সন্ত্রাসীদের কোন ধর্ম নেই, কিন্তু ইসলাম ধর্মটাই যদি সন্ত্রাসবাদ হয় ?

সম্প্রতি বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া সন্ত্রাসী ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন – সন্ত্রাসবাদীদের কোন ধর্ম নেই। তার সাথে তাল মিলিয়ে বহু বিশিষ্টজনও একই কথা বলেছেন নানা মিডিয়াতে। এমনকি বিখ্যাত শোলাকিয়া ঈদগাহ এর ইমাম মাসউদ মিয়াও দেশের প্রায় এক লক্ষ ইমামের স্বাক্ষর সংগ্রহ করে বলেছেন ইসলামের সাথে সন্ত্রাসের কোন সম্পর্ক নেই। এদের প্রত্যেকেরই উদ্দেশ্য মহৎ তাতে সন্দেহ নেই। তারা প্রত্যেকেই চান দেশে শান্তি শৃংখলা বিরাজ করুক। কিন্তু তারা চাইলেই কি সেটা হবে ? তারা ইসলাম সম্পর্কে যেসব ধারনা করেন , সেটা যদি সত্য না হয়, তাহলে কি তাদের এই চাওয়া কোন কাজে আসবে ? এবার দেখা যাক , ইসলাম আসলে কি বলে ।

মুহাম্মদ নিজেই বলছেন ———

সহিহ বুখারী :: খন্ড ৪ :: অধ্যায় ৫২ :: হাদিস ২২০:
ইয়াহ্ইয়া ইব্ন বুকাইর (র)……………আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, অল্প শব্দে ব্যাপক অর্থবোধক বাক্য বলার শক্তি সহ আমি প্রেরিত হয়েছি এবং শত্রুর মনে সন্ত্রাস সৃষ্টির মাধ্যমে আমাকে সাহায্য করা হয়েছে। একবার আমি নিদ্রায় ছিলাম, এমতাবস্থায় পৃথিবীর ধনভান্ডার সমূহের চাবি আমার হাতে অর্পণ করা হয়। আবূ হুরায়রা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) তো চলে গেছেন আর তোমরা তা বের করছ।

সেই সন্ত্রাস মুহাম্মদ কিভাবে সৃষ্টি করবেন ? সেটাও বলা আছে কোরানে ——

সূরা আনফাল- ৮: ১২: যখন নির্দেশ দান করেন ফেরেশতাদিগকে তোমাদের পরওয়ারদেগার যে, আমি সাথে রয়েছি তোমাদের, সুতরাং তোমরা মুসলমানদের চিত্তসমূহকে ধীরস্থির করে রাখ। আমি কাফেরদের মনে ভীতির সঞ্চার করে দেব। কাজেই গর্দানের উপর আঘাত হান এবং তাদেরকে কাট জোড়ায় জোড়ায়।

অর্থাৎ অমুসিলমদের গর্দানে কোপ দিয়ে তাদেরকে নৃশংসভাবে হত্যা করেই মুহাম্মদ অমুসিলমদের মধ্যে সন্ত্রাস সৃষ্টি করবেন , যাতে করে তারা ইসলাম গ্রহন করতে বাধ্য হয়। অমুসিলমদের বিরুদ্ধে চিরকালীন যুদ্ধ ও হত্যার কথা কিন্তু কোরান ও হাদিসেই আছে , যেমন –

সুরা তাওবা -৯: ৫: অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

সুরা তাওবা -৯: ২৯: তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে।

উক্ত আয়াতদ্বয়ের শ্রেষ্ট ব্যখ্যা কিন্তু স্বয়ং মুহাম্মদ নিজেই দিয়ে গেছেন যেমন —

সহিহ মুসলিম :: খন্ড ১ :: হাদিস ৩০:
আবু তাহির, হারমালা ইবন ইয়াহইয়া ও আহমাদ ইবন ঈসা (র)……আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই – এ কথার সাক্ষ্য না দেওয়া পর্যন্ত লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আমি আদিষ্ট হয়েছি । সূতরাং যে কেউ আল্লাহ ছাড়া ইলাহ নেই স্বীকার করবে, সে আমা হতে তার জানমালের নিরাপত্তা লাভ করবে; তবে শরীআতসম্মত কারণ ব্যতীত । আর তার হিসাব আল্লাহর কাছে ।

অর্থাৎ অমুসিলমরা মুসলমানদেরকে আক্রমন করুক বা না করুক , তাতে কিছুই যায় আসে না , যেহেতু তারা অমুসলিম আর ইসলাম গ্রহন করে নি , তাই তাদের বিরুদ্ধে চিরকালীন যুদ্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। সুতরাং অমুসলিমদেরকে কায়দা মত পেলে আতর্কিতে তাদেরকে আক্রমন করে হত্যা করার চিরকালীন বিধান কোরান হাদিসই দিয়ে গেছে। এভাবে হত্যা করতে পারলেই হওয়া যাবে খাটি মুসলমান আর মৃত্যুর পর পাওয়া যাবে বেহেস্ত , সেকথাই বলা আছে হাদিসে যেমন –

সহিহ বুখারী :: খন্ড ৪ :: অধ্যায় ৫২ :: হাদিস ৭৩:
আব্দুল্লাহ ইব্ন মুহাম্মদ (র)…………উমর ইব্ন উবায়দুল্লাহ (র)-এরাযাদকৃত গোলাম ও তার কাতিব আবূন নাযর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইব্ন আবূ আওফা (রা) তাঁকে লিখেছিলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, তোমরা জেনে রাখ, তরবারীর ছায়ার নীচেই জান্নাত। উয়াইসী (র) ইব্ন আবুযাযিনাদ (রা)-এর মাধ্যমে মূসা ইব্ন উকবা (রা) থেকে হাদীস বর্ণনায় মুআবিয়া ইব্ন আমর (র) আবূ ইসহাক (র)-এর মাধ্যমে মূসা ইবন উকবা (র) থেকে বর্ণিত হাদীসের অনুসরণ করেছেন।

অর্থাৎ সেই সব খাটি মুসলমানদের জন্যে জান্নাত একেবারে সুনিশ্চিত যারা অস্ত্র নিয়ে অমুসলিমদেরকে আতর্কিতে আক্রমন করবে , ও তাদেরকে হত্যা করবে। স্বয়ং মুহাম্মদ নিজেই এভাবে আতর্কিতে অমুসলিম জনপদ আক্রমন করে , অমুসলিমদেরকে হত্যা করতেন , তাদের নারীদেরকে বন্দি করে যৌনদাসী হিসাবে ব্যবহার করতেন আর তাদের মালামাল গনিমতের মাল হিসাবে ভাগ বন্টন করতেন , সেটা আছে হাদিসে , যেমন –

সহিহ বুখারী :: খন্ড ২ :: অধ্যায় ১৪ :: হাদিস ৬৮
মুসাদ্দাদ (র)—- আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) (একদিন) ফজরের সালাত অন্ধকার থাকতে আদায় করলেন । এরপর সাওয়ারীতে আরোহণ করলেন এবং বললেনঃ আল্লাহু আকবর, খায়বার ধ্বংস হোক ! যখন আমরা কোন সম্প্রদায়ের এলাকায় অবতরণ করি তখন সতর্কীকৃত দের প্রভাত হয় কতই না মন্দ ! তখন তারা (ইয়াহূদীরা) বের হয়ে গলির মধ্যে দৌড়াতে লাগল এবং বলতে লাগল, মুহাম্মাদ ও তাঁর খামীস এসে গেছে । বর্ণনাকারী বলেন, খামীস হচ্ছে , সৈন্য–সামন্ত। পরে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাদের উপর জয়লাভ করেন । তিনি যোদ্ধাদের হত্যা করলেন এবং নারী-শিশুদের বন্দী করলেন । তখন সাফিয়্যা প্রথমত দিহইয়া কালবীর এবং পরে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর অংশে পড়ল। তারপর তিনি তাঁকে বিয়ে করেন এবং তাঁর মুক্তিদানকে মাহররূপে গণ্য করেন । আবদুল আযীয (র) সাবিত (রাঃ)-এর কাছে জানতে চাইলেন, তাঁকে কি মাহর দেওয়া হয়েছিল, তা কি আপনি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন ? তিনি বললেন, তাঁর মুক্তিই তাঁর মাহর, আর মুচকি হাসলেন ।

মুহাম্মদ তার দলবল নিয়ে অন্ধকার থাকতেই খুব ভোরে আতর্কিতে খায়বার আক্রমন করেন , তাদের সকল পুরুষদেরকে হত্যা করলেন , তাদের শিশু ও নারীদেরকে বন্দি করলেন। মুহাম্মদ নিজেই তার ভাগে সাফিয়াকে গণিমতের মাল হিসাবে গ্রহন করলেন। কোরানেই বলেছে এভাবেই মুসলমানরা জনপদ আক্রমন করে তাদেরকে হত্যা করবে , আর তাদের মালামাল গনিমতের মাল হিসাবে গ্রহন করবে , এটাই আল্লাহর প্রতিশ্রুতি মুসলমানদের জন্যে , যেমন –

সুরা আল ফাতহ -৪৮: ২৯: আল্লাহ তোমাদেরকে বিপুল পরিমাণ যুদ্ধলব্ধ সম্পদের ওয়াদা দিয়েছেন, যা তোমরা লাভ করবে। তিনি তা তোমাদের জন্যে ত্বরান্বিত করবেন। তিনি তোমাদের থেকে শত্রুদের স্তব্দ করে দিয়েছেন-যাতে এটা মুমিনদের জন্যে এক নিদর্শন হয় এবং তোমাদেরকে সরল পথে পরিচালিত করেন।

সুতরাং মুহাম্মদ নিজেই যেখানে বলছেন তিনি ইসলাম প্রচার করেছেন সন্ত্রাসের মাধ্যমে , তিনি নিজে ছিলেন বড় সন্ত্রাসী , তার কাজই ছিল বিভিন্ন জনপদ আক্রমন করে , পুরুষদেরকে হত্যা করা , নারীদেরকে গনিমতের মাল হিসাবে গ্রহন করা , তাদের সম্পদ ভাগাভাগি করা , আর আল্লাও সেই একই কথা বলছে, যা প্রমান করছে খোদ ইসলামটাই একটা সন্ত্রাসের ধর্ম, সেখানে , প্রধানমন্ত্রি সহ বহুজন বলছে , ইসলামের সাথে সন্ত্রাসের কোন সম্পর্ক নেই। কিন্তু যারা প্রকৃত খাটি মুসলমান , যারা কোরান হাদিস চর্চা করে , আর জানে প্রকৃত ইসলাম কি জিনিস , তারা কি এসব আদিখ্যেতামূলক কথাবার্তা মানবে ? তারা কি এসব কথা শুনে শান্তিপূর্ন জীবনযাপন করবে ? কারন কোরানই তো বলছে মুহাম্মদের আদর্শ অনুসরন করা সকল মুসলমানদের অবশ্য কর্তব্য। তাহলে প্রকৃত মুসলমানরা প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যান্যদের কথা শুনবে, নাকি তারা কোরান হাদিস বা মুহাম্মদের কথা শুনবে ?

সুতরাং এসব সন্তাসী কর্মকান্ড বন্দ করার সমাধান কি ?

সমাধান একটাই , প্রকৃত ইসলাম প্রচারের অবাধ সুযোগ দিতে হবে , মুহাম্মদ যেসব কর্মকান্ড করেছেন তা প্রচার করতে হবে , অত:পর সিদ্ধান্ত জনগনের ওপর ছেড়ে দিতে হবে , তারা এই ধরনের চুড়ান্ত বর্বর , অসভ্য, অমানবিক , হিংস্র সন্ত্রাসী আদর্শ ইসলাম অনুসরন করবে , নাকি সেটা ত্যাগ করে সভ্য মানুষ হয়ে একটা সভ্য সমাজ গড়ে তুলবে ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 2 = 6