♦ দর্শনশাস্ত্র ও বুদ্ধ দর্শন ♦

দার্শনিকের দর্শন তত্ত্ব মূলত সর্বসাধারনের জন্য নয়। সর্বসাধারণ শুধু তার ফল ভোগ করে উপকৃত হয়। তবে তার শাস্ত্র সর্বজনের সহজ আত্মস্থতার অভাবে তার বিরূপ প্রতিক্রিয়া আমরা নানাভাবেই দেখতে পাই। সামাজিক নানা প্রকার বিকৃতি ও স্থুলন দেখি একটু মনোনিবেশ করলেই।

ঠিক তেমনি মানবমুক্তির যে পথ বুদ্ধ উন্মোচন করেছেন এটি কোন ধর্ম নয়, এটি বহু উচ্চতর দৃষ্টি হতে প্রতিফলিত সুক্ষ্মদর্শী ও প্রজ্ঞা, এর নাম দর্শন, একে আমরা বৌদ্ধ দর্শন বলে থাকি। তবে আলোচনার বিষয় হলো, বুদ্ধের দর্শনকে সঠিকভাবে আত্মস্থ করে কি আমরা এটিকে বৌদ্ধ দর্শন বলছি, নাকি কুসংস্কারের সহজাত প্রবিত্তি থেকে একে ধর্ম বলে আক্ষায়িক করছি…?? এটিই মূলত গবেষণার বিষয়।

আড়াই হাজার বছর পূর্বের গৌতম নামে যে প্রাজ্ঞ ব্যক্তিটিকে আমরা বুদ্ধ বলে চিনি, তিনিই মানবজাতির মধ্যে সর্বপ্রথম মানব যিনি কুসংস্কার বিরোধীতার আন্দোলন শুরু করেছেন। এটি একটি বিপ্লবী আন্দোলন এবং সে আন্দোলনের ভিত্তিতে তিনি তার পৃত্রালয় ত্যাগ করতেও পিছু হাটেন নি। এমন নির্ভিক সততার পরিচর্যাকারী ব্যক্তি তিনিই বলেছেন শুধু মানবমুক্তির জন্য যদি কিছু করতে হয়, তাহলে সর্বপ্রথম কুসংস্কারকে ছুড়ে ফেলুন। এই মানষিক ব্যাধিগ্রস্ত, জ্ঞান প্রতিবন্ধি মানুষ কখনোই অন্ধত্ব ত্যাগ না করে মুক্তি পেতে পারে না। অন্ধত্ব মুক্তির প্রধান অন্তরায়। চৈতষিক মুক্তি বা প্রজ্ঞার চর্চাকে বুদ্ধ নির্দেশ করেছেন -নির্বাণ।

বুদ্ধের প্রতিটি দর্শন তত্ত্বকোষে অত্যন্ত সুনিবিড়ভাবে জ্ঞান ও তার চর্চার কথা বলেছেন। নির্বোধ হয়ে যদি শুধু সকাল সন্ধ্যা বানী পাঠ করতে করতে মুখে ফেনা তুলি বুদ্ধের ভাষায় এটি “নিষ্কাম কর্ম” হয়ে যায়। বুদ্ধের বানী মন্ত্রজপ করলে এটি আপনাদের জ্ঞানের সংকট, বুদ্ধের নয়। বুদ্ধ বলেছেন – “আমার উক্তি যদি মানবজাতির শুভ – সুন্দরের পক্ষে বলে বিবেচিত হয় তবেই তাহা গ্রহন করো, অন্যথায় এটি আমার উক্তি হলেও তা বর্জন করো, প্রয়োজনে পরিবর্তন করো, তবে অবশ্যই তা মানবের স্বার্থে হীতকর হতে হবে, তা যেন বর্বর না হয়।”

বুদ্ধ এভাবেই সবকিছু মানবের হাতে তুলে দিয়েছেন, তোমরাই এর পরিচর্যা করো। যেখানে পৃথিবীর প্রানী জগতের সুখের কথা বলেছেন বুদ্ধ। তাই অবশ্যই আমাদের অন্তত একবার হলেও – “কালাম সুত্ত” এর বঙ্গানুবাদ পঠন, অনুধাবন ও সুষ্ঠু প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। তবেই বুদ্ধের দর্শন শুধু পাঁচ হাজার বছর নয়, পাঁচ হাজার আলোকবর্ষ ধরে প্রবাহ অনিবার্য।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

20 + = 30