ঈমান বজায় রেখে ইসলাম ও আল কোরানের আলো ঘরে ঘরে জ্বালিয়ে কি জংগী তৈরি ও জংগী হামলা নির্মুল করা সম্ভব ?

ঈমান বজায় রেখে ইসলাম ও আল কোরানের আলো ঘরে ঘরে জ্বালিয়ে কি জংগী তৈরি ও জংগী হামলা নির্মুল করা সম্ভব ? (লেখাটা বড় হয়ে যাওয়ার জন্য দুঃখিত) ।

ইসলামকে জানতে হলে প্রথমেই জানতে হবে ঈমান, ও মুসলিম সম্পর্কে । ঈমান বিষয়ে জানতে হলে সবার আগে জানা দরকার, ইসলাম ও মুসলমান কাকে বলে । ইসলাম অর্থ আত্মসমর্পন এবং মুসলমান অর্থ যে আত্মসমর্পন করে । এবারে জানবো আত্মসমর্পণের ভিত্তি বা ঈমান ও তার কারন পাশাপাশি আত্মসমর্পন কারীর কাজ ।

ঈমান শব্দের আভিধানিক অর্থ দৃঢ় বিশ্বাস। ইসলাম ধর্মে ঈমানের অর্থ অত্যন্ত ব্যাপক। ঈমানের সাতটি অঙ্গ হচ্ছে –

১) আল্লাহ এক, তিনি ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নাই এবং হযরত মুহাম্মদ (সা:) তাঁর বান্দা ও রাসূল; ২) ফেরেশতাদের প্রতি বিশ্বাস; ৩) সমস্ত ঐশী গ্রন্থের উপর বিশ্বাস; ৪) সকল নবী ও রাসূলের প্রতি বিশ্বাস; ৫) পরকালে বিশ্বাস; ৬) ভাগ্যে বিশ্বাস; ৭) মৃত্যুর পর পুনরুত্থানে বিশ্বাস ।

অর্থাৎ উপরের ঐ ৭টি বিষয়ে যার নিঃসন্দেহে বিশ্বাস থাকবে সেই ঈমানদার । শুধু আল্লাহ ও তার রাসূলের প্রতি আত্মসমর্পনের বৈশিষ্টের নামই ঈমান । যা সহজ ভাষায় বললে বলতে হয় , প্রতিটা বিষয়েই কোরান ও হাদিসের আলোকে বিচার করে যে সিদ্ধান্ত নিবে সেই প্রকৃত ঈমানদার ।

এবার দেখি এই বিষয়ে হাদিস কি বলে –

যেমনটি রাসুল (সাঃ) বলেছেন-

“তোমাদের মাঝে দুটি জিনিস ছেড়ে যাচ্ছি; তা যদি তোমরা শক্তভাবে ধারণ কর, তবে কোন দিন পথভ্রষ্ট হবে না; আল্লাহর কিতাব ও আমার সুন্নাহ’’।

(মুয়াত্তা মালিক , মেশকাত ১ম/হাঃ ১১৭)

অর্থাৎ সঠিক পথে থাকতে হলে কোরান ও হাদিস শক্ত ভাবে আঁকড়ে ধরতে হবে, এর বাইরে যাওয়াই যাবে না । যদি তা না করেন তাইলে আপনি ঈমানদার নন এবং আপনি পথ ভ্রষ্ট ।

ধরুন আপনি একজন ঈমানদার ও শিক্ষিত তাইলে কিভাবে নিচের আয়াত গুলি বুঝে ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত হবেন তার একটা ঈমানের উদাহরন দিচ্ছি —

“অবশেষে তিনি যখন সুর্যের অস্তাচলে পৌছলেন; তখন তিনি সুর্যকে এক পঙ্কিল জলাশয়ে অস্ত যেতে দেখলেন এবং তিনি সেখানে এক সম্প্রদায়কে দেখতে পেলেন। আমি বললাম, হে যুলকারনাইন! আপনি তাদেরকে শাস্তি দিতে পারেন অথবা তাদেরকে সদয়ভাবে গ্রহণ করতে পারেন”। [সুরা কা’হফ: ৮৬]

অবশেষে তিনি যখন সূর্যের উদয়াচলে পৌছলেন, তখন তিনি তাকে এমন এক সম্প্রদায়ের উপর উদয় হতে দেখলেন, যাদের জন্যে সূর্যতাপ থেকে আত্নরক্ষার কোন আড়াল আমি সৃষ্টি করিনি “। “ প্রকৃত ঘটনা এমনিই। তার বৃত্তান্ত আমি সম্যক অবগত আছি।“ [সুরা কা’হফ: ৯০-৯১]

অর্থাৎ আপনি যতই নাসার বিজ্ঞানী হন না কেন , সূর্য উদয় ও অস্ত যাওয়ার যে একটা নির্দিষ্ট যায়গা আছে এবং সূর্য যে পঙ্কিল জলাশয়েই অস্ত যায় সেটা আপনাকে বিশ্বাস করতেই হবে । কোন ভাবেই এটাকে মিথ্যা বলতে পারবেন না । এখন ঈমান ঠিক রেখে যদি বিতর্ক করে এই আয়াতকে সত্য প্রমানিত করতে চান তাইলে ওটা সঠিক অনুবাদ নহে বলা ছাড়া আর কি কিছু বলার থাকে ? যা প্রতিদিনই আমাদের মডারেটরা সুচারু রূপেই করে যাছেন । আপনাকেও তাই করে যেতে হবে ।

আর যারা সূর্যের সাথে পঙ্কিল জলাশয়কে মানছেন না তারা আল্লাহর আইন মোতাবেক পরিচিতি পাচ্ছে নাস্তিক, কাফের বা মুরতাদ হিসাবে ।

কাফির, জালিম, ফাসিক কারা সেটা বুঝতেছেন না ? তাইলে নিচের আয়াতটা দেখুন—

“যারা আমার আবতীর্ণকরা বিধান দ্বারা সমাজে বিধান দেয়না বা শাসনকাজ পরিচালনা করেনা , তারাই কাফির, …তারাই জালিম, …তারাই ফাসিক।”(আল-কুরআন-৫/৪৪-৪৬)

এবার দেখি আল্লাহর প্রিয় কেতাব মোতাবেক মুমিন বা ঈমানদার ও সত্যবাদী কারা —

তারাই মুমিন যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনে, পরে সন্দেহ পোষণ করে না এবং জীবন ও সম্পদ দ্বারা আল্লাহর পথে জিহাদ করে তারাই সত্যনিষ্ঠ।–( ৪৯ : ১৫)

এবং যারা ঈমান রাখে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তাতেও এবং আপনার পূর্বে যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তাতেও এবং তারা আখিরাতে পরিপূর্ণ বিশ্বাস রাখে। এরাই এমন লোক, যারা তাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে সঠিক পথের উপর আছে এবং এরাই এমন লোক, যারা সফলতা লাভকারী।-সূরা বাকারা (২) : ১-৫

হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথার্থভাবে ভয় কর এবং তোমরা আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) না হয়ে কোনো অবস্থায় মৃত্যুবরণ করো না।-আলে ইমরান ৩ : ১০২ ।

অর্থাৎ আপনাকে সত্যনিষ্ঠ, সফল ও সার্থক সহ জান্নাতের দাবীদার হতে হলে ঈমানকে শক্ত ভাবে ধরে রাখতেই হবে । অর্থাৎ কোরান ও হাদিসের আলোতেই পথ চলতে হবে এবং জান ও মাল দিয়ে জিহাদ করতে হবে । আমাদের দেশের ৯০% মানুষ নিজেকে ঈমানদার হিসাবে জাহির করে । এই অবস্থায় এক বাক্যে বলাই যায় আল্লাহর আইন অনুযায়ী এই ৯০ % ঈমানদাররাই সত্যবাদী, সে যতই চিটারি বাটপারি করুক না কেন এর সাথে সাথে যারা জিহাদ করে তারা সাচ্চা ঈমানদার ও সত্যবাদী কিন্তু ভন্ডরা তা মানতে চায় না । এর পরে কেন বলবেন আমাদের দেশের ৯০% লোক সত্যবাদী নয় ? যদি আপনি বলেন তাইলে আপনি আল্লাহর বিচারে কাফের, মুনাফেক ,ফাসেক। আলালহর চেয়ে শ্রেষ্ঠ বিচারক অবশ্যই নাই তাই না ?

এবার দেখি হাদিস কি বলে —

<

blockquote>তোমরা কি জান ‘এক আল্লাহর উপর ঈমান’ কাকে বলে? তারা বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, (এক আল্লাহর উপর ঈমান আনার অর্থ) এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য মাবুদ নেই। মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল। আর সালাত কায়েম করা, যাকাত আদায় করা, রমযানের রোযা রাখা ও গণীমতের এক পঞ্চমাংশ প্রেরণ করা।

-সহীহ বুখারী, হাদীস : ৫৩, কিতাবুল ঈমান, আদাউল খুমুসি মিনাল ঈমান ।

তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হবে না যতক্ষণ আমি তার কাছে তার সন্তান ও পিতা (মাতা)র চেয়ে এবং সকল মানুষের চেয়ে অধিক প্রিয় না হব।- সহীহ মুসলিম, হাদীস : ৪৪; সহীহ বুখারী, হাদীস : ১৫

তোমরা কেউ ঐ পর্যন্ত মুমিন হবে না, যে পর্যন্ত আমি তার কাছে তার প্রাণের চেয়েও বেশি প্রিয় না হই।

-মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ১৮০৪৭; সহীহ বুখারী, হাদীস : ৬৬৩২ ।

উপরের হাদিস মোতাবেক বলা যায় যে, যতই মায়ের পায়ের তলায় সন্তানের বেহেস্ত বলে চিল্লাই না কেন এবং স্বামীর পায়ের নিচে স্ত্রীর বেহেস্ত হোক না কেন, সবার উপরে নবীকে স্থান দিতেই হবে । গনিমত তত্ত্ব সহ তার সকল কথা অন্ধ ভাবেই মানতে ও পালন করতে হবে । এবার নিশ্চয় ইসলাম, মুসলমান ও ঈমান কি সেটা পরিস্কার বুঝেছেন তাই না ?
যদি তাতে সামান্য সন্দেহ করেন তাইলেই আপনি কাফের হওয়ার জন্য যথেষ্ট , বিরোধিতা করার দরকারই পড়বে না ।

কালেমা পড়ে ও গরুর মাংশ খেয়ে মুসলিম তো হলেন এবারে আসুন দেখি আপনার জন্য আল্লাহ কি কি কাজের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন —

আমি জ্বিন ও মানুষকে আমার ইবাদত করা ছাড়া অন্য কোন কারণে সৃষ্টি করিনি।”

(সূরা আয যারিয়াত, ৫১:৫৬)

তারা চায় যে, তারা যেমন কাফের, তোমরাও তেমনি কাফের হয়ে যাও, যাতে তোমরা এবং তারা সব সমান হয়ে যাও। অতএব, তাদের মধ্যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, যে পর্যন্ত না তারা আল্লাহর পথে হিজরত করে চলে আসে। অতঃপর যদি তারা বিমুখ হয়, তবে তাদেরকে পাকড়াও কর এবং যেখানে পাও হত্যা কর। তাদের মধ্যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না এবং সাহায্যকারী বানিও না। —

—- সূরা আন নিসা, আয়াত নং ৮৯।

তোমরা বের হয়ে পড় স্বল্প বা প্রচুর সরঞ্জামের সাথে এবং জেহাদ কর আল্লাহর পথে নিজেদের মাল ও জান দিয়ে, এটি তোমাদের জন্যে অতি উত্তম, যদি তোমরা বুঝতে পার।

– ৯-৪১

যারা আল্লাহে ও শেষ দিবসে ঈমান আনে তারা নিজ সম্পদ ও জীবন দ্বারা জিহাদে অব্যাহতি পাওয়ার প্রার্থনা তোমার নিকট করে না। আল্লাহ মুত্তাকীদের সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত। তোমার নিকট অব্যাহতি প্রার্থনা শুধু ওরাই করে যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসে ঈমান আনে না এবং যাদের চিত্ত সংশয়যুক্ত। ওরা তো আপন সংশয়ে দ্বিধাগ্রস্ত।-

আত তাওবা ৯ : ৪৪-৪৫ ।

বল, তোমাদের নিকট যদি আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং আল্লাহর পথে জিহাদ অপেক্ষা অধিক প্রিয় হয় তোমাদের পিতা, তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভ্রাতা, তোমাদের পত্নী, তোমাদের স্বগোত্রীয়, তোমাদের অর্জিত সম্পদ, তোমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য, যার মন্দা পড়ার আশংকা কর এবং তোমাদের বাসস্থান, যা তোমরা ভালবাস, তবে অপেক্ষা কর আল্লাহর বিধান আসা পর্যন্ত। আল্লাহ সত্যত্যাগী সম্প্রদায়কে সৎপথ প্রদর্শন করেন না।

-আত তাওবা ৯ : ২৪

তোমাদের ওপর যুদ্ধ ফরজ করা হয়েছে, অথচ তা তোমাদের কাছে অপছন্দনীয়। পক্ষান্তরে তোমাদের কাছে হয়তো কোনো একটা বিষয় পছন্দসই নয়, অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর

(সুরা আল বাকারাহ ২ : ২১৬)।

আল্লাহ ও তাঁর রসূল কোন কাজের আদেশ করলে কোন ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীর সে বিষয়ে ভিন্ন ক্ষমতা নেই যে, আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আদেশ অমান্য করে সে প্রকাশ্য পথভ্রষ্ট তায় পতিত হয়।

[সুরা আহযাব: ৩৬]

,

”যারা অবিশ্বাস করে এবং আমার নিদর্শনাবলীকে মিথ্যা বলে, তার দোযখী”।

কোরান ৫:১০

ইবাদত ছাড়াও জান ও ধন সম্পদ দিয়েই যে ভিন্ন ধর্মাবলম্বিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা ফরজ সেটা নিয়ে কি আর কোন সন্দেহ আছে ? যারা বলেন – ইসলাম মানেই শান্তি , ইসলাম এসব জিহাদ বা সন্ত্রাস অনুমোদন করে না তারা শুধু শাক দিয়ে মাছ ঢেকে বিভ্রান্ত করা ছাড়া আর কিচ্ছু করতে পারে না , এবার বলুন তো – কোন বিধর্মির সাথেই একজন মুসলমানের বন্ধুত্ব পূর্ন সম্পর্ক হতে পারে না তাতে কি আপনি দ্বিমত পোষণ করার সাহস আছে ? তাইলে আমাদের বহু সম্প্রদায়ের দেশে ইসলামের অবাধ প্রচার ও প্রসার ঘটিয়ে কি অসাম্প্রদায়িকতার সমাজ আশা করা বাস্তব সঙ্গত হবে ?

অতএব, এটা সূর্যের মতই সত্য যে, বিধর্মিদের সাথে যুদ্ধ করাটা নামাজের মতই ফরজ । কপালে নামাজ পড়ার চিহ্ন দোজখের আগুনে পুড়বে না তাই নামাজের চিহ্ন কপালে থাকতে হবে । ঠিক একই ভাবে জিহাদকে ফরজ হিসাবেই নিয়ে বিধর্মিদের উৎখাত করে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে হবে । অনেকেই বলেন এই জিহাদ সেই কাটাকাটির জিহাদ নয় , নফস এর বিরুদ্ধে জিহাদ তারা তাদের কথার স্বপক্ষে কোন দলিল দেখাতে পারবেন না ।
জিহাদ মানেই কাটাকাটির যুদ্ধ কিনা এবং জিহাদ ইসলাম অনুমোদন করে কিনা সেটা বুঝতে হলে নিচের আয়াত ও হাদিসের দিকে খেয়াল করুন –

আয়াত —

“তোমরা মুশরিকদেরকে হত্যা করো যেখানেই তাদেরকে পাও, তাদেরকে ধরো, তাদেরকে বেঁধে ফেলো, তাদেরকে হত্যারজন্য ঘাটিতে ওঁত পেতে অপেক্ষা করতে থাকো।

” (সূরা আত তাওবা, আয়াত ৫)

তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে।

৯:৭৩

হে ঈমানদার সৈনিকগণ, তোমরা যখনই নাস্তিকদের মোকাবেলা করবে তখন কোনক্রমেই তোমার পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে না। যদি কেও পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে তবে তার পাপের ঠিকানা হবে দোজখের জ্বলন্ত আগুনে

(৮:১৬)।

>তোমরা কি মনে কর যে, তোমাদের ছেড়ে দেয়া হবে এমনি, যতক্ষণ না আল্লাহ জেনে নেবেন তোমাদের কে যুদ্ধ করেছে এবং কে আল্লাহ, তাঁর রসূল ও মুসলমানদের ব্যতীত অন্য কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধুরূপে গ্রহণ করা থেকে বিরত রয়েছে। আর তোমরা যা কর সে বিষয়ে আল্লাহ সবিশেষ অবহিত। –

৯-১৬

হাদিস কি বলে দেখুন —

আবু হুরায়রা বললেন: আল্লাহর রসুল বলেছেন, “যে কেহ আল্লাহ্‌র সাথে দেখা করবে অথচ তার কাছে জিহাদের কোন চিহ্ন থাকবে না সে এক খুঁত নিয়ে আল্লাহ্‌র সাথে সাক্ষাত করবে”

। (জামি তিরমিজি, ভলুম ৩, হাদিস ১৬৬৬, প্রকাশক: দারুস্‌সালাম, রিয়াদ, সৌদি আরব। )

অর্থাৎ ইসলামী জংগী, সন্ত্রাসী, বিপথ গামী, দুর্বৃত্ত যাই বলুন না কেন তারাই যে সহি ইসলামের ধারক ও বাহক সেই বিষয়ে কোন সন্দেহ থাকে ? এই বিষয়ে আলালহ কি বলেছেন দেখুন –

“আল্লাহ ক্রয় করে নিয়েছেন মুসলমানদের থেকে তাদের জান ও মাল এই মূল্যে যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত। তারা যুদ্ধ করে আল্লাহর রাহেঃ অতঃপর মারে ও মরে। তওরাত, ইঞ্জিল ও কোরআনে তিনি এ সত্য প্রতিশ্রুতিতে অবিচল। আর আল্লাহর চেয়ে প্রতিশ্রুতি রক্ষায় কে অধিক? সুতরাং তোমরা আনন্দিত হও সে লেন-দেনের উপর, যা তোমরা করছ তাঁর সাথে। আর এ হল মহান সাফল্য।“

সূরা আত তাওবাহ: ১১১ ।

অর্থাৎ যেদিন আপনি মুসলমান হয়েছেন সেদিন থেকেই আপনার বিচার, বুদ্ধি, ভাল, মন্দ, জান, মাল সবই আল্লাহর কাছে বিক্রী করে দিয়েছেন জান্নাতের বিনিময়ে । আপনার একমাত্র কাজ হবে ইবাদত ও জিহাদ তাতে আপনি বাঁচুন বা মরুন । আর এই জিহাদের মাধ্যমে তাকে ও তার নবীকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য আল্লাহ কতবার কি কি প্রতিশ্রুতি করেছেন দেখুন –

যারা আল্লাহর পথে শহীদ হয়, আল্লাহ কখনই তাদের কর্ম বিনষ্ট করবেন না। -৪৭-৪

তিনি তাদেরকে পথ প্রদর্শন করবেন এবং তাদের অবস্থা ভাল করবেন। – ৪৭-৫
অতঃপর তিনি তাদেরকে জান্নাতে দাখিল করবেন, যা তাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন। – ৪৭-৬
হে বিশ্বাসীগণ! যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য কর, আল্লাহ তোমাদেরকে সাহায্য করবেন
এবং তোমাদের পা দৃঢ়প্রতিষ্ঠ করবেন। ৪৭-৭ ।

উপরের আয়াত গুলিতে জিহাদের জন্য আল্লাহ তার ঈমানদার বান্দাদেরকে গনিমতের লোভ, বিনা বিচারে জান্নাতের লোভ সহ অনুরোধ পর্যন্ত করেছেন । এর পরেও কি বলবেন কাটাকাটির জিহাদ ইসলাম অনুমোদন করে না এবং তা আলাহর পছন্দ নয় ?

অতএব জিহাদীদেরকে বিষয়ে ইসলামকে দোষারোপ না করে শুধু জিহাদীদেরকে দোষারোপ করার অর্থ শুধু ঈমান ঠিক রেখে নিজেকে একজন আধুনিক হিসাবে নিজেকে প্রমান করা ছাড়া আর কিছুই কি হবে ? মুসলিম সমাজ কি আপনাকে মুসলিম হিসাবে সন্মান দিবে নাকি আপনি নিকৃষ্ট ও ঘৃনিত হিসাবে চিহ্নিত হবেন সেটা বিভিন্ন ওয়াজে বক্তাদের বক্তব্যেই প্রমান পাবেন ।

এত সব কিছুর পরে শুধু আপনাদের মুখের কথায় কোন ঈমানদার কোরান হাদিস জানা মুসলিমই কি জিহাদকে ঘৃনা করবে ? কেউই কি জিহাদ থেকে বিরত থাকবে ? একজন মুসলমান হয়ে জিহাদের বিরোধিতা করলে আল্লাহ কি আপনাকে একজন ঈমানদার হিসাবে কবুল করবেন ?

নিজের গোষ্ঠীর বা ক্ষমতার স্বার্থে মডারেট হিসাবে পরিচিতরা জিহাদী ভাইদেরকে অমুসলিম বা অসহি মুসলিম বলছেন তারা কি জানেন তাদের জন্য আল্লাহ কি ব্যবস্থা রেখেছেন ? দেখুন –

“এরাই পরকালের বিনিময়ে পার্থিব জীবন ক্রয় করেছে। অতএব এদের শাস্তি লঘু হবে না এবং এরা সাহায্যও পাবে না “।

[সুরা বাকারা: ৮৬]

“যারা অবিশ্বাস করে এবং আমার নিদর্শনাবলীকে মিথ্যা বলে, তার দোযখী।“

[সুরা মায়েদা: ১০]

অর্থাৎ যারা তাদের জান ও মাল জিহাদের পথে ব্যায় করবে না তারা নিশ্চিত দোজখি ।
যতই নামাজ পড়ুন বা কোরান তেলাওয়াত করুন জিহাদের ভুল ব্যাখ্যা বা জিহাদের বিরুদ্ধে কথা বললে কি আপনি আখেরে দোজখ ছাড়া কিছু পাবেন ? সুরা মায়েদার ৩২ নং আয়াতের প্রথম কিচু অংশ বাদ দিয়ে যারা ইসলাম পরিবর্তন করে যাচ্ছেন তাদের জন্য আল্লাহর নবী কি ব্যবস্থার কথা বলেছে দেখুন –

“এ কারণেই আমি বনী-ইসলাঈলে র প্রতি লিখে দিয়েছি যে, যে কেউ প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ অথবাপৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করা ছাড়া কাউকে হত্যা করে সে যেন সব মানুষকেই হত্যা করে। এবং যে কারও জীবন রক্ষা করে, সে যেন সবার জীবন রক্ষা করে। তাদের কাছে আমার পয়গম্বরগণ প্রকাশ্য নিদর্শনাবলী নিয়ে এসেছেন। বস্তুতঃ এরপরও তাদের অনেক লোক পৃথিবীতে সীমাতিক্রম করে”।

[সুরা মায়েদা: ৩২]

যে তার ধর্ম (ইসলাম) পরিবর্তন করে তাকে হত্যা কর।

-সহীহ বুখারী, হাদীস : ৬৯২২

মুনাফিক নর, মুনাফিক নারী ও কাফেরদেরকে আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জাহান্নামের অগ্নির, যেখানে তারা স্থায়ী হবে, এটাই তাদের জন্য যথেষ্ট এবং আল্লাহ তাদেরকে লা’নত করেছেন আর তাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী শাস্তি।-

আত তাওবা ৯ : ৬৮

বরং মুনাফিকগণ তো জাহান্নামের নিমণতম স্তরে থাকবে এবং তাদের জন্য তুমি কখনো কোনো সহায় পাবে না।

-আন নিসা ৪ : ১৪৫

অনেকেই ভাবেন নিজের বুদ্ধি বিবেক দিয়ে ভাল খারাপের বিচার করে জীবন অতিবাহিত করলে তিনি আল্লাহর কাছে ঈমানদার হিসাবেই গন্য হবেন । তাদেরকে নিচের আয়াতটার দিকে নজর দিতে বলছি –

“কোন মুমিন পুরুষ ও নারীর পক্ষে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দেওয়া ফায়ছালার ব্যাপারে ভিন্নমত পোষণের কোনরূপ এখতিয়ার নেই। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নাফরমানী করল, সে স্পষ্ট ভ্রান্তির মধ্যে নিপতিত হ’ল’

(আহযাব ৩৩/৩৬)।“

দেখলেন তো আলালহ ও নবীই আপনাদের সকল সমস্যার কিভাবে সমাধান করবেন তার সিদ্ধান্ত আগেই নিয়ে রেখেছেন ,আপনাদের কাজ শুধুই মেনে চলা । আপনাদেরকে বুদ্ধি বিবেক ব্যবহারের কোন সুযোগই রাখেন নাই । হয়তো অনেকেই কোরানের জিহাদ অংশ বাদে অন্য গুলি বিশ্বাস ও পালন করেন এবং মনে মনে পরিতৃপ্ত হয়ে ভাবেন যে, তারও জান্নাত দাবী করার হক আছে । তাইলে তাদের জন্য নিচের আয়াতটাই কি যথেষ্ঠ নয় ? দেখুন —

“তবে কি তোমরা কিতাবের কিছু অংশে বিশ্বাস কর আর কিছু অংশ প্রত্যাখ্যান কর? সুতরাং তোমাদের যারা এরকম করে, তাদের একমাত্র পরিণাম পার্থিব জীবনে হীনতা এবং কেয়ামতের দিন তারা কাঠিন শাস্তির দিকে নিক্ষিপ্ত হবে, তাদের কর্মকান্ড সম্পর্কে আল্লাহ বেখবর নন “।-

আল বাকারা ২ : ৮৫।

অন্য দিকে অনেক মডারেটর হুজুর বা মুসলিম “সুরা তায়েবার ৩২ নং আয়াতটা” উপস্থাপন করার সময় আয়াতের

এ কারণেই আমি বনী-ইসলাঈলে র প্রতি লিখে দিয়েছি যে,”

–এই অংশ টুকু বাদ দিয়ে উপস্থাপন করে প্রমান দিতে চান “ইসলাম শান্তির ধর্ম “ । অথচ ঐ অংশটুকুর জন্য প্রমান হয় ঐ আয়াতটা পূর্বে ইহুদিদের কিতাবে নাজিল করেছিল । যা মুসলমানদের জন্য প্রযোজ্য নয় । এভাবে আয়াতের অংশ বিশেষ কাটাছেড়ে করা কি ইসলাম বিকৃত করা নয় ? ইহা কি খোদার উপরে খোদগিরি করা নয় ?

অনেকেই হয়তো উপরের আয়াত ও হাদিসের শানে নজুল ও প্রেক্ষাপট বিবেচনা করার দাবী তুলবেন । তাদের কাছে প্রশ্ন –

তোমার ধর্ম তোমার জন্য এবং আমার ধর্ম আমার জন্য (

সূরা কাফিরুন:৫)।

ধর্মের ব্যাপারে কোন জোর জবরদস্তি নাই

(সূরা বাকারা:২৫৬)।

— এই আয়াত গুলি উপস্থাপনের সময়ে তো শানে নজুল ও প্রেক্ষাপট উল্লেখ করার দাবী তুলেন না । তাইলে খামখা এখন কেন শানে নজুল ও প্রেক্ষাপট –এর তেনা প্যাচাবেন ?

একদিকে ইসলামের আলো ও আল কোরানের আলো ঘরে ঘরে জ্বালানোর প্রকল্প বাস্তবায়ন করবেন অন্যদিকে জিহাদী হতে বাধা দিবেন তা কিভাবে সম্ভব ? যারা কোরান হাদিসের আলোতে পথ হাটবে তাদের নৈতিকতা কি জিহাদ বিরোধী হবে ? এর পরেও কোরান ও আল্লাহকে সত্য মেনে নিয়ে দিন দিন ইসলামের প্রসার বৃদ্ধি করে জিহাদ বন্ধ করতে চাওয়া কি ঈমানদারের লক্ষন এবং তাতে কি জিহাদ বন্ধ করা সম্ভব হবে ?
সেই অসম্ভবকে সম্ভব করার দিনের অপেক্ষায় রইলাম ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৯ thoughts on “ঈমান বজায় রেখে ইসলাম ও আল কোরানের আলো ঘরে ঘরে জ্বালিয়ে কি জংগী তৈরি ও জংগী হামলা নির্মুল করা সম্ভব ?

  1. ইসলাম ধর্ম খুব গা জ্বালা
    ইসলাম ধর্ম খুব গা জ্বালা ধরিয়েছে আপনার। একমাত্র ইসলামই সঠিক ধর্ম। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ইসলাম গ্রহন করছে। গা জ্বললেও লাভ নাই চাষা।

    https://themuslimissue.wordpress.com/2012/10/08/muslim-population-in-sweden-and-denmark-doubled-in-14-years/

    1. বর্তমানে ইসলাম ত্যাগ করার
      বর্তমানে ইসলাম ত্যাগ করার একটা হিড়িক পড়েছে। আগে ফেসবুক বা ইউটিউবে ইসলাম ত্যাগের বিষয়ে তেমন তথ্য পাওয়া যেত না। কারন সবাই ভয় পেত , ইসলাম ত্যাগ করলেই তো হত্যা করবে। ভয়ে কেউ ইসলাম ত্যাগের কথা প্রকাশ করত না। কিন্তু আস্তে আস্তে মানুষের সাহস বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেটা ইউিউব বা ফেসবুকে দেখা যাচ্ছে। আশা করা যায়, আগামি ১০ বছরের মধ্যেই মানুষ গনহারে প্রকাশ্যেই ইসলাম ত্যাগ করবে। তখন আর হত্যার ভয় পাবে না। মানুষ বুদ্ধিমান জীব, চিরকাল সে শয়তানের খপ্পরে থাকতে পারে না।

      1. হা হা , এরকম ইসলাম ত্যাগী ,
        হা হা , এরকম ইসলাম ত্যাগী , শয়তানের অনুসারী সাইকোপ্যাথ গত ১৪০০ বছর ধরেই ছিল। এখনো আছে, ভিবিষ্যতেও থাকবে। কিন্তু তাই বলে ইসলামের অগ্রযাত্রা কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। সারা পৃথিবীতে ইসলাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। সেটা পৃথিবীর বিভিন্ন যায়গায় মসজিদ,হিজাবের আর কনভার্টের ব্যাপকতা দেখেই টের পাওয়া যায়।

  2. প্রতিদিন দেশে চিট বাটপারের
    অবশ্যই সঠিক, সঠিক না হলে কি সূর্য প্রতিদিন পঙ্কিল জলাশয়ে গোসল করে পাক পবিত্র হয় ? প্রতিদিন দেশে চিট বাটপারের সংখ্যাও বাড়ছে , তাতে কি আহ্লাদিত হমু ?

  3. অবশেষে তিনি যখন সুর্যের

    অবশেষে তিনি যখন সুর্যের অস্তাচলে পৌছলেন; তখন তিনি সুর্যকে এক পঙ্কিল জলাশয়ে অস্ত যেতে দেখলেন এবং তিনি সেখানে এক সম্প্রদায়কে দেখতে পেলেন।

    আমি যদি বলি- মুর্খ চাষা গংগা স্নানের সময় গংগায় সুর্য ডুবতে দেখলেন, তাহলে কি কথাটা আদৌ ভুল হবে? আপনি এই বাক্যের ভুল কোথায় পেলেন?, নাকি বার্ধক্য জনিত কারনে বুঝতে পারছেন না?

    1. আলালহও আমাদের মতই সমুদ্রের
      আলালহও আমাদের মতই সমুদ্রের ধারে দাড়িয়েই সূর্য্যের পঙ্কিল জলাশয়ে ডুবতে দেখেছিলেন ? তাইলে কি আল্লাহর আরশ পংকিল জলাশয়ের পার্শেই ?

        1. আপনি কিছুটা অসুস্থ্য,
          আপনি কিছুটা অসুস্থ্য, মানুষিকভাবে।

          এমন ধারনার কারন কি ? প্রশ্নের জবাব না দিয়ে , সুস্থতার সনদ দেওয়ার দরকার কি ?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

4 + = 11