একটি মাকড়সা ও একটি মাছির গল্প

রাত ১ টা ১০, কেবল বাসায় ফিরেছি সাভার থেকে… চোখে কেবল অন্ধকার দেখি, কানে শুধু সেই গগণবিদারী চিৎকার আর নাকে বোটকা লাশের গন্ধ। এভাবেও কি বেঁচে থাকা সম্ভব?? তবুও এখনো অনেক মানুষ ওখানে এভাবেই নরক যন্ত্রণায় বেঁচে আছে।

কোন মতে মুখ হাত ধুয়ে বসলাম ফেসবুকে, কিছু আপডেট দিতে হবে। যা যা প্রয়োজন কিংবা প্রয়োজন নেই তা অন্তত যারা সাহায্য পাঠাচ্ছে তাদের জানানো দরকার…

হঠাৎ মাথার উপর ফর ফর শব্দ। ঠাউরে উঠতে পারলাম না কি বিষয়। শব্দ টা বাড়ছে, উপরে তাকালাম… দেখি একটা মাকড়সা একটা মাছি কে আটকাচ্ছে তার জাল দিয়ে। মাছি টা প্রাণপন চেষ্টা করছে এই মরণ জাল থেকে বের হয়ে আসার জন্য, কিন্তু মাকড়সাটা প্রায় ১০-১৫ মিনিট ধরে মাছি টাকে তার জালে জড়িয়ে ফেললো। পাখার ফর ফর শব্দ আস্তে আস্তে থেমে আসে…

পুরো ঘটনা টি দেখলাম, ঠিক নীরব আত্মসমর্পণ বলা যায় না। কিন্তু যুদ্ধটা বড়ই অসম। এই মাকড়সা রূপী সোহেল রানার মৃত্যুফাঁদে জড়িয়েই বাতাসে এখনো টাটকা লাশের গন্ধ… কি দোষ ছিল ওদের?? কি করেছিল? সামান্য গার্মেন্টস কর্মী দেখে কি ওরা মানুষের পর্যায়ে পড়ে না??!! এই মৃত্যুফাঁদে এখনো কত জন আটকা পড়ে আছে কেউ বলতে পারবে না!!

মাকড়সা রূপী রানারা পালিয়ে বেঁচে যায়, পরিবেশের দায়ে। কিন্তু এটা মেনে নেওয়া যায় না…

হাতের কাছে টেবিলের চাবি ছিল। সেটা ছুঁড়ে মারলাম মাকড়সাটাকে লক্ষ করে। দেখলাম, মাকড়সাটার মাথা দেয়ালের সাথে লেপ্টে রইলো। আর মাছি টা জাল থেকে আলগা হয়ে নিচে পড়লো…

মাছিটাকে হাতে নিলাম। চোখের দিকে তাকিয়ে অনুভব করলাম- মনে হয় কোন এক মৃত মানুষের চোখ জোড়া আমার দিকে তাকিয়ে…

মাকড়সাটা তো মরলো, সোহেল রানা কি বাঁচবে?? অন্তত এত গুলো মানুষ হত্যার দায়ে এই রক্ত চোষকের বেঁচে থাকার কোন অধিকার আমি দেখি না!!!

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৮ thoughts on “একটি মাকড়সা ও একটি মাছির গল্প

    1. গ্রেফতার হলেই ইস্যুটা শেষ হয়ে
      গ্রেফতার হলেই ইস্যুটা শেষ হয়ে যায় না!! ইমারত আইনের অধীনে সে গ্রেফতার হয়েছে, যার বিচার মাত্র ৭ বছর এর জেল। ৪০০ এরও বেশি প্রাণ নেওয়া নরপশুর শাস্তি এই সামান্য কটা দিনের জেল??? হাস্যকর!

      উদ্ধার কাজ টা শেষ হোক, আবার রাস্তায় নামতে হবে। সরকারি আর বিরোধী চুতিয়ারা এইটা নিয়ে আবার ইস্যু বানাবে- এটা নিশ্চিত। রানার মৃত্যু চাওয়ার দাবীর সাথে এই চুতিয়াগুলারও পাছায় আগুন দেওয়ার কাজে নামতে হবে..

  1. তার ফাঁসি চাইলে তো আবার আইন
    তার ফাঁসি চাইলে তো আবার আইন সংশোধন করতে হবে ! তা না হলে বর্তমান আইনে তার সাজা সর্বোচ্চ ২-৬ বছর ! তাহলে ফাঁসি চেয়ে লাভ কি? আমি শুধু রানা’র ফাঁসি চাই না ! তার আগে যেসব কুলাঙ্গার তার বিল্ডিং তৈরীতে সহযোগিতা করেছে যেমন, বিল্ডিং এর নক্সা অনুমোদনকারি কর্তৃপক্ষ, কনসালটেন্ট, সাইড ইঞ্জিনিয়ার, মিস্ত্রী, তাদেরও ফাঁসি চাই….

    1. আপাতত সবার প্রার্থণা হোক
      আপাতত সবার প্রার্থণা হোক একটাই, যারা আহত অবস্থায় পড়ে আছেন, তারা যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন।

      আর নিজেকে শক্ত করুন, আরো কঠিন ভাবে আমাদের এই নষ্ট রাজনীতির বিরুদ্ধে লড়তে হবে। ফাঁসির দাবীতে মাঠে থাকতে হবে।

  2. হুম যুদ্ধ অপরাধীর মত এই
    হুম যুদ্ধ অপরাধীর মত এই জানোয়ার এর ফাসির দাবি জানানোর সময় এসেছে :ক্ষেপছি: :ক্ষেপছি: :জলদিকর: :জলদিকর:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 3 = 1