পিস টিভি বা জাকির নায়েক কে কতটা নিষিদ্ধ করা যাবে? মসজিদে, ওয়াজ মাহফিলে উস্কানীমুলক বয়ান বন্ধ করা যাবে কি?

পিস টিভি বন্ধ করা নিয়ে দেশ মাতোয়ারা। এইদেশে জাকির নায়েকের ভক্তও কম না। ফেসবুক ফ্যানপেজ তো আর সরকারের বন্ধ করবার সামর্থ্য নাই, ইউটিউব লিঙ্কও থাকবেই। কে আটকাবে ওইসব? ভালোই হইলো, যারা জাকির নায়েকের কথা আগে শুনেন নাই, তারাও শুনবেন এবার।

আমি বেশ অনেকবারই জাকির নায়েকের কথা শুনেছি। এত দ্রুত কথা বলেন উনি যে তার কথা ফলো করা আর ঠিকভাবে বোঝা কষ্টকর যে কি বললেন। অনেক ক্ষেত্রেই উনার বক্তব্য আমার যুক্তিযুক্ত মনে হয়নাই বা যে প্রশ্ন ছিল, উত্তরকে তার প্রেক্ষিতে অপ্রাসংগিক বলে মনে হয়েছে। হতেই পারে এমন, দুনিয়ার কেউ তো আর সর্বজান্তা নন। ১০ টা কথা বললে ৫টাতেও ঘাপলা থাকতে পারে। ইচ্ছাকৃত ভুল হলেই সেটা অপরাধ হবে বা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। তিনি কি তা করেন?

অবশ্যই করেন। একজন মানুষ, যিনি কিনা নিজেকে উচ্চশিক্ষিত বলে দাবীও করবেন, উনি বিজ্ঞান কিংবা নিজে যা বলছেন সেসব সম্পর্কে একটূ ভালোভাবে জেনে আসবেন না? গড়োগড় করে বলে গেলেই কিছু সত্য হয় না। কিছু আয়াত বা রেফারেন্স ঠাস্টহাস মেরে দেয়াই সেটা যে সঠিক, তার মানদন্ড নয়। কারণ, যারা শুনছে, তারা ইতিমধ্যে বিশ্বাসী আর দ্রুত বলে যাবার কারণে মাথায় রাখা সম্ভব না, সেই মুহুর্তে যাচাইও করা সম্ভব হয়না। আর যাআ মাহফিলে উপস্থিত থাকেন, তারা সরল বিশ্বাসে তা সঠিক মনে করেন। ভাবতে থাকেন যে, “আরে, এই মানুষটার তো সব ঝাড়া মুখস্ত, সবই জানেন। উনি কি মিথ্যা বলবেন? উনি অবশ্যই সঠিক।”

দুঃখিত বন্ধুগণ, উনি সত্যের সাথে সামান্য মিথ্যা কিংবা সত্যের ভিন্ন উপস্থাপন বা ম্যানুপুলেশন অফ ট্রুথের মাধ্যমে নিজে যা বিশ্বাস করেন বা গেলাতে চান, তাই ডেলিভার করেন। নানা ব্যাপারে উনার ভাসা ভাসা জ্ঞান আর কারচুপি তথ্য দিয়ে যা বোঝাতে চান, তা হাস্যকর প্রমান করা বহু লেখাই অনয়াইনে একটা সার্চে পেয়ে যাবেন। আমি আসি উনি কি সত্যিই উস্কানী দিতেন নাকি সেটা নিয়ে আলোচনায়।

জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ হচ্ছে উস্কানী দেবার। এই ব্যাপারে আমার বক্তব্য আছে। আমি নিজের বিবেচনায় মনে করি পাড়া মহল্লার যেকোনো মওলানা যে পরিমাণ উস্কানী দেন, উনি সেই হিসেবে আসলে কিছুই বলেন নাই। তবে উনি উস্কানীই দেন। আর যেহেতু তার বক্তব্যের প্রচারণা ব্যাপক, তার প্রতিক্রিয়া, প্রভাবও ব্যাপক।

উনার কিছু উস্কানীমুলক বক্তব্যের উদাহরণ দেইঃ

১। উনি মনে করেন সুইসাইড বোম্বিং জায়েজ আছে। প্যালেস্টাইন বা এমন অংশের উদাহরণ দিয়ে বলেছেন ওরা শত্রুর উপর আঘাত হানতে এমন করতেই পারে, কারণ, এটাই তাদের শেষ উপায়।

২। সকল মুসলমানের টেরোরিস্ট হওয়া উচিত আরেক টেরোরিস্টের প্রতি। উনি আল কায়েদা বা লাদেনের হামলাকে জায়েজ করেন এ হিসেবেই। উনার মতে সবচেয়ে বড় টেরোরিস্ট আমেরিকা, তাই তাদের টেররাইজ করার জন্য টেররিস্ট হওয়া উচিত। কারণ, এর মাধ্যমে মুসলমানেরা টেররিস্টকেই টেরোরাইজ করবে। উনি শান্তির পথ বাদ দিয়ে হিংসার পথ বাছতেই উতসাহিত করছেন এভাবে।

৩। তালেবানদের বৌদ্ধমুর্তি ধ্বংসকে সঠিকই মনে করেছেন উনি। কারণ, ইসলাম মুর্তির বিপক্ষে, আর আফগানিস্তান ওদের দেশ, আর ওদের দেশে ওরা যা ঠিক মনে করে তাই করতে পারেন। তাই বুদ্ধমূর্তি ভাঙ্গায় কোন অসুবিধা ছিল না। তার মানে, আমেরিকা, ফ্রান্স বা ভারতে সব মসজিদ ভেঙ্গে দিলেও অসুবিধা থাকবার কথা না উনার মতানুসারে, ওইসব তো মুসলমানদের দেশ না।

৪। ওসামা বিন লাদেনকে নিয়ে বলতে গেলে উনি বলেন, “যদি উনি ইসলামের পথে থাকেন, ইসলামের শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে থাকেন, তবে আমি উনার সাথে আছি। আমি জানি না উনি কি করছেন।” সারা দুনিয়া জানলেও উনি ওসামার ব্যাপারে কিছু জানলেন না, আবার মৌন সমর্থনই জানালেন।

উনি কি আসলে ওইসব জঙ্গীদের দিকেই ঠেলে দিচ্ছেন না? নিজের এসব বক্তব্য আর মতবাদ দিয়ে উনি সেদিকেই প্রভাবিত করছেন। তবে উনার ভুলভাল ধর্মের লজিক নিয়ে আমার মাথাব্যথা নেই, সারা দুনিয়াই ধর্মের ব্যাপারে আজগুবি লজিক দিয়ে চলে। এত এত তত্ত্বের কথা বলে, ন=কিন্তু নিজের ধর্মগ্রন্থটাই ঠিকমত পড়ে না তারা।

যাইহোক, জাইকির নায়েকের প্রভাব কমানো যাবে না তাকে নিষিদ্ধ করে, চ্যানেল বন্ধ করে। সরকারের মাঝেই উনার ভক্তের সংখ্যা কম না। দেশের অর্ধেক মুসলিমই উনার ভক্ত সম্ভবত। এজন্য চাই যারা সত্যটা জানেন, তাদের এগিয়ে আসা। নিজের শিক্ষিত হওয়া এবং নিজেই পড়াশুনা করা। মুর্খদের প্রভাবিত করা সহজ অনেক।

আর আমার মনে হয় সবচেয়ে বেশি উস্কানী চলে মসজিদের বয়ানগুলোয়। পাড়া মহল্লার মসজিদগুলোয় যা বয়ান, ওয়াজ চলে, তাতে জিহাদী হবার আহবান থাকে, লড়াইয়ে নামার আহবান থাকে, অন্য ধর্মের প্রতি কুতসা থাকে, বিদ্বেষ রটনা করা হয়। এসব নিয়ে কেউ মাথা ঘামায় না সেভাবে। কিন্তু বিদ্বেষের ভিত্তিটা সেখান থেকেই গড়ে ওঠে।

জাকির নায়েক পরাভূত হবে কিন্তু এইসব মসজিদ, ওয়াজ মাহফিলের উস্কানীমুলক বয়ান নিয়ে কি ইছু করা হবে আদৌ? না করলে এই উগ্রবাদী ধারা চলবেই…

এই লিঙ্কে জাকির নায়েকের উস্কানীমুলক কাজের কিছু এনালাইসিস আছে, বুঝতে সাহায্য করবে যারা এখনও জানেন নাঃ

জাকির নায়েকের উস্কানীমুলক বক্তব্য

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৬ thoughts on “পিস টিভি বা জাকির নায়েক কে কতটা নিষিদ্ধ করা যাবে? মসজিদে, ওয়াজ মাহফিলে উস্কানীমুলক বয়ান বন্ধ করা যাবে কি?

  1. বর্তমান পৃথিবীতে কারো বক্তব্য
    বর্তমান পৃথিবীতে কারো বক্তব্য প্রচারে বাধা দেবার কোন সুজোগ নাই। এই অনলাইনের যুগে কার কন্ঠই স্তব্ধ করা সম্ভব না। পৃথিবীতে জাকির নায়েকের প্রায় ২০ কোটি ফলোয়ার আছে। আশা করব ডা জাকির নায়েকের চ্যানেল বন্ধ করার সিন্ধান্ত দ্রুত বাতিল হবে।
    ডা জাকির নায়েকের মত মানুষদের থামাতে হবে যুক্তি তর্ক দিয়ে, ফ্যাসিবাদের মত তার মুখকে বন্ধ করে নয়।

    1. আমিও সেটাই মনে করি। তবে আইন
      আমিও সেটাই মনে করি। তবে আইন বিরোধী যদি কিছু প্রমাণিত হয় তবে ভারত জেলে ভরে দেয় নাকি কে জানে। তখনও এখানে এবং ভারতে হাঙ্গামা চলতে পারে। এরচেয়ে যুক্তিতে নিউট্রালাইজ করবার পথটাই মনে হয় ভালো।

      1. তবে আইন বিরোধী যদি কিছু

        তবে আইন বিরোধী যদি কিছু প্রমাণিত হয় তবে ভারত জেলে ভরে দেয় নাকি কে জানে।

        আইন বিরোধী কি প্রমাণিত হয়েছে? একটু বলবেন?
        ভারত তো তাকে জেলে পুড়তে চাইবেই। একটা হিন্দু প্রধান দেশে একজন মুসলামানের বক্তব্য শুনে হাজার হাজার হিন্দু মুসলমান হবে, সেটা আর কাহাতক সহ্য হয়? বিজেপি পরিচালিত একটা স্যেকুলার দেশ বলে কথা।

        1. না, প্রমাণিত হয়নি। কারণ, এসবই
          না, প্রমাণিত হয়নি। কারণ, এসবই বক্তব্য। বক্তব্য বা নিজের মতবাদ প্রচার করা আমার মতে অপরাধ না, অপরাধ যদি কোন খারাপ কাজ বা ক্ষতিকর কিছু করে ফেলেন। মুখে খুন করবো বললেই খুন হয়না, করলেই হয়।

          কিন্তু তারপরেই আইনের মারপ্যাচ থাকে, সহিংসতায় উস্কানী দেয়াও আবার অপরাধের পর্যায়ে পরে। উনি সেটা করছেন নাকি খতিয়ে দেখা দরকার। ভারতের মত দেশে আরও দরকার। সেখানেই দাঙ্গার আশংকা অনেক বেশি।

  2. পিস টিভি বন্ধ করতে হবে আর
    পিস টিভি বন্ধ করতে হবে আর স্টার জলসা ,স্টার প্লাস আর
    তামিল ছবি দেখা বাধ্যতামূলক করতে হবে। জাকির নায়েক ছেলে-পেলের
    ব্রেন ওয়াশ করার আগেই ওদের ব্রেন ওয়াশ করে দিতে হবে।
    যেন ওয়াশ করা পরিষ্কার ব্রেনে কিছুতেই জংগিবাদ ঢুকতে না পারে।

    1. ভাই, পাঁচ বছর বয়স থেকে ইয়াবা
      ভাই, পাঁচ বছর বয়স থেকে ইয়াবা বা গাজার নেশা ধরানো যায়না? তাইলে ব্রেইন কোনদিকেই ওয়াশ করা সম্ভব হবে না। নাস্তিকতা আস্তিকতামুক্ত এক ঘোরের জগতে থাকবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

11 − 9 =