দ্যা ইসলামিক স্টেট’র মুখপত্র দাবিক এর চোখে বাংলাদেশে জিহাদের পনরুত্থান এবং বিস্তারিত

দাবিক সিরিয়ার একটা ছোট শহরের নাম। এই শহরের নামেই নামকরণ করা হয়েছে ইসলামিক স্টেট’র মাসিক মুখপত্রের। নভেম্বর’র প্রচ্ছদ করা হয়েছে প্যারিসে করা জঘন্যতম বোমা হামলার ছবি দিয়ে। এ মাসে অনলাইন-এ প্রকাশ হওয়া ৬৬ পাতার এই ম্যাগাজিনের ৩৭তম পাতায় ‘THE REVIVAL OF JIHĀD IN BENGAL’ বা ‘বাঙাল মুলুকে জিহাদের ফিরে আসা’ শিরোনামে একটি সম্পাদকীয় প্রকাশিত হয়েছে। লেখার ধরন মোটামুটি সম্পাদকীয় টাইপ-ই বলা যায়। সম্পাদক BENGAL শব্দটি ব্যবহার করার ক্ষেত্রে একটি ফুটনোট দিয়েছেন ‌‌
‘Editor’s Note: Bengal is what the region was referred to before the founding of “Bangladesh” by nationalists in “1971.”

লেখাটি কয়েকটি ভাগে বিভক্ত। শুরু হয়েছে ‘The History of Jihād in Bengal’ দিয়ে। এখানে সম্পাদক সাহেব তার ব্যক্তিগত অজ্ঞতা বা সীমাবদ্ধতার কারনে বাংলাদেশে জিহাদী ইতিহাসের শুরুটা বিস্তারিত তুলে ধরতে পারেন নি। তবে বাঙাল মুলুকে ইসলামি জিহাদ’র অনুপ্রবেশ যে রাশিয়া- আফগানিস্তান যুদ্ধ ফেরত মুজাহিদদের হাত ধরে তা এখানে উল্লেথ করা হয়েছে্। কিন্তু এই আলোচনাকে ঠিক ইতিহাস বলা চলে না। কারন,১৯৯৭ সালে বান্দরবানের গহীন বনে জিহাদের প্রশিক্ষন নেয়া অবস্থায় ধরা পরা ৪১জন জিহাদী ও তাদের দীক্ষাগুরুর কথা এখানে বলা নেই । জানিয়ে রাখা ভালো, বাংলাদেশে সংঘবদ্ধ জংগী ধরা পড়ে ১৯৯৭ সালে বান্দরবানে। ( এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা তোলা রইলো)।

শায়েখ আব্দুর রহমান’কে প্রাথমিকভাবে সঠিক মুজাহিদ হিসাবে এখানে বর্ণনা করা হয়েছে- ‘…. in Bengal based on the Qur’ān and Sunnah and the understanding of the Salaf was delayed for years until the late “nineties” when Allah blessed the martyred mujāhid scholar Shaykh ‘Abdur-Rahmān r with success in gathering a handful of muwahhidīn from different parts of the land to form an organization named “Jamā’atul Mujāhidīn”whose sole aim was establishing the law of Allah upon the earth. বাংলাদেশের তখনকার অবস্থাকে ব্যাখা করা হয়েছে : ‘…… a land that for hundreds of years has been drowned in shirk and bid’ah due to the effects of both European colonization and Hindu cultural invasion.’ এভাবে। শায়েখ আব্দুর রহমানের সাথে আরো কিছু ইসলামী স্কলারের কথা বলা হয়েছে কিন্তু তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। সম্পাদকের দাবী মতে, একমাত্র শায়েখ রহমান এবং তার সাথের দোসর স্কলাররাই সঠিকভাবে কুরান, সুন্নাহ এবং সালাফের মানে বুঝতে পেরেছিলেন বঙ্গ মুলুকে। বাংলাদেশে জঙ্গীদের গেইটওয়ে যে মাদ্রাসা এ কথা্ও এখানে স্পষ্ট করা হয়েছে এই বলে- ‘ By Allah’s grace, the call of jihād reached various madāris (Islamic schools) in Bengal and people started joining the jamā’ah in great numbers’. শায়েখ রহমান’র ফাঁসি কে বলা হয়েছে শহীদ’র মৃত্যু।

মজার ব্যাপার হচ্ছে এই অংশে আওয়ামীলীগ, বিএনপি এবং জামাত এই তিনটি দলকেই মুরতাদ বলা হয়েছে। সংসদীয় গণতন্ত্রে অংশ নেয়ায় জামাতের সমালোচনা করা হয়েছে এবং এই যুদ্ধাপরাধী দলটিকে চিহ্নিত করা হয়েছে ‘ ইসলামিক ব্রাদারহুডের উপমহাদেশীয় অঞ্চলের বাংলাদেশি শাখা হিসাবে। (হিজবুত তাহরীর তাহলে কি? এদের নিয়ে কিছুই বলা হয়নি)। ‘The former government, which consisted mainly of a coalition of murtaddīn from both the “Bangladesh Nationalist Party” (BNP) and “Jamaat-e-Islami Bangladesh” (essentially the Indian subcontinent version of the so-called “Muslim Brotherhood”), foolishly thought that the call of tawhīd,
jihād, and khilāfah would be crushed by the martyrdom of a few righteous scholars. The tawāghīt, the palace scholars, and those with diseased hearts forgot the promise of Allah c, who said, {They want to extinguish the light of Allah with their mouths, but Allah will perfect His light even if the kuffār despise such} [As-Saff: 8]. They had forgotten that the tree of this Ummah is not watered except by the blood of its martyrs.’

জিহাদের ইতিহাস আলোচনা করতে গিয়ে উঠে এসেছে বিডিআর বিদ্রোহের কথা ( যদিও এখানে বিডিআর শব্দটি ব্যবহার করা হয়নি,“Bangladesh Border Guard.” ব্যবহার করা হয়েছে। ‘ Within only a few years, many high-ranking officials and commanders of the tāghūt forces – including some involved in the execution of the mujāhid
scholars – were killed in a mutiny within the ranks of the murtadd “Bangladesh Border Guard.” এর বেশি এখানে কিছূই বলা হয়নি। যুদ্বাপরাধী সংগঠন এবং রাজাকারের ফাঁসি’কে ব্যাখ্যা করা হয়েছে এই আলোকে- ‘It was an
ending similar to what befell the Iraqi sahwāt at the hands of their former Rāfidī allies. Thus, Allah made an example out of the various parties of kufr that had cooperated against the muwahhidīn. It was a lesson for others not to pursue a path leading to punishment in both the Dunyā and Ākhirah.’

উঠে এসেছে গণজাগরনের মঞ্চ’র কথা। তুলনা করা হয়েছে আরব বসন্তের সাথে। ‘And just as occurred in the “Arab Spring,” this gradual decline of walā’ and barā’ reached its lowest peak during the mass protests in Dhaka against the atheist bloggers in “2013,” as the jihād claimants started to openly call for an
alliance with the grave-worshippers who falsely claim to be “lovers of the Prophet” g, the “Jamaat-e-Islami” who openly call for and support the religion of democracy, and the Deobandis who adopt the creed of the Jahmiyyah. This “alliance” was called for in order to confront the “common enemy” of atheists and leftists who would curse Islam and Allah’s Messenger’. যুদ্ধাপরাধীদের সংগঠন জামাত যে তার দেশি-বিদেশী শক্তিদের নিয়ে শাহবাগের গণ-জাগরনকে নাস্তিকের আন্দোলন বানাবার চেষ্টা করেছিলো তা এখানে মোটামুটি স্পষ্ট। তবে, এখানে গুরুত্বপূর্ন হলো তারা নাস্তিক হত্যার ব্যাপারে কিছু বলে নি বরঞ্চ তাদের কথায় এটা স্পষ্ট যে তারা বাংলাদেশে খিলাফত শাসন চায় এবং সেটাই তাদের লক্ষ্য। তবে আইএসএস’র বাংলাদেশের মাজারগামীদের নিয়ে গাত্রদাহ বেশ ভালোভাবে উঠে এসেছে এই অংশে।
বাংলাদেশে ইসলামিক জিহাদ যে একটি সাংগঠনিক প্রক্রিয়া এবং এ ক্ষেত্রে যে ইসলামী জংগীদের মাঝে আদর্শগত দ্বন্দ্ব বিরাজমান তাও এখানে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে। ‘Thus, a new fitnah was launched against the confused, young mujāhidīn with impressionable minds. Sadly, many of them became affected by this rotten call for a “populist jihād.” The various “jihādī” groups in Bengal then became fragmented through disputes over issues of creed, methodology, leadership, strategy, and tactics ‘.

The Declaration of Khilāfah এ অংশে বলা হয়েছে বাংলার তরুন-যুবারা কিভাবে আইএসএস এর ঘোষনা করা খেলাফতে যোগ দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে তারা কি কি বিষয় বিবেচনা করেছেন। তাদের আদর্শিক দ্বন্দ্ব’র জায়গা কি ছিলো।

‘The mujāhidīn of Bengal realized that there was no room for blind partisanship towards any organization once the Khilāfah had been declared and that there was no longer legitimacy for any independent jihād organization, whether “Jamā’atul Mujāhidīn,” “Al-Qā’idah,” or any other group. Thus, the sincere men from the various jihād groups rushed to support the Khilāfah and join the ranks of its soldiers in Bengal.’ এখানে একটা বিষয় স্পষ্ট যে বাংলাদেশে আইএসএস একটি স্বতন্ত্র দল। আল-কায়েদা এবং অন্য জঙ্গী সংগঠনের সাথে তারা কোন অ্যালাই স্বীকার করে না। সুতরাং বাংলাদেশে সরকারের আইএসএস’কে আনসারুল্লাহ’র সাথে ভিড়িয়ে দিয়ে বাদ্রার্স ইউনিয়ন টাইপ ছোট-খাট দল বানানোর চেষ্টাকে বোকামী বলা যায় দ্বিধাহীন চিত্তে।

They united their ranks behind a single Qurashī imām and did not fear the blame of the blamers who chose to remain behind, those who blindly held to organizations that had claimed “Mullah ‘Umar was the true AmīrulMu’minīn” although he had been dead for years. Rather, he had been dead even before they started using him as an excuse not to unite the whole Ummah behind one single leader. The mujāhidīn realized that the unity of the Ummah could only happen through a leader with true authority, not an unwise man in some unknown hiding place releasing outdated video messages with pledges of allegiance to a dead man and scolding others for not doing the same! Thus, Allah c united the ranks of mujāhidīn in Bengal once again after they were fragmented. He c gave them the honor of becoming soldiers of the Khilāfah upon the prophetic methodology, inshā’allāh.’

The Revival of Jihād through the Light of the Khilāfah অংশে ইতালিয় নাগরিক এবং জাপানী নাগরিক হত্যার দায় স্বীকার করা হয়েছে- ‘On 14 Dhul-Hijjah 1436, by Allah’s grace, a security cell belonging to the soldiers of the Khilāfah in Bengal assassinated an Italian crusader named Cesare Tavella on the streets of Gulshan in the city of Dhaka. This noble deed shook the tawāghīt of the land as well as the crusaders living there, as the assassination occurred within the “Diplomatic Zone” of the “capital,” supposedly the most secure residential area of the country.’ এমনকি হোসেনি দালানে শিয়াদের উপর চালানো বোমা হামলা যে অা্ইএসএস’র উঠে এসেছে সে কথাও।

বাংলাদেশের সরকার যে আইএস প্রশ্নে পলিটিক্যাল ফায়দা লুটছে সে কথাও তারা বলেছে- ”And while the soldiers of the Khilāfah in Bengal are busy preparing for further attacks on the kuffār, by Allah’s permission, the secular murtaddīn of the present Awami League government continue to twist the facts on the ground and play a blame game in an effort to put political pressure on the murtaddīn of both the nationalist BNP and the parliamentary “Jamaat-e-Islami.”

তবে এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন ব্যাপার হলো, আইএসএস বাংলাদেশে তাদের অস্তিত্বের প্রশ্নে আওয়ামী সরকারের উদাসীনতা মোটেও মেনে নিতে পারে নি। ‘বাংলাদেশে আইএসএস নেই’ বারবার করা সরকারের এমন দাবীকে তারা তুলনা করেছে ভাংগা রেকর্ডের সাথে। তাদের বক্তব্য হলো: ‘After months of arresting muwahhidīn and falsely claiming more than once that they had arrested the “top IS-coordinator” for Bengal, the shameless, lying murtadd government came out right after the blessed operation of Tavella Cesare to say “there is no IS in Bangladesh”! They repeated the same lie over and over like a broken record after each of the blessed operations performed by the soldiers of the Khilāfah, all in a desperate effort to save face before the international community of kufr and hide their inability and the impotence of their law enforcement agencies to provide security to their crusader masters and Rāfidī citizens.’

লেখার শেষ অংশটাও বেশ চমকপ্রদ। বাংলাদেশের বর্তমান সরকারকে আইএস কি জিনিস তা টের পাওয়ানোর সাথে সাথে বলা হয়েছে বার্মিজ মুসলমানদের কথাও .’… a source of strength and support for the oppressed Muslims in both Bengal and Burma.’ । ( এখানে রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহার করা হয়নি)। বাংলাদেশের সমস্ত মুসলমানকে আহবান করা হয়েছে আইএস মুজাহিদদের নানারকমভাবে সর্বাত্বক সাহায্য করার জন্য।
এই ব্লগের কোথাও আমি আমার ব্যক্তিগত মতামত তুলে আনার চেষ্টা করিনি। তবে গোটা লেখাটি শেষ করে রাম গোপাল ভার্মা’র বানানো একটা ভারতী সিনেমার কথা মনে পড়ে গেলো। সিনেমার নাম ‘সরকার’। সেখানে একটা সংলাপ ছিলো অনেকটা এরকম- ‘ সুভাষ নাগরী একজন ব্যক্তির নাম কিন্তু সরকার একটা আদর্শের নাম। সুতরাং সুভাষ নাগরী’কে মারার কোন মানে নাই, আগে তার আর্দশ মানে ‘সরকার’কে মারতে হবে।
কথার প্রেক্ষিতে তাই বলাই যায় বাংলাদেশে যত্রতত্র ইসলাম র্চচা বন্ধ করা না গেলে এবং ইসলাম ধর্মের বিষয়ে রাষ্ট্রীয় স্পন্সরসিপ বাতিল না করলে বাংলাদেশে আইএসএস আরো শক্তিশালী হবে। আর এ বিষয়ে জার্মান ভাষার প্রবাদের সুরে বলাই যায় – ‘স্পেট আবার নিখসট সু স্পেট’ মানে দেরী হয়ে গেছে, কিন্তু বেশি দেরী হয়নি।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

17 − = 8