ইসলামী সমাজে অমুসলিমদের অধিকার

কে পারে আমার ১০০০ বছরের অসাম্প্রদায়িক বাংলাকে রুখতে?(ক্লাউন জাকির তো নয়ই)
সম্প্রতি এই ঘটনায় আমি মুগ্ধ,আমাদের ইসলামেও স্পষ্ট বলা আছে অমুসলিমদের অধিকার সম্পর্কে।এটা ফলো করেই শান্তি মানবতা ও অসাম্প্রদায়িকতা রক্ষা করা যায়।

পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনে শ্রীমঙ্গল শাহী ঈদগাহে ঈদের জামাতে নিরাপত্তার জন্য পুলিশের পাশাপাশি প্রায় ৪০ জন স্বেচ্ছাসেবক ছিলো। এদের অনেকেই ছিলো সনাতন (হিন্দু) ধর্মের অনুসারী ! এই স্বেচ্ছাসেবকরা ভোর চারটা থেকে ঈদের জামাত পর্যন্ত স্বেচ্ছা সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।যা দেশের ইতিহাসে সম্প্রিতির উজ্জল নমুনা।
শ্রীমঙ্গল এ এক অসাধারণ সুন্দর পরিবেশ ! মুসলিমরা নামাজ আদায় করলেন আর হিন্দু স্বেচ্ছাসেবক যুবকরা নিরাপত্তার জন্য দাড়িয়ে পাহারা দিলেন ! এর চেয়ে সুন্দর আর কী বা হতে পারে ধর্মিয় সম্প্রীতির !
উল্লেখ্য-শ্রীমঙ্গল শাহী ঈদগাহ কমিটির চেয়ারম্যান সাবেক চীপ হুইপ উপাধ্যক্ষ মোঃ আব্দুস শহীদ এমপির নেতৃত্বে ১০ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির একজন সমন্বয়ক ছিলেন ৩নং শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ভানু লাল রায়। তার নেতৃত্বে ১০ জন হিন্দু স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। দৃষ্টান্ত হিসেবে সারাদেশে যদি এভাবে একজনের উৎসবে আরেকজন সহযোগিতা করে তাহলে বাংলাদেশের মধ্যে কোনো হিংসা বিভেদ থাকবে না বলে মনে করছে সচেতন মহল।
(বলেছিলাম না নামাজ পড়ে এসে মন্দির পাহাড়া দেব,দেখি কোন শালা আটকায়)

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তা’য়ালার জন্য যিনি রব্বুল আলামীন। দুরুদ ও সালাম রসূলুল্লাহ্ সল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি যিনি রহমাতুল্লিল আলামীন, তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবায়ে কিরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এবং সালেহীন (র)-গণের প্রতি। আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নাই। আমরা আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (সল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বান্দাহ ও রসূল। নিশ্চয়ই ইহ-পরকালীন কল্যাণ কেবলমাত্র রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, খুলাফায়ে রাশিদীনে এবং সাহাবা (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-গণের অনুসৃত কল্যাণময় আদর্শ অনুসরণের মধ্যেই নিহিত রয়েছে।
ইসলামী সমাজ ব্যবস্থায় বৈষয়িক সম্পর্ক ইনসাফ ও সদাচারের ভিত্তিতে পরিচালিত। মুসলমানদের আভ্যান্তরীন সম্পর্কের ভিত্তি হল ঈমান। ঈমানের ভিত্তিতেই তাদের বন্ধুত্ব ও সার্বজনীন ভ্রাতৃত্ব কায়েম হবে। যাদের ঈমান নেই, এমন সব জাতির সাথে মুসলমানদের কোন আন্তরিক বন্ধুত্ব, ভাতৃত্ব বা আত্মীয়তা কায়েম হতে পারে না। তবে একই আদি পিতার হযরত আদম আলাইহিসসালাম-এর বংশধর হিসাবে তাদের সাথে ইনসাফের ভিত্তিতে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে এবং সদাচারের সর্বোত্তম প্রকাশের মাধ্যমে ঈমানের সৌন্দর্য্য তুলে ধরতে হবে।
এ প্রসংগে মহান আল্লাহ রব্বুল আ’লামীন বলেন : “হে মুমিনগণ! তোমরা আমার শত্রু ও তোমাদের শত্রু-কে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ কর না। তোমরা তাদের নিকট বন্ধুত্বের প্রস্তাব পাঠিয়েছো আর তারা তোমাদের নিকট যে সত্য এসেছে তা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার কারণে রাসূলকে ও তোমাদেরকে দেশ থেকে বহিষ্কার করেছে। যদি তোমরা আমার পথে জিহাদ করার জন্য এবং আমার সন্তুষ্টি লাভের লক্ষ্যে বের হয়ে থাক, তাহলে তাদের সাথে কেন গোপনে বন্ধুত্ব করতে চাচ্ছ? তোমরা যা গোপন কর এবং তোমরা যা প্রকাশ কর আমিই তা সবচেয়ে বেশি জানি। তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এমন করবে সে সঠিক-সরল পথ থেকে বিচ্যুত হবে। যদি তারা তোমাদেরকে বশীভূত করতে পারে, তাহলে তারা তোমাদের শত্রুই হয়ে যাবে। তারা তাদের হাত ও মুখ দিয়ে তোমাদের ক্ষতি করবে এবং কামনা করবে যে, তোমরাও কাফির হয়ে যাও। অথচ তোমাদের আত্মীয়-স্বজন, সন্তান-সন্ততি কিয়ামাতের দিন তোমাদের কোন কাজেই আসবে না। আল্লাহ তোমদের মধ্যে ফয়সালা করে দেবেন। তোমরা যা কর, আল্লাহ তা দেখেন। ইব্রাহীম ও তার অনুসারীদের মধ্যে তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ রয়েছে। যখন তারা তাদের জাতিকে বলেছিলেন: ‘তোমাদের সাথে এবং আল্লাহকে বাদ দিয়ে তোমরা যার উপাসনা কর তাদের সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই। আমরা তোমাদের সম্পর্ক অস্বীকার করি। যতক্ষণ না তোমরা এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আন ততক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের ও আমাদের মধ্যে চিরকালের শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি হয়ে গেল।’ তবে তার পিতার প্রতি ইব্রাহীমের কথা এ থেকে ভিন্ন ছিল। তিনি বলেছিলেন : ‘আমি অবশ্যই আপনার জন্য ক্ষমা চাইব, তবে আল্লাহর নিকট আপনার ব্যাপারে আমি কোন কিছু করার ক্ষমতা রাখি না।’ ইব্রাহীম ও তাঁর অনুসারীগণ বলেছিলেন: ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা আপনার উপরই নির্ভর করেছি, আপনার প্রতি অগ্রসর হয়েছি এবং ফিরে আসব আপনার কাছেই। হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদেরকে কাফিরদের জন্য পরীক্ষা পাত্র বানাবেন না। হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদেরকে ক্ষমা করুন। আপনি তো মহাপরাক্রমশালী, মহাপ্রজ্ঞাময়’। তোমরা যারা আল্লাহর সান্নিধ্য ও আখিরাতে সফলতা প্রত্যাশা কর নিশ্চয় তাদের জন্য ইব্রাহীম ও তার অনুসারীদের মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে। আর কেউ তাদের আদর্শ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলে সে জেনে রাখুক, নিশ্চয় আল্লাহ মহাধনী (অমুখাপেক্ষী), মহাপ্রশংসিত। যাদের সাথে তোমাদের শত্রুতা রয়েছে আল্লাহ হয়ত তাদের ও তোমাদের মধ্যে বন্ধুত্ব সৃষ্টি করে দেবেন। আল্লাহ সর্বশক্তিমান, আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, অসীম করুণাময়। দ্বীন-এর ব্যাপারে যারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে নি এবং তোমাদেরকে দেশ থেকে বেরও করে দেয় নি তাদের সাথে সদাচার ও সুবিচার করতে আল্লাহ তোমাদেরকে নিষেধ করেননি। নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবিচারকারীদের ভালবাসেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের সাথে বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করেন যারা দ্বীন-এর ব্যাপারে তোমাদের সাথে যুদ্ধ করেছে, তোমাদেরকে দেশ থেকে বের করে দিয়েছে এবং তোমাদেরকে বের করে দেয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছে। যারা তাদের সাথে বন্ধু করে তারাই সীমালংঘনকারী।” -(সূরা মুমতাহিনাঃ আয়াত ১-৯)
জান-মালের নিরাপত্তা ও আশ্রয় পাওয়ার অধিকারঃ মহান আল্লাহ্‌ তায়ালা বলেন : “যদি কোনো মুশরিক তোমার আশ্রয় চায় তাহলে তাকে আশ্রয় দাও, যেন সে আল্লাহর কালাম শুনতে পায়। অতঃপর তাকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দাও। এটা এ জন্য যে, তারা এমন জাতি, যারা অজ্ঞ।” – (সূরা তাওবাহঃ আয়াত ৬)
একজন মুসলিম কর্তৃক নিরাপত্তা প্রাপ্ত কোনো অমুসলিমকে কেউ হত্যা করতে পারবে নাঃ হযরত আবদুল্লাহ ইবন উমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : “যে মুসলিম কর্তৃক নিরাপত্তা প্রাপ্ত কোনো অমুসলিমকে হত্যা করবে, সে জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না। অথচ তার ঘ্রাণ পাওয়া যায় চল্লিশ বছরের পথের দূরত্ব থেকে।” – [ সহীহ বুখারী : হাদীস নং ৩১৬৬]
চুক্তিবদ্ধ কোন অমুসলিমকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা যাবে নাঃ হযরত আবী বাকরা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : “যে ব্যক্তি চুক্তিতে থাকা কোনো অমুসলিমকে অসময়ে (অন্যায়ভাবে) হত্যা করবে আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দেবেন।” – [আবূ দাঊদঃ হাদীস নং ২৭৬০; নাসাঈঃ হাদীস নং ৪৭৪৭, সহীহ]
জিযিয়ার বিনিময়ে নাগরিকত্ব ও ধর্মীয় নিরাপত্তা লাভের অধিকারঃ আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ নুফায়লী (র.) সুত্রে হযরত মু’আয রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন হযরত মু’আয রাদিআল্লাহু আনহু -কে ইয়ামনে প্রেরণ করেন, তখন তাঁকে এরূপ নির্দেশ দেন যে, প্রত্যেক অমুসলিম প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির নিকট হতে (বার্ষিক) এক দীনার অথবা এক দীনার মূল্যের মু’আফিরী নামক কাপড়, যা ইয়ামনে উৎপন্ন হয় জিযিয়া হিসাবে গ্রহণ করবে।” – [মুয়াত্তা –ইমাম মালিক ও বুলুগূল মারামঃ হাদীস নং ১৩২২]
ইমাম মালিক (রঃ) বলেন প্রচলিত সুন্নত হল, অমুসলিম ও আহলে কিতাব নারী ও শিশুদের ওপর জিয্য়া ধার্য হবে না। যুবকদের নিকট হতেই কেবল জিযিয়া আদায় করা হবে। কারণ স্বীয় অঞ্চলে বসবাস করা এবং শত্রু হতে রক্ষা করার ভিত্তিতেই তাদের উপর জিয্য়া ধার্য করা হয়েছিল। অমুসলিমদের পশুপাল, ফল এবং কৃষিক্ষেত্রে কোনরূপ যাকাত ধার্য করা যাবে না। এমনিভাবে অমুসলিমদেরকে তাদের পৈতৃক ধর্মে প্রতিষ্ঠিত থাকতে দেয়া হবে এবং তাদের ধর্মীয় বিষয়ে কোনরূপ হস্তক্ষেপ করা যাবে না।
অমুসলিম উপাস্যদেরকে গালি দেয়া যাবে নাঃ মহান আল্লাহ রব্বুল আ’লামীন বলেন : “ তারা আল্লাহ তা‘আলার বদলে যাদের ডাকে, তাদের তোমরা কখনো গালি দিয়ো না, নইলে তারাও শত্রুতার কারণে না জেনে আল্লাহ তা‘আলাকেও গালি দেবে, আমি প্রত্যেক জাতির কাছেই তাদের কার্যকলাপ সুশোভনীয় করে রেখেছি, অতঃপর সবাইকে একদিন তার মালিকের কাছে ফিরে যেতে হবে, তারপর তিনি তাদের বলে দেবেন, তারা দুনিয়ার জীবনে কে কী কাজ করে এসেছে।’’ – {সূরা আল আন‘আমঃ আয়াত ১০৮}
পরিবার গঠনে ধর্মীয় স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখার অধিকারঃ মহান আল্লাহ তা’য়ালা বলেন : “মুমিন না হওয়া পর্যন্ত কোন মুশরিক নারীকে বিয়ে কর না, যদিও সে তোমাদেরকে মুগ্ধ করে; মুশরিক নারীর চেয়ে মুমিন দাসীরা উত্তম। আর তোমরা মুশরিক পুরুষকে বিয়ে কর না যতণ না তারা ঈমান আনে, যদিও সে তোমাদেরকে মুগ্ধ করে; মুমিন দাস তাদের চেয়ে উত্তম। মুশরিক নারী ও পুরুষ তোমাদেরকে জাহান্নামের দিকে ডাকে আর আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তোমাদেরকে জান্নাত ও মার প্রতি আহ্বান করেন। তিনি মানুষের জন্য তাঁর বিধানসমূহ সুস্পষ্ট ভাবে বর্ণনা করেন, যেন তারা তা স্মরণ রাখে ও মেনে চলে।” – (সূরা বাকারাহঃ আয়াত ২২১)
অমুসলিমদের ধর্মীয় ও জাতীয় কৃষ্টি-কালচারের স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখার অধিকারঃ হযরত আবু উমামা বাহেলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের কৃষ্টি-কালচারের অনুকরণ করবে, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য হবে এবং যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়কে মহব্বত করবে, তাদের সাথে তার হাশর হবে।” – (আবু দাউদঃ হাদীস নং ৩৫১৪)
একই বিষয়েঃ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের সাথে সামঞ্জস্য বা মিল রাখে, সে তাদেরই দলভুক্ত এবং তার হাশর-নশর তাদের সাথেই হবে।” – (মুসনাদে আহমদ)
দাওয়াতে দ্বীনের ক্ষেত্রে অমুসলিমদের উপর কোন চাপ প্রয়োগ করা যাবে নাঃ মহান আল্লাহ রব্বুল আ’লামীন বলেন: “ দ্বীনের ব্যাপারে কোন জোর-জবরদস্তি নেই। মিথ্যা পথ হতে সত্য পথ আলাদা হয়ে গেছে। কাজেই যে আল্লাহ বিরোধী শক্তিকে অস্বীকার করেছে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছে সে এমন এক মজবুত হাতল ধারণ করেছে যা কখনো ভাঙবে না। আর আল্লাহ সব কিছু শোনেন, সবকিছু জানেন।” – (সূরা বাকারাহ : আয়াত ২৫৬)
দাওয়াতে দ্বীনের ক্ষেত্রে অমুসলিমদের সাথে উত্তম ভাষনঃ মহান আল্লাহ রব্বুল আ’লামীন বলেন : “আপনি মানুষকে আপনার প্রতিপালকের পথে আহ্বান করুন প্রজ্ঞা ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে এবং তাদের সাথে কথা বলুন সবচেয়ে সুন্দরভাবে। নিশ্চয়ই আপনার রব ভাল জানেন কে তার পথ ছেড়ে বিপথগামী হয় এবং তিনি তাদের সম্পর্কেও ভাল জানেন যারা সঠিক পথে পরিচালিত।” – (সূরা নহল : আয়াত ১২৫)
দাওয়াতে দ্বীনের ক্ষেত্রে অমুসলিমদের আচরণে দুঃখিত না হওয়াঃ মহান আল্লাহ রব্বুল আ’লামীন বলেন : “ (হে রাসূল!) আল্লাহর এই উদাত্ত আহ্বান ও আপনার দাওয়াতের পরও তারা (কাফির-মুশরিকরা) যদি তা গ্রহণ না করে বরং মুখ ফিরিয়ে চলে যায় তাহলে আপনার দুঃখিত হওয়ার কোন কারণ নেই। কেননা আমি তো আপনাকে তাদের রক্ষক করে প্রেরণ করিনি। আপনার কাজ হল কেবল তাদের নিকট আল্লাহর বাণী পৌঁছে দেয়া। আমি মানুষকে যখন নি’আমত দান করি, তখন সে আনন্দিত হয় আর যখন তাদের মন্দ কাজের পরিণাম হিসেবে তাদের বিভিন্ন বিপদ-আপদ ঘটে তখন তারা অকৃতজ্ঞ হয়ে যায়।” – (সূরা শুরা : আয়াত ৪৮)
সর্বাবস্থায় অমুসলিমদের সাথে ইনসাফপূর্ণ উত্তম আচরণঃ মহান আল্লাহ রব্বুল আ’লামীন বলেন : “তারচেয়ে উত্তম কথা আর কার যে ব্যক্তি মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকে, সৎকাজ করে এবং বলে নিশ্চয়ই আমি একজন মুসলিম। ভাল ও মন্দ সমান হতে পারে না। মন্দকে ভাল দিয়ে প্রতিহত কর। তাহলে যে তোমার শত্রু সে তোমার অন্তরঙ্গ বন্ধু হয়ে যাবে। এ জাতীয় চরিত্রের অধিকারী কেবল সে সকল লোকদেরকে করা হয় যারা ধৈর্যশীল। এ গুণের অধিকারী কেবল তারা যারা মহাসৌভাগ্যের অধিকারী।” -(সূরা হা-মীম সিজদা : আয়াত ৩৩-৩৫)
অমুসলিমদের সাথে তাওহীদ ভিত্তিক ঐক্যের আহ্বানঃ মহান আল্লাহ রব্বুল আ’লামীন বলেন : “ (হে রাসূল!) আপনি বলুন, হে আহলি কিতাব! এস আমরা এমন একটি কথায় ঐক্যবদ্ধ হই, যে কথাটি তোমাদের এবং আমাদের মধ্যে অভিন্ন। সে কথাটি হল- আমরা যেন আল্লাহ ছাড়া আর কারো ইবাদাত না করি, তাঁর সাথে যেন কাউকে শরীক না করি এবং আমাদের কেউ যেন তাঁকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে প্রতিপালক হিসেবে গ্রহণ না করি। এ কথার পরও যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাহলে বলুন : তোমরা সাক্ষী থাকো যে, আমরা অবশ্যই মুসলিম (আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণকারী)।” -(সূরা আলে ইমরান : আয়াত ৬৪)
সর্বাবস্থায় সমাজের অমুসলিমদের সাথে আচরণে নম্রতা অবলম্বনঃ হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “একবার একদল ইয়াহূদী নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম-এর নিকট এসে বললঃ আস্-সামু ‘আলাইকুম! (তোমার মরণ হোক) । ‘আয়িশাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বললেনঃ তোমাদের উপরই এবং তোমাদের উপর আল্লাহর লা’নত ও গযব পড়ুক। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম বললেনঃ হে ‘আয়িশাহ! একটু থামো । নম্রতা অবলম্বন করা তোমাদের কর্তব্য। রূঢ়তা ও অশালীনতা বর্জন করো। ‘আয়িশাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বললেনঃ তারা যা বলেছে তা কি আপনি শোনেননি ? তিনি বললেনঃ আমি যা বললাম, তুমি কি তা শোননি? কথাটি তাদের উপরই ফিরিয়ে দিয়েছি। সুতরাং তাদের ব্যাপারে (আল্লাহর কাছে) আমার কথাই কবুল হবে আর আমার সম্পর্কে তাদের কথা কবুল হবে না।” – [সহিহ বুখারীঃ হাদীস নং ৬০৩০]
অমুসলিমদের সাথে উত্তম মানবিক ব্যবহারঃ হযরত আব্দুল্লাহ ইবন আবদস ওহহাব (রহঃ) সুত্রে হযরত আনাস ইবন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। একদা এক বেদুঈন মসজিদে পেশাব করলো। লোকেরা উঠে (তাকে মারার জন্য) তার দিকে গেল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তার পেশাব করা বন্ধ করো না। তারপর তিনি এক বালতি পানি আনালেন এবং পানি পেশাবের উপর ঢেলে দেয়া হলো। -[সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আচার ব্যবহার, হাদিস নং ৫৬০০]
জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সমস্ত মানুষের প্রতি দয়া প্রদর্শনঃ হযরত জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি দয়া প্রদর্শন করে না আল্লাহও তার প্রতি রহম করেন না।” -{তিরমিযিঃ ১৯২৮, সহীহ বুখারীঃ ৭৩৭৬, মুসনাদ আহমাদঃ ১৮৭৭৫, সহীহ মুসলিমঃ ৪২৯০, সহীহ ইবনে হিব্বানঃ ৪৬৫,শরহুস সুন্নাহঃ ৩৪৪৯}
বিবাদরতদের মাঝে সমঝোতা ও শান্তি স্থাপনঃ হযরত আবু দারদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন- ‘আমি কি তোমাদেরকে সিয়াম, সালাত ও সদকার মর্তবা থেকেও শ্রেষ্ঠ বিষয় সম্পর্কে বলব না?’ সবাই আরজ করলেন, ‘আল্লাহর রাসূল! অবশ্যই বলুন।’ তিনি বললেন, ‘বিবাদরতদের মাঝে শান্তি স্থাপন করা। আর জেনে রেখো, পরস্পর কলহ-বিবাদই তো মানুষকে মুড়িয়ে দেয়।’ – (মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ২৭৫০৮; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ৪৯১৯; জামে তিরমিযী, হাদীস : ২৫০৯)
অন্যায়ভাবে কারও কোন প্রকার ক্ষতি সাধন না করাঃ হযরত উবাদাহ বিন সামিত রাদিয়াল্লাহু আনহু ও আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তাঁরা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ “তুমি কারোর কোনো ধরনের ক্ষতি করো না। তেমনিভাবে তোমরা পরস্পর একে অপরের ক্ষতি করার প্রতিযোগিতা করো না’’ – [ইবন মাযাহঃ হাদীস নং ২৩৬৯, ২৩৭০]
হযরত আবু সিরমাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ “যে ব্যাক্তি অন্যের ক্ষতি করতে চায়, আল্লাহ্‌ তায়ালা তার ক্ষতি করেন। তেমনি ভাবে যে ব্যাক্তি অন্যের উপর কঠিন হয় আল্লাহ্‌ তায়ালাও তার উপর কঠিন হন’’ – [ইবন মাযাহঃ হাদীস নং ২৩৭১]
শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানরত অমুসলিমদের সাথে সদাচারঃ মহান আল্লাহ রব্বুল আ’লামীন বলেন : “ দ্বীন-এর ব্যাপারে যারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে নি এবং তোমাদেরকে দেশ থেকে বেরও করে দেয় নি তাদের সাথে সদাচার ও সুবিচার করতে আল্লাহ তোমাদেরকে নিষেধ করেননি। নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবিচারকারীদের ভালবাসেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের সাথে বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করেন যারা দ্বীন-এর ব্যাপারে তোমাদের সাথে যুদ্ধ করেছে, তোমাদেরকে দেশ থেকে বের করে দিয়েছে এবং তোমাদেরকে বের করে দেয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছে। যারা তাদের সাথে বন্ধু করে তারাই সীমালংঘনকারী।” – (সূরা মুমতাহিনাঃ আয়াত ৯)
হযরত ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত মুয়ায (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে ইয়েমেনে পাঠানোর সময় বলেন : “মাজলুমের বদ-দোয়াকে ভয় কর, কেননা তার বদ-দোয়া ও আল্লাহর মাঝখানে কোন বাধা নেই।” – (তিরমিযী-১৯৬৩ : হাসান ও সহীহ্)
বিচারের দিনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বয়ং মাজলুম অমুসলিমদের পক্ষে দাঁড়াবেনঃ কোনো মুসলিম যদি কোনো অমুসলিমের প্রতি অন্যায় করেন, তবে রোজ কিয়ামতে খোদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বিপক্ষে লড়বেন। একাধিক সাহাবী থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘সাবধান! যদি কোনো মুসলিম কোনো অমুসলিম নাগরিকের ওপর নিপীড়ন চালিয়ে তার অধিকার খর্ব করে, তার ক্ষমতার বাইরে কষ্ট দেয় এবং তার কোনো বস্তু জোরপূর্বক নিয়ে যায়, তাহলে কিয়ামতের দিন আমি তার পক্ষে আল্লাহর দরবারে অভিযোগ উত্থাপন করব।’ – [আবূ দাঊদ : হাদীস নং ৩০৫২]
আল্লাহ তা’য়ালা আমাদের সবাইকে তাঁর দ্বীনের খেদমতের জন্য কবুল করুন! রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাহাবা (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-গনের আদর্শের উপর সর্বদা কায়েম রাখুন! তাঁদের বরকতময় জামাআতের সংগে আমাদের হাশর করুন! আ-মী-ন।

তথ্য-আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডট.কম ও
ডাঃ গাজী মুহাম্মাদ নজরুল ইসলাম

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “ইসলামী সমাজে অমুসলিমদের অধিকার

  1. প্যারাগ্রাফ ছাড়া এই লেখা
    প্যারাগ্রাফ ছাড়া এই লেখা কিভাবে সুখপাঠ্য হবে? লেখা একটু যত্ন না নিলে সেই লেখা পাঠক পড়বে না।

  2. সুন্দর পোস্ট । কিন্তু আরো
    সুন্দর পোস্ট । কিন্তু আরো ভালভাবে যত্ন সহকারে প্যরার আকারে পোস্ট দিতে হবে। এবং পোস্ট একটু ছোট হলে ভাল হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 2 = 1