বাংলাদেশে আসলে মুসলমান শতকরা ২৫-৩০ ভাগ। বাকী সবই মুসলমান-নামধারী ভণ্ড (প্রথম পর্ব)

বাংলাদেশসহ ভারতীয় উপমহাদেশে ও আরব-রাষ্ট্রগুলোতে এখন শুধু গায়ের জোরে মুসলমানিত্বপ্রকাশ করা হচ্ছে। আর পৈতৃকসূত্রেপ্রাপ্ত একটি আরবি-নামের জোরে সবাই এখন মুসলমান! জোর করে নিজের একটা আরবি-নাম রাখতে পারলেই সে এখন মুসলমান। আর যে-কেউই এখন শুধু একটিমাত্র আরবি-নামের জোরে নিজেকে মুসলমান হিসাবে জাহির করছে। এছাড়া, এদের মধ্যে আর-কিছু নাই।
এরা এখন নামটি শুধু আরবি শব্দ দিয়ে আব্দুল অমুক, আব্দুল তমুক, আর মোহাম্মদ অমুক-তমুক রাখতে পারলেই বিরাটবড় এক মুসলমান হয়ে গেল! আর সে কিন্তু তার আগে-পরে অকাম-কুকাম একটিও ছাড়েনি। সে লোকদেখানো পাঁচওয়াক্ত বা মাঝে-মাঝে নামাজ আদায় করছে! কিন্তু সঙ্গে রেখেছে যাবতীয় অকাম—কুকামসহ বিবিধ শয়তানী! আর সে নিয়মিত ব্যভিচার করছে, মদ্যপান করছে, ঘুষ খাচ্ছে, সুদ খাচ্ছে, দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়িয়ে কালোটাকা গড়ছে, সুযোগ পেলে কিংবা সুযোগসৃষ্টি করে নিয়মিত ব্যভিচারের পাশাপাশি নারীধর্ষণ-অপকর্মও চালিয়ে যাচ্ছে, রাজনীতির নামে সংখ্যালঘু হিন্দুসম্প্রদায়সহ অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের ঘরবাড়িসহ জায়গাজমি রাতারাতি কিংবা দিনে-দুপুরে দখল করে নিচ্ছে। তবুও সে মুসলমান!

এরা মনে করে: শুধু একটিমাত্র আরবি-নাম রেখে আর জীবনে একবার কালেমা তৈয়্যেবাপাঠ করেই মুসলমান হওয়া যায়! এই আহাম্মকের দল মুসলমান কাকে বলে তা-ই তো জানে না! এরা মুসলমান হবে কীভাবে? শুধু একটি আরবি-নামকে পুঁজি করে রাতারাতি মুসলমান-সেজে এরা সমাজে-রাষ্ট্রে বুক-ফুলিয়ে হাঁটছে! এরা জঙ্গী হবে নাতো হবে কে?

মুসলমান হওয়া এতো সহজ? শুধু একটি আরবি-নাম রেখে নিজেকে দিনরাত মুসলমান হিসাবে জাহির কররেই হলো? কে তোমাকে মুসলমান বলে? আর কে তোমাকে মুসলমান বানিয়েছে? আর কে তোমাকে মুসলমান হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে? আর কীসের জোরেই বা তুমি নিজেকে মুসলমান বলতে চাইছো? এইসব প্রশ্নের উত্তর এই নামধারী-মুসলমান নামক আহাম্মকগুলো কোনোদিনই দিতে পারবে না। আসলে, এই মুসলমান-নামধারী শয়তানগুলো নিজেদের সারাজীবনের পাপ ও তাদের যাবতীয় অকাম-কুকামকে বহাল তবিয়তে চালু রাখতেই নিজেকে সমাজে ও রাষ্ট্রে জোর করে মুসলমান হিসাবে পরিচয় দিচ্ছে। কিন্তু এরা কেউই মুসলমান নয়।

আসুন, আমরা জানি: মুসলমান কাকে বলে?

১. যে ব্যক্তি চিরদিন মহান আল্লাহ ও তাঁর পবিত্র রাসুল সা.-এর প্রতি বিশ্বাস, আস্থা ও আনুগত্য রাখে সে-ই মুসলমান। কথা সত্য। কিন্তু বিশ্বাস ও আস্থা বাস্তবজীবনে সবসময়—মানে, ২৪ ঘণ্টা একইভাবে ধরে রাখতে হবে।
২. একজন মুসলমানকে অবশ্যই ‘ঈমানে মুফাস্সালে’র প্রতি চিরদিন আস্থা রাখতে হবে।
৩. জীবনে-মরণে একজন মুসলমান কখনও মিথ্যাকথা বলবেন না।
৪. মুসলমান সবসময় যাবতীয় পাপকার্য থেকে নিজেকে বিরত রাখবে।
৫. একজন মুসলমান জীবনে কখনও একই পাপ দুইবার করবে না।

একজন মুসলমানকে আরও যা-যা করতে হবে:

মুসলমান কখনও মানুষহত্যা করবে না।
মুসলমান কখনও ঘুষ খাবে না।
মুসলমান কখনও সুদ খাবে না কিংবা সুদের কারবার করবে না।
একজন মুসলমানের হাত থেকে অপর মুসলমানসহ সর্বধর্মের মানুষ নিরাপদ থাকবে।
মুসলমান কখনও মদ্যপান করবে না।
মুসলমান কখনও ব্যভিচার করবে না।
মুসলমান কখনও কোনো রমণীকে ধর্ষণ করবে না।
মুসলমান কখনও ৪০ দিনের বেশি খাদ্য মওজুদ করে রাখবে না।
মুসলমান হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টানের সহায়-সম্বল-সম্পত্তি দখল করার জন্য ওঁত পেতে থাকবে না।
মুসলমান কখনও হিন্দুনারীকে ধর্ষণ করার জন্য ওঁত পেতে থাকবে না।
মুসলামন কখনও পবিত্র রমজান-মাসে খাদ্যদ্রবের দাম বৃদ্ধি করবে না।
মুসলমান কখনও নিজের স্বার্থে কিংবা রাজনীতির নামে মানুষখুন করবে না।
মুসলমান কখনও বোমাবাজি করবে না।
মুসলমান কখনও ধর্মের নামে কোনোপ্রকার শয়তানী করবে না।

বাংলাদেশে খুন, ধর্ষণ, ব্যভিচার, বোমাবাজি, জঙ্গীবাদী অপকর্ম এসব কারা করছে? কারা এগুলোর পিছনে ইন্ধন জোগাচ্ছে? আর দেশের কত ভাগ মুসলমান-নামধারী ব্যক্তিবর্গ উপর্যুক্ত অপকর্মগুলো থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে পেরেছে? হয়তো দেশে ৮-১০ ভাগ কিংবা খুব বেশি হলে ২৫-৩০ ভাগ মুসলমান রয়েছে! বাকী সবই তো মুসলমান-নামধারী আপাদমস্তক-ভণ্ড! আর এই ভণ্ডরা জঙ্গীপনা করবে নাতো কী করবে?

(চলবে)

সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।
১৪/০৭/২০১৬

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “বাংলাদেশে আসলে মুসলমান শতকরা ২৫-৩০ ভাগ। বাকী সবই মুসলমান-নামধারী ভণ্ড (প্রথম পর্ব)

  1. এতদিন পর এটা বুঝলেন? আসলে সকল
    এতদিন পর এটা বুঝলেন? আসলে সকল মুসলমানই ধার্মিক ভণ্ড। এরা ধর্মকে লেবাস হিসাবে ব্যবহার করে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

11 + = 20