ভাইরাসের চিকিৎসাটাই জরুরী, সর্দি-কাশির নয়

কিছু মুসলমানদেরকে দেখি তারা আত্মপ্রসাদ লাভ করছে এই প্রচার করে যে ইসলাম হলো সব চাইতে বর্ধনশীল ধর্ম। তারা এও বলে , বহু অমুসলিম প্রতিদিন ইসলাম গ্রহন করছে , যদিও কতজন ইসলাম ত্যাগ করছে সেটা তারা উল্লেখ করেন না। কিন্তু সে যাই হোক , বর্তমানে মুসলমানরা ইসলামের নামে গোটা বিশ্বে যে ভয়াবহ সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে লিপ্ত, তার জন্যে গোটা বিশ্বে মুসলমানদের প্রতি, এমন কি চরম শান্তিবাদী মানুষটার মধ্যেও ঘৃনার উদ্ভব ঘটছে। এটা গোটা মুসলমানদের বিরুদ্ধে সমগ্র বিশ্বের অমুসলিমদেরকে ঐক্যবদ্ধ করছে, যার ভবিষ্যৎ পরিনতি ভয়াবহ।

মুসলমানদের মধ্যে একটা বৈশিষ্ট্য খুবই স্পষ্ট। তা হলো – তারা কখনই নিজেদের দোষ/ত্রুটি দেখতে পায় না। সব দোষই তারা অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে নিজেদেরকে নিষ্কলুষ দেখাতে চায়। আই এস , তালেবান, বোকোহারাম , আল কায়দা ইত্যাদি ইসলামী জঙ্গি গোষ্ঠি তৈরির পিছনে তারা সকল দায় ইহুদি নাসারাদের ওপর চাপায়। কিন্তু তারা উপলব্ধি করে না যে , ইহুদি নাসারারা বলা মাত্রই কেউ এই ধরনের জঙ্গি গোষ্ঠি তৈরী করবে না, বা কেউ আত্মঘাতী হামলায় যোগ দিয়ে নিজেকে হত্যা করবে না, যদি না খোদ ইসলামের মধ্যেই জঙ্গিবাদী আদর্শ বিদ্যমান থাকে।ধরে নিলাম, ইহুদি নাসারাদের ষড়যন্ত্রে সিরিয়া ইরাকে আই. এস. গঠিত হয়েছে , কিন্তু সেই আই. এস. নামক খিলাফতে যোগ দিতে যখন ইউরোপ আমেরিকা সহ দুনিয়ার বহু দেশ থেকে হাজার হাজার মুসলমান যুবক যবতী উন্মাদের মত জীবন বাজি রেখে তাদের স্বাচ্ছন্দময় জীবনকে ত্যাগ করে ছুটে যায় , তখন বুঝতে হবে , আই এস নামক খিলাফতে , তারা তাদের জীবনের আদর্শ খুজে পেয়েছে , আর সেই আদর্শ বাস্তবায়নের জন্যেই তারা জান বাজি রেখে সিরিয়া ইরাকে ছুটে গেছে ও যাচ্ছে। ইহুদি নাসারাদের কোন গোষ্ঠি তাদেরকে সেখানে যাওয়ার জন্যে উদ্বুদ্ধ করছে না।

কিন্তু মুসলমানদের সেই একটাই অজুহাত , যার আবার কোন ভিত্তি নেই। সেটা হলো – সব দোষ ইহুদি নাসারার , ইসলামী আদর্শের কোন দোষ নেই বা তাদের নিজেদের কোনই দোষ নেই। অত:পর মুসলমানদেরকে তথ্য প্রমান সহ যতই বুঝান হোক না কেন , যে আই. এস. যে খিলাফত প্রতিষ্ঠা করেছে , সেটা প্রকৃতই কোরান হাদিস- এর বিধান অনুসরন করেই সেটা করেছে, তাতে কোনই লাভ নেই , মুসলমানদের একটাই গো – আই এস ইহুদি নাসারাদের সৃষ্টি, ব্যস , এরপর আর কোন কিছুই তারা মানবে না। এখানে ইহুদি নাসারাদের কোন হাত নেই। আই. এস. এর প্রধান আবু বকর বাগদাদী , বাগদাদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলাম শিক্ষার ওপর মাষ্টার্স ডিগ্রী অর্জন করে শরিয়া এর ওপর পি এইচ ডি করেছে। অর্থাৎ ইসলামী বিধিবিধানকে ভালমত জেনে শুনে বুঝেই সে এই আ.ই এস. গঠন করে ইসলামী খিলাফত প্রতিষ্ঠা করেছে , আর সেই কারনেই সারা দুনিয়া থেকে পঙ্গপালের মত মুসলমান যুবক যুবতী সেই খিলাফতে যোগ দিতে ছুটে গেছে ও যাচ্ছে,শুধুই ইসলামী বিধি বিধানের অধীনে প্রকৃত ইসলাম জীবন যাপনের উদ্দেশ্যে। এর পেছনে ইহুদি নাসারাদের কোনই হাত নেই।

যারা সিরিয়া ইরাকের ইসলামী খিলাফতে যেতে পারে নি ,তারা তো আর চুপ করে বসে থাকতে পারে না। তারা নিজ দেশে থেকেই আই. এস. এর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছে। অত:পর নিজেদের দেশে ইসলামী বিধি বিধান চালু করার উদ্দেশ্যে সরকারকে বাধ্য করার জন্যে নিজেরাই স্বত:প্রনোদিত হয়ে নানা রকম আত্মঘাতী হামলা চালাচ্ছে। এর জন্যে আই. এস. এর হাই কমান্ড থেকে আদেশ নির্দেশ পাওয়ার কোনই দরকার নেই। সম্প্রতি ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোর ঘটনা যাতে ৫০ জন মারা গেছে , বা ঢাকার গুলশানের ঘটনা যাতে ২৮ জন মারা গেছে , এসবই ছিল এ ধরনের স্বত:প্রনোদিত আদর্শিক ঘটনা।

কোরান ও হাদিস জুড়ে ইসলাম প্রচার ও প্রতিষ্ঠার জন্যে সন্ত্রাসী আক্রমন করার বহু বিধি বিধান বিদ্যমান। আই এস , বোকো হারাম , তালেবান , আলকায়েদা ইত্যাদিরা কোরান হাদিসের সেই বিধি বিধানকেই অক্ষরে অক্ষরে অনুসরন ও বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করছে। সুতরাং ইসলামের এইসব বিধি বিধানকে স্পর্শ না করে, ইসলামের নামে যারা সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটাচ্ছে , তাদেরকে স্রেফ বন্দুকধারী, দুর্বৃত্ত বা সন্ত্রাসী ইত্যাদি বলে আখ্যায়িত করে প্রকৃত সমস্যাকে আড়াল করে , সেই সমস্যাকে সমাধান করার চেষ্টা শুধুই অপচেষ্টা মাত্র। দেহে কোন ভাইরাসের কারনে যদি কোন রোগ হয়, আর সেই রোগে যদি সর্দি কাশি হয়, তখন শুধুই সর্দি কাশির ঔষধ গ্রহন করলে রোগ মুক্ত হওয়া যায় না, সেই ভাইরাস ধ্বংস করার ঔষধটাই গ্রহন করতে হয়, তখন সর্দি কাশি সহ সেই রোগটাই আরোগ্য হয়ে যায়।

ভাইরাসের অস্তিত্ব স্বীকার না করে , শুধু সর্দি কাসির চিকিৎসা করলে কয় দিনের জন্যে সর্দি কাসি থেকে হয়ত মুক্তি পাওয়া যায় , কিন্তু কিছু দিন পর আবারও সর্দি কাসি শুরু হয়ে যায়।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “ভাইরাসের চিকিৎসাটাই জরুরী, সর্দি-কাশির নয়

  1. অত:পর মুসলমানদেরকে তথ্য

    অত:পর মুসলমানদেরকে তথ্য প্রমান সহ যতই বুঝান হোক না কেন , যে আই. এস. যে খিলাফত প্রতিষ্ঠা করেছে , সেটা প্রকৃতই কোরান হাদিস- এর বিধান অনুসরন করেই সেটা করেছে, তাতে কোনই লাভ নেই , মুসলমানদের একটাই গো – আই এস ইহুদি নাসারাদের সৃষ্টি, ব্যস , এরপর আর কোন কিছুই তারা মানবে না।

    নাহ, আপনার দাবী একেবারে ফেলে দেবার মত নয়। মুসলমানরা যখন দেখে সি আই এ স্টুডিওতে বসে গলা কাটা ভিডিও তৈরী করে সেটা আইসিসের নামে চালিয়ে দিচ্ছে, তখন তারা ইহুদীদের দোষ দেবেই। তার জন্য নীচের ভিডিওটা দেখতে হবে খুব মন দিয়ে–

    https://leaksource.info/category/terrorism/

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 7 = 2