ন্যায়বিচার? সে তো সূদুর পরাহত!

ন্যায়বিচার বা বিচার হবে কথাটা শুনলেই কেন জানি আমার মাথা খারাপ হয়ে যায় ।বইয়ে পড়েছিলাম আইন সবার জন্য সমান, কিন্তু বাস্তবে দেখলাম এর সম্পুর্ন বিপরীত ।আন্দালিব সংসদে বলেছিল, ‘লো ইজ নট ইকুয়েল’, বাস্তবেও তাই ।হত্যা,খুন,ধর্ষন,রাহাজানি,ছিনতাই করেও অনেক আসামী দিবালোকে পুলিশের সামনে ঘুরে বেড়ায় অথচ ব্লগে সামান্য লিখালিখি করার অপরাধে নিরাপরাধ কয়েকটি ছেলেকে গ্রেফতার করে বিনা যুক্তিতে মাসের পর মাস আটকে রাখা হয় ।শীর্ষ সন্ত্রাসী বিকাশ জামিন পেয়ে যায় অথচ এই ছেলে গুলোর জামিন হয় না ।কি অদ্ভুত! সাধারনত যে সব অপরাধীর বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ যেমন…. হত্যা,ধর্ষন,দাঙ্গা সৃষ্টি ইত্যাদির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, অপরাধীর দ্বারা বাদী বা তৎসংশ্লিষ্ট কোন ব্যাক্তি বা রাষ্ট্রের ক্ষতি হতে পারে, ছাড়া পেলে অপরাধী পালিয়ে যাবার প্রকট সম্ভাবনা থাকে, এই ধরনের অপরাধীকে বিচারকরা জামিন দেন না বা দিতে পারেন না ।স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন জাগে, কিপ্যাড বা কিবোর্ড কি এতই মারাত্মক যে এর ব্যবহারকারী জেলের বাহিরে থাকলে বাদি বা রাষ্ট্রের মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যেতে পারে?শুভ রাজুরা কি এতই প্রভাবশালী যে রাতারাতি দেশ ছেড়ে চলে যেতে পারে?ব্লগাররা কি এতই দাঙ্গাবাজ যে,এদের জামিন দিলে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবার সম্ভাবনা থাকে?

এখানে আমার ব্যাক্তিগত একটা ঘটনা উল্লেখ না করলেই নয় ।

আমার এক মামাতো ভাই (নাম রিপন)৮/৯ মাস আগে খুন হয় ।খুনটা নিজ গ্রামের একটা ছেলে(নাম শাহজাহান) সকাল ১০টায় ক্ষেতের মাঠে শত লোকের সামনেই করে ।জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রথমে তর্কাতর্কি হয় ।একপর্যায়ে রিপনের হাতে থাকা মোবাইলে ফোন আসে এবং সে ফোনে কথা বলতে থাকাকালীন শাহজাহান ছুরি দিয়ে গলার একপাশে আঘাত করে ।ভাইটিকে হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তার মৃত ঘোষনা করেন ।যাইহোক, এরপর মামলা হয় ।মামলায় ঐ হত্যাকারী সহ আরো কয়েকজনকে আসামী করা হয় ।আসামীর সংখ্যা বৃদ্ধির কারন হল রিপন খুন হওয়ার পর তার এক ছোট ভাই (নাম রিমন)ঘটনাস্থলে যায় এবং হত্যাকারী,হত্যাকারীর বাবা ও কয়েকজন সহযোগী রিমনকে ও আঘাত করে ।সে মারাত্মক আহত হলেও প্রানে বেচে যায় ।
এরপর তদন্ত, বিবাদী কতৃক হম্বতম্বি, পুলিশের ঘুষ চাওয়া, মেডিকেল রিপোর্ট দানকারীর ঘুষ চাওয়া, সাক্ষী,আদালত পরিবর্তন ইত্যাদি অনেক কিছুই হয় ।প্রথমে আসামীরা গা ঢাকা দিলেও পরে গেফতার হয় এবং কিছুদিনের মধ্যে হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে এখন দিব্যি থানার ওসি – দারোগার সাথেও চলা ফেরা করছে ।
গল্প এখানেই শেষ নয় ।ঐ হত্যাকারীরা কিছুদিন আগে তাদের এক আত্মীয়কে দিয়ে খুন হওয়া রিপনের অপর তিন ভাই সহ আত্মীয়দের মিলিয়ে ১১ জনের নাম সহ অজ্ঞাতনামা ১৪/১৫ দিয়ে একটা ডাকাতি ও শ্লীলতাহানির মামলা করায় ।মামলা নং ০৩ তারিখ (০২/০৪/২০১৩)ঐ মামলায় আদালতে আত্মসমর্পন করার পর সকলের জামিন হলেও রিপনের এক ভাই সিলেটের কোম্পানিগঞ্জের নামকরা ডাক্তার, ডাঃ রিজনের জামিন হয়নি ।এই লিখাটি পোস্ট করা পর্যন্ত প্রায় ২০দিন ধরে তিনি জেলে আছেন ।

এই হল আমাদের আইন ও বিচার ব্যবস্থা ।আমার মত হাজারো ভুক্তভোগী আছেন যারা বিচারের নামে প্রহসনের শিকার ।বিড়ম্বনার যেন শেষ নেই । ন্যায়বিচারের আশায় প্রতিদিন আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে ঘুরতে আর টাকা খরচ করতে করতে নিজের ও পরিবারের অস্থিত্ব টিকিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে পড়ছে ।তবু আমাদেরকে চেষ্টা তো করতেই হবে এবং বাধ্য হয়েই করে যাচ্ছি,করতে হচ্ছে ।স্বজনদের মুখের দিকে তাকিয়েই করতে হচ্ছে ।

আইন সম্পর্কে মোটেও লেখা পড়া নাই,তাছাড়া তেমন গুছিয়ে লিখতেও পারি না ।তবুও অগোছালোভাবেই এই ধরনের আইন ও বিচার ব্যবস্থাকে ধিক্কার জানাই ।ধিক্কার ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

13 − = 3