♦ The Clearance Of “Y -Chromosome Adam & Mitochondrial Eve’s” epic ♦

তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে যে, মানুষসহ পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণই “আদি প্রাণ” থেকে বিবর্তিত হয়ে আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে। আর সে “আদি প্রাণের” উদ্ভব হয়েছিল আজ থেকে প্রায় সাড়ে তিন শত কোটি বছর আগে। যে প্রাণটিকে বিজ্ঞান Last Universal Common Ancestor (LUCA) আখ্যা দেয়। সে কোনো ব্যক্তি ছিল না। তার কোনো সঙ্গিনী ছিল না। সে ছিল অত্যন্ত সাধারণ “এক কোষী” প্রাণ। তার উদ্ভব হয়েছিল “পানিতে”। কোনো “উদ্যানে” নয়।

আর কোনো নির্দিষ্ট প্রজাতির Most Recent Common Ancestor (MRCA) বলতে বোঝানো হয়, সেই প্রজাতির (species) নিকটতম অতীতের সাধারণ পূর্বপুরুষটিকে, যারা দুই বা ততোধিক প্রজাতির নিকটতম সাধারণ পূর্ব-পুরুষ Last Common Ancestor (LCA) থেকে দুটি আলাদা প্রজাতিতে বিবর্তিত। উদাহরণ, মানুষ ও শিম্পাঞ্জি তাদের সাধারণ পূর্ব পুরুষ (LCA) থেকে আনুমানিক ৬০-৭০ লক্ষ বছর আগে বিচ্ছিন্ন (mutation) হয়ে দুটি আলাদা প্রজাতিতে বিবর্তিত হয়েছে। মানুষের DNA ও শিম্পাঞ্জির DNA-এর হুবহু মিল ৯৮.৪ শতাংশ। একজন মানুষের DNA-এর সাথে অনাত্মীয় অন্য একজন মানুষের DNA-এর হুবহু মিল শতকরা ৯৯.৬ শতাংশ। হুবহু যমজ (Mono zygotic twin) ভাই কিংবা বোনের DNA-এর হুবহু মিল একশত ভাগ। একজন মানুষের DNA-এর সাথে ইঁদুরের DNA-এর হুবহু মিল ৮৫ শতাংশ, কলাগাছের DNA-এর সাথে ৫০ শতাংশেরও বেশী। অর্থাৎ, একটি জীবনের সাথে আরেকটি জীবনের বংশানুগতিক (Genetic) মিল যত কাছের, তাদের পারস্পরিক DNA-এর হুবহু মিল তত বেশী। শিম্পাঞ্জী মানুষের (Human species) নিকটতম আত্মীয় (মাত্র এক শতাংশ DNA পার্থক্য), ইঁদুর একটু দূরের, কলাগাছ আরও দুরের। পৃথিবীর প্রতিটি “প্রাণ (life)” একই উৎস (LUCA) থেকে বিবর্তিত। আমরা সবাই একে অপরের আত্মীয়।

অনেক ইমানদার পাবলিক ও ধর্মপণ্ডিত মাঝে মাঝে Y-chromosome Adam (Y-MRCA) এবং MitochondrialEve-কে বাইবেল-কুরানের আদম-হাওয়ার উপাখ্যানের সাথে জুড়ে দিয়ে “অপবিজ্ঞান” প্রচার করার চেষ্টা করে। বিজ্ঞানীরা Y-chromosomal Adam এবং Mitochondrial Eve (matrilineal-MRCA) বলতে কুরান/বাইবেলের আদম-হাওয়া কে বোঝান না। তাদের নাম অনুসারে এদের নামকরণ করা হয়েছে মাত্র। Y-MRCA Adam বলতে “একটি মাত্র” মানুষ বোঝানো হয় না। তারা হলেন বর্তমান মানুষ প্রজাতির” পুরুষ (Male Ape like Human), যারা অতীতের “মানুষ এবং শিম্পাঞ্জি প্রজাতির” সাধারণ পূর্ব-পুরুষ থেকে আলাদা (mutation) হয়ে প্রথম “মানুষ-প্রজাতির” পুরুষের বৈশিষ্ট্যে (male) বিবর্তিত হয়েছে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 4 = 4