কোরান কার বানী ? মুহাম্মদের , নাকি আল্লাহর ? পর্ব-১

কোরান কার বানী ? মুহাম্মদের নাকি আল্লাহর? আল্লাহর বানী যদি হয়, তাহলে আল্লাহর নামেই কি মুহাম্মদ নিজের কথাকে চালিয়ে দিয়েছিলেন কি না ? সর্বপ্রথমেই বলতে হবে , কোরান হলো মুহাম্মদের বানী। কারন মুহাম্মদই কোরানের নামে যেসব বাক্য বলেছিলেন , সেসবই তার সাহাবীরা লিখে রাখত। মুহাম্মদ সেই বানীগুলোকে দাবী করেন যে সেই সব বানী আসলে আল্লাহর , আর জিব্রাইল নামের এক ফেরেস্তা তার কাছে সেই বানী পৌছে দেয়। সুতরাং এখন প্রশ্ন হলো – জিব্রাইল সত্যি সত্যি আল্লাহর বানী মুহাম্মদের কাছে পৌছে দেয় , সেটা প্রমানিত হলেই প্রমানিত হবে , মুহাম্মদের বলা বানীগুলো আল্লাহর। অন্তত: যৌক্তিকভাবে যদি বিচার করা হয় বিষয়টা সেরকমই দাড়ায়।

সর্বপ্রথমেই দেখা যাক নিচের আয়াত —

সুরা তাকবির – ৮১:১৯: নিশ্চয় কোরআন সম্মানিত রসূলের বাণী,

কোরান হলো রসুলের বানী অর্থাৎ মুহাম্মদ যে বানী বলছে সেটাই কোরান , পরে মুহাম্মদ দাবী করছেন যে তার সেই বানী সব আল্লাহর। এখন আমরা বিষয়টা বিশ্লেষণ করে দেখি। যে কোন দাবীকারীর দায়ীত্ব হলো তার দাবীকে নিজেকেই প্রমান করতে হবে। মুমিন বান্দারা বিতর্কের একই মূল নীতিটাকেই অনেক সময় বুঝতে পারে না বা বোঝে না। যেমন – করিম দাবী করল , তার এক কোটি টাকা আছে। তখন করিমকেই ব্যাংকের যথাযথ স্টেটমেন্ট জোগাড় করে তাকেই প্রমান করতে হবে যে তার সত্যি সত্যি এক কোটি টাকা আছে। এখানে করিম হলো প্রথম সাক্ষী, আর ব্যাংক স্টেটমেন্ট হলো দ্বিতীয় সাক্ষী। অর্থাৎ কোন দাবীকে প্রমান করতে , কমপক্ষে দুইজন সাক্ষী দরকার। তা ছাড়া কোন দাবীকারীর দাবী প্রমানিত হয় না। সুতরাং মুহাম্মদ দাবী করছেন , যে কোরান হলো আল্লাহর বানী যা জিব্রাইল ফিরিস্তা তাকে দিয়ে যায়, সুতরাং এখানে মুহাম্মদ হলেন প্রথম সাক্ষী। এখন মুহাম্মদকেই দ্বিতীয় সাক্ষী হাজির করে প্রমান করতে হবে যে কোরান সত্যি সত্যি আল্লাহর বানী যা জিব্রাঈল ফিরিস্তা মাঝে মাঝে এসে তাকে দিয়ে যায়। তো সেই দ্বিতীয় কোন সাক্ষী আছে মুহাম্মদের ?

দীর্ঘ ২৩ টা বছর ধরে মুহাম্মদের কাছে জিব্রাইল ফিরিস্তা মুহাম্মদের চাহিদা মোতাবেক আল্লাহর বানী দিয়ে গেছে , মুহাম্মদ প্রথম সাক্ষী, কিন্তু কোন দ্বিতীয় সাক্ষী আছে যে জিব্রাাইল ফিরিস্তাকে কোনদিন মুহাম্মদের কাছে আসতে দেখেছে ?
দুর্ভাগ্যজনকভাবে উত্তর হচ্ছে , না , নেই। কোন দ্বিতীয় সাক্ষী নেই। অর্থাৎ মুহাম্মদ নিজেই বলছেন যে কোরান আল্লাহর বানী , আবার সেই কোরান বলছে মুহাম্মদ হলো আল্লাহর রসুল। যা আসলে একটা লজিক্যাল ফ্যালাসী, অর্থাৎ দুটো বক্তব্যের দাবীদারই হলো মুহাম্মদ একা , দ্বিতীয় কোনই সাক্ষী মুহাম্মদ হাজির করতে পারেন নি। বিষয়টা এরকম—-

কোরান== মুহাম্মদের বানী = মুহাম্মদ দাবী করছেন আল্লাহর বানী = কোরান বলছে মুহাম্মদ নবী= মুহাম্মদ নিজেই নিজেকে নবী দাবী করছেন

তাহলে অন্যান্য নবীদের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় সাক্ষী কোথায় ? আসলে অন্যান্য নবীদের ক্ষেত্রেও কোন প্রত্যক্ষ দ্বিতীয় সাক্ষী ছিল না। তবে পরোক্ষ দ্বিতীয় সাক্ষী ছিল্, অন্তত: বাইবেলে সেরকমই দেখা যায়। যেমন – একজন নবী অবশ্যই অলৌকিক ঘটনা ঘটাতে পারবেন, যাকে মোজেজা বলে। আর সেই অলৌকিক ঘটনা প্রত্যক্ষ করবে , বহুজন, শত শত এমনকি হাজার হাজার মানুষ। আর তাহলেই প্রমানিত হবে , নবুয়ত্ব দাবীকারীর দাবী সঠিক। মূসা নবীর ক্ষেত্রে সেই দ্বিতীয় সাক্ষী বহু , যেমন – ফেরাউনের দরবারে লাঠিকে সাপে পরিনত করা , সিনাই পাহাড়ের ওপরে আগুন সদৃশ ঈশ্বরের সাথে সাক্ষাত করা, সাগর দুইভাগ করে তার মধ্য দিয়ে লক্ষ লক্ষ অনুসারীদেরকে নিয়ে পার হয়ে যাওয়া ইত্যাদি। যীশু বা ঈশা অন্ধকে , খোড়া, কুষ্টরোগীকে সুস্থ করত, মৃতকে জীবিত করত এমন কি মাটি দিয়ে তৈরী পাখিতে জীবন দিত ইত্যাদি। বলা বাহুল্য, এর প্রতিটা ঘটনারই হাজার হাজার প্রতক্ষ্য দর্শী সাক্ষী ছিল, যা খুব সুন্দর করে লেখা আছে তৌরাত বা গসপেলে। সুতরাং সেই হিসাবে আমাদেরকে দেখতে হবে , মুহাম্মদের এ ধরনের কোন পরোক্ষ কোন দ্বিতীয় সাক্ষী ছিল কি না। মক্কা বা মদিনায় যেসব ইহুদি খৃষ্টানরা বাস করত , তারা কিন্তু বার বার মুহাম্মদের এই পরোক্ষ দ্বিতীয় সাক্ষীর তালাশ করত। কারন তারা পূর্বোক্ত নবীদেরকে বিশ্বাস করত , আর তারা এটাও বিশ্বাস করত যে সেইসব নবি একের পর এক অলৌকিক ঘটনা প্রদর্শনের দ্বারা নিজেদেরকে নবী হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। তাই তারা মুহাম্মদকে মোজেজা দেখানোর জন্যে চ্যালেঞ্জ করত , যা দেখা যায় কোরানেই –

সুরা আল আনআম- ৬: ৩৭: তারা বলেঃ তার প্রতি তার পালনকর্তার পক্ষ থেকে কোন নিদর্শন অবতীর্ণ হয়নি কেন? বলে দিনঃ আল্লাহ নিদর্শন অবতরণ করতে পূর্ন সক্ষম; কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানে না।

দেখুন কি বলছে। ইহুদি খৃষ্টানরা যখন মুহাম্মদকে কোন মোজেজা দেখাতে বলত , যা দেখিয়েছিল মুসা বা অন্যান্য নবী , তখন সেই কোরানই বলছে আল্লাহ মোজেজা দেখাতে সক্ষম। তা তো বটেই আল্লাহ তো সব কিছুই করতে সক্ষম , কিন্তু সেটা তো ইহুদি খৃষ্টানরা জানতে চাচ্ছে না , তারা দেখতে চাচ্ছে মুহাম্মদের মোজেজা, যা কি না তার নবুয়ত্বের প্রমান। মুহাম্মদ সেটা দেখাতে পারছেন না। মুহাম্মদ সেটাতো দেখাতে পারছেনই না , এর পরেই নানারকম আগডুম বাগডুম কথা বলে যাচ্ছেন , সেটা দেখা যায় এর পরের আয়াতগুলোতেই –

সুরা আনআম- ৬: ৩৮: আর যত প্রকার প্রাণী পৃথিবীতে বিচরণশীল রয়েছে এবং যত প্রকার পাখী দু’ ডানাযোগে উড়ে বেড়ায় তারা সবাই তোমাদের মতই একেকটি শ্রেণী। আমি কোন কিছু লিখতে ছাড়িনি। অতঃপর সবাই স্বীয় প্রতিপালকের কাছে সমবেত হবে।

আর এর পরে এমন কথা বললেন যা আসলে সত্য না। যেমন –

আনআম- ৬: ৩৯: যারা আমার নিদর্শনসমূহকে মিথ্যা বলে, তারা অন্ধকারের মধ্যে মূক ও বধির। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা সরল পথে পরিচালিত করেন।

এখানে আমার নিদর্শনসমূহ বলতে বুঝাচ্ছে আল্লাহর নিদর্শনসমূহ। ৬:৩৮ নং আয়াতে যে বিভিন্ন ঘটনার কথা বলা হলো সেগুলোই হলো এই নিদর্শনসমূহ। তো প্রশ্ন হলো – ইহুদি বা খৃষ্টান কেউই কিন্তু তাদের ঈশ্বরের নিদর্শনে অবিশ্বাস করে না , অর্থাৎ তারাও বিশ্বাস করে , যে সারা বিশ্বে যা কিছু আছে সবই ঈশ্বরের সৃষ্টি, অথচ কোরান বলছে তারা নাকি এসব নিদর্শনসমূহ অবিশ্বাস করে, কি অদ্ভুত চিন্তা ভাবনা বা জোর করে একজনকে দোষারোপ করা !

এরপর দেখা যাক নিচের আয়াত –

সুরা বাকারা -২:১১৮: যারা কিছু জানে না, তারা বলে, আল্লাহ আমাদের সঙ্গে কেন কথা বলেন না? অথবা আমাদের কাছে কোন নিদর্শন কেন আসে না? এমনি ভাবে তাদের পূর্বে যারা ছিল তারাও তাদেরই অনুরূপ কথা বলেছে। তাদের অন্তর একই রকম। নিশ্চয় আমি উজ্জ্বল নিদর্শনসমূহ বর্ণনা করেছি তাদের জন্যে যারা প্রত্যয়শীল।

এখানেও ইহুদি খৃষ্টানরা আবারও মুহাম্মদকে তার মোজেজা দেখাতে বলছে , কিন্তু কোরান বলছে মুহাম্মদের আগের লোকরাও এভাবে নবী দাবীকারীদের কাছে মোজেজা দেখার জন্যে দাবী জানাত । ঠিকই তো , রাস্তার যে কোন ল্যাংটা পাগল ছাগলেই তো নিজেকে দেশের রাজা দাবী করতে পারে , তাহলেই কি তাকে রাজা বলে বিশ্বাস করতে হবে ? আর এরপরেও মুহাম্মদ কিন্তু কোন মোজেজা দেখাতে পারছেন না , অর্থাৎ ইহুদি খৃস্টানদের চ্যালেঞ্জের কাছে মুহাম্মদ বার বার তার দ্বিতীয় সাক্ষী হাজির করতে ব্যর্থ। এভাবে দ্বিতীয় সাক্ষী হাজির করতে ব্যর্থ হয়ে কিভাবে মুহাম্মদ নিজেকে নবী দাবী করতে পারে , কিভাবেই বা কোরানকে আল্লাহর কিতাব বলে প্রমান করতে পারে ?

চলবে=============================

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৭ thoughts on “কোরান কার বানী ? মুহাম্মদের , নাকি আল্লাহর ? পর্ব-১

  1. যেই কোরান ১৪০০ বছর যাবত
    যেই কোরান ১৪০০ বছর যাবত মানুষকে বিভ্রান্ত করে রাখতে পারছে, সেই কোরান আমাদের খুব মনযোগ দিয়ে পড়া উচিত নয় কি?

    লিংক কোরান

    1. ঠিক কথা। সেই কোরানকে মনযোগ
      ঠিক কথা। সেই কোরানকে মনযোগ দিয়েই পড়া উচিত। আর সেটা করতে গিয়েই তো সমস্যায় পড়ছি। আসলে মনযোগ না দিয়ে পড়াতে ছোয়াব বেশী ,তাতে কোন প্রশ্ন জাগবে না। তাই সমস্যা নেই। যেমন ছিল না গত ১৪০০ বছর ধরে।

  2. আরবের মরুবাসী নিরক্ষর, অখ্যাত
    আরবের মরুবাসী নিরক্ষর, অখ্যাত- অজ্ঞাত একজাতির একজন মানুষ আজ থেকে ১৪০০ বছরেরও আগে এমন এক কিতাব নিজ হাতে রচনা করে গেছেন যে সেটা নিয়ে আজও হাজার হাজার নাস্তিকের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। আর বংশপরম্পরায় সেই থেকে সেই কিতাবের অনুসারীরা বাড়তে বাড়তে এখনও সংখ্যায় ১৬০ কোটির অস্তিত্ব ধরে রেখেছে। কী আজব এক বই লিখে গেছেন নিরক্ষর লোকটি। অথচ আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞানের যুগের লেখকরাও এমন একটা বই লিখতে পারল না। ইউরোপের লেখকরাও এমন ভক্ত তৈরি করতে পারল না।
    তিনি এমন যাদুই করেছেন যে ১৪০০ বছর পরেও সেই যাদুর কার্যকরীতা রয়ে গেছে। আমাদের উচিত এত বড় ভেল্কিবাজের ভেল্কি ত্যাগ করে হালকা পাতলা, মোহাম্মদ বিরোধীদের কথা মেনে নেওয়া।

  3. আরবের মরুবাসী নিরক্ষর, অখ্যাত
    আরবের মরুবাসী নিরক্ষর, অখ্যাত- অজ্ঞাত একজাতির একজন মানুষ আজ থেকে ১৪০০ বছরেরও আগে এমন এক কিতাব নিজ হাতে রচনা করে গেছেন যে সেটা নিয়ে আজও হাজার হাজার নাস্তিকের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। আর বংশপরম্পরায় সেই থেকে সেই কিতাবের অনুসারীরা বাড়তে বাড়তে এখনও সংখ্যায় ১৬০ কোটির অস্তিত্ব ধরে রেখেছে। কী আজব এক বই লিখে গেছেন নিরক্ষর লোকটি। অথচ আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞানের যুগের লেখকরাও এমন একটা বই লিখতে পারল না। ইউরোপের লেখকরাও এমন ভক্ত তৈরি করতে পারল না।
    তিনি এমন যাদুই করেছেন যে ১৪০০ বছর পরেও সেই যাদুর কার্যকরীতা রয়ে গেছে। আমাদের উচিত এত বড় ভেল্কিবাজের ভেল্কি ত্যাগ করে হালকা পাতলা, মোহাম্মদ বিরোধীদের কথা মেনে নেওয়া।

    1. নাস্তিকের ঘুম তো হারাম হয় নি।
      নাস্তিকের ঘুম তো হারাম হয় নি। হারাম হয়ে গেছে দুনিয়ার সব মুমিনের। তারা সামান্য কয়টা নাস্তিকের লেখা ও বক্তৃতার উত্তর দিতে না পেরে হাতে চাপাতি , বোমা বেল্ট, গাড়ী বোমা নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ছে।

      প্রকাশ্যে একটু ইসলামের সুযোগ দিয়ে দেখেন । তাহলে দেখবেন ইসলামের কি অবস্থা হয়।

  4. আল্লা মুহাম্মদ বুঝেন না ; তাই
    আল্লা মুহাম্মদ বুঝেন না ; তাই না ???? আব্রাহাম বুঝেন ??? গেব্রিয়াল বুঝেন ??? আপনে কি ডাক্তার শহিদুল্লা নাকি পাগল ????? ছাগল হবেন কবে ?????

  5. VAI SALER MUHAMEED 1400 YEAR
    VAI SALER MUHAMEED 1400 YEAR POREO ATO FAMUS J APNI TER GUNOGAN KORCHEN BT APNER AI MOHAN LIKHER JNNO 14 DIN O KEU APNAKE KEU MONE RAKBE NA , VAI JOTO BESHI MUHAMMED K NIA LIKBEN OI PAGLA LOK TA TOTO FAMOUS HOYE JABEN . VAI ASHOLE APNER SOKOL JUKIT GULAI OLD. NEW KICHU NIA POST LIKHEN.AI JEMON SEX EDUCATION , KIVABE EARTHQUAKE THEKE ROKKHA PAWA JAY

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

71 + = 81