আদর্শের শূন্যতা আদর্শ দিয়েই পূরণ করতে হয়

?oh=122aaa901d5cc0c35245b408cd478196&oe=58019F69″ width=”400″ />
?oh=81237d7bffbe9304bd7946533cdc7914&oe=5802DFD8″ width=”400″ />

জঙ্গিবাদ নামক সঙ্কটটা নিছক নিরাপত্তার সঙ্কট বা শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্কট বা অর্থনৈতিক সঙ্কট হলে এত কথার প্রয়োজন ছিল না, এত চিন্তারও কারণ ছিল না। আমরা একটু সজাগ হলেই সমাধান হয়ে যেতে পারত। কিন্তু এটা আদর্শের সঙ্কট। ভয়াবহ আদর্শিক শূন্যতার মুখোমুখী হয়েছি আমরা। কেবল আদর্শ দিয়েই এ শূন্যস্থান পূরণ হতে পারে, অন্যকিছু দিয়ে নয়।

পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের অনেক ধরনের দায়িত্বহীনতার কথা বলা হলেও পরিবার থেকে রাষ্ট্র পর্যন্ত যে ভয়াবহ আদর্শিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে সে ব্যাপারে কেউ কিছু বলছে না। অথচ মূল সমস্যাটা এখানেই।

সৎ হয়ে বাঁচার, ন্যায় ও সাম্যে ভরপুর একটি সমাজে বসবাস করার এবং পৃথিবীর জন্য কিছু একটা করে যাবার বাসনা প্রত্যেক তরুণের থাকে। এটাই তারুণ্যের শক্তি। তারুণ্য চায় সে কিছু একটা করবে, যা অন্যরা করতে পারছে না।

পৃথিবীব্যাপী মানুষের দুঃখ-দুর্দশা, শোষণ, বঞ্চনা, অন্যায়, অবিচার, নির্যাতন দেখে তার কোমল হৃদয় ক্ষত-বিক্ষত হয়। সে এমন একটি আদর্শ খুঁজে বেড়াতে থাকে যা দ্বারা পৃথিবীকে বদলে দিতে পারে, মানুষকে শান্তি দিতে পারে এবং নিজের জীবনকেও সফল করতে পারে।

দুর্ভাগ্যবশত তেমন কোনো আদর্শ আমাদের প্রবীণরা, আমাদের বাবা-মায়েরা, আমাদের সমাজপতিরা, শিক্ষকরা ও রাষ্ট্রপরিচালকরা তরুণদেরকে দিতে পারছে না। আমাদের প্রবীণরা এখনও যে গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ইত্যাদি নিয়ে মেতে আছে তার গত কয়েক শতাব্দীর ইতিহাস কেবল ব্যর্থতার ইতিহাস, প্রতারণার ইতিহাস- এটা সবাই জানে।

ওসব ব্যর্থ মতবাদ এক সময় কোটি কোটি তারুণ্যকে আকর্ষণ করতে পারলেও কোটি মানুষের রক্তে কেনা ওই আদর্শগুলো মানবজীবনে কার্যকর করার পর যখন দেখা গেল মানুষ কড়াই থেকে লাফিয়ে চুলোয় পড়েছে মাত্র, বাস্তবে একটুও শান্তি আসছে না, তখন ক্রমেই ওসব আদর্শ গ্রহণযোগ্যতা হারাতে থাকে। বর্তমানে ওই আদর্শগুলোকে ঘষামাজা করে যতই চকচকে করে উপস্থাপন করা হোক তা আর তরুণদেরকে আকর্ষণ করতে পারছে না। তরুণরা নতুন কিছুর সন্ধান করছে।

এই নতুন বা বিকল্প আদর্শ হিসেবে ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে ইসলাম। লক্ষ লক্ষ তরুণ-যুবক স্বপ্ন দেখছে ইসলাম নামক দ্বীন বা জীবনব্যবস্থাটিকে মানবজাতির সামগ্রিক জীবনে প্রতিষ্ঠা করে মানবতার মুক্তি নিশ্চিত করতে। ইসলামের প্রতি তরুণদের এই ঝোঁকের পেছনে দুইটি যৌক্তিক কারণ আছে। সেগুলো হচ্ছে-
১. ইসলামের একটি সোনালী অতীত আছে। আদর্শ হিসেবে ইসলাম এককালে কতটা শক্তিশালী ও সফল আদর্শ ছিল তা ইতিহাসের বই পড়লেই বোঝা যায়।
২. ইসলাম কেবল ইহজাগতিক মুক্তির উপায়ই হাজির করে না, পরকালীন সফলতারও পথ দেখায়। ‘ইহকালে শান্তি, পরকালে মুক্তি’- ইসলামের এই মন্ত্র পৃথিবীর যে কোনো আদর্শ থেকে ইসলামের স্বতন্ত্রতা ও শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করে।

এই মন্ত্রেই উজ্জীবিত হয়ে লাখ লাখ তরুণ-যুবক এখন ইসলামের জন্য নিবেদিতপ্রাণ হয়ে সংগ্রাম করছে। তারা মানুষের সমষ্টিগত জীবনে ইসলামের প্রতিষ্ঠা দেখতে চায়। ইসলামী আদর্শ বাস্তবায়ন করে ন্যায় ও শান্তি আনয়ন করতে চায়। দুঃখ-দুর্দশা, অন্যায়, অবিচার, শোষণ, দারির্দ্য থেকে মানুষকে মুক্তি দিতে চায়। সর্বোপরি নিজেদের জীবনকে সফল করতে চায়।

সমাজতান্ত্রিক আদর্শের ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছিল একটি শ্রেণি মানুষের শুভ চেতনাকে কাজে লাগিয়ে উগ্রবাদ সৃষ্টি করে, জনবিচ্ছিন্ন হয়ে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের মাধ্যমে আদর্শ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালায়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে একই ঘটনা ঘটছে ইসলামের বেলাতেও।

ইসলামের জন্য নিবেদিতপ্রাণ তরণদের কল্যাণকামী চেতনাকে অকল্যাণের পথে ব্যবহার করছে বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী। সৃষ্টি হচ্ছে জঙ্গিবাদ। তাদেরকে বোঝানো হচ্ছে- ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য বিধর্মীদেরকে, বিদেশিদেরকে বা কাফের-মুরতাদ-নাস্তিক হত্যা করতে হবে। এতে কোনো পাপ তো হবেই না, বরং এটাই তোমাকে জান্নাতে নিতে পারবে। যদি তা করতে গিয়ে শহীদ হও, তবে বিনা হিসাবে জান্নাতে যেতে পারবে। অথচ ইসলামে সন্ত্রাসের কোনো স্থান নেই, নিরীহ মানুষ হত্যার তো প্রশ্নই ওঠে না।

এই যে একটি আদর্শকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে সন্ত্রাসের জন্ম দেয়া হচ্ছে, রক্তপাত সৃষ্টি করা হচ্ছে, এর সমাধান কী? আমরা দেখি জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের পন্থা বেছে নেয়া হয়, দমনাভিযান চালানো হয়, মনে করা হয়- জঙ্গিরা সংখ্যায় যেহেতু বেশি নয়, তাই তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে পারলে, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে পারলেই জঙ্গিবাদ নির্মূল হয়ে যাবে। কিন্তু ইতিহাস বলে- শুধু শক্তি প্রয়োগ করে কোনোকালে কোনো আদর্শকে দমন করা যায় নি। জঙ্গিবাদকেও ওভাবে দমন করা যাবে না।

জঙ্গিবাদের পথে ধাবিত তরুণদেরকে ইসলামের আদর্শ দিয়েই বোঝাতে হবে যে- তোমাদেরকে ভুল পথে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ওটা ইসলাম প্রতিষ্ঠার সঠিক পথ নয়। ও পথে জীবন গেলে শহীদ হওয়া যাবে না। আল্লাহর রসুল জঙ্গিবাদ করেন নি। যদি কোরআন-হাদীস থেকে যুক্তি-প্রমাণ সহকারে জঙ্গিবাদের অসারতা তুলে ধরা যায়, ইসলামের প্রকৃত আদর্শটা তাদের সামনে উপস্থাপন করা যায়, ইসলামের জন্য, সমাজের জন্য, মানুষের জন্য কাজ করার কল্যাণমুখী দিক-নির্দেশনা প্রদান করা যায় তবে কেবল জঙ্গিবাদ নির্মূল হবে তা-ই নয়, ইসলামের আদর্শে উজ্জীবিত তরুণরাই দেশ ও জাতির জন্য অনেক বড় মানবস¤পদে পরিণত হতে পারবে। আদর্শের শূন্যতা ইসলাম দিয়েই পূরণ করা সম্ভব, তবে বিকৃত ইসলাম নয়, বিকৃত ব্যাখ্যা নয়। সেটা হতে হবে আল্লাহ ও আল্লাহর রসুলের প্রকৃত ইসলাম।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 75 = 78