গ্রিক মিথলজিঃ পরিচিতি-২

তৎকালীন গ্রিকরা মনে করত পৃথিবীটা আসলে প্রকাণ্ড বড় একটি সমতল ভূমি যেটি চারদিক থেকেই সমুদ্র দ্বারা আবদ্ধ, আর প্রকান্ড এই সমতলের ঠিক কেন্দ্র বিন্দুতে অবস্থিত হল মাউন্ট অলিম্পাস বা অলিম্পাস পর্বত। তাদের বিশ্বাস, এই মাউন্ট অলিম্পাসই ছিলো গডসদের আবাসস্থল যেখানে তারা বাস করতেন স্বর্ণ নির্মিত বিশালাকার রাজপ্রাসাদের মাঝে রাজকীয় পরিবেশে। তবে মাউন্ট অলিম্পাসে উপরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থানটি ছিলো “চেম্বার বা হল অফ কাউন্সিল”। প্রত্যেক গড-এরই নিজস্ব আলাদা বাসস্থান ছিলো। তাই বিভিন্ন উপলক্ষ ও জরুরি অবস্থায় তারা মিলিত হতেন এই চেম্বার অব কাউন্সিল-এ এবং এখান থেকেই তারা বেশীরভাগ নির্দেশনা,আদেশ দিতেন বা নিতেন।

বাসস্থানের মতই গডসদের ব্যবহৃত সবকিছুই ছিলো কল্পনাতীত রাজকীয়। তারা যেই রোব বা আলখাল্লা পরিধান করতেন সেগুলোর অধিকাংশই মানুষের পরিধেয় পোশাক-আশাকের মত হলেও সেগুলোর কাপড় ছিলো স্বর্গীয় এবং নির্মাণ ছিল নিখুঁত। চিন্তাতীত আলতো আঙ্গুলের ছোঁয়ায় সেসব কাপড়ের উপর নকশা তোলার কাজ করত স্বর্গীয় বিভিন্ন পরীরা। মর্ত্যের মানুষের চোখে ধাঁধাঁ লাগিয়ে দিত সেসব নকশা।

গ্রিক দেবতারা খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারেও ছিলেন অত্যন্ত শৌখিন।বিভিন্ন আনন্দের উপলক্ষেই তারা মহাভোজের আয়োজন করতেন। অন্যান্য সবকিছুর মতই তাদের খাবারের তালিকাও মানুষের খাবার তালিকার অনুরূপ কিন্তু তাদের খাবারগুলো ছিলো স্বর্গে উৎপন্ন এবং অমৃত গুণসমৃদ্ধ। ঘটনাক্রমে কোন মানুষ যদি এই খাবার গ্রহণ করত তাহলে তার ভিতরে বিভিন্ন দেবতাসুলভ ক্ষমতার আবির্ভাব ঘটত।

প্রত্যেক দেবতারই নিজস্ব বাহন ছিলো। এসব বাহনগুলো ছিলো বিদ্যুৎগতি সম্পন্ন। যেহেতু দেবতারা ইচ্ছা করলেই চোখের পলকে নিজেদের ইচ্ছামত যে কোন জায়গায় ভ্রমণ করতে পারতেন কোনরূপ বাহন ছাড়াই তাই চলাচলের মাধ্যম হিসেবে এসব বাহনের তেমন গুরুত্ব না থাকলেও দেবতাদের জন্যে যার যার বাহন ছিল নিজস্ব ক্ষমতা ও মর্যাদার প্রতীক, তাই গ্রিক মিথেও এসব বাহনের বর্ণনা এসেছে বারবার। এসব বাহনের মধ্যে ডানাওয়ালা ঘোড়া সহ স্বর্গীয় বিভিন্ন শক্তিশালী প্রাণীর সংখ্যাই বেশী।

মানুষের মত দেবতারাও বিভিন্ন সময়েই বিভিন্ন কারনে নিজেদের মধ্যে অথবা বাইরের অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতেন। তাদের ব্যবহৃত অস্ত্রগুলোও মানব নির্মিত অস্ত্রসমূহের মত হলেও সেগুলো ছিলো অপরিসীম ধবংসাত্মক এবং বিশালাকার। দেবতারাও বর্ম, শিরস্ত্রাণ ইত্যাদি পরিধান করতেন যুদ্ধক্ষেত্রের পোশাক হিসেবে।

পরবর্তী পর্বঃ গ্রিক মিথলজিঃ পরিচিতি-৩ (পরিচিতি শেষখণ্ড)

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 5 = 4