বলেছিলাম না নারীর হাতেই শুরু হবে মৌলবাদের পতন।

জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) নারীদের ভয় পায়। সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইরত কুর্দি নারী যোদ্ধারা এমনটাই মনে করেন। কুর্দি নারী যোদ্ধাদের অন্যতম কমান্ডার ২১ বছর বয়সী তেলহেলদেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আইএস ভাবে তারা ইসলামের নামে যুদ্ধ করছে। তাদের বিশ্বাস, আইএসের কোনো জঙ্গিসদস্য যদি একজন নারী অথবা একজন কুর্দি নারীর হাতে নিহত হয়, তাহলে তারা বেহেশতে যেতে পারবে না। তারা নারীদের ভয় পায়।’

সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আল-হাসাকা প্রদেশের সমরক্ষেত্র থেকে এসব কথা বলছিলেন তেলহেলদেন। নুজান নামের ২৭ বছর বয়সী আরেক কুর্দি নারী যোদ্ধা বলেন, ‘অঞ্চলটিতে আইএস যদি আবার ফিরে আসার চেষ্টা করে, তাদের একজনকেও জীবিত রাখা হবে না।’ ইনডিপেনডেন্ট পত্রিকার অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

আইসিস যখন ইরাক থেকে সিরিয়ার দিকে অগ্রসর হতে শুরু করেছিল তখন সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলে ছোট ছোট যোদ্ধা দল সংগঠিত হতে থাকে। এরকম বেশ কয়েকটি দলের মধ্যে ইয়েকিনিয়ান পারাসতিনা জিন বা নারীদের সুরক্ষা ইউনিট (ওয়াইপিজে) একটি। এই সশস্ত্র সংগঠনটির সবাই নারী। সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে সংগঠিত নারীদের দলটি আইসিসের হাত থেকে স্থানীয়দের সুরক্ষা দিতে লড়ে যাচ্ছে। কুর্দিস পিপলস প্রোটেকশন ইউনিটের নারী শাখাটি অর্থাৎ উইমেন্স প্রোটেকশন ইউনিট গঠিত হয় ২০১২ সালে। বর্তমানে শাখাটিতে প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক নারী সেনা রয়েছে।

উইমেন্স প্রোটেকশন ইউনিটের ওই নারী যোদ্ধারা আইএসের কাছ থেকে কোবানি পুনর্দখলের লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। তাদের সাহসী ভূমিকা প্রশংসিত হচ্ছে।
কুর্দিস পিপলস প্রোটেকশন ইউনিটের এক নেতা জানান, এই দলে তাঁরাই যোগ দিচ্ছেন, যাঁরা মনে করেন নারীরা কেবল ঘরে থাকার জন্য জন্মাননি।

এদিকে এই তথ্যকে কাজে লাগিয়ে সিরিয়ার খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী নারীরা গড়ে তুলেছে ‘নারীদের সেনাদল’। আর প্রতিদিনই সেই বাহিনীতে যোগ দিচ্ছেন নারীরা। ইনডিপেনডেন্ট জানায়, এই নারী সেনাদল কুর্দিস পিপলস প্রোটেকশন ইউনিটের নারী শাখারই একটি অংশ। নতুন এই বাহিনীতে যোগ দেওয়া নারীরা সিরিয়ার উত্তর পূর্বাঞ্চলের আল-কাহতানিয়া শহরে জড়ো হচ্ছেন।

নারীদের ব্যাপারে আইএসের চরম নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও বর্বর আচরণ ইতিমধ্যে বিশ্ববাসীকে নাড়া দিয়েছে। নারীদের ব্যাপারে আইএসের কথিত শরিয়া, নারীর ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন‍-বর্বরতা বিশ্ববিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে। সবাই আইএসের নিন্দা করছে।

এমন প্রেক্ষাপটে আইএসের অধীনে গিয়ে ভয়াবহ পরিণতি বরণ করা এড়াতে জীবনের ঝুঁকি উপেক্ষা করে কুর্দিস নারীরা হাতে অস্ত্র নিয়েছে। তারা আইএসের বিরুদ্ধে বীরের মতো লড়ে যাচ্ছে।
‪#‎জাগরনীয়া‬

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “বলেছিলাম না নারীর হাতেই শুরু হবে মৌলবাদের পতন।

  1. জঙ্গিগোষ্ঠী ? জেহাদি ইসলামিক
    জঙ্গিগোষ্ঠী ? জেহাদি ইসলামিক স্টেট (আইএস) ভালো করেই জানে কিভাবে নিহত হলে বেহেশতে যেতে পারবে । তারা ভালো ভাবেই কোরআন , হাদিস জানে এবং কোরআন , হাদিস অনুযায়ীই সকল কাজ করে থাকে।
    কোরআন , হাদিসের কোথাও কি এমন কিছু আছে যদি তারা একজন নারী অথবা একজন কুর্দি নারীর হাতে নিহত হয়, তাহলে তারা বেহেশতে যেতে পারবে না ?
    বরং এ কথা আছে জেহাদ করে মারা গেলে তারা জান্নাতে যাবে এবং কমপক্ষে ৭২ জন হুরী পাবে , সেখানে জেহাদ করতে গিয়ে কার হাতে নিহত হল এটা গুরুত্বপূর্ণ নয় ।

  2. নারীদের হাতে নিহত হলে
    নারীদের হাতে নিহত হলে বেহেস্তে যাবে না , এটা সম্ভবত: সাম্প্রতিক আবিস্কৃত কোন হাদিস হবে। সেটাকে এভাবে বলা যায় ———————-

    নারীদের হাতে যে নিহত হবে , সে জাহান্নামে যাবে । ( আল হাদিস)

    কিন্তু কোন হাদিস কিতাব , বই বা হাদিস নম্বর কত সেটা বলা যাবে না। তাহলেই মুমিনেরা এটাই বিশ্বাস করবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

7 + 3 =