আরেকটা জঙ্গি তৈরি হওয়ার আগেই আমাকে হত্যা করা হউক!!

আরেকটা জঙ্গি তৈরি হওয়ার আগেই আমাকে হত্যা করা হউক!!
-মামুন মুনতাসির

পেটে ভাত নেই। ক্ষুধার জ্বালায় মাটি কামড়ে কামড়ে খাচ্ছি। আমি কোন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নই! আমি কোন মাম্মি ড্যাডির সন্তান নই! আমার গাদা গাদা টাকা নেই। আমি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে যুদ্ধ করে জায়গা করে নিয়েছি। আমার ফুসরত নেয়ার সময় নেই। আমার শরীর থেকে যে ঘাম নির্গত হয়, সেটি আমার রক্তের নিংড়ানো নির্যাস। যার প্রতিটি ফোটা এক একটি সংগ্রামী জীবনের শুক্রাণু বহন করে।

ঘর ছেড়েছি। পরিবার পরিজন ছেড়েছি। হাতে হারিকেন আর বইয়ের স্তুপ মাথায় নিয়ে নেমে এসেছি এ বিদ্যার সরাই খানায়। কত দিন না খেয়ে রজনী পোহাইছি তার ইয়াত্তা নেই! বেলা পড়ে এলে যখন সবাই খেলায় মেতে উঠে ঠিক তখনি আমি রুটি রুজির ব্যবস্থা করতে অন্যর পাড়ায় গিয়ে রক্তকে জল করি।

শাটলের হুইসালে ছুটি ক্যাম্পাসের পানে। আবার ফিরি পেটের টানে। দু -ই সামাল দিতে হয় আমাকে। আমিও তো মানুষরে ভাই! রোবট নই! এ দেহে ত রক্ত মাংস ছিল! তা হয়ত আজ জল হয়ে গেছে। কিন্তু, অনুভূত হয়। ব্যথা লাগে। টনটন করে উঠে। চোখে ঝাপসা দেখি। সেদিন চশমার ফ্রেমটা ভেঙ্গে যাওয়ায় আর জোড়া লাগাতে পারি নি। মাসের শেষ নাগাদ অপেক্ষা করতে হবে যে।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্টদের থেকে জাতি অনেক কিছু আশা করে। এরা আগামি দিনের নেতৃত্ব দিবে। কিন্তু এ স্টুডেন্টদের, ছাত্র থাকা অবস্থায় এ জাতীর নিকট একটায় জিনিস চাওয়ার থাকে, ভাই একটা টিউশন হবে?? (!)
গত দু মাসের ভাড়া বাকি পড়ে আছে। পুরো মাস আলু আর ডাল খেতে খেতে পেটে চর পড়ে গেছে।

একটা দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠে এসে যদি শুনতে হয় তার ঘর ভাড়া বাকি পড়ে আছে। খাওয়ার মত পয়সা নেই। একটা টিউশন চাই। সে দেশে জঙ্গি উৎপাদন হবে নাতো হুয়াইট হাউজে হবে?

ডেলিভারির কষ্টকে উপেক্ষা করে যখন একজন ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করে কর্ম জীবনে পা বাড়ায় তখনো কেন তাকে বেকারত্বের অভিশাপ বয়ে বেড়াতে হয়?
যে ছাত্রটি ছাত্র জীবনেও কষ্ট করল আবার সে যখন দেশ সেরা বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করে বেকার হয়ে ঘুরে বেড়াবে সে জঙ্গি হবে নাতো প্রধান মন্ত্রীর ছেলে জঙ্গি হবে?

যে ছেলে এত্ত ডিগ্রি নিয়ে চাকরির বাজারে ঘুষের স্তুপে উষ্টা খেয়ে সার্টিফিকেটের বস্তাটাকে মামা খালু দিয়ে পাস করাতে হয় সে ছেলে জঙ্গি হবে না তো ছুফিসাব হবে?

জঙ্গি দূরে কোত্থাও নেই। জঙ্গি আপন ঘরেই বাস করছে। এর প্রধান কারণ হলো দারিদ্রতা আর বেকারত্ব। অলস মস্তিস্ক জঙ্গি তৈরির আঁতুর ঘর। কারো বক্তৃতায় কিংবা কারো প্ররোচনায় জঙ্গি হওয়ার প্রয়োজন হয় না। মানুষের পেটে যখন টান পড়ে তখনি সে জঙ্গি রূপ ধারণ করে।

আর এ বেকারত্ব যত বাড়তে থাকবে তত জঙ্গির আনাঘোনাও বাড়তে থাকবে। তাই যদি নিজেদের হেডাম দিয়ে, যোগ্যতার বলে, আমাদের মেধার স্বীকৃতি না দেয়া হয়, তবে আরেকটা জঙ্গি তৈরি হওয়ার আগেই আমাকে হত্যা করা হউক!!!!!!

-মামুন মুনতাসির

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “আরেকটা জঙ্গি তৈরি হওয়ার আগেই আমাকে হত্যা করা হউক!!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 9 = 1