কেন আমাদের নতুন চাকুরিজীবী’রা দূর্নীতিতে জড়িয়ে যাচ্ছে ?

কেন আমাদের নতুন চাকুরিজীবী’রা দূরনীতিতে জড়িয়ে যাচ্ছে ??

চাকুরি নামের সোনার হরিণ টি এক সময় বেকারদের পিছনে ঘুরতো, আর একবিংশ শাতাব্দিতে সেই সোনার হরিণটির পিছু ছুটছে হাজার হাজার বেকার যুবক থেকে শুরু করে বৃদ্ধা ব্যাক্তিও। আমাদের কিছু অবসর প্রাপ্ত মুরুব্বিদের কাছে শুনেছি” এক সময় নাকি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সহ অনেক সরকারি চাকুরি তে জনবল নেওয়ার জন্য তাদের কে একপ্রকার জোর করে চাকুরিতে নেওয়া হতো। তারা গ্রামের সহজ সরল মানুষ ছিল তাই পরিবারের মোহ ত্যাগ করে থাকতে পারতো না। কিন্তু যখন সেই চাকুরি সোনার হরিণ হয়ে গেল তখন তারা ব্যর্থ আফসোস করতে লাগল ।

আর আজকাল এর বিপরিত চিত্র দেখা যায়,মানুষ চাকুরি নামের সোনার হরিণ টা ধরার জন্য মানুষ কতই না কি করে। মানুষ বৃদ্ধি হয়েছে চাকুরিও বেড়েছে শিক্ষারহার ও বেড়েছে ,তবে প্রশ্ন এখানে প্রতিদিন শত শত পদ বৃদ্ধি পাচ্ছে এর পরও বেকারত্ব বেড়ে যাচ্ছে কেন? আর যারাই বা কিছু চাকুরি পাচ্ছে তারাই বা কেন দূরনীতিগ্রস্থ অপরাধী হয়ে উঠছে?

আমার অভিমত” ধরুন আপনি নতুন একটা চাকুরি নিলেন,আর আপনার মাসিক বেতন বিশ হাজার টাকা। চাকুরির বয়স ষাট বছর আর আপনার চাকুরি শুরুর বয়স পঁচিশ বছর, তাহলে মোট চাকুরির বয়স হবে ৩৫ বছর বা ৪২০মাস, তখন আপনার চাকুরি জীবনের র্পূণ বেতন হবে ৮৪,০০০০০(চুরাশি লক্ষ) টাকা ,আর এ বেতনে চাকুরিটা নিতে আপনাকে ঘুষ দিতে হয়েছে ৫ লক্ষ টাকা । তার মানে প্রতি বছরে আপনার দওয়া টাকা থেকে ১,৬৮০০ (এক লক্ষ আটষট্টি হাজার) টাকা আর প্রতি মাসে ১৪,০০০ (চৌদ্দ হাজার) টাকা চলে যাচ্ছে, তা হলে আপনি প্রতি মাসে বেতন পাচ্ছেন মাত্র ৬,০০০ (ছয় হাজার) টাকা।
আজব! এই ছয় হাজার টাকা কি আপনার চা-নাস্তার খরচে ও চলবেনা।

আর হয়তো আপনি যে ৫,০০০০০ পাঁচ লক্ষ টাকা ঘুষ দিয়েছেন তা হয়তো র্কজ বা বন্ধু থেকে ধার করা,ঐ টাকা তো আপনাকে যে করে হউক না কেন দিতে হবে ।
তা হলে আপনি কি করবেন? নিশ্চয় অসৎ উপায় অবলম্বন করবেন । তার মানে আপনি ঘুষ ও দূরনীতি তে পা বাড়াবেন।
এখন একবার ভাবুন দূরনীতির উৎস কি? কার কারনে নতুন চাকুরিজীবী’রা দূরনীতিতে পা পাড়াচ্ছে? বুঝতে তো পারছেন , সেটা তো আর চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখানো লাগবেনা।

একানব্বই তে তো আমার জম্মও হয়নি,আর যখন ২০০৬-২০০৭ এ সামরিক শাসন জারি হয় তখন তো অতটা জানতাম না বুঝতামও না তবে শুনেছি তখন যারা চাকুরির জন্য আবেদন করতো তার মধ্যে গরীব মেধাবীরা চাকুরি পেয়ে যেতেন তার কারন হলো একটাই তখন প্রশাসনিক আমলারা ঘুষ নিতে পারতো না এবং কারো সুপারিশে ও কাজ হত না । এ গুলো শুনে ভালই লাগে । তবে প্রশংসনীয় কাজে প্রশংসা তো করতেই হবে সে যতই খারাপ হোকনা কেন।

সত্যি বলতে কি সরকার কি জানেনা তাদের আমলারা এ ধারনের দূরনীতি করে?
তাদের দলীয় লোক দূরনীতি করে? অবশ্যয় জানে, জেনেও না জানার ভানদরে রয়েছে (বাংলাদেশের রাজনীতি তে যে সরকার রাষ্ট্রিয় ক্ষমতায় থাক),তা হলে কি করে সরকার দেশের উন্নতি করবে ? তাইতো সরকারে অবস্থা প্রজ্জলিত মোমের মত,তাতে যতই দেওয়া হোকনা কেন তা গলেই যাবে। উন্নতি কথাটা থাকবে আর কাজটা দরাছোয়ার বাহিরে থকবে । এ হলো বাঙ্গালির অবস্থা। দেশের কথা কখনো ভাবেনা শুদু নিজের উন্নতির কথা ভাবে। দেশের-ই যদি উন্নতি না হয় তো নজিরের উন্নতি দিয়ে কি করবে?
এ কথাকি তাদের মাথায় ধরেনা? ধরবে তখনি যখন অবস্থা চরম পর্যায়ে পৌছবে
নিজে সচেতন হয় এবং অন্যকে সচেতন করি।

আমি জানিনা আমার এ লিখা কত দূর পর্যান্ত যাবে যদি কখনো সরকার বা তাদের বিশ্বাস্ত প্রতিনিধির চোখে পড়ে তা হলে তাদের কাছে একটা কথাই বলব’দেশের উন্নতি এবং দেশকে সোনার দেশ হিসাবে গড়তে হলে সরকারী আমলাদের দূরনীতি বন্ধ করতে হবে এবং দৃর প্রদেক্ষেপ নিতে হবে। সরকারে সুনামের জন্য দলীয় প্রতিনিধিরা ও দূরনীতি থেকে মুক্ত এবং দূরনীতিকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে
( আমার লেখায় কোন ভুল হলে ক্ষমা করবেন)

মোঃ মহি উদ্দীন (মুন্না সন্দ্বীপী)
চট্টগ্রাম সরকারী সিটি কলেজ,চট্টগ্রাম

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 2 = 6