কী করে বুঝবেন আপনার পরিচিত-লোকটি জঙ্গী হয়ে উঠছে (কতিপয় নির্ভরযোগ্য লক্ষণের ভিত্তিতে জঙ্গী-শনাক্তের উপায়):

কী করে বুঝবেন আপনার পরিচিত-লোকটি জঙ্গী হয়ে উঠছে (কতিপয় নির্ভরযোগ্য লক্ষণের ভিত্তিতে জঙ্গী-শনাক্তের উপায়):
সাইয়িদ রফিকুল হক

একদিনে কেউ জঙ্গী হয়ে ওঠে না। মাসের-পর-মাস কিংবা বছরের-পর-বছর বিকৃত-মানসিকতা ধারণ ও লালন করার পরই কেবল একজন জঙ্গী হয়ে উঠতে পারে। এক্ষেত্রে কারও-কারও একমাস, দুইমাস কিংবা তিন-চার-মাসও লেগে যেতে পারে। আবার কারও-কারও ক্ষেত্রে এক-দুই বছর সময়ও লাগতে পারে। তবে মনে রাখবেন: হুট করে কেউ জঙ্গী হয়ে ওঠে না।
এক্ষেত্রে আপনাকে কতিপয় লক্ষণ শনাক্ত করা শিখতে হবে—যদ্দদ্বারা আপনি বুঝতে পারবেন—আপনার পরিচিত-লোকটি কিংবা আশেপাশের কেউ-একজন জঙ্গী হয়ে উঠছে।

কতিপয় সুনির্দিষ্ট লক্ষণের ভিত্তিতে জঙ্গী-শনাক্তের উপায়সমূহ:

১. যখন দেখবেন: কেউ-একজন হঠাৎ কথিত-ধার্মিক হয়ে উঠেছে—আর তার কথাবার্তায়, চালচলনে ও হাবভাবে প্রকৃত-ধার্মিকের কোনো চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এবং সে আমাদের প্রচলিত ধর্মবিশ্বাসের বাইরে মনগড়া, আবোলতাবোল, আজেবাজে, আলতুফালতু ও উদ্ভট নিয়মরীতি কিংবা রীতিনীতির প্রচলন ঘটাতে চাইছে। যেমন, সে সকল ধর্মের মানুষের সঙ্গে মিলেমিশে থাকাটা পছন্দ করছে না। সে চায় পৃথিবীতে শুধু ইসলাম আর মুসলমানই টিকে থাকুক। আর তার কথাবার্তায় সবসময় একটা উগ্রভাব পরিলক্ষিত হবে। সে বাইরে শান্তভাব দেখাবে কিন্তু ভিতরে-ভিতরে একজন নেকড়ে কিংবা পুরাদস্তুর হায়েনা হয়ে উঠবে।
২. নব্য-জঙ্গী বা জঙ্গী যে-কোনো কারণে ইহুদী-খ্রিস্টান-হিন্দু-বৌদ্ধ-ধর্মাবলম্বীদের প্রতি সবসময় বিরূপ মনোভাব ও ঘৃণাপ্রকাশ করবে। আর সুযোগ পেলেই সে অন্য-ধর্মাবলম্বীদের আক্রমণ করে কথা বলবে। তাদের প্রতি নির্দয় আচরণপ্রকাশ করবে। আর সে একমাত্র মুসলমান ছাড়া আর-কাউকে মানুষ ভাববে না।
৩. যখন দেখবেন: কেউ-একজন ইসলাম ছাড়া পৃথিবীতে আর-কোনো ধর্ম মানছে না, সহ্য করছে না—তখন বুঝবেন, সে জঙ্গী হয়ে উঠছে। সে আর মানুষ নেই।
৪. জঙ্গীরা ইসলামের প্রচলিত ধর্মবিশ্বাসের বাইরে মনগড়াভাবে শয়তানীযুক্তি উত্থাপন করবে। যেমন, মুসলমান ছাড়া আর সবাই কাফের। সুতরাং, এদের হত্যা করা জায়েজ। আবার বলবে, যারা ইসলামীহুকুমাত-কায়েম করতে চায় না—তারাও কাফের। আসলে, এসবই তাদের শয়তানীকথাবার্তা।
৫. জঙ্গীরা ইসলামের নামে মানুষহত্যাকে সবসময় জায়েজ ও হালাল মনে করবে।
৬. জঙ্গীরা মনে করে: ইসলামের নামে যেকোনো অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করা সম্পূর্ণ জায়েজ। আর ইসলামের নামে যেকোনো মানুষকে হত্যা করলে তাদের কোনো পাপ হবে না।
৭. নব্য-জঙ্গী বা জঙ্গী যে-কাউকে হঠাৎ করে নাস্তিক বলে অভিহিত করবে। এরা নিজেদের বিপরীত চিন্তার মানুষকে সরাসরি নাস্তিক বা কাফের বা বিধর্মী বলে মনে করবে। এদের চিন্তাচেতনার সঙ্গে কারও চিন্তাভাবনার বৈপরিত্য দেখা দিলে তাকে এরা কাফের বা নাস্তিক বলে অভিহিত করে থাকে।
৮. নব্য-জঙ্গী বা জঙ্গী কিন্তু ধার্মিক নয়। এরা ধার্মিক-সাজার চেষ্টা করে মাত্র। আবার দেখা যায়: এরা পূর্বে মদ্যপ কিংবা পাপকার্যে সদাসর্বদা লিপ্ত ছিল। আর হঠাৎ করেই সে লোকদেখানো ধার্মিক হয়ে উঠার চেষ্টা করছে।
৯. জঙ্গীরা সবসময় আল্লাহর আইন বা ইসলামীহুকুমাত কায়েমের কথা বলবে। আর এজন্য তাদের কাজে বাধাদানকারীরা কাফের বা নাস্তিক। তাই, এদের দৃষ্টিতে মুসলমানসহ ভিন্নধর্মাবলম্বীদের হত্যা করা জায়েজ।
১০. জঙ্গীরা কখনও আমাদের প্রতিবেশীরাষ্ট্র ভারতের গঠনমূলক সমালোচনা করবে না। আর তারা একটু সুযোগ পেলে অমনি ভারতের বিরুদ্ধে যারপরনাই বিষোদগার শুরু করে দিবে। প্রতিটি জঙ্গী ভারতবিরোধী এবং ভারতের হিন্দুদের প্রতি রূঢ় ও নির্মম আচরণে বিশ্বাসী। এরা ভারতের ধ্বংস কামনা করে থাকে। আর কথায়-কথায় ভারতের বিরুদ্ধে যা নয় তা-ই বলে ভারতবিরোধিতা করে থাকে। কিন্তু বিপদে পড়লে এরাই ভারতে গিয়ে আশ্রয়গ্রহণ করে থাকে।
১১. নব্য-জঙ্গীরা ইসরাইলবিরোধী মনোভাব ব্যক্ত করবে। এবং ইসরাইল ধ্বংস করাটাকে জীবনের সবেচয়ে বড় কাজ বলে মনে করবে। কিন্তু তারা নিজেদের প্রয়োজনে ইসরাইলের বা ইসরাইলের গোয়েন্দাসংস্থা-মোশাদের সাহায্য-সহযোগিতা নিতে কোনোপ্রকার কুণ্ঠাবোধ করবে না।
১২. নব্য-জঙ্গী বা জঙ্গীরা সাহিত্যপাঠ করবে না। এরা কথিত-ইসলামীসাহিত্যের নামে মনগড়া বিভিন্ন জিহাদী-বইপত্র ও আজেবাজে ফতোয়াবাজির বই পড়বে। মনে রাখবেন: এরা আগে সাহিত্যপাঠ করতে পারে। কিন্তু জঙ্গী হওয়ার পরে এসব পাঠকে কুফরী মনে করে থাকে।
১৩. এরা লুকিয়ে বা অন্যের অগোচরে জিহাদী-বইপত্র পড়বে।
১৪. এরা মহান আল্লাহ ও তাঁর নবী-রাসুলের কথার চেয়ে এদের কথিত-নেতার কথাকে বেশি গুরুত্ব দিবে। আর এরা এইসব নেতার কথা মতো সবসময় চলবে।
১৫. এরা জিহাদকে সবসময় ফরজ বলে মনে করে। আর মনে করে থাকে: ভিন্নধর্মাবলম্বীদের বিরুদ্ধে অস্ত্রপ্রয়োগ বা যেকোনো বোমাবাজিই হচ্ছে জিহাদের অংশ। তাই, এরা বোমফাটিয়ে কিংবা গুলি করে যেকোনো মানুষকে হত্যা করতে দ্বিধাবোধ করে না।
১৬. এরা সবসময়, আর কথায়-কথায় জিহাদ-জিহাদ করবে। আর এদের কাছে কথিত-জিহাদই একমাত্র ধর্ম।
১৭. এরা আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের তালেবানদের মহান আল্লাহর ফেরেশতাদের থেকেও বেশি ভক্তি করবে। আর তারা সবসময় তালেবানদের পক্ষ নিয়ে কথা বলবে।
১৮. এরা লাদেন ও মোল্লা ওমরকে নবী-রাসুলের চেয়ে বেশি ভক্তি করবে।
১৯. এরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি আওয়ামীলীগ ও বামপন্থী-কমিউনিস্টদের নাস্তিক মনে করবে। আর একটু সুযোগ পেলেই এদের বিরুদ্ধে নানারকম আজেবাজে মন্তব্য করবে। কিন্তু কখনও এদের গঠনমূলক সমালোচনা করবে না।
২০. এরা সবসময় ‘হামাস’, ‘ব্রাদার-হুড’ ও ‘লস্কর-ই তৈয়্যেবা’র পক্ষে কথা বলবে।
২১. বাংলাদেশের চেয়ে পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও তুরস্কের প্রতি এদের আনুগত্য থাকবে বেশি।

উপর্যুক্ত বিকৃত-মানসিকতা কারও মধ্যে ঘটতে দেখলে বুঝবেন সে জঙ্গী হয়ে গেছে কিংবা জঙ্গী হওয়ার পথেই হাঁটছে। সুতরাং সময় থাকতে এখনই সাবধান হন। আর জঙ্গীপ্রতিরোধে এখনই এগিয়ে আসুন।

সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।
০৫/০৬/২০১৬

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

59 − = 49