যারা আগামীকাল বৃহস্পতিবার ঈদ উল ফিতর পালন করবে , তারা সবাই দোজখে যাবে

ইসলামের বিধান হলো হারাম কাজ করলে দোজখে যেতে হবে। কোন কোন কাজ হারাম সেটা কোরান ও হাদিসে বলা আছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো – ঈদ উল ফিতর ও ঈদ উল আজহার দিনে রোজা রাখা হারাম। কিন্তু দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশ সহ বহু দেশের মুসলমানরাই ঈদ উল ফিতরের দিনে রোজা রেখে কঠিন হারাম কাজ করছে। আর তাই তারা সবাই দোজখেই যাবে , তাদের দীর্ঘ ত্রিশ দিন রোজা রাখার সব সোয়াব সবই বেকার , অর্থহীন।

হাদিস বলেছে —

সহিহ মুসলিম :: খন্ড ৬ :: হাদিস ২৩৬৭:
যুহায়র ইবন হারব (র)……ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন, মাস ঊনত্রিশ দিনেও হয়ে থাকে । তাই তোমরা চাঁদ না দেখে সওম আরম্ভ করবে না এবং চাঁদ(শওয়ালের) না দেখে সওম শেষও (রমজানের সওম) করবে না । যদি আকাশ মেঘে ঢাকা থাকে, তবে তা পূর্ন করবে ।

সহিহ মুসলিম :: খন্ড ৬ :: হাদিস ২৩৭৮:
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া (র) ……আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বললেন, রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন- যখন তোমরা চাঁদ দেখবে তখন সওম আরম্ভ করবে এবং যখন চাঁদ(শওয়ালের) দেখবে তখন সওম ভঙ্গ করবে । যদি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে তবে ত্রিশ দিন সিয়াম পালন করবে ।

সুতরাং দেখা যাচ্ছে রমজানের চাঁদ দেখা যাওয়ার পর থেকে রোজা শুরু করতে হবে , আর পরে শওয়ালের চাঁদ দেখা গেলে রোজা রাখা ভঙ্গ করতে হবে অর্থাৎ ঈদ উল ফিতর পালন করতে হবে। ইসলামের জন্মভূমি সৌদি আরবের মক্কায় গত দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার শওয়ালের চাঁদ দেখা গেছে।সেকারনে আজকে বুধবার সৌদি আরবে ঈদ উল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ আজকেও রোজা রেখেছে আর তারা কালকে ঈদ উল ফিতর উদযাপন করবে। অর্থাৎ তারা ইসলামের জন্মভূমি মক্কার বিধি বিধান অমান্য করছে। হাদিসে কিন্তু পরিস্কারভাবেই বলা আছে যে শুধু মক্কায় দেখা চাদের ভিত্তিতেই রোজার শুরু ও শেষ করতে হবে। সেটা দেখা যাচ্ছে নিচের হাদিসে –

সহিহ মুসলিম :: খন্ড ৬ :: হাদিস ২৩৯১:
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, ইয়াহইয়া ইবন আয়্যুব, কুতায়বা ও ইবন হুজর (র)……কুরায়ব (র) থেকে বর্ণিত যে- উম্মুল ফযল বিনত হারিস তাকে সিরিয়ায় মু’আবিয়া (রাঃ)-এর নিকট পাঠালেন । (কুরায়ব বলেন) আমি সিরিয়ায় পৌহুলাম এবং তার প্রয়োজনীয় কাজটি সমাধা করে নিলাম ।আমি সিরিয়া থাকা অবস্হায়ই রমযানের চাঁদ দেখা গেল । জুমূ-আর দিন সন্ধ্যায় আমি চাঁদ দেখলাম । এরপর রমযানের শেষভাগে আমি মদীনায় ফিরলাম । আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ)আমার নিকট জিজ্ঞাসা করলেন এবং চাঁদ সম্পর্কে আলোচনা করলেন । এরপর জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা কোন দিন চাদ দেখেছ? আমি বললাম, আমরা তো জুমূ-আর দিন সন্ধায় চাদ দেখেছি । তিনি আবার জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি নিজে দেখেছ কি? আমি বললাম, হ্যা, আমি দেখেছি এবং লোকেরাও দেখেছে । তারা সিয়াম পালন করেছে এবং মুআবিয়া (রাঃ)-ও সওম পালন করেছেন । তিনি বললেন, আমরা কিন্তু শনিবার সন্ধ্যায় চাঁদ দেখেছি । আমরা সিয়াম পালন করতে থাকব, শেষ পর্যন্ত ত্রিশ দিন পূর্ণ করব অথবা চাঁদ দেখব । আমি বললাম, মু-আবিয়া (রাঃ)-এর চাঁদ দেখা এবং তাঁর সওম পালন করা আপনার জন্য যথেষ্ট নয় কি? তিনি বললেন, না, যথেষ্ট নয় । কেননা রাসুলুল্লাহ (সা) আমাদেরকে এরুপ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন ।

মুয়াবিয়া সহ অন্যান্যরার সিরিয়াতে শুক্রবার চাঁদ দেখে রোজা রাখা শুরু করেছিল , কিন্তু মক্কার লোকেরা চাঁদ দেখেছিল শনিবার। তাই মক্কার লোকেরা তারপর দিন থেকে অর্থাৎ রবিবার থেকে রোজা রাখা শুরু করেছিল। আর হাদিসে বলছে সেটাই হবে বৈধ রোজা রাখা কারন সেটাই মুহাম্মদের বিধান। অর্থাৎ সিরিয়াতে চাঁদ দেখার ভিত্তিতে রোজা রাখা সঠিক নয়। উপসংহার হলো : সওম শুরু করতে হবে মক্কায় দেখা চাঁদের ভিত্তিতে আর সওম ভঙ্গ করতে হবে মক্কায় দেখা চাঁদের ভিত্তিতে। অন্য কোন অঞ্চলের মানুষ কখন চাঁদ দেখল না দেখল তার ভিত্তিতে সওম শুরু বা ভঙ্গ চলবে না।

তার মানে দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশের মুসলমানরা ইসলামের নবী মুহাম্মদের বিধান না মেনে আজকে যখন মক্কা মদিনায় ঈদ পালন করা হচ্ছে সেই ঈদের দিনেও তারা রোজা রাখছে। অর্থাৎ তারা কঠিন হারাম কাজ করছে। মুহাম্মদের বিধান লংঘন করে এই হারাম কাজ করার জন্যে এইসব মুসলমানরা নিশ্চিত সবাই দোজখে যাবে , তাদের গোটা রমজানের রোজা পুরাই বেকার ও অর্থহীন।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 1 = 1