তবতাকে। কিন্তু কালসাপের দংশন শেষ পর্যন্ত গুলশানের কুটনৈতিক পাড়ায় গিয়ে আঘাত হানল নিদারুণভাবে।


বাংলাদেশ ঠিক কবে থেকে জঙ্গীদের টার্গেটে পরিনত হলো, বা ঠিক কবে থেকে এ দেশে জঙ্গীদের কার্যক্রম শুরু হয়েছে তার সঠিক দিনক্ষণ বলা না গেলেও যতটুকু জানা যায় জামায়াতের গোলাম আযমের আমিরত্বের শেষ ও আব্বাস আলী খানের শুরু থেকে সুদূর প্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসাবেই বাংলাদেশে জঙ্গীবাদের প্রসার শুরু হয়। তারও আগে বন্দুকের নলের মুখে জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা গ্রহণের পর বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে, স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াত-শিবিরকে রাজনীতিতে পুনর্বাসন করে বাংলাদেশে তাদের অবাধ রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করে দেয়ার সুযোগ করে দেয়। সেই সুযোগেই পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের প্রত্যক্ষ মদদ ও আর্থিক আনুকুল্যে এদেশে জঙ্গীবাদের কার্যক্রম শুরু হয় এবং সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ দিয়ে সংবিধানকে ইসলামীকরণের মাধ্যমে স্বাধীনতা সংগ্রামে সরাসরি বিরোধীতাকারী পরাজিত শক্তির পৃষ্ঠপোষকতায় এদেশে প্রথম জঙ্গীবাদের বিষবৃক্ষ রোপন করা হয় যা বর্তমানে পত্র-পল্লবে বিকশিত হয়ে আমাদের সকল অর্জনকে ধ্বংস করে দিতে চাচ্ছে।

বাংলাদেশে জঙ্গীবাদের উত্থান নিয়ে দেশ বিদেশের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা বিশেষ করে বিশ্বের প্রভাবশালী পত্রিকা গার্ডিয়ান ও দি টাইমস এ নিয়ে বেশ কিছু রিপোর্ট করে। ২০০২ সালের ১৫ অক্টোবর দি টাইমস ম্যাগাজিনে এলেক্স পেরির এক এক্সক্লুসিভ নিবন্ধে বলা হয়, এমভি মক্কা নামক একটি জাহাজে চড়ে ১৫০ জন আফগান ফেরত সশস্ত্র যোদ্ধা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। সেই যোদ্ধারাই দেশের মাদ্রাসায় মাদ্রাসায় সশস্ত্র প্রশিক্ষণ দিয়ে জঙ্গী তৈরীতে লিপ্ত হয়। এ জঙ্গীদের সহযোগিতায়ই তৎকালীন সরকার বেছে বেছে আওয়ামী লীগ ও প্রগতিশীল নেতাদের খুন করার মিশনে নেমে পড়ে। এ খুনের তালিকা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হতে থাকে। এদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও শেখ হাসিনা সরকারের সফল অর্থমন্ত্রী- এসএসএস কিবরিয়া, বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা- আহসান উল্লাহ মাস্টার, মমতাজ উদ্দিন, খুলনার- মনজুরুল হক এডভোকেট, সাংবাদিক শামসুর রহমান, বালু প্রমুখ। তারপর থেকে সিনেমা হল, মাজার, উপাসনালয়ে বোমা হামলা করে নিরপরাধ সাধারণ মানুষকে হত্যা করতে থাকে। ২০০৪ সালের একুশে আগষ্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে শেখ হাসিনার সন্ত্রাস বিরোধী জনসভায় এক জঘন্য কাপুরুষোচিত গ্রেনেড হামলা চালিয়ে আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা আইভি রহমানসহ ২৪ জন নেতা-কর্মী সমর্থককে হত্যা করে এবং এ হামলায় প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মী পঙ্গুত্ব বরণ করে। সেই নৃসংশতম গ্রেনেড হামলাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে ধামাচাপা দেয়ার জন্য বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার জজ মিয়া নাটকের অবতারনা করে।একটা সময়ে এসে বিএনপি-জামায়াত জোটের সৃষ্ট জঙ্গীরা তাদের জন্যই ফ্রাঙ্কেষ্টাইন হিসাবে আবির্ভুত হয়। ২০০৪ সালের ২১শে মে বৃটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী বাংলাদেশের নিজের মাতৃভুমি সিলেটে, শাহজালাল(র) মাজার জিয়ারত করতে এসে জঙ্গীদের বোমাহামলার শিকার হন। তিনি ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে গেলেও সেই বোমা হামলায় তিন চারজন সাধারণ মানুষ নিহত ও শতাধিক লোক আহত হয়।

বিএনপির এই শাসনামলে জঙ্গীরা সবচে বড় মহড়াটি দেয় ২০০৫ সালের ১৭ আগষ্ট বাংলাদেশের তেষট্টি জেলার ৫২৭ স্থানে একযোগে বোমা হামলা চালিয়ে। এই বোমা হামলায় ২৫০টির মত মামলায় গ্রেফতারকৃত অধিকাংশ আসামী পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে নিজেদেরকে কোনো না কোনো ভাবে জামায়াত রাজনীতিতে সম্পৃক্ত বলে বলেছে। এ বোমা হামলার মাধ্যমে তারা তাদের শক্তি ও সামর্থ জানান দিয়ে দেশের ভেতর একটা আতঙ্ক সৃষ্টির মাধ্যমে বিএনপি সরকারকে বাগে রাখার চেষ্টা করে। এই সময়ে জঙ্গীরা বিএনপি-জামায়াতের আশ্রয়ে প্রশ্রয়ে বিশেষ করে জামায়াতে ইসলাম, আজিজূল হক ও ফজলুল হক আমিনীর নেতৃত্বাধীন ইসলামী ঐক্য তত্বাবধানে আফগান ফেরত যোদ্ধাদের দিয়েই বাংলাদেশে জঙ্গীবাদের প্রসার ঘটানো হয়।

বিএনপির ওই মেয়াদে বাংলাভাই নামক ফ্রাঙ্কেষ্টাইন সৃষ্টি করে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে সর্বহারা নিধনের নামে প্রগতিশীলদলের নেতাকর্মীদের ধরে ধরে হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। তখন দেশব্যাপী এ নৃশংস কর্মকান্ডের তীব্র প্রতিবাদ শুরু হলে জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী বলেছিলেন দেশে বাংলা ভাইয়ের কোনো অস্তিত্ব নেই; তার সাথে কন্ঠে কন্ঠ মিলিয়ে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুর রহমান বাবর (বাঙ্গরেজী নামে খ্যাত) ব্যঙ্গ করে বলেছিলেন দেশে বাংলা ভাই বা ইংরেজী ভাই বলে কোন কিছুর অস্তিত্ব নেই, স্বয়ং খালেদা জিয়া বলেছিলেন দেশের ভাবমুর্তি ধ্বংস করার জন্য আওয়ামী বাকশালীরা এ ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। অথচ শায়খ রহমান, বাংলা ভাইসহ যাদের ফাঁসি হয়েছে এদের সবাই এক সময় জামায়াতের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিল। এ ছাড়াও রোহিঙ্গা শরনার্থী শিবিরে এ সব জঙ্গী সংগঠনগুলো তাদের কার্যক্রম বিস্তার করে জঙ্গীবাদী কার্যক্রমকে আরো বেগবান করা হয়েছে বলে বিভিন্ন দেশী-বিদেশী জরীপে বেরিয়ে আসে।

এভাবেই এরে পর এক সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনায় ধীরে ধীরে আমাদের দেশে জঙ্গীবাদের উত্থান ঘটে। সে সময় পুলিশ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত অপরাধ সংক্রান্ত সভা থেকে ৩১টি জঙ্গী ও চরমপন্থী সংগঠনের তালিকা তৈরী করে পুলিশ সদর দপ্তরে জমা দেয়া হয়েছিল। তার ওপর ভিত্তি করেই হুজি, জেএমবি, জেএমজেবি, শাহাদাৎ আল হিকমার বিভিন্ন উপগ্রুপের নাম সন্নিবেশিত আছে। পুলিশ তদন্তে আরো বেড়িয়ে এসেছে যে, জেএমবি থেকে ইসলাম ও মুসলিম, মুসলিম শরিয়া কাউন্সিল, আল্লার দল প্রভৃতি এবং হুজি থেকে আইডিপি, হরকত উল মুজাহেদীন, তওহীদ জনতা প্রভৃতি জঙ্গী সংগঠনের উপদল সৃষ্টি হয়েছে। যা আসলেই জামায়াতেরই বিভিন্ন ফ্রন্ট।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীতে শাহবাগ আন্দোলন গড়ে ওঠার পর হতে আমরা জঙ্গীবাদের এক নতুন রূপ দেখতে পাই। প্রথমদিকে তা শুধুমাত্র ব্লগার আর অনলাইন এক্টিভিস্টদের খুনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও ক্রমশঃ তা ছড়িয়ে পড়ে সমাজের অন্যান্য শ্রেণীপেশার মানুষের মাঝেও।১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ ঢাকায় খুন হন ব্লগার রাজিব হায়দার,০২ মার্চ, ২০১৩ সিলেটে খুন হন গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক ,ছাত্রলীগ নেতা জগৎজ্যোতি তালুকদার,০৯ এপ্রিল, ২০১৩ বুয়েট ক্যাম্পাসে বুয়েটের ছাত্র ,গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী আরিফ রায়হান দ্বীপকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৪ সাভারে অ্যাকটিভিস্ট ছাত্র আশরাফুল আলমকে কুপিয়ে হত্যা করা হয় , ১৬ নভেম্বর, ২০১৪ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. এ কে এম শফিউল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়,
২০১৫ সালের ১১ জানুয়ারি চট্টগ্রামের নার্সিং ইনস্টিটিউটের লেকচারার অঞ্জলি দেবী চৌধুরীকে জঙ্গিরা কুপিয়ে হত্যা করে,১৫ নভেম্বর, ২০১৪: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক শফিউল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৪: চট্টগ্রামে কথিত এক ফকিরের আস্তানায় ঢুকে ফকিরসহ দুইজনকে গলা কেটে হত্যা করে বোমা ফাটিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৫: ঢাকার কূটনৈতিক পাড়া গুলশানে চেজারে তাভেল্লা নামের এক ইতালীয় নাগরিককে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়, ৩ অক্টোবর, ২০১৫: রংপুরের কাউনিয়ায় মুখোশধারীদের গুলিতে নিহত হন জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি, যিনি ওই এলাকায় একটি জমি ইজারা নিয়ে ঘাসের খামার করেছিলেন, ৫ অক্টোবর, ২০১৫: ঈশ্বরদীর ব্যাপ্টিস্ট মিশনের ‘ফেইথ বাইবেল চার্চ অব গড’ এর ফাদার লুক সরকারকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করা হয়, ২২ অক্টোবর,২০১৫ : ঢাকায় গাবতলীতে একটি তল্লাশি চৌকিতে পুলিশের এক এএসআইকে ছুরি মেরে হত্যা করা হয়, ২০১৫ সালের ২৪ অক্টোবর: রাজধানীর হোসাইনী দালানে শিয়া সম্প্রদায়ের তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতির মধ্যে ফাটানো হয় গ্রেনেড।এতে দুজন নিহত হন, আহত হন শতাধিক, ২০১৫ সালের ১৮ নভেম্বর: দিনাজপুরে পিয়েরো পারোলারি নামে এক ইতালীয় পাদ্রীকে হত্যার চেষ্টা হয় গুলি করে, ২০১৫ সালের ২৬ নভেম্বর: মাগরিবের নামাজের সময় বগুড়ার শিবগঞ্জের হরিপুরে শিয়া মসজিদে ঢুকে গুলি চালানো হলে মুয়াজ্জিন নিহত হন, আহত হন আরও চারজন, ২০১৫ সালের ৪ ডিসেম্বর: দিনাজপুরের কাহারোলে ঐতিহ্যবাহী কান্তজিউ মন্দির প্রাঙ্গণে এক মেলায় বোমা হামলা হয়,২০১৫ সালের ১০ ডিসেম্বর: বগুড়ার কাহারোলে ইসকনের এক মন্দিরে ঢুকে গুলি ও বোমা হামলা চালানো হয়। একই দিনে চুয়াডাঙ্গায় খুন হন স্থানীয় বাউল উৎসবের এক আয়োজক। পরদিন তার লাশ পাওয়া যায়,২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫, বইমেলা থেকে ফেরার পথে জঙ্গি হামলায় খুন হন বিজ্ঞান লেখক অভিজিৎ রায়, সাথে গুরুতর আহত হন তাঁর স্ত্রী বন্যা আহমদ, ৩০ মার্চ, ২০১৫ অফিস যাওয়ার পথে খুন হন অনলাইন এক্টিভিস্ট ওয়াশিকুর বাবু, ৯ই এপ্রিল ২০১৫, নিজ বাসায় গলা কেটে হত্যা করা হয় ইসলামী ফ্রন্ট নেতা মাওলানা নূরুল ইসলাম ফারুকীকে, ১২ মে, ২০১৫ সিলেটে বিজ্ঞান লেখক অনন্ত বিজয় দাসকে জঙ্গিরা কুপিয়ে হত্যা করে,০৭ আগস্ট, ২০১৫ ঢাকায় নিজ বাসায় জঙ্গিদের হাতে খুন হন ব্লগার নীলাদ্রী চট্টোপাধ্যায় {নিলয় নীল},৩১ অক্টোবর, ২০১৫ ঢাকায় জাগৃতি প্রকাশনীর ফয়সাল আরেফিন দীপনকে জঙ্গিরা কুপিয়ে হত্যা করে,৬ই এপ্রিল, ২০১৬ কুপিয়ে খুন করা হয় গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী ও অনলাইন এক্টিভিস্ট নাজিমঊদ্দীন সামাদকে,২০১৬ সালের ২৩ এপ্রিল: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রেজাউল করীম সিদ্দিকীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়, সর্বশেষ বিগত ২৫ শে এপ্রিল, ২০১৬ সালে রাজধানীর কলাবাগানের লেক সার্কাসে ঘরে ঢুকে কুপিয়ে খুন করা হয় জুলহাজ মান্নান ও তার বন্ধু এক নাট্যকর্মীকে। যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডি’র কর্মসূচি কর্মকর্তা জুলহাজ (৩৫) সমকামীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার সাময়িকী ‘রূপবান’ সম্পাদনায় যুক্ত ছিলেন।

তবে গুলশান হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে জংগীরা জানান দেয় তাদের পূর্ণ উপস্থিতি। এর আগে সরকারের একাধিক দায়িত্বপ্রাপ্তমহল থেকে দেশে আইএস বা অপর কোন জংগীগোষ্ঠীর অস্তিত্ব অস্বীকার করা হলেও এবার আর সেই যুক্তি ধোপে টেকেনা।ভয়াবহ এই হামলায় প্রাণ হারান ২০ জন নিরাপরাধ মানুষ। যাদের মধ্যে তিনজন ছাড়া আর সবাই বিদেশী নাগরিক। নৃশংশভাবে মধ্যযুগীয় বর্বরতায় গলা কেটে হত্যা করা হয় তাদের।বাংলাদেশী হওয়া স্বত্বেও মাথায় হিজাব না থাকায়্ একই ভাবে হত্যা করা হয় দুই বাংলাদেশী নারীকেও। বিশ্বাসের ভাইরাসে অন্ধ এই খুনীদের হাত থেকে সেদিন রেহাই পায়নি নারী ,শিশু কেউই। আমাদের প্রাণপ্রিয় মাতৃভূমি আবার রঞ্জিত হলো নিরীহ মানুষের তাজা রক্তে। বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ নামটি প্রতিষ্ঠা পেল একটি ধর্মান্ধ জংগী রাষ্ট্র হিসেবে। বিশ্বব্যাপী ধ্বনিত হচ্ছে আজ ধিক্কার ধ্বনি।এদশীর বৈদেশিক বাণিজ্য আর আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই হামলা যে চরম নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। আর এর মাশুল গুণতে হবে সমগ্র জাতিকেই।

এখনো সময় আছে। জংগীবাদের বিরুদ্ধে গড়ে তুলতে হবে ইস্পাত কঠিন ঐক্য।দল ,মত, জাতি,ধর্ম নির্বিশেষে সকলকে সম্পৃক্ত করে রুখে দাড়াতে হবে এই জংগীবাদের অশুভ কালোছায়ার বিরুদ্ধে। না হলে আমাদের নিকট ভবিষ্যতের পরিণতি হবে সিরিয়া,আফগানিস্তান, পাকিস্তানের চেয়েও ভয়াবহ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

5 + 5 =