জঙ্গিবাদ দমনে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ

?w=627&h=375″ width=”400″ />

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে একটি খোলা চিঠিতে বলেছিলাম যে- যদি টুপি-দাঁড়ি, পাগড়ী-পাঞ্জাবী মার্কা বকধার্মিকদের বিষয়ে তিনি নীরব ও উদাসীন থাকেন তাহলে অতি শীঘ্রই এ দেশ পরিণত হবে পাকিস্তানে; নজরুল, লালন, আওলিয়াদের এ সোনার বাংলা ধীরে ধীরে চলে যাবে জঙ্গী-জংলীদের দখলে । ঢাকা গুলশানে নৃশংস হত্যাকান্ডের ঘটনার মধ্য দিয়ে বোধহয় সেটারই অভিষেক ঘটলো একটু বড়সড় করে ।

দেশের রাজনৈতিক নেতা-নেত্রী বা বুদ্ধিজীবীদের কথা জানি না, কিন্তু সুফি তরিকাভুক্ত অনেক সাধু গবেষকরাই এইসব বোমাবাজ, ফতোয়াবাজ, মাইকবাজ, অনুষ্ঠানবাদী মোল্লাদের সম্পর্কে জগতবাসীকে আগাম সতর্ক বার্তা দিয়ে আসছেন বহুকাল ধরেই তাঁদের বক্তব্য, কবিতা, গান, প্রবন্ধ ও লেখার মাধ্যমে । কিন্তু পরিতাপের বিষয়, সাধু-গবেষকদের সে সতর্ক বার্তায় দেশের বুদ্ধিজীবী ও রাষ্ট্রপরিচালকদের কেউ কর্ণপাত করে নি কোন কালেই । বরং এইসব মাইকবাজ ও অনুষ্ঠানবাদী মোল্লাদের চক্রান্তের শিকার হয়ে উল্টো সুফিবাদীদের বিরুদ্ধে তারা অবস্থান নিয়েছে; বকধার্মিক মোল্লাদের কথায় তারা সুফি মাহফিল, ওরশ, সামা মাহফিল ইত্যাদি প্রশাসন দিয়ে বন্ধ রেখেছে; প্রচলিত অধর্মের বিরুদ্ধে সুফি-সাধকদের লিখিত মূল্যবান রচনা সমূহকে তারা বাজেয়াপ্ত করেছে । ফলে প্রকৃত সত্যদর্শন, মোহাম্মদী ধর্মশিক্ষা কোণঠাসা হয়ে পড়ে, আর সেই সুযোগেই মোহাম্মদী ইসলামের সাইনবোর্ডে মূলত এজিদী-ইসলাম মাথা উচু করে দাঁড়াতে সক্ষম হয় এবং ইসলামের নামে এক অধর্ম অলি-আওলিয়ার এ দেশে শাখা-প্রশাখা গজিয়ে তলে তলে শক্তিশালী হয়ে এখন সরকার ও সমগ্র দেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে ।।

আমরা বুঝি না- এ দেশের মন্ত্রীপরিষদ, ধর্মবিশারদ, বুদ্ধিজীবী, আইনজীবী, শিক্ষক মহোদয় ও প্রশাসনের লোকেরা ইসলাম ধর্ম বলতে কী মনে করেন? আমরা অনুমান করি- রসুলাল্লাহ প্রদত্ত মোহাম্মদী ধর্মদর্শন সম্পর্কে তারা মোটেও অবগত নন । তারা বোধহয় টুপি-দাঁড়ি-পাঞ্জাবি (সেলোয়ার-কামিছ) মার্কা আনুষ্ঠানিক ধর্মচর্চাকেই প্রকৃত ইসলাম বলে বিশ্বাস করে বসে আছেন । যদি তাই না হবে, তাহলে ধর্মের লেবাসে ঘাপটিমেরে থাকা ধর্মান্ধ মোল্লারা সমগ্র বিশ্বে একের পর এক অঘটন রটিয়ে যাবার পরেও তাদের বিরুদ্ধে জগৎবাসী হাত গুটিয়ে রেখেছে কেন? তাদের এজিদী ধর্মচর্চার বিরুদ্ধে সবাই এত নিশ্চুপ কেন? ঢিলা-লম্বা জামা, টুপি-দাঁড়ি হিজাব, পাগড়ির প্রতি মানুষের কেন এত দূর্বলতা? এই এজিদী লেবাসের প্রতি কেন এত শ্রদ্ধা-ভক্তি? ওসবকে কবে, কখন, কোথায়, কোন ধর্ম গ্রন্থে ইসলামের চিহ্ন বলে ঘোষণা করা হয়েছে ?

মনসুর হাল্লাজ, ইবনুল আরাবী, উমর খৈয়াম, বু-আলী কলন্দর, আমির খসরূ, রুমী, হাফেজ, লালন, ইকবাল, নজরুল সহ পৃথিবীর সকল ধর্মীয় মহাপুরুষ, কবি, দার্শনিক, জ্ঞানী-বুদ্ধিজীবীরা এই টুপি-দাড়ির বিরুদ্ধে সারাটি জীবন সংগ্রাম করে গেছেন । কারণ এই টুপি-দাড়ি, হিজাব, পাগড়ী, বগলে কোরান, হাতে তাসবিহ ইত্যাদি ছিল নবির চিরশত্রু মারোয়ান-মুয়াবিয়া-এজীদদের ধর্মীয় লেবাস । এরাই ইসলাম ধর্মে এইসব আমদানী করেছে; অন্তর-আত্মা হতে মোহাম্মদী ধর্মকে টেনে বের করে এনে মোনাফেকরা শুধুমাত্র লেবাস ও জামা-কাপরের মধ্যে ইসলামকে সীমাবদ্ধ করেছে । বলে রাখা প্রয়োজন, এরাই মহানবির দৌহিত্র ইমাম হোসাইনকে আল্লাহু-আকবার ধ্বনীতে জবাই করে আজান দিয়ে আসরের নামাজ আদায় করেছিল, যে ধারাবাহিকতায় ও একই ধ্বনীতে গুলশানেও হত্যাযজ্ঞ চালানো হয় । রসুলাল্লাহ (স.) প্রচলিত মৌলবাদ সম্পর্কে বলে গিয়েছিলেন: “ইসলাম ধর্মে এমন একটি দলের আবির্ভাব ঘটবে- যারা বেশি বেশি নামাজ পড়বে, যাদের মুখে থাকবে ঘন দাড়ি, এরা কোরান পড়বে অত্যধিক কিন্তু সে কোরান প্রবেশ করবে না তাদের গলঃদেশ । তারা ইসলাম হতে এমনভাবেই বেরিয়ে যাবে যেভাবে ধনুক হতে তীর বেরিয়ে যায় । আমি মুহাম্মদ যদি তাদের পেতাম তবে হত্যা করতাম আদ জাতির মত”!!

সুফিধারার ধর্ম গবেষক ও সাধুপুরুষেরা মৌলবাদ নিধনে, জঙ্গীবাদ দমনে যে সমস্ত পদক্ষেপগুলো নেবার প্রয়োজন মনে করে থাকেন তা এখানে তুলে ধরছি:

১. মাদ্রাসা শিক্ষা নিষিদ্ধকরণ:
মাদ্রাসা শিক্ষা বন্ধ করে দিতে হবে বিসমিল্লাহতেই । পৃথিবীর ইতিহাসে কোন নবি রসুল বা ধর্ম প্রবর্তক মাদ্রাসা শিক্ষাকে সমর্থন করেন নি এবং নিজেরাও ওটার মধ্যে ঢুকেন নি । ওটাই জঙ্গী তৈরির গুরুত্বপূর্ণ মেইন কারখানা । ওটার কোন প্রয়োজন নেই, ওটাই যত নষ্টের মূল । এখনকার মাদ্রাসা থেকে জ্ঞানী মানুষের পরিবর্তে বোমাবাজ, মাইকবাজরা আবির্ভূত হয় । মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থার পাঠ্যপুস্তকের সাথে ইসলাম ও আরব্য ভাষা চর্চার দুটি গ্রন্থের যোগ করে দিলেই যথেষ্ট । তারপর একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে ইসলামকে বিস্তারিতভাবে জানার ব্যবস্থা করে দিলেই হবে এবং সাথে ফার্সি ভাষা ও ফার্সি ভাষায় রচিত আধ্যাত্মিক কিতাব শিক্ষাকে যোগ করতে হবে এবং সুফি-দরবেশদের রচিত কিতাব পাঠদান বাধ্যতামূলক করে দিতে হবে । এ সবকিছুই থাকবে সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থার আওতাধীন, ইসলাম বা ধর্ম শিক্ষার জন্য আলাদা কোন শিক্ষা বোর্ড বা মাদ্রাসা লাইন থাকতে পারবে না । এতিমখানাগুলো থেকে ধর্ম শিক্ষার বই উঠিয়ে দিয়ে জেনারেল এডুকেশনের বই পাঠ্য করতে হবে । ধর্ম মূলত কাগজ কলমে শিক্ষার কোন বিষয় নয়, এটা উপলব্ধির বিষয়, তপস্যার বিষয় ।।

২. দাঁড়ি নিষিদ্ধকরণ:
মুসলিম রাষ্ট্র মিশরের ন্যায় এ দেশেও দাঁড়ি রাখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে । কারণ দাঁড়িকে পুঁজি করেই তারা অপকর্ম করে, জাতিকে বিভ্রান্ত করে । আর ধর্মের সাথে দাঁড়ির কোন যোগসূত্র নেই । দাঁড়ি ছিল তদানিন্তন পৌত্তলিক আরব সমাজে নেতা নির্বাচনের প্রধান মাপকাঠি । স্কেল বা ফিতা দিয়ে দাঁড়ি মেপে আরব দেশে নেতা নির্বাচন করা হতো । এ জন্য পৌত্তলিকদের মধ্যে আদিকাল থেকেই দাঁড়ির প্রতিযোগিতা চলতো । সেই থেকেই দাঁড়ি রাখা সামাজিক ও ধর্মীয় বিধান তথা সুন্নত(?) হিসেবে গুরুত্ব পেয়েছে । আবু জাহেলের দাঁড়ি সবচেয়ে লম্বা ছিল বিধায় তিনিই সমাজ নেতার দায়িত্ব পেয়েছিলেন । মহানবি নিজেই তো এই দাঁড়ির বিরোধীতা করেছেন । ৫৩ বছর বয়স পর্যন্ত নবির মুখে কোন দাঁড়ি ছিল না । দাঁড়ি ছিল না কবি নজরুলের; দাঁড়ি ছিল না পাকিস্তানের জাতীয় কবি আল্লামা ইকবালের । কবি ইকবালের দাঁড়ি না রাখার প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি ৫৩ বছর বয়সেও মহানবির দাঁড়ি না রাখার হাদিসটি বর্ণনা করেছিলেন । সুতরাং ধর্মীয় সুন্নত বলে কথিত এই দাঁড়ি রসুল কর্তৃক প্রবর্তীত নতুন কোন প্রথা বা ধর্ম বিধান নয় । বরং সেটা ছিল আরবদের স্বভাবধর্ম তথা ট্রেডিশন বা কালচার এবং সে যুগে নেতা নির্বাচনের মাপকাঠি মাত্র ।।

৩. ধর্ম গ্রন্থকে সাধারণের জন্য নিষিদ্ধকরণ:
যেখানে সেখানে ধর্মগ্রন্থ বিক্রয় বন্ধ করতে হবে । একমাত্র সরকারী লাইসেন্স প্রাপ্তরাই শর্তের ভিত্তিতে ধর্ম গ্রন্থ ক্রয়-বিক্রয় করতে পারবে । প্রকৃতপক্ষে ধর্মগ্রন্থ সাধারণের জন্য নয় । কারণ ধর্মগ্রন্থগুলো রূপক ভাষায় ভরপুর যা কোন মতেই সাধারণের পাঠযোগ্য নহে । তফসিরকারকগণ ধর্ম গ্রন্থের রূপক ভাষাকে ধরতে না পেরে কোরানের ভুল ব্যাখ্যা ও মনগড়া কথা ঢুকিয়ে দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করছে । আর এ ভুলে ভরা তফসির হাতে পেয়ে অশিক্ষিত মোল্লারা জন্ম দিয়ে চলেছে নানা দল ও মতবাদের । তাছাড়া কোরান হাদিসের একটি আয়াতকে বহুদিকে টেনে নেয়া যায়, ফলে- সাধারণ মানুষ ধর্মগ্রন্থ পাঠ করতে গিয়ে সঠিক পথ না পেয়ে উল্টো বিপথগামী হচ্ছে । উপমায়- কোরবানি বলতে একদল বুঝেছে পশু হত্যা, আরেকদল মানুষ হত্যা, আরেক দল বুঝেছে আত্মঘাতি হামলার মাধ্যমে নিজেই কোরবানি হয়ে যাওয়া । তাছাড়া নবি বংশের জাতশত্রুরা ইসলামী ক্ষমতায় একাধারে ৫৯০ বছর বহাল থাকার সময়টাতেই যত শয়তানী ষড়যন্ত্র করেছে মোহাম্মদী ধর্ম দর্শনের বিরুদ্ধে । হাদিস জালকরণ, কোরান সংকলন সহ নানা কায়দা কৌশলে ইসলামকে এক বিকৃত ধর্মে পরিণত করে বাজারে ছেড়ে দিয়েছে । যদি প্রশ্ন করা হয়- সৌদি সরকার আল্লাহর কোন হুকুমে এই কোরান মানুষের ঘরে ঘরে পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছেন ? মওলা আলী, হযরত আবুবকর, হযরত উমর, হযরত উসমান ও তৎপরবর্তী কোন খলিফা বা সম্রাটরাই তো সে উদ্যোগ নেবার প্রয়োজন মনে করে নাই ! সৌদি সরকারের কাছে কবে, কখন আল্লাহ অহি পাঠালো এ মহান(?) কর্তব্যটি পালনের জন্য ?

মূলত মানুষ পাঠ করবে নিজ-গ্রন্থকে (দেহ-কোরান); যা হাজার বছর আগে মহামানব সক্রেটিস বলেছিল: নিজেকে জানো; আবার মহানবিও এটাই বলেছেন: নিজেকে জানো, নিজেকে জানলেই আল্লাহকে চেনা-জানা হয়ে যায় (মান আরাফা নাফসাহু, ফাকাদ আরাফা রাব্বাহু)। কোরানও এটাই বলছে- মানবদেহই আসল কেতাব, ওটাকেই পাঠ করো, দেহের ভিতরে ভ্রমণ করো । যা আরও সহজ করে কবি নজরুল বলে গেছেন:
“তোমাতে রয়েছে সকল কেতাব, সকল কালের জ্ঞান;
সকল শাস্ত্র খুঁজে পাবে সখা, খুলে দেখো নিজ প্রাণ”!!

৪. বোরকা পাঞ্জাবি নিষিদ্ধকরণ:
মোল্লাদের ঢিলা লম্বা পোশাক যা দেখতে মেয়েদের পোশাকের মত- এসব পরিধান নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে । এগুলো মরু দেশের পোষাক । আরব দেশ শুষ্ক ও উত্তপ্ত মরুভূমির দেশ । সে দেশের লু-হাওয়ার উত্তপ্ত বালুকণা দেহে লাগলেই পুড়ে যায়; সে কারণেই আরববাসীরা ঢিলা-ঢালা জামা কাপরে আপাদামস্তক ঢেকে রাখে এবং প্রশস্ত রুমাল দিয়ে মাথাও ঢেকে রাখে; যাতে দুই কান ও চোয়াল ঢাকা থাকে । রুমালটি যাতে লু-হাওয়ায় উড়ে না যায়, সে জন্য ফিতার বেড়ি দিয়ে রাখে । এই নির্দিষ্ট পোষাক আরবের নির্দিষ্ট আবহাওয়া ও জলবায়ু অনুযায়ীই নির্দিষ্ট । কিন্তু ভিন্ন দেশ ও পরিবেশের পোশাক পরিধানের মাধ্যমে নবি মোহাম্মদ (স.) এর হুবহু নকল সেজে, কার্বনকপি সেজে নবির সাথে বেয়াদবী ও চরম ধৃষ্টতা দেখানোর কথিত সুন্নতকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে । নবির লেবাস ধরা নয়, বরং তাঁর স্বভাব বা আচরণ ধরতে হবে । পাশাপাশি মহিলাদেরকেও বোরকা, হিজাব, মুখ ঢাকা জাতীয় পোশাক পরিধান নিষিদ্ধ করতে হবে । ওসবকে আশ্রয় করেই তারা অপকর্ম করার সুযোগ পায় । আর কামনার উৎস মানুষের মন, সুতরাং পর্দার ব্যবস্থা করতে হবে মনের মধ্যেই । জামা-কাপরের মধ্যে কোন ইসলাম নেই, কোনে ধর্ম নেই । ধর্ম মনের বিষয় । স্রষ্টার অস্তিত্ব স্বীকার ও তাঁর সান্নিধ্য পেতে জীবের আকার আকৃতি, সাদা-কালো, টুপি-পাগড়ি, সুরমা আতর-আলখেল্লা, বোরকা-হিজাব, দাড়ি-মোছ ও চুলের কোন ভূমিকা নেই । হাদিসে উল্লেখ আছে: আল্লাহ মানুষের অন্তর দেখেন, দেহ কিংবা পোশাক পরিচ্ছদ নয়, এমনকি আমলগুলোও নয় । এ সম্পর্কে কোরান ঘোষণা করছে: হে আদমজাত ! তোমাদের লজ্জা নিবারণের জন্য ও বেশ-ভূষার জন্য পোশাক-পরিচ্ছদ দিয়েছি এবং ধর্মভীরুতাই সর্বোৎকৃষ্ট পরিচ্ছদ (সূরা আরাফ) ।।

৫. ওয়াজ মাহফিল নিষিদ্ধকরণ:
জঙ্গিদের মূলোৎপাটন করতে পাড়ায় পাড়ায়, মহল্লায় মহল্লায় ধর্মের বুলি আওড়ানোর নামে এইসব ওয়াজ মাহফিল বন্ধ করে দিতে হবে । ধর্মের বুলি শুনার জন্য ওয়াজের সিডিগুলোই যথেষ্ট । সৌদিআরব এত বড় মুসলিম দেশ হওয়া সত্ত্বেও আমাদের দেশের কাঠ মোল্লাদের মত তারা কোন ওয়াজ মাহফিল ও মাইকে এত শব্দদূষণ করে না । তারা শুধুমাত্র আজান দেয় তারপর নামাজ পড়ে মসজিদ ত্যাগ করে । বাংলাদেশের মোল্লাদের ন্যায় মাইক হাতে পেলেই ক্যানভাসারের মত ট্যাবলেট বিক্রি আরম্ভ করে দেয় না । আশ্চর্য ! মোল্লারাই বলে বেড়ায় ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করো না, অথচ এরাই বাড়াবাড়ির এ ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে । প্রচলিত মোল্লাদের সম্পর্কে রসুল (স.) এর নিম্নোক্ত হাদিসটি আমলে নেয়া হোক:
“মানবের তরে এমন একটি সময় আসবে তখন প্রকৃত ইসলাম থাকবে না, কেবল থাকবে তার খোলস ও রুসম । কোরান থাকবে না, কেবল থাকবে তার নাম । স্থানে স্থানে মসজিদ ঘর পাকা হবে, কিন্তু এর মধ্যে হেদায়েতের গন্ধও থাকবে না এবং ঐ জামানার আরবি ভাষার পন্ডিতগণ তথা মোল্লা-আলেমগণ চরিত্রহীন হবে । মোল্লারা ঝগড়া করবে, বিবাদ ও মতানৈক্য ভাব প্রচার করে জনসাধারণকে সত্য পথ (অলীদের পথ) হতে দূরে ফেলে দেবে । আকাশের নিচে তাদের মতো চরিত্রহীন আর কেউ হবে না”!!
(সূত্র: মেশকাত শরীফ)

৬. জামাতি ইসলামকে নিষিদ্ধকরণ:
যারা মনে করে জামা-কাপরের মধ্যেই ইসলাম নিহিত সেই দলটির নামই জামাতে ইসলাম । একাত্তরের রাজাকার এই জামাতীরাই মনে করে ইসলাম জামা-কাপর, টুপি দাড়ি ও অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ তাই তারা তাদের দলের নামটি বড় যতন করে রেখেছে জামাতে ইসলাম (অর্থাৎ জামা-কাপরে ইসলাম)। অলি আওলিয়া বিদ্বেষী বিপথগামী এই দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে যত দ্রুত সম্ভব । কেননা, এরাই কোরানের আয়াতের ভুল ব্যাখ্যা করে মানুষকে বিপথগামী করার এবং ধর্ম ও কোরানকে বিকৃত করার কাজকে অব্যাহত রেখেছে । মনের বিরুদ্ধে জেহাদ করার হাদিসকে ওরা বাইরের জেহাদ বলে চালিয়ে দিয়েছে; কোরানের কতল কর্ম বলতে নিজের ভিতরের পশুত্বকে হত্যার পরিবর্তে ওরা মানুষ হত্যা করা বুঝে নিয়েছে । তাই কবি আল্লামা ইকবাল অতি দুঃখ করে বলেছিলেন: “ওহে তফসিরকারকগণ, তোমরা কোরানের যে তফসির করেছো তা দেখে আল্লাহ, নবি ও জিবরীল পর্যন্ত তাজ্জব বনে গেছে”!!

৭. অহাবী মতালম্বীদের নিষিদ্ধকরণ:
নবি বিদ্বেষী ও অলি-আওলিয়া বিদ্বেষী সম্প্রদায় অহাবী দলটির সমস্ত কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে দিতে হবে । ইসলামের দাওয়াতের নামে মসজিদে মসজিদে পিকনিক করার নব্য ধর্মচর্চাটি বন্ধ করতে হবে; এর বিরুদ্ধে গ্রামে গঞ্জে, শহরের প্রতিটি মহল্লা ও মসজিদে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে । কোরানে একটি আয়াত রয়েছে যে, তোমরা আপন দেহ নামক পৃথিবীতে চার মাস ভ্রমণ করো । অর্থাৎ চার মাস গভীর সাধনায় আত্মনিয়োগ করার নির্দেশ দিচ্ছে যা মহানবি হেরাগুহায়, বায়েজিদ বদ্ধ কোঠায়, শেখ ফরিদ জঙ্গলায় গভীর সাধনা করে দেখিয়ে গেছেন, কিন্তু অহাবীরা কোরানের সেই চারমাস ভ্রমণকে (দেহের ভিতরে) মসজিদে মসজিদে গাট্টি নিয়ে বনভোজন করা বলেই ধরে নিয়েছে । ধর্মের বিভ্রান্তি নিরসনে অবশ্যই অহাবী মতবাদকে নির্মূল করতে হবে । এরাই মহানবিকে মানুষের কাছে সাধারণ বানিয়ে রেখেছে । তলে তলে ওরা আরও ভয়ংকর । ধর্ম-কথায়, আচরণে ওদের মুখে মধু কিন্তু ভিতরে ভিতরে ওরা ধর্মের গুটকাটা ইঁদুর ।।

৮. মৌলবাদ নিষিদ্ধকরণ:
এ দেশে ইসলামের বার্তা ও দাওয়াত নিয়ে কোন নবি-রসুল আসে নি, কোন সাহাবাদেরও আগমন ঘটে নি, আসে নি কোন তাবেঈন কিংবা তাবে-তাবেঈন; আমাদের এ উপমহাদেশে ইসলামের দাওয়াত নিয়ে, ধর্মের বার্তা নিয়ে এসেছিল অলি-আওলিয়া, সুফি-দরবেশগণ । অথচ মৌলবাদীরা সেই আওলিয়াদেরই পথ ও মতাদর্শের বিরোধীতা করে, সুফি-দরবেশের মাজারে বোমাবাজি করে । আশ্চর্য ওরা কত বড় মোনাফেক ! যাদের মাধ্যমে আমরা ধর্ম পেয়েছি, যারা এ দেশে ইসলামের বার্তা নিয়ে এসেছে মোল্লারা তাদেরই বিরুদ্ধাচারণ করে আসছে যুগ যুগ ধরে; সুতরাং প্রচলিত মৌলবাদ যে সম্পূর্ণ বিপথগামী একটি মতবাদ তা এ থেকেই প্রমাণিত হয়, এর মাধ্যমেই তাদের মুখোশ উন্মোচন হয়, এখানেই তাদের সকল ভন্ডামী ধরা পড়ে যায় । সুতরাং ৩৬০ আওলিয়ার এই বাংলায় বসবাস করে যে মৌলবাদ আওলিয়ার বিরুদ্ধেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চায়, সে মৌলবাদকে এই দেশে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হোক ।।

৯. টিভি পর্দায় মৌলবাদী প্রচারনা নিষিদ্ধকরণ:
ওয়াজ মাহফিল বন্ধের পাশাপাশি টিভি চ্যানেলের মাধ্যমে মৌলবাদ ও অহাবি ইজমের প্রচার কার্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে । রেডিও টিভি চ্যানেলে বসে ধর্মের বুলি আওড়ানোর কোন দরকার নেই, এসবে আরও বিভ্রান্তি ছড়ায় । টিভি পর্দাকে আশ্রয় করে ছদ্মবেশী কিছু মুফতি-মাওলানারা ফেকাহ শাস্ত্রের মাসআলা-মাসায়েল দিয়ে মানুষকে বিপথে নিয়ে যাচ্ছে । আর সাধারণ মানুষগুলোও খুব সহজেই তাদের সেই টোপ গিলে খাচ্ছে; তাদের মিষ্টি কথার খপ্পরে পড়ে বিভ্রান্তির কলে পা দিচ্ছে । মোল্লারা ধর্ম বিষয়ে যে সমস্ত চিন্তা ও গবেষণা করে যাচ্ছে, মূল সত্য হতে বহু দূরে তার অবস্থান ! ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে হবে, স্বাধীনতা যুদ্ধে রাজাকারদের মধ্যে যারা ছিল তাদের বেশিরভাগই ছিল মোল্লা-মুন্সীর দল । সুতরাং সেইসব রাজাকার আল-বদরদের টিভি পর্দায় মুখের লেজ নাড়িয়ে কথা বলার সুযোগ করে দেয়ার কোন মানেই হয় না । কবি নজরুলের ভাষায়: “মানুষ আজ পশুতে পরিণত হয়েছে, পশুর লেজ গজিয়েছে ওদের মাথার উপর, ওদের সারা মুখে”!! (কবি নজরুল এইসব মোল্লাদের পাগড়ি দাঁড়িকে পশুর লেজের সাথে তুলনা করেছেন)।

১০. মসজিদের নামে পাথর পূজা নিষিদ্ধকরণ:
মসজিদের সংখ্যা কমিয়ে আনতে হবে । কারণ ইট পাথরের ঘরকে কোরানে আল্লাহর ঘর বলা হয় নাই; আল্লাহর নির্মিত গৃহ মানবদেহ, ওটাই আল্লাহর ঘর, মানুষেই আল্লাহর অবস্থান, যার দলিল কোরানের অসংখ্য আয়াতে রয়েছে । ধর্মের যেসব দালান কোঠা মানুষে মানুষে বিভেদ সৃষ্টি করে, মানুষকে বলতে শেখায়- তুই আলাদা, আমি আলাদা সে সব দালান কোঠার কোন প্রয়োজন আছে বলে জ্ঞানীরা মনে করেন না- তা যত গুরুত্বপূর্ণই হোক না কেন । কেননা মানুষের চেয়ে বড় কোন মন্দির কাবা নেই, মহীয়ান কিছু নেই (ঐশীমত) । কিতাবে বর্ণিত আছে, ইমাম মাহাদী এসে নাকি মৌলবাদের আড্ডাখানা মসজিদগুলোকেই আগে ভেঙ্গে ফেলবেন । যা কবি নজরুলের ভাষায়: সেই রুদ্র আসিতেছেন, যিনি ধর্ম-মাতালদের আড্ডা ঐ মন্দির-মসজিদ-গীর্জা ভাঙ্গিয়া সকল মানুষকে এক আকাশের গম্বুজ-তলে লইয়া আসিবেন । জানি, স্রষ্টার আপনি-মোড়ল ‘প্রাইভেট সেক্রেটারি’রা হ্যাট খুলিয়া, টুপি তুলিয়া, টিকি নাচাইয়া আমায় তাড়না করিবে, তবু ইহাদের পতন হইবে । ইহারা ধর্ম-মাতাল । ইহারা সত্যের আলো পান করে নাই, শাস্ত্রের এলকোহল পান করিয়াছে । মুহাম্মদকে যাহারা মারিয়াছিল, ঈসা-মুসাকে যে সব ধর্ম-মাতাল প্রহার করিয়াছিল, তাহাদেরই বংশধর আবার মারিতেছে মানুষকে, ঈসা-মুসা-মুহাম্মদের মত মানুষকে !!

উপসংহার:
যদি এসব পদক্ষেপে মৌলবাদ বিলুপ্ত না হয়, বকধার্মিকদের দমন করা না যায় তাহলে তুরস্কের জাতির পিতা কামাল পাশার নীতিকে অনুসরন করতে হবে । তুরস্কে যখন মৌলবাদ তীব্র মাত্রায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠে; ধর্মান্ধ মোল্লা-মুন্সীর দলেরা যখন দেশকে বিভ্রান্তি ও কুসংস্কারের সাগরে ডুবিয়ে দেয়, তখন কামাল আতা তুর্ক জরুরী মিটিংয়ের কথা বলে তার দেশের সকল মোল্লা-মুন্সিকে দাওয়াত করে নিয়ে জাহাজে করে সমুদ্রের গভীরে হাজার মাইল দূরে এক নির্জন দ্বীপে তাদের (মোল্লাদের) নির্বাসন দিয়ে আসে । আর সমুদ্র-পথে যাতায়াতরত সকল জাহাজকে নিষেধ করে দেয় ঐ দ্বীপের কয়েকশত মাইল ঘেষেও যেন কোন জাহাজ চলাচল না করে, যদি এমনটা করে তাহলে বোমারু বিমান দিয়ে সে জাহাজ ধ্বংস করে ফেলার হুমকি দেয় । তখন সে দেশের মৌলবাদ আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠার সাহস করে নি । আমরা মনে করি মৌলবাদ দমনে কামাল পাশা এ বিশ্বের মহান এক আদর্শ । একটি বিপথগামী জাতিকে বিলুপ্ত করতে এবং কোটি কোটি মানুষকে এই বিপথগামীতার হাত থেকে বাচাতে কামাল আতা তুর্কের দৃষ্টান্তকেই অনুসরণ করা উচিৎ । তাই কবি নজরুল গেয়েছেন: “এ দেশের নাড়ীতে নাড়ীতে অস্থিমজ্জায় যে পচন ধরেছে তাতে এর একেবারে ধ্বংস না হলে নতুন জাত গড়ে উঠবে না । নতুন করে ভিত্তি না গাঁথলে তার উপর ইমারত যতবারই খাড়া করা হোক না কেন তা ততবারই পড়ে যাবে”!!

সরকার যদি মৌলবাদ দমনে এ পদক্ষেপগুলো নিতে ব্যর্থ হন তবে সেই দিন বেশি দূরে নয় যেদিন সরকারকেই জঙ্গীদের হাতে জীবন দিতে হবে । শুধুমাত্র দেশ ও জনগণের স্বার্থে নয়, বরং সরকারের আপন অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য হলেও মৌলবাদী সকল সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে, মৌলবাদকে নির্মূল করতে হবে । সরকারের একার শক্তিতে সম্ভব না হলে মৌলবাদ ও জঙ্গী বিরোধী দেশগুলোর সাহায্য-সহায়তা নেয়া যেতে পারে ।

পরিশেষে বলবো, শুধু সরকারকে একা পদক্ষেপ নিলেই হবে না, এ দেশের প্রতিটি পির ও দরবারকে মাঠে নামতে হবে । তা না হলে বিভিন্ন তরিকাভুক্ত পির সাহেবেরাই বেশি বিপদে পড়বেন সামনের সময়গুলোতে । প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব তার মাতৃভূমিকে রক্ষা করার; তাই প্রত্যেক জনগণকে চোখ-কান খোলা রাখতে হবে । জঙ্গী বলে কাউকে সন্দেহ হলেই গোপনে সরকারকে জানাতে হবে, এমনকি সে পরিবারের সদস্য হলেও ।

বড় কষ্ট হয়, বুকটা ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায় যখন ভাবি- আমাদের এই দেশটা স্বাধীন হয়েছে ঠিকই, কিন্তু আমরা আজও স্বাধীন হতে পারিনি । একদল বক ধার্মিকের কাছে আমরা এখনও পরাধীন হয়েই আছি । আমরা চাই সুফি-দরবেশের এ দেশটি মৌলবাদ ও জঙ্গীবাদ মুক্ত একটি ভাববাদী ও সাম্যবাদী সোনার বাংলায় পরিণত হোক; মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ ভিক্ষা চেয়েছি অতীতেও, এখনও ভিক্ষা চাই…!!

ইশারা ইঙ্গিত – ২:
রসুলের বার্তা:
“মোল্লা আলেমদের মধ্য হতে দজ্জাল দল আবির্ভূত হবে, তারা বিরাট বাহিনী, প্রতি ঘরে ঘরে ঢুকবে, সকলের ইমান নষ্ট করবে”।
ঐশী মানব নজরুলের বার্তা:
“কোথা খোঁজ মুসলিম শুধু বুনো জানোয়ার;
যে বলে মুসলিম জিভ ধরে টানো তার;
দুনিয়াতে সে মুসলিম আজ পোষা জানোয়ার”!
সুফি কবি ইকবালের বার্তা:
“মুশরিক আজ মুসলিম বেশে করিতেছে কোলাহল”!

ইমাম গাজ্জালী (র.) ব্যক্ত করেন:

“সেই ব্যক্তি ইসলামের আসল বিষয় তথা মূল জ্ঞান কিছুই বুঝতে বা জানতে পারে না- যে ব্যক্তি কেবল ফেকাহ শাস্ত্রের মাসআলা-মাসায়েল নিয়ে পড়ে থাকে । এরূপ ভুল ধারণায় মোল্লা-আলেমগণ নিজেরা তো বিভ্রান্তিতে পড়ছেই এবং সহজ সরল মানুষগুলোকেও বিভ্রান্তিতে পড়বার ব্যবস্থা তৈরি করে রেখে যাচ্ছে; যার ফলে সাধারণ মানুষগুলো এই মাসআলা-মাসায়েলকেই ইসলামের মূলনীতি জেনে এরই মধ্যে সারাটি জীবন কাটিয়ে দিচ্ছে বৃথায়”!

নজরুল গেয়েছেন:
মানুষেরে ঘৃণা করি,
ও’কারা কোরান বেদ বাইবেল চুম্বিছে মরি মরি?
ও’মুখ হইতে গ্রন্থ কেতাব নাও জোর করে কেড়ে,
যাহারা আনিল গ্রন্থ সেই মানুষেরে মেরে !!
পূজিছে গ্রন্থ ভন্ডের দল- মূর্খরা সব শুনো,
মানুষ এনেছে গ্রন্থ- গ্রন্থ আনে নি মানুষ কোনো ।।

-ফরহাদ রহমান

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 71 = 78