আইসিসের কালো পতাকা ও জাল হাদিসের প্রোপাগান্ডা

উমাইয়া খেলাফতের আমলে মহানবীর পরিবার অর্থাৎ হাশেমি বংশ (clan) ছিল উমাইয়াদের বিরুদ্ধে প্রধান বিদ্রোহী পরিবার। আলী হত্যাকাণ্ড, হাসান হত্যাকাণ্ড, কারবালায় হুসাইনসহ ৭২ জনের মৃত্যু এই পরিবার এবং তাদের অনুসারীদের মধ্যে সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিস্তার করেছিল। পরিবারের পরবর্তী নেতাদের উপরও উমাইয়া খলিফাদের জুলুম জারি ছিল। এইসব ক্রমবর্ধমান বঞ্চনা, লাঞ্ছনার অনুভূতি ও নির্যাতন নিপিড়নের প্রতিশোধ গ্রহণের আকাঙ্ক্ষা এবং বারবার ব্যর্থ বিদ্রোহের হতাশার মাঝে ‘ইমাম মাহদি’ সংক্রান্ত বিশ্বাস তাদের ভবিষ্যতের প্রত্যাশা এবং অস্তিত্ব এই দুইই বাঁচিয়ে রাখতে সহযোগিতা করেছিল। মুহাম্মদের পরিবার থেকে মুহাম্মদ নামেই (কিছু বর্ণনা অনুসারে মুহাম্মদের চেহারাতেই) একজনের আবির্ভাব ঘটবে, যিনি ইমাম মাহদি হবেন এবং তার মাধ্যমে মুহাম্মদের পরিবার, ইসলাম এবং ন্যায় বিচারের পুনপ্রতিষ্ঠা হবে এই বিশ্বাস এই পরিবারের নেতা ও তার অনুসারীদের মধ্যে দিনে দিনে শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এই সংক্রান্ত বিভিন্ন হাদিস শিয়া এবং সুন্নিদের বিভিন্ন হাদিস গ্রন্থে পরবর্তিতে স্থান পেয়েছে। কালক্রমে মুহাম্মদের দুই চাচাতো ভাই আলী এবং আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাসের বংশধরদের মাধ্যমে হাশেমি পরিবারের দুইটি ভাগ সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে, বিশেষ করে আব্বাসিয় বিদ্রোহের প্রাক্কালে। মুহাম্মদ হানাফিয়াকে ইমাম মেনে কায়সানিয়া শিয়ারা যে ইমামি ঐতিহ্যের সূত্রপাত ঘটিয়েছিল সেই ঐতিহ্যের সিলসিলাতেই আব্বাসিয়রা তাদের বিপ্লবের বৈধতা দাবি করেছিল। আব্বাসিয় বিপ্লবের সময় প্রচুর পরিমানে প্রোপাগান্ডা হাদিসের জন্ম হয়েছিল। শেষ জমানা ও মাহদীবাদ সংক্রান্ত এপোকেলিপ্টিক প্রচার প্রচারণা ছিল আব্বাসিয় বিপ্লবের অন্যতম অনুসঙ্গ।

‘খোরাসানের কালো পতাকা ও ইমাম মাহদির আবির্ভাব’ সংক্রান্ত যেসব হাদিস সুন্নিদের বিভিন্ন হাদিস সংকলনের ফিতান সংক্রান্ত অধ্যায়ে পাওয়া যায়, এসব হাদিস যে আব্বাসিয় প্রোপাগান্ডার ফশল তা ইতিহাসের সাথে মিলিয়ে দেখলেই বোঝা যায়। আব্বাসিয় বিদ্রোহ শুরু হয়েছিল খোরাসানে আবু মুসলিম খোরাসানির নেতৃত্বে, এবং কালো পতাকা উড়িয়ে। উমাইয়াদের হাতে নিহত ইমামদের প্রতি শোক প্রকাশের জন্যে কালো পতাকা উড়িয়ে বিদ্রোহ হয়েছিল। সুন্নিদের বিভিন্ন হাদিস সংকলনে এমন কিছু হাদিস পাওয়া যায় যাতে মহানবী ভবিষ্যতবানী করেছেন যে, “খোরাসান থেকে যারা কালো পতাকা উড়িয়ে আসবে, তোমরা তাদের কাছে যাবে, কারণ তাদের মধ্যেই আছেন আল্লাহর খলিফা, ইমাম মাহদি” কিংবা “খোরাসান থেকে যখন কালো পতাকার আবির্ভাব ঘটবে তখন হামাগুরি দিয়ে হলেও তাদের কাছে যাবে (বায়াত দেয়ার জন্যে)”।১ উসামা হাসান তার ‘দি ব্লাক ফ্লাগস অফ খোরাসান’ নামক লেখায় এসব হাদিসকে আব্বাসিয় প্রোপাগান্ডা বলে দাবি করেছেন। একই রকম দাবি করেছেন উসামা হাসানের পিতা সুহাইব হাসান। সুহাইব হাসানের জন্ম ভারতে। তিনি তার পিএইচডি থিসিসে দেখিয়েছেন খোরাসানের কালো পতাকা সংক্রান্ত হাদিসগুলো আব্বাসিয় প্রোপাগান্ডা হিসাবেই তৈরি হয়েছিল। অর্থাৎ মহানবীর ভবিষ্যতবানী হিসাবে দাবি করা হলেও এসব হাদিসের জন্ম মোটামুটি ৭৫০ খ্রিস্টাব্দের কাছাকাছি সময়ে, অর্থাৎ মহানবীর মৃত্যুর প্রায় ১২০ বছর পর। প্রকৃতপক্ষে ‘খোরাসানে’র কালো পতাকা সংক্রান্ত এসব হাদিস আব্বাসিয় প্রোপাগান্ডায় ব্যবহৃত বহু হাদিসের একাংশ মাত্র। এসব হাদিসের মধ্যে কিছু হাদিসে সুস্পষ্ট ভাষায় “আমার চাচা আব্বাসের বংশধরদের মাঝে ইমাম মাহদি’র আবির্ভাব ঘটবে” এমন দাবিও ইসলামের নবী মুহাম্মদের বরাত দিয়ে করা হয়েছে ।২

আব্বাসিয় বিপ্লবের নেতা ও প্রথম আব্বাসিয় খলিফা আবু আল-আব্বাস নিজের নাম দিয়েছিলেন ‘আস সাফফাহ’, যা মাহদীর নামগুলোর একটি। খোরাসানের কালো পতাকা ও ইমাম মাহদির আবির্ভাব সংক্রান্ত এসব হাদিস বর্তমান সময়ে নতুন করে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, বিশেষ করে সালাফি জিহাদিদের মাঝে। আব্বাসিয়দের আমলে খোরাসান ছিল বর্তমান আফগানিস্তান, ইরান এবং মধ্য-এশিয়ার বিভিন্ন অংশ জুড়ে একটি প্রদেশ। আধুনিক যুগের সালাফি জিহাদিরা এসব হাদিসের বর্ণনাকে আফগানিস্তানে কালো পতাকা উড়িয়ে তালেবানদের আবির্ভাবের ভবিষ্যত-বাণী বলে প্রচার করে থাকে। আল কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেন আফগানিস্তানে থাকাকালীন তার সব চিঠির শেষে ঠিকানা লিখতেন খোরাসান, আফগানিস্তান। তালেবানদের সরকারী পতাকা ছিল সাদা এবং সামরিক পতাকা কালো। আল কায়েদা শুধুমাত্র কালো পতাকা ব্যবহার শুরু করেছিল। আইসিসসহ অন্যান্য জিহাদি সংগঠনের কালো পতাকার ব্যবহার এবং খোরাসানের কালো পতাকা সংক্রান্ত হাদিসকে প্রোপাগান্ডা হিসাবে ব্যবহার যুগপতভাবেই বর্তমান সময়ে জারি আছে। বিভিন্ন জিহাদি ওয়েবসাইট থেকে শুরু করে ইউটিউবে কালো পতাকার ভবিষ্যতবানী সংক্রান্ত প্রোপাগান্ডা ভিডিও, জিহাদি নেতা ও তাত্ত্বিকদের এই সংক্রান্ত লেকচার ইত্যাদি পাওয়া যায়। মুসলমান তরুণদের রিক্রুট করার ক্ষেত্রে এই জাতীয় কসমিক প্রোপাগান্ডা অত্যন্ত কার্যকর পন্থা হিসাবে আধুনিক জিহাদি সংগঠনগুলো ব্যবহার করছে। অথচ মহানবী কোনো একটি বিশেষ রঙের পতাকা সবসময় ব্যবহার করেছেন এমন কোনো ঐতিহাসিক প্রমাণ নাই এবং ইতিহাসে প্রথম সুস্পষ্টভাবে কালো পতাকার আবির্ভাবের খবর পাওয়া যায় খোরাসানে, আব্বাসিয় বিদ্রোহের পতাকা হিসাবে। আব্বাসিয় প্রোপাগান্ডার অংশ হিসাবে এই কালো পতাকা স্থান পেয়েছে হাদিস শাস্ত্রে, আর আধুনিক সময়ে সালাফি জিহাদিদের হাতে পরে হাদিসের বইয়ের পাতা থেকে বের হয়ে তা জিহাদি সংগঠনের পতাকায় পরিণত হয়েছে।
/revision/latest?cb=20141118032616″ width=”500″ />
ছবিঃ আব্বাসি খেলাফতের কালো পতাকা। কালোর উপর সাদা নয়, সোনালি অক্ষর ব্যবহার করতো আব্বাসিরা।

বিপদের দিনে, ক্ষমতা বিস্তার অথবা রক্ষার টানাপোরেনের সময়ে উমাইয়ারাও তাদের রাজনৈতিক সংগ্রামের নেরেটিভকে মহানবীর শেষ জমানা সংক্রান্ত ভবিষ্যতবানী হিসাবে প্রচার করেছে। সুফিয়ানি সংক্রান্ত এমন কিছু হাদিস আছে যাতে সুফিয়ানি নামটি দজ্জাল নয়, মাহদি জাতীয় একটি চরিত্রের নাম। আব্বাসিয়দের হাতে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কিছুকাল পর খলিফা আল মনসুরের আমলে উমাইয়ারা আবু মুহাম্মদ আল-সুফিয়ানি নামে আবু সুফিয়ানের একজন বংশধরের নেতৃত্বে আব্বাসিয়দের বিরুদ্দেহ বিদ্রোহ করেছিল। তাবারি লিখেছেন, এই বিদ্রোহীরা তাদের নেতা আবু মুহাম্মদ আল সুফিয়ানিকে ‘অপেক্ষিত মসিহা’ জাতীয় একটি চরিত্র হিসাবে প্রচার করেছিল। তারা প্রচার করতো – এই সেই সুফিয়ানি যার সম্পর্কে বলা হয়েছে। এই সুফিয়ানি আব্বাসিয়দের হাতে নিহত হয়েছিলেন। এরপরও সিরিয়াতে আব্বাসিয় বিরোধী বিদ্রোহে একাধিক সুফিয়ানির আবির্ভাব ঘটেছিল।৩ তবে শুধুমাত্র ক্ষমতাচ্যুত অথবা প্রতিষ্ঠিত ক্ষমতা কাঠামোর বিরুদ্ধে বিদ্রোহীরাই এই ধরণের প্রচারণা চালাতো তা না। উমাইয়া খলিফারা যখন ক্ষমতায় ছিল তখনও এই ধরণের এপোকেলিপ্টিক প্রচার প্রচারণা প্রবলভাবেই জারি ছিল। এইক্ষেত্রে আমরা একটি বিখ্যাত হাদিস বিবেচনা করতে পারি। এই হাদিসটি বুখারি শরিফে পাওয়া যায়, যা আমাদের যুগেও বহু মুসলমানের কাছে শেষ জমানার একটি হাদিস হিসাবে সুপরিচিত। এই হাদিসটিতে বলা হয়েছে যে মহানবী কেয়ামতের পূর্বে ছয়টি চিহ্নের ভবিষ্যতবানী করেছেন। প্রথম চিহ্নটি মহানবীর মৃত্যু, দ্বিতীয় চিহ্ন জেরুজালেম বিজয়, তৃতীয় চিহ্ন বহু মুসলমানের মৃত্যু ঘটানো একটি প্লেগ, চতুর্থ চিহ্ন হলো মুসলমানদের অঢেল সম্পদ, পঞ্চম চিহ্ন হলো এক ফিতনা যা কোন আরব বংশের পক্ষেই এড়ানো সম্ভব হবে না, ছয় নম্বর চিহ্ন হল বনু আফসারের(বাইজান্টাইন) সাথে একটি চুক্তি যা ভঙ্গ করে তারা মুসলমানদের উপর হামলা চালাবে।৪ বহু মুসলমান এই হাদিসটিকে অনাগত শেষ জমানার চিহ্ন মনে করলেও ইসলামের প্রাথমিক যুগের ইতিহাস সম্বন্ধে যাদের ধারণা আছে কিংবা এই বইয়ের এই অধ্যায়টি যারা মনযোগ দিয়ে পড়েছেন তাদের কাছে ছয় চিহ্ন বলে পরিচিত এই ঘটনাগুলিকে ৬৩২ থেকে ৬৮৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়ে মুসলমানদের জীবনে ঘটে যাওয়া ছয়টি ঐতিহাসিক ঘটনা হিসাবে চিহ্নিত করতে ভুল হওয়ার কথা নয়। নবী মুহাম্মদ মারা গেছেন ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে, যাকে প্রথম চিহ্ন দাবি করা হয়েছে। তার কয়েক বছর পরই খলিফা ওমরের আমলে জেরুজালেম বিজয়ের ঘটনা ঘটে, যা দ্বিতীয় চিহ্ন। খলিফা ওমরের আমলেই সিরিয়ায় এক ভয়াবহ প্লেগে বহু মুসলমান মারা গিয়েছিলেন, তা আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি। এই প্লেগটিকেই তৃতীয় চিহ্ন বলা হয়েছে। খলিফা ওসমানের সময়ে মুসলমানদের অঢেল সম্পত্তির মালিক হওয়ার কথাও আমরা আলোচনা করেছি, যাকে এই হাদিসে চতুর্থ চিহ্ন বলা হয়েছে। ঘটনার ধারাবাহিকতা বিবেচনা করলে পঞ্চম চিহ্ন হিসাবে যে ফিতনার কথা বলা হয়েছে তা নিঃসন্দেহে প্রথম ও দ্বিতীয় ফিতনা। ছয় নম্বর চিহ্নটি আমাদের কাছে অতোটা পরিচিত নয়, কিন্তু এই ছয় নম্বর চিহ্নটির মধ্যেই এই হাদিসের জন্মের ইতিহাস লুকিয়ে আছে। বাইজেন্টাইনের সাথে উমাইয়া খেলাফত একটি শান্তি চুক্তি করেছিল ৬৮৫ খ্রিস্টাব্দে, কারণ দ্বিতীয় ফিতনার বিদ্রোহ সামাল দিতে গিয়ে দুই ফ্রন্টে যুদ্ধ চালানো উমাইয়াদের পক্ষে সম্ভব ছিল না।

মুসলমানদের মধ্যে ফিতনা বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের জন্যে লাভজনক, কারন এই সময়ে বাইজান্টাইনরা নিজেদেরকে সংগঠিত করার সুযোগ পেয়েছিল এবং আরবদের উপর হামলা চালিয়ে নিজেদের পুরণো গৌরব পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা করছিল। তারা যেকোন সময় চুক্তি ভঙ্গ করে হামলা চালাতে পারে সেই ভয় উমাইয়াদের মধ্যে ছিল। এই হাদিসে উল্লেখিত ছয় নম্বর চিহ্ন হিসাবে এই চুক্তির কথাই বলা হয়েছে বলে ধারনা করা যায়। রবার্ট হয়লান্ডও এই মত ব্যক্ত করেছেন। তার মতে, দ্বিতীয় ফিতনা সামাল দিতে ব্যস্ত উমাইয়ারা বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের পুনরুত্থান সম্পর্কে যে আশংকায় ভুগছিল তা হাদিসটিতে প্রতিফলিত হয়েছে।৫ শেষ জমানার হাদিস হিসাবে এই হাদিসটি বুখারি শরিফে জায়গা করে নিলেও বাস্তবে ইসলামের একেবারে প্রাথমিক যুগের ঐতিহাসিক কিছু ঘটনাকে শেষ জমানার ভবিষ্যত-বাণীর মতো করে লেখা হয়েছে। কিন্তু হাদিসগুলো তৈরি হয়েছিল সমসাময়িক বিভিন্ন ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় এবং লেখা হয়েছিল ফিউচার টেন্সে, তাও আবার খোদ মহানবীর ভবিষ্যত-বাণী হিসাবে।

মুহাম্মদের মৃত্যুর পর, বিশেষ করে প্রথম ফিতনার সময় থেকে সালাফদের মধ্যে রাজনৈতিক ঐক্য না থাকলেও এপোকেলিপ্টিক ধর্মবোধে তাদের মধ্যে শিয়া-সুন্নি জাতীয় কোন পার্থক্য ছিল না। রাজনৈতিক বিষয়ে তাদের মধ্যে বড় ধরণের ক্ষমতার দ্বন্দ ও মতপার্থক্য ছিল, এই দ্বন্দ ও মতপার্থক্য শান্তিপূর্ণ কায়দায় সমাধান করতে ব্যর্থ হয়ে তারা একে অপরের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ি সংগ্রামে লিপ্ত হয়েছেন। আর এই রক্তক্ষয়ি সংগ্রামকে তারা শেষ জমানার সংগ্রাম হিসাবে। পাশাপাশি তারা হাদিস বানিয়েছেন, বিভিন্ন কারনে বানিয়েছেন। কেউ সুবিধা পাওয়ার জন্যে বানিয়েছেন, কেউ বানিয়েছেন ক্ষমতা বিস্তারের উদ্দেশ্যে, আবার কেউ কেউ প্রবল শত্রুর সামনে নিশ্চিহ্ন হওয়ার মতো এক্সিস্টেনশিয়ালিস্ট ক্রাইসিসের মুহুর্তে অনুসারিদেরকে আশা দেয়ার জন্যে।

(লেখাটি ‘জিহাদ ও খেলাফতের সিলসিলা; মুসলিম দুনিয়ার ক্ষমতা-সম্পর্কের ইতিহাস’ বইটির দ্বীতিয় অধ্যায়ের অংশ বিশেষ। ফিতনার ইতিহাস ও তা থেকে হাদিসের জন্মের ইতিহাস এবং আইসিসের রিক্রুটমেন্টে এসব হাদিসের ব্যবহার সম্বন্ধে বিস্তারিত জানতে বইটি পড়ুন।)

তথ্যসূত্রঃ
১ Al-Azadi related from Ibn Mas’ud from the Prophet, “When the black flags come from Khurasan, go to them, for truly amongst them is the caliph of God, the Mahdi.”
Sunan Ibn Majah, Kitab al-Fitan: The Messenger of God, may God bless him and grant him peace, said, “Three people, each of them the son of a caliph, will fight over your treasure. It will go to none of them. Then, the black flags will appear from the east: they will kill you with a slaughter not meted out (or faced) by any people.” He then mentioned something that I do not remember. Then he said, “When you see him [their leader], pledge allegiance to him, even if you have to crawl over snow, for he is the vicegerent (caliph of God), the Guided One [al-Mahdi]

২ Hasan, U. (2014, September, 1). The Black Flags of Khurasan. Unity. https://unity1.wordpress.com/2014/09/01/the-black-flags-of-khurasan/
৩ Roggema.B.(2009)The Legend of Sergius Bahira: Eastern Christian Apologetics and Apocalyptic in response to Islam. Brill.P.74-76
৪ Bukhari.Volume4. Hadith 401. Narrated Auf bin Mali:I went to the Prophet during the Ghazwa of Tabuk while he was sitting in a leather tent. He said, “Count six signs that indicate the approach of the Hour: my death, the conquest of Jerusalem, a plague that will afflict you (and kill you in great numbers) as the plague that afflicts sheep, the increase of wealth to such an extent that even if one is given one hundred Dinars, he will not be satisfied; then an affliction which no Arab house will escape, and then a truce between you and Bani Al-Asfar (i.e. the Byzantines) who will betray you and attack you under eighty flags. Under each flag will be twelve thousand soldiers. Trans:Bill Mclean.
৫ HOYLAND.G.R(1997) .SEEING ISLAM AS OTHERS SAW IT; A SURVEY AND EVALUATION OF CHRISTIAN, JEWISH AND ZOROASTRIAN WRITINGS ON EARLY ISLAM THE DARWIN PRESS, INC.PRINCETON, NEW JERSE.P.332.

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৫ thoughts on “আইসিসের কালো পতাকা ও জাল হাদিসের প্রোপাগান্ডা

  1. হাদিসগুলো না হয় জাল বলে ধরে
    হাদিসগুলো না হয় জাল বলে ধরে নিলাম। কিন্তু কোরানে জিহাদ, অমুসলিম, কাফের, নাস্তিকদের বিষয়ে যেসব মানবতা বিরোধী নির্দেশনা আছে সেগুলোতো জাল না। এসব নির্দেশনা অনুসরণ ধর্মীয় উগ্রবাদীরা মানুষ হত্যা করছে সেগুলোকে কিভাবে এভয়েড করবেন?

  2. এসব আইসিস, আল-কায়দা সব ফালতু
    এসব আইসিস, আল-কায়দা সব ফালতু কথা-বার্তা। আমেরিকা আফগানস্থানে হামলা না করলে কি আল-কায়দা জন্ম নিত? ইরাক- লিবিয়ায় হামলা না হলে কি আইসিস জন্ম নিত? ইসরাইল প্যালেস্টাইন দখল না করলে কি হামাস জন্ম নিত? নাস্তিক আর স্যেকুলার দেশগুলো একের পর এক মুসলিম দেশ দখল, হামলা আর হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাবে, আর মুসলমানরা এর প্রতিবাদ করলেই তার জন্য কোরান-হাদীসকে দায়ী করে চিৎকার চ্যাচামেচী শুরু হবে। কিন্তু এভাবে কি চলবে?

    নীচের ছবিগুলতে দখা যাচ্চে কতটা নির্মম ভাবে মুসলিম দেশগুলোতে জংগী হামলা চলছে–

    কই কোনদিন তো এইসব নির্মম গনহত্যা নিয়ে আপনাদেরকে কিছু লিখতে দেখি না। কখনই বাইবেল, তালমুদকে এসবের জন্য দায়ী করেন না।

    1. আর মুসলমানরা এর প্রতিবাদ

      আর মুসলমানরা এর প্রতিবাদ করলেই তার জন্য কোরান-হাদীসকে দায়ী করে চিৎকার চ্যাচামেচী শুরু হবে। কিন্তু এভাবে কি চলবে?

      প্রতিবাদ করলেই চ্যাচাম্যাচি কে করছে? হত্যা ও হামলার বিরুদ্ধে আমরা কথা বলতেছি। তারমানে আইএস, আল কায়েদা, এদের দ্বারা এসব হত্যাকাণ্ডকে মুসলমানদের প্রতিবাদ বলছেন? তাহলে ঠিকই আছে, ইসলাম মানেই সন্ত্রাসবাদ, মুসলমান মানেই জঙ্গিবাদ। মজার ব্যাপার কি জানেন? যেটাকে আপনাদের বা মুসলমানদের প্রতিবাদ বলছেন, সেই প্রতিবাদের তোড়ে মুসলমানরাই গৃহহীন হচ্ছে, মুসলমানরাই আরা যাচ্ছে। সন্ত্রাসবাদকে প্রতিবাদ হিসাবে উল্লেখ করে আপনি নিজেই বুঝিয়ে দিলেন দিন শেষে প্রতিটি মুসলমান জঙ্গিবাদী মন নিয়ে চলেন।

      1. যেহেতু আপনি চূড়ান্ত রকম ইসলাম
        যেহেতু আপনি চূড়ান্ত রকম ইসলাম আর মুসলিম বিদ্যেষী (আর হিন্দু প্রেমী) তাই এর চাইতে ভাল কোন মন্তব্য আপনার কাছে আশা করা যায় না। আইসিস, আল-কায়দা উদ্ভবের পেছনের কারনকে সম্পুর্ন উপেক্ষা করে শুধু ইসলাম ইসলাম করে তারস্মরে চিতকার করলেই কি মানুষ সেটা মানবে? এ?

        1. আমার হিন্দু প্রেম কোথায়
          আমার হিন্দু প্রেম কোথায় দেখলেন? কিছুদিন আগেওতো আপনাকে জঙ্গিরা দৌড়াচ্ছে বলে অনলাইন ফাটায়া ফেলছিলেন। তারপর তওবা করে মুসলমান হলেন। আমার হিন্দুপ্রেম কোথায় পেলেন? একটা প্রমাণ দেখাতে পারবেন? আপনার তওবা করার প্রমাণ আমি দেখাতে পারব। কথাবার্তা হিসাব করে বইলেন। আমি সকল ধর্মের সমালোচনা করি নিয়মিত। জগতের সবচেয়ে বড় হাস্যকর ধর্ম হিন্দু, যে ধর্মটি কৌতুকে ভরা। আর ফ্যানাটিক ধর্ম হচ্ছে ইসলাম। আপনার মুত সুবিধাবাদী ধার্মিকরাই হচ্ছে এই ধর্মের বড় ভাড়। ভবিষ্যতে কারো সম্পর্কে মন্তব্য করার আগে তার সম্পর্কে জেনে নিয়ে মন্তব্য করবেন। এই আলাপের এখানেই সমাপ্তি ঘোষনা করলাম।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

47 − 40 =