যীশু ও মুহাম্মদের শিক্ষার পার্থক্য: কার বানী সভ্য সমাজ গঠনের উপযোগী?

যীশু বলেছেন – ‘তোমরা তাদের বলতে শুনেছ, ‘তোমার প্রতিবেশীকে ভালবাসো,শত্রুকে ঘৃণা করো। কিন্তু আমি তোমাদের বলছি, তোমাদের শত্রুদের ভালবাসো। যাঁরা তোমাদের প্রতি নির্য়াতন করে তাদের জন্য প্রার্থনা করো,(মথি-০৫: ৪৩-৪৪) দুনিয়াতে সভ্য সমাজ সৃষ্টির জন্যে এর চাইতে মানবিক আর কোন বানী আছে কি না জানা নাই। পক্ষান্তরে ইসলামের নবী মুহাম্মদ কি বলেছেন , সেটা একটু দেখা যাক।

সুরা নিসা – ০৪: ৮৯: তারা চায় যে, তারা যেমন কাফের, তোমরাও তেমনি কাফের হয়ে যাও, যাতে তোমরা এবং তারা সব সমান হয়ে যাও। অতএব, তাদের মধ্যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, যে পর্যন্ত না তারা আল্লাহর পথে হিজরত করে চলে আসে। অতঃপর যদি তারা বিমুখ হয়, তবে তাদেরকে পাকড়াও কর এবং যেখানে পাও হত্যা কর। তাদের মধ্যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না এবং সাহায্যকারী বানিও না।

সুরা তাওবা -৯: ৫: অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

সুরা তাওবা -৯: ২৯: তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে।

সহিহ মুসলিম :: খন্ড ১ :: হাদিস ৩০:
আবু তাহির, হারমালা ইবন ইয়াহইয়া ও আহমাদ ইবন ঈসা (র)……আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই – এ কথার সাক্ষ্য না দেওয়া পর্যন্ত লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আমি আদিষ্ট হয়েছি । সূতরাং যে কেউ আল্লাহ ছাড়া ইলাহ নেই স্বীকার করবে, সে আমা হতে তার জানমালের নিরাপত্তা লাভ করবে; তবে শরীআতসম্মত কারণ ব্যতীত । আর তার হিসাব আল্লাহর কাছে ।

সহিহ বুখারী :: খন্ড ৪ :: অধ্যায় ৫২ :: হাদিস ৭৩:
আব্দুল্লাহ ইব্ন মুহাম্মদ (র)…………উমর ইব্ন উবায়দুল্লাহ (র)-এরাযাদকৃত গোলাম ও তার কাতিব আবূন নাযর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইব্ন আবূ আওফা (রা) তাঁকে লিখেছিলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, তোমরা জেনে রাখ, তরবারীর ছায়ার নীচেই জান্নাত।

উপরোক্ত বানী কি কোন সভ্য সমাজ গঠন করতে পারে ? তার প্রমান সারা দুনিয়ায় মুসলিম দেশগুলোকে দেখলেই বোঝা যায়। গোটা দুনিয়ায় মুসলমানরা নিজেরাই নিজেদের ইসলামের মতবাদ নিয়ে মারামারি , কাটাকাটি , হত্যা যজ্ঞ নিয়ে ব্যস্ত। এই ইসলাম দিয়ে কি কোন সভ্য সমাজ গঠন করা সম্ভব ? তাহলে আমাদের কার বানী অনুসরন করা উচিত ? যীশুর , নাকি মুহাম্মদের ?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৫ thoughts on “যীশু ও মুহাম্মদের শিক্ষার পার্থক্য: কার বানী সভ্য সমাজ গঠনের উপযোগী?

    1. মানুষকে যে কোন প্রকারে বোকা
      মানুষকে যে কোন প্রকারে বোকা বানাতেই হবে , তাই তো ? যাই হোক , যীশু আমার সহায় , কোন শয়তান আমার কিছুই করতে পারবে না , আর কোন শয়তানের চক্রানেও আমি আমার সামনে কাউকে পড়তে দেব না। যাইহোক , সেই লুক থেকেই , পুরোটা তুলে দিলাম , এখন আপনি নিজেই বলুন তো , যীশু কাকে খুন করছেন বা কাকে খুন করতে বলছেন ? নাকি একটা রূপক গল্প বলছেন ?

      লুক- ১৯: ১২- ২৮

      ১২ যীশু বললেন, ‘একজন সম্ভ্রান্ত বংশের লোক রাজ পদ নিয়ে ফিরে আসার জন্য দূর দেশে যাত্রা করলেন।
      ১৩ আবার আগে তিনি তাঁর দশজন কর্মচারীকে ডেকে প্রত্যেকের হাতে একটি করে মোট দশটি মোহর দিয়ে বললেন, ‘আমি ফিরে না আসা পর্যন্ত এই দিয়ে ব্যবসা করো।’
      ১৪ কিন্তু তাঁর প্রজারা তাকে ঘৃণা করত; আর তিনি চলে যাওযার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় লোকেরা একজন প্রতিনিধির মাধ্যমে বলে পাঠাল, ‘আমরা চাই না য়ে এই লোক আমাদের রাজা হোক্!’
      ১৫ ‘কিন্তু সেই ব্যক্তি রাজপদ নিয়ে বাড়ি ফিরে এলেন; আর য়ে কর্মচারীদের তিনি টাকা দিয়েছিলেন তাদের সকলকে ডেকে পাঠালেন। তিনি দেখতে চাইলেন য়ে তারা কে কত লাভ করেছে।
      ১৬ প্রথম জন এসে বলল, ‘প্রভু, আপনার এক মোহর খাটিয়ে দশ মোহর লাভ হয়েছে।
      ১৭ তখন মনিব তাকে বললেন, ‘খুব ভাল করেছ, তুমি খুব ভাল কর্মচারী। তুমি অল্প বিষয়ে বিশ্বস্ত ছিলে তাই তোমাকে দশটি শহরের শাসক হিসেবে নিযোগ করা হবে।’
      ১৮ এরপর দ্বিতীয় জন এসে বলল, ‘প্রভু আপনার এক মোহর খাটিয়ে পাঁচ মোহর লাভ হয়েছে।’
      ১৯ তিনি তাকে বললেন, ‘তোমাকে পাঁচটি শহরের শাসনভার দেওযা হবে।’
      ২০ এরপর আর একজন এসে বলল, ‘প্রভু, এই নিন আপনার মোহর, এটা আমি রুমালে বেঁধে আলাদা করে রেখে দিয়েছিলাম।
      ২১ আপনার বিষয়ে আমার খুব ভয় ছিল, কারণ আপনি খুব কঠিন লোক। আপনি যা জমা করেন নি তাই নিয়ে থাকেন, আর যা বোনেন না তার ফসল কাটেন।’
      ২২ তখন তার প্রভু তাকে বললেন, ‘তোমার কথা অনুসারেই আমি তোমার বিচার করব, তুমি একজন দুষ্ট কর্মচারী। তুমি জানতে আমি একজন কঠিন লোক, আমি যা জমা করি না তাই পেতে চাই, যা বুনি না তাই কাটি।
      ২৩ তবে তুমি আমার টাকা কেন মহাজনদের কাছে জমা রাখনি? তাহলে তো আমি টাকার সুদটাও অন্ততঃ পেতাম।’
      ২৪ আর যাঁরা সেখানে দাঁড়িয়ে ছিল তিনি তাদের বললেন, ‘এর কাছ থেকে ঐ মোহর নিয়ে নাও আর যার দশ মোহর আছে তাকে ওটা দাও।’
      ২৫ তখন তারা তাকে বলল, ‘প্রভু, ওর তো দশটা মোহর আছে!’
      ২৬ প্রভু বললেন, ‘আমি তোমাদের বলছি, যার আছে তাকে আরো দেওযা হবে আর যার নেই, তার য়েটুকু আছে তাও কেড়ে নেওযা হবে।
      ২৭ কিন্তু যাঁরা আমার শত্রু, যাঁরা চায় নি য়ে আমি তাদের ওপর রাজত্ব করি, তাদের এখানে নিয়ে এসে আমার সামনেই মেরে ফেল।”
      ২৮ এইসব কথা বলার পর যীশু জেরুশালেমের দিকে এগিয়ে চললেন।

      1. ২৭ কিন্তু যাঁরা আমার শত্রু,

        ২৭ কিন্তু যাঁরা আমার শত্রু, যাঁরা চায় নি য়ে আমি তাদের ওপর রাজত্ব করি, তাদের এখানে নিয়ে এসে আমার সামনেই মেরে ফেল।”

        যীশু কি নিতান্ত সময় নষ্ট কিরার জন্য এই গল্প ফেদেছেন?একদম পরিষ্কার করে এখানে যারা যীশুর প্রভু বলছেন যারা তাকে অস্মীকার করেছে তাদেরকে তখনই তারই সামনে হত্যা করে ফেলতে।

        বলা বাহুল্য খৃষ্টান ছাড়া আর সবাই কিন্তু যীশূকে আল্লাহর পুত্র বা আল্লাহ বলে স্বীকার করে না। অর্থাত যিশূর প্রভুর কথা মানছে না। তাই পরিষ্কার বাণি অনুযায়ী এ ধরনের লোকদের সাথে সাথে হত্যা করতে বলা হচ্ছে।পারলে তার সামনেই।
        অথচ মুহাম্মদ(সা) কে অনেকেই নবি হিসেবে মানে নি। কিন্তু তিনি কাউকেই হত্যার আদেশ দেন নি, বরং ক্ষমা করেছেন। শুধু যা্রা ইসলাম ধর্ম প্রতিষ্ঠায় বাধা দিয়েছে, তাদের সাথেই যুদ্ধ করেছেন অত্যন্ত যৈক্তিক ভাবেই।

        1. প্রথম যখন বলছিলেন তখন তো এই
          প্রথম যখন বলছিলেন তখন তো এই বাক্য সোজা যীশুর বক্তব্য বলেই মানুষকে বিভ্রান্ত করছিলেন , তাই না ? কেন এই অপকৌশল ?

          এই রূপক গল্পটার অবতারনা করা হয়েছে শেষ বিচার দিনের ঘটনাকে লক্ষ্য করে , এই দুনিয়ার ঘটনা না। যারা যীশুকে ত্রান কর্তা হিসাবে গ্রহন না করে , নানা রকম পাপাচারে লিপ্ত থাকবে , শেষ বিচারে তাদের কি শাস্তি হবে , সেটাই এই রূপক গল্পে বলা হয়েছে। আর সেটা পরকালীন ব্যাপার। কিন্তু ইহকালের জন্যে যীশুর বানী কি ? ইহকালের জন্যে যীশুর বানী হলো শধুই ভালবাসার , প্রেমের , সেখানে কোন হিংসা , খুন খারাবি ধর্ষন ইত্যাদি নেই। সভ্য মানব সমাজ গঠনের জন্যে এটাই আসল বাস্তব শিক্ষা।

          পক্ষান্তরে কোরান ও হাদিসে শুধু হত্যা, ধর্ষন , হিংসার ছড়াছড়ি আর সেসব পরকালের বিষয় না , সেসব এই ইহকালেরই বিষয়। স্বয়ং নবী মুহাম্মদ নিজেই বহু মানুষকে হয় সরাসরি বা পরোক্ষভাবে হত্যা করেছেন , যুদ্ধ করেছেন , শুধুমাত্র তাকে নবী হিসাবে গ্রহন না করার কারনে। আর বলাই বাহুল্য , মুহাম্মদের এই শিক্ষা অনুসরন করেই গোটা দুনিয়ায় মুসলিম বিশ্বে মুসলমানরা নিজেরাই নিজেদেরকে হত্যা করছে , আর একই সাথে অমুসলিমদের উপর নানা রকম আক্রমন করছে , করে নিজেদের বিপদ আরও বাড়াচ্ছে।

  1. অতীতে খ্রিস্টান শাসকগণ ইউরোপে
    অতীতে খ্রিস্টান শাসকগণ ইউরোপে রক্তের গঙ্গা বইয়ে দিয়েছিলেন যে সেটা নিশ্চয় কোরান পড়ে! পৃথিবীর কোন ধর্মই শেষ পর্যন্ত শান্তি দিতে পারেনি মানব সভ্যতাকে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 7 = 13