‘সোনার বাংলা’ গড়তে চান ?? সম্ভব না

জানি অনেক বড় সমস্যা নিয়ে লিখতে বসেছি ।ভূমিকম্পে ­ ধ্বসে পড়া দালানের নিচে আটকে পড়া মানুষের চিত্‍কার যেমন উদ্ধারকর্মীর কানে পৌছে না , তেমনি আমার এই লেখা কিছু কমেন্টের চেয়ে বেশি কিছুই করতে পারবেনা ।

একদিন সন্ধায় রবীন্দ্রসরোবরে বসে ছিলাম দুজন বন্ধুসমেত । একটি বাচ্চা ছেলে এসে বলল , তার বাবা তাদের ছেড়ে চলে গেছে , মা অসুস্থ , বস্তিতে ঘড়ভাড়া দিতে হবে । পকেট থেকে ২০টাকা বের করে দিলাম । সে চলে যাবার পর বন্ধু বলল ‘ব্যাটা মিথ্যা কথাবলে টাকা নিয়ে গেল । পড়াশোনা করতে পারে না ? এখনতো লেখাপড়া করতে টাকা লাগে না । তা না করে ভিক্ষা করা শিখছে ।’

বন্ধুর কথাগুলো হয়ত সত্য । আমিবন্ধুকে শুধু একটি কথাই বলেছিলাম যে , ধরে নিলাম ছেলেটার সব কথাই মিথ্যা কিন্তু একটা ব্যাপার সত্য আর তা হল ওর পেটে ভাত নেই , আছে শুধুই ক্ষুধা ।

এবার আসি সরকারের কিছু হেঁয়ালির কথাতে । আমাদের সরকার এই পথশিশুদের বিদ্যালয়ে নিয়ে আসতে তাদের জন্য বিনামূল্যে বই , অবৈতনিক শিক্ষার ব্যাবস্থা করেছে । তাদের বলছে ‘তোমরা স্কুলে আস , তোমরা দশ বারো বছর ধরে শিক্ষা গ্রহন করো , শিক্ষিত হবার পর তোমরা তোমাদের শারিরীক , আর্থিক , ­সামাজিক দূরাবস্থা কাটিয়ে উঠতে পারবা । লেখাপড়া শিখে গাড়ি ঘোড়া চড়তে পারবা ।’

এইসব কথা ওই শিশুদের কাছে বানরের সামনে মুলা ঝুলিয়ে রাখা ছাড়া আর কিছুই নয় ।

যে অসুস্থ শিশুটি জানেনা যে সে ওষুধ না পেলে আর দশটা বছর বাঁচবে কি না , সে কিভাবে সরকারে দেয়া এই আশায় স্কুলমুখী হবে ? রেলস্টেলনে গভীর রাতে অসুস্থ শিশুটির চিত্‍কার কোন সরকারী ডাক্তারের কানে তার বিলাসবহুল এপার্টমেন্টের পুরু দেয়াল ভেদ করে পৌঁছে না ।
যে শিশুটি জানে না আজ রাতটি তার কোন স্টেশনে , ফুটপাতে , গাছতলায় নাকি খোলা আকাশের নীচে কাটবে , যে শিশুটি জানেনা এই বেলায় খেতে পেলে পরবর্তী কত বেলা পরে সে আবার খেতে পাবে , সে কিভাবে দশ বছর পরে শিক্ষিত হয়ে গাড়ি ঘোড়া চড়ার আশায় স্কুলমুখী হবে ? ছেঁড়া কাপড়ে বা খালি গায়ে স্কুলে যাবার লজ্জা কিভাবে বসুন্ধরাসিটিতে শপিং করা ছেলেদের মেয়েদের সরকারী আমলা বাবারা জানবেন ?

তাই বলতে চাই , হে মহামান্য সমাজ , এদের অনুভূতি নিয়ে খেলবেন না।এদের ঠকাবেন না । শিক্ষা অনেক দূরের বিষয় । আগে এদের বাঁচার জন্য চিকিত্‍সা , খাবার , কাপড় তথা আবাসনের ব্যাবস্থা করুন । তারপর আপনাদের এইসব অবৈতনিক শিক্ষা , বিনামূল্যে ­যে বইয়ের সুফল মিলবে । এদের সংখ্যা কম নয় , এদের বাদে সোনারবাংলা গড়ার চিন্তা ভূলেও ভাববেন না । তা না হলে সোনার বাংলায় থাকবে শুধুই খাদ , সোনা খুঁজেও পাবেন না ।।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৪ thoughts on “‘সোনার বাংলা’ গড়তে চান ?? সম্ভব না

  1. সুন্দর টপিক তুলে ধরায়
    সুন্দর টপিক তুলে ধরায় অভিনন্দন | আপনার পাগলামি আমাদের ঘুমিয়ে পরা চৈতন্য কে জাগিয়ে তুলুক |

    ——– আমি দেখি দলে ভারী হইতাছি … আবার বেশি পাগলের ভীড়ে আমারেই না খেদায়া দেয় | আমি কইলাম বহুত পুরান পাগল ….আসেন সবাই মিল্যা বাকি গুলারে পাগল বানায়া দেই | :নৃত্য: :নৃত্য: :নৃত্য: :নৃত্য: :নৃত্য: :নৃত্য: :নৃত্য: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :ঘুমপাইতেছে:

  2. অবৈতনিক শিক্ষা পাবলিকের নাকের
    অবৈতনিক শিক্ষা পাবলিকের নাকের সামনে একটি বড় মূলা ছাড়া আর কিছুই নয় ! যে দেশের সরকারি স্কুলের শিক্ষকরা প্রাইভেট্ পড়াতে ব্যস্ত! শিক্ষিকারা সাজগোজে ব্যস্ত! ক্লাসে পড়ানো কাকে বলে এরাতো অনেক আগেই ভূলে গেছে ! আমার মতে এদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারিকরণ করাই উচিত না। সরকারিকরণ মানেই শিক্ষকদের বেতন ফিক্সড ! তাদের আর পরিশ্রমের কোন প্রয়োজ নাই! কতজন ছাত্র পাশ করলো আর না করলো তাতেও বেতনের কোন সমস্যা নাই ! সুতরাং নো চিন্তা ডু ফুর্তি !

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

36 + = 37