পশ্চিমা গনতন্ত্র, একজন জেরেমি করবিন এবং “এক চিমটি লবণের প্রয়োজনীয়তা”!

পশ্চিমা সমাজের একটা বড় স্ববিরোধ হচ্ছে এখানে এরা নিজেদের জন্যে “গনতন্ত্র” বলতে যা বোঝে, পৃথিবীর ভিন্ন এলাকায় এদের গনতান্ত্রিক বোধ টি সম্পূর্ণ আলাদা। তাই এরা ওসামা বিন লাদেন এর মতো একজন ভয়াবহ সন্ত্রাসীকে হত্যা করার জন্যে একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশের সীমা লংঘন করে যেকোনো সময় ঢুকে যেতে পারে। কোনও সমস্যা নেই। যেকোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানোর জন্যে এরা হর হামেশাই পাঠিয়ে দেয় এদের আঞ্চলিক কোনও একজন মন্ত্রী – পাতি মন্ত্রীকে আর আমাদের মতো দেশের পুলিশ বাহিনি ঝাপিয়ে পড়ে তাঁর নিরাপত্তার জন্যে আর মিডিয়া গুলো মৌমাছির মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে রসালো সংবাদের আশায়। নোয়াম চমস্কি তাঁর একাধিক লেখায় ও আলোচনায় ব্যাখ্যা করেছেন – পশ্চিমের এই “আওয়ার ডেমোক্র্যাসী” এবং “দেয়ার ডেমোক্র্যাসী” দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে। ফলে, পশ্চিমা দুনিয়ার মোড়লদের একটা প্রধান ভুমিকা হচ্ছে তাদের মতো করে “দেয়ার ডেমোক্র্যাসী” কে দুনিয়ার গরীব দেশগুলোতে রফতানী করা।

পশ্চিমা সমাজের আরেকটা স্ববিরোধ হচ্ছে, এদের তথাকথিত গনতান্ত্রিক সরকার গুলো ক্ষমতায় যাবার পরে বেশীরভাগ সময়েই জনগনের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষাকে প্রতিফলিত করেনা। অথবা যখন করে, তখন বিরাট ধ্বংস হয়ে যাবার পরে। যেমন টা ঘটেছে ইরাক যুদ্ধের ক্ষেত্রে। বুশ – ব্লেয়ার যখন ইরাকের বিরুদ্ধে তাদের যুদ্ধ পরিকল্পনা করছিলো, তখন হাজার হাজার ব্রিটিশ নাগরিক ইংল্যান্ডে এবং মার্কিন নাগরিক আমেরিকায় মিছিল – সভা – প্রতিবাদ – স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছিলো ইরাক আক্রমনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে। লেবার পার্টি প্রধান টনি ব্লেয়ার যখন যুদ্ধের সকল আয়োজন করছেন, তখন লেবার পারটিরই আরেকজন নেতা জেরেমি করবীন ইংল্যান্ড সহ সারা দুনিয়ায় জনমত তৈরি করছেন এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে। ইংল্যান্ডের স্মরনকালের সবচাইতে বড় দুটি শান্তি সমাবেশ হয়েছিলো সেটেম্বর ২৮, ২০০২ এবং ফেব্রুয়ারীর ১৫ তারিখ, ২০০৩ সালে, ইরাক যুদ্ধের কয়েকদিন আগে। কিন্তু সেপ্টেম্বর ২০০২ এ চার লাখ ব্রিটিশ নাগরিকের এই সম্মেলন বুশ – ব্লেয়ার এর “গনতান্ত্রিক বোধ” কে স্পর্শ করতে পারেনি, থামাতে পারেনি ইরাক আক্রমন। সারা ইউরোপের প্রায় সকল রাজধানী শহরে প্রতিবাদ হয়েছিলো ২০০৩ এর ফেব্রুয়ারীর ১৫ তারিখে। সারা পৃথিবীতে এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে উঠেছিলো। নিউ ইয়রকে, সান ফ্রান্সিসকোতে, দামাস্কাস, কোলকাতা, রোম, লন্ডনে, তবুও টলেনি বুশ – ব্লেয়ার এর “গনতান্ত্রিক বোধ” !


ইরাক যুদ্ধের প্রতিবাদে সারা পৃথিবীব্যাপী জনমতের একটি আংশিক চিত্র এখানে।

এখন এটা প্রমানিত যে, ইরাক যুদ্ধ একটি অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধ ছিলো। এই যুদ্ধটি একটি অনৈতিক যুদ্ধও ছিলো কারন এই যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা ও প্রেক্ষাপট হিসাবে পশ্চিমা জনগন কে যা ব্যাখ্যা করা হয়েছিলো, যা বোঝানো হয়েছিলো তার পুরোটাই ছিলো হয় অসত্য অথবা ভুল তথ্যভিত্তিক। জাতিসংঘ সহ একাধিক দেশ ও প্রতিষ্ঠান ইরাকের কাছে পৃথিবী বিধ্বংসী কোনও অস্ত্র না পেলেও, বুশ – ব্লেয়ার দ্বৈরথ প্রমান করে ছেড়েছিলো যে সাদ্দাম হোসাইনের কাছে এমন এক অস্ত্র আছে যা সে ৪৫ মিনিটের মধ্যে প্রয়োগ করতে পারে এবং সারা পৃথিবী ধ্বংস করে দিতে পারে। বুশের সেনাপতি কলিন পাওয়েল এর সেই বিখ্যাত “আন্থ্র্যাক্স ভায়াল” বক্তৃতার কথা নিশ্চয়ই মনে আছে কারও কারও। জাতিসংঘের মতো একটি প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সভায় এই ধরনের মিথ্যাচার পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। সেই সভার সকলকে একটি ছোট হোমিওপ্যাথিক ওষুধের বোতল দেখিয়ে কলিন পাওয়েল ব্যাখ্যা করেছিলেন, সাদ্দামের কাছে থাকা জীবানু অস্ত্রের এই সামান্য পরিমান ব্যবহারে সারা পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। মার্কিন মিডিয়াগুলো হাজার হাজার ঘন্টা ব্যয় করেছে এই মিথ্যা “ওয়েপন অফ ম্যাস ডেস্ট্রাকশন” নামক গল্প কে বাস্তবে পরিনত করতে।


ছবিতে মিথ্যেবাদী কলিন পাওয়ায়েল জাতিসংঘে তার মিথ্যাচার পেশ করছেন।দেখুন তার সামনে কিন্তু দেশ হিসাবে মার্কিনী নাম ফলক। সুতরাং ইরাকের এই ভয়াবহ পরিনতির জন্যে শুধু বুশ ব্লেয়ার নয়, বরং যুক্তরাজ্য - আমেরিকাকেই দায়িত্ব নিতে হবে।

সেই পুরো “কেইস” টি এখন মিথ্যা প্রমানিত হয়েছে। তাই এই যুদ্ধকে এখন বুশ-ব্লেয়ার এর ব্যক্তিগত যুদ্ধ বলা হচ্ছে। ব্যক্তিগত যুদ্ধ বলা হলেও বুশ – ব্লেয়ার বা রামস্ফেল্ড-কলিন পাওয়েলদের কোনোদিন ও জবাবদিহিতার মুখোমুখি হতে হবেনা। পশ্চিমা গণতন্ত্র এই যুদ্ধবাজদের এই ধরনের সুরক্ষা দিয়ে থাকে। মিথ্যার উপর ভর করে লক্ষ লক্ষ মানুষ, হত্যা, শিশুদের এতিম বানানো আর লাখো মানুষ কে বাস্তুচ্যুত করার পরেও পৃথিবীর ইতিহাসে এদের কালিমা লেখা হবেনা।

টনি ব্লেয়ার তাঁর ভুল স্বীকার করে নিয়েছেন, তিনি বলেছিলেন তার সিদ্ধান্তের পেছনে “ভুল” বা অযথাযথ তথ্য কাজ করেছিলো এবং তিনি বলেছেন তিনি এর “সম্পূর্ণ দায়” গ্রহন করতে রাজী আছেন। ব্রিটিশ এবং আমেরিকান নাগরিকেরা টনি ব্লেয়ার এর এই স্বীকারোক্তি কে বলেছেন “নাটক” অথবা “কৌতুক”, কেননা টনি ব্লেয়ারের ক্ষমতা নেই ১৭৯ জন নিহত ব্রিটিশ সৈনিকের একজনকেও ফিরিয়ে আনার। কিম্বা তাঁর ক্ষমতা নেই ব্রিটিশ ও আমেরিকান নাগরিকদের দেয়া ট্যাক্সের টাকা তিন ট্রিলিয়ন ডলার ফিরিয়ে দেবার। স্যার চিলকোট রিপোর্ট নিয়ে টনি ব্লেয়ারের ভাষন যারা শুনেছেন তাঁরা বুঝতে পারবেন যে, ভদ্রলোক উন্মাদ হয়ে গেছেন। তিনি কি বলছেন তা বুঝতে পারছেন না। সম্পূর্ণ ভাষন টি ইউটিউবে পাওয়া যাচ্ছে।

ইরাক যুদ্ধের আগে বুশ – ব্লেয়ার প্রশাসন তাদের নিজ নিজ পার্লামেন্ট কে জানিয়েছিলো, যদিও তারা যুদ্ধ ঘোষণা করছেন, তবুও সর্বাধিক গুরুত্ব দেবেন সাধারন নাগরিক বা “অরডিনারী সিভিলিয়ান” দের জীবন হানি ও ক্ষয় ক্ষতি যেনো না হয় সেই দিকে। বুশের প্রধান সেনাপতি ডোনাল্ড রামস্ফেল্ড মার্কিন নাগরিকদের জানিয়েছিলেন – সাধারন সিভিলিয়ানদের খুব বেশী ক্ষতি হবেনা, সেদিকে ঈঙ্গ – মার্কিন বাহিনী থাকবে “সদা সজাগ”। এই “সদা সজাগ” থাকার পরিনতি হচ্ছে – প্রায় ছয় লক্ষ সাধারন ইরাকী নিহত হওয়া। এই “সদা সজাগ” থাকার পরিনতি হয়েছিলো প্রায় ১৫ লক্ষ ইরাকী স্থায়ী ভাবে উদ্বাস্তু হয়ে যাওয়া। এই “সদা সজাগ” থাকার পরিনতি হয়েছিলো প্রায় ২০ লক্ষ শিশুর এতিম হয়ে যাওয়া এবং “স্ট্রিট চাইল্ড” এ পরিনত হওয়া। কয়েক লক্ষ মানুষ মারা গেছেন শুধুমাত্র ক্ষুধার তাড়নায়। এই ছিলো বুশ – ব্লেয়ার প্রশাসনের “সদা জাগ্রত” যুদ্ধ কৌশল।

২০১১ সালে, ততকালিন ব্রিটিশ লেবার এমপি, বর্তমান লেবার পার্টি প্রধান জেরেমী করবিন বলেছিলেন

“যুক্তরাজ্য নিজে যে যুদ্ধে যুক্ত হয়েছে, আমার বিশ্বাস সেটি একটি ভিন্ন দেশে বেআইনি আগ্রাসন। একটা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্রিটিশ সৈনিক এবং আরো বেশী আমেরিকান সৈনিক এবং অন্যান্যরা মারা গেছেন এবং হাজার হাজার,সম্ভবত প্রায় পাঁচ লক্ষ ইরাকী মারা গেছে এর ফলে। কিন্তু এর পরেও পৃথিবী কি নিরাপদ? না। জঙ্গীবাদের আতঙ্ক বা হুমকি কি এখন কম? না। এটা কি ভালো বা সঠিক পথ আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে ? না”।

ইরাকে এই আগ্রাসনের ফলাফল হচ্ছে দেশটির গৃহযুদ্ধ এবং ভয়ংকর পৈশাচিক বাহিনি আই এস এর সৃষ্টি। এটাও ইতিমধ্যেই প্রমানিত ও প্রকাশ্য আইএস এর মদত দাতারাও হচ্ছে মার্কিন পরাশক্তি এবং তার ইউরোপীয় মিত্ররা।গনতন্ত্র রফতানীর এহেন ভয়াবহ পরিনতি পশ্চিমা দুনিয়ার জন্যে একটা বড় শিক্ষা। মার্কিন এবং ইউরোপীয় নাগরিকেরা এখন বুঝতে পারছেন, আগ্রাসনের ফলাফল কোনও না কোনও ভাবে তাদের উপরেও এসে পড়ে। মধ্যপ্রাচ্য কে অস্থিতিশীল করে তুলে মার্কিন সমাজ বা ইউরোপের দেশ গুলো খুব শান্তিতে ঘুমাতে পারছেন, তা নয়।

জেরেমি করবিন সহ আরো অনেকেই দাবী জানিয়েছেন, ইরাক যুদ্ধে বুশ-ব্লেয়ার এর ব্যক্তিগত সংশ্লিষ্টতা কে আরো গভীর ভাবে খতিয়ে দেখার জন্যে। সারা বিশ্বে – বামপন্থী ও মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী মহল বহু আগে থেকেই ইরাক যুদ্ধের পেছনের কারন ব্যাখ্যা করেছেন। জর্জ বুশ এবং তার ব্যবসায়িক মিত্রদের ভবিষ্যৎ বানিজ্য এবং আমেরিকার জ্বালানী স্বার্থ রক্ষার এই যুদ্ধ, কিভাবে গনতন্ত্র রফতানির পোশাকে আরেকটি দেশে আসতে পারে এবং সেই দেশটিকে হাজার বছরের জন্যে তছনছ করে দিতে পারে, ইরাক যুদ্ধ তার প্রমান। এই স্বার্থের অতিক্ষুদ্র ভাগীদার হবার জন্যে বামপন্থী বলে কথিত “ব্রিটিশ লেবার পার্টি” কিভাবে চরম ডানপন্থী যুদ্ধবাজ বুশের সাথে হাত মেলাতে পারে, তাও ইতিহাসের জন্যে এক বিরাট শিক্ষা।

এটাও পশ্চিমা সমাজের সৌন্দর্য, এখানে বুশ-ব্লেয়ারের মতো দানব জন্ম নেয়, এখানে জেরেমি করবিন ও জন্ম নেয়, যদিও আপাত ব্যর্থ জেরেমি করবিন, তবুও আজও সংগ্রামে আছেন। জেরেমি করবিনেরা জানান দিয়ে যান, পশ্চিমা প্রশাসন যা বলে তার সবটা বিশ্বাস করলে ফলাফল ইরাকের মতো হতে বাধ্য।

আমি যেমন জেরেমি করবিনের প্রতি সংহতি জানাই, তেমনি পশ্চিমা গনতন্ত্র কে বোঝার জন্যে সর্বদাই “এক চিমটি লবন” রাখি নিজের কাছে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১১ thoughts on “পশ্চিমা গনতন্ত্র, একজন জেরেমি করবিন এবং “এক চিমটি লবণের প্রয়োজনীয়তা”!

  1. হ্যা এই ডুগডুগীটাই আমরা বার
    হ্যা এই ডুগডুগীটাই আমরা বার বার বাজিয়ে আসছি। আমরা কথায় কথায় জংগীবাদের জন্য একতরফা ভাবে ইসলামকেই দায়ী করি। অথচ মজার ব্যাপার হচ্ছে উদার গনতন্ত্রের পশ্চিমা দেশগুলোর বর্বরতা আর পৈশাচিকতা থেকে আমরা সম্পুর্ন নিশ্চুপ থাকি। ২০ লাখ শিশুকে এতিম বানান, প্রায় ছয় লক্ষ সাধারন ইরাকী নিহত হওয়া প্রায় ১৫ লক্ষ ইরাকী স্থায়ী ভাবে উদ্বাস্তু হয়ে যাওয়া এইসব ভয়াবহ অন্যায়গুলো নিয়ে মিডিয়া বা ব্লগে টু শব্দটি করতে শোনা যায় না। তেল আর গ্যাসের কথা না হয় বাদই দিলাম। বড় বড় সন্ত্রাস থামাতে না পারলে ছোট ছোট সন্ত্রাস থামান যাবে না কিছুতেই।

    প্রসংগত, আইসিসের গলা কাটার ভিডিও কিভাবে স্টুডিওতে বানিয়ে মানুষকে বোকা বানান হয়েছে সেটা পরিষ্কার হবে নীচের লিংকে গেলে–

    https://leaksource.info/category/terrorism/

    1. আরে রুশদী ভাই/বইন যে ! আপনার
      আরে রুশদী ভাই/বইন যে ! আপনার কমেন্ট এর জন্যে ধন্যবাদ। যদিও কমেন্ট টা একটু “কিসের সাথে কি পান্তা ভাতে ঘি” টাইপের হয়ে গেছে। আইসিস গলা কাটুক আর নাই কাটুক, আমাদের মহানবী হুজুরে পাক তো গলা কাটার কথা বলে গেছেন তাই না? আইসিসের যে টুকু দায় পশ্চিমের সেটা তাদের কে দেন, কিন্তু আইসিসের গা বাচানোর দায় আপনার কান্ধে তুইলা নিয়েন না। বোঝা জাইতেছে, আইসিস এর লাইগা আপনের পরান কান্দে।

    2. এইসব ভয়াবহ অন্যায়গুলো নিয়ে

      এইসব ভয়াবহ অন্যায়গুলো নিয়ে মিডিয়া বা ব্লগে টু শব্দটি করতে শোনা যায় না।

      ব্লগে এসব ভয়াবহ অন্যায়গুলো নিয়ে টু শব্দটি না হলে এই পোস্ট নাযিল হল কার কেরামতিতে? অন্যায় নিয়ে টু শব্দ করতে আপনাদের কেউ নিষেধ করছে? ব্লগে ব্লগাররা যা লেখে সেটাইতো পাবলিশ করা হয়। আর মিডিয়া ধর্ম ব্যবসাকে যে হারে প্রমোট করে, আপনাদের খুশী থাকার কথা। অন্য বিষয় নিয়ে টু শব্দ করার চেয়ে ইসলামের হাকিকত নিয়ে কলাম লেখা অনেক কাজের। প্রতিনিয়ত ধার্মিক ছাগল উৎপাদন করছে আমাদের মিডিয়া।

      1. রুশদী ভাইয়া, এই রকমের একটু
        রুশদী ভাইয়া, এই রকমের একটু আধটু কমেন্ট কইরা উনার এছলামি দায়িত্ব পালন করছেন। আমি তাতে মাইন্ড করিনা।

    3. আর আপনার যদি ন্যূনতম খোঁজ খবর
      আর আপনার যদি ন্যূনতম খোঁজ খবর থাকতো, তাহলে জানতে পারতেন, আজকে এই যে বুশ – ব্লেয়ার কে জনতার আদালতে তোলা হচ্ছে এটা কিন্তু পশ্চিমা জনগন ও পশ্চিমা মিডিয়ার কল্যানেই।

  2. এই পোস্টের আমার আর মন্তব্য
    এই পোস্টের আমার আর মন্তব্য করাটা সমিচীন হবে না।সত্য কথা বললেও সারওয়ার আর তার শিষ্যরা আমাকে জোর করে জংগী সমর্থক বানাবার চেষ্টা করবেই। তার চাইতে আসিফ, মুফাসসিলের মত ইসলাম বিদ্যেষী সেজে নান-পাদ্রীদের দেয়া দুধ-কলা খাওয়াটা বেশী লাভজনক মনে হয় আমার কাছে।

  3. আসলে আরেকটু সতর্কতার সাথে,
    আরেকটু সতর্কতার সাথে, দেখে-শুনে বোমা ফেললে এবং আরেকটু কম নারী-শিশুর মৃত্যু হলে বোধহয় আজকে বুশ আর ব্লেয়ারকে এই হ্যাপা পোহাতে হত না। আসলে ঈংগ-মার্কিন বাহিনী বোমা মেরে হাত পাকাতে গিয়েছিল। তাই স্বাভাবিকের চাইতে একটু বেশী মানুষ মরেছে। তবে আশা করা যায় এর পর থেকে আর এরকম ভুল হবে না। অনেক কম মানুষ মেরেই দেশ দখল সম্ভব হবে। সাইন্টিস্টরা অচিরেই সেরকম বিধবংসী অস্ত্র বানিয়ে ফেলবে।

    1. যেখানে এই যুদ্ধটাকেই বলা
      যেখানে এই যুদ্ধটাকেই বলা হচ্ছে অনৈতিক, ভুল এবং অপ্রয়োজনীয়, সেখানে কম বোমা মারা বা দেখে শুনে বোমা মারার বিশয়টা তো অবান্তর। বোঝা যাচ্ছে, আপনার চোখে যে ইসলামী চশমা টা আছে, তা দিয়ে এই লেখাটা অন্যভাবে ধরা দিচ্ছে আপনার কাছে। এই লেখাটার মূল বক্তব্য হচ্ছে পশ্চিমা গনতন্ত্রের অসারতা তুলে ধরা, কিন্তু আপনারা তো গনতন্ত্রেই বিশ্বাস করেন না, সুতরাং এই লেখাটি নিশ্চিত ভাবেই আপনাদের জন্যে নয়। বরং আপনাদের পিতার ভুমি সৌদি আরব যেনো আরো বেশী করে ইয়েমেন এ বোমা ফেলতে পারে, সেইজন্যে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ি আসেন, হাবশী ভাইয়া।

      1. হা হা, আপনি যেমন বুশ আর
        হা হা, আপনি যেমন বুশ আর ব্লেয়ারের সমালচনা করেছেন, আমিও কিন্ত আমার মন্তব্যের তাদের বাহিনীরই সমালোচনা করেছি। আমার মন্তব্য অন্যভাবে ধরা দিয়েছে আপনার কাছে। আমার চশমাটা হয়ত ইসলামী , তাই সেটা অনেক খারাপ একটা চশমা আপনার কাছে। আপনার চশমার সমালোচনা করতে পারতাম, কিন্তু সেটি আমি করব না।
        আপনার ঝাঝাল প্রতিমন্তব্যগুল সহিষ্ণুতার পরিচয় বহন করে না।

        1. হাবসী ভাইজান কিন্তু ইয়েমেনে
          হাবসী ভাইজান কিন্তু ইয়েমেনে সৌদি বোমা হামলার বিষয় এড়িয়েই গেলেন। আমরা সব বোমায় মানবতা খুঁজি, পৃথিবীর যে কোন যুদ্ধ ও হত্যার বিরুদ্ধে কথা বলি। ই্য়েমেনের মুসলমানদের সৌদিদের কর্তৃক গণহত্যার বিরুদ্ধেও আমরা কথা বলেছি। কিন্তু হাবসী ভাইদের ইসলামী মানবতায় ইয়েমেনে অহেতুক যুদ্ধের বিরুদ্ধে কথা বলা হারাম মনে হচ্ছে। ইরাকের হামলায় সৌদিসহ যে কয়েকটি মুসলিম দেশ চোখ বুঝে সমর্থন দিয়েছিল। তারা মুসলমান হয়ে কেন অন্য মুসলিম দেশে বৃটিশ-মার্কিন হামলার পক্ষে ছিল? এ বিষয়ে ইসলামী কোন বিশ্লেষন কি নাই?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

1 + 4 =