গভীর রাতের ভূত!

আমরা সবাই কমবেশ স্বপ্ন দেখি। সুখকর কিংবা দুঃস্বপ্ন দুয়ের সাথেই আমরা বেশ পরিচিত। কিন্তু এই দঃস্বপ্নই কখনো কখনো মনের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করে। যেমন ধরুন মাঝরাতে হঠাৎ আপনি স্বপ্ন দেখতে দেখতে জেগে গেলেন কিন্তু আপনি কোন ভাবেই হাত পা নাড়াতে পারছেন না, এমনকি কথাও বলতে পারছেন না। বুকের মধ্যে মনে হচ্ছে ভারী কিছু চেপে বসে আছে। এমন অবস্থা কমবেশ অনেকেই পড়েছেন। এটাকে আমদের আঞ্চলিক বা গ্রামঞ্চলের ভাষায় বলে “বোবাধরা বা বোবা ভূতে ধরা।” অশুভ বা ভৌতিক বলে একে আখ্যা দেওয়া হয়। গ্রামের প্রায় অধিকাংশ লোকজন এটাকে ভৌতিক ব্যাপার বলে মনে করেন। এবং এর কোন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই বলে বিশ্বাস করেন।


১৭৮১ সালে হেনরি ফুশেল অঙ্কিত ‘দ্য নাইটমেয়ার’ (দুঃস্বপ্ন); অনেক আগে বোবায় ধরাকে অশুভ আত্মার আগমণ হিসেবে ধারণা করা হতো, যা এই চিত্রে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

গ্রামের এসব অসচেতন মানুষ ছাড়াও শহরের অনেক পড়ালেখা জানা মানুষও এই শরীরবৃত্তীয় ব্যাপারটাকে ভৌতিক বলে বিশ্বাস করেন। এ অসচেতনতার প্রধান কারন হল ধর্মীয় কুসংস্কার। কিন্তু ঘুমের অসারতা ব্যাপারটি মানুষের শরীরের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এর রয়েছে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে sleep paralysis।
এখন প্রশ্ন থাক্তে পারে, ঘুমের অসারতা বা বোবায় ধরা (sleep paralysis) টা কি? বিশেষজ্ঞদের মতে, sleep paralysis একধরনের ইন্দ্রিয় ঘটিত ব্যাপার। যখন মানুষের মস্তিষ্ক গভীর ঘুমের এক পর্যায় থেকে আরেক পর্যায়ে যায়, তখন এ ঘটনা ঘটে। এ পরিস্থিতির একেক জনের অভিজ্ঞতা একেক রকম হয়ে থাকে। কেউ ঘরে অশরীরী কিছুর টের পান, কেউ বাজে দুর্গন্ধ পান, কেউ আবার কোন ভয়ঙ্কর প্রাণীর কথা চিন্তা করেন। মোটকথা তখন নানা ধরনের কল্পিত দৃশ্য (Hallucination) এর সৃষ্টি হয়। এর কারন এ সময় মস্তিষ্ক সতর্ক হয়ে ঘুম থেকে জাগিয়ে তুল্লেও ইন্দ্রিয় তখন আচ্ছন্ন থাকে। অর্থাৎ শরীর তখন ঘুমেই থাকে। ফলে অনুভূতিটা অন্যরকম থাকে। সবকিছু অবাস্তব মনে হয় এবং ব্যাপারটা আধঘুমে হচ্ছে বলে মনে হয়। এসময় ভয়ে অনেকের শ্বাসকষ্টও হয়ে থাকে। কিন্তু পুরো বিষয়টি অতিলোকিক ব্যাপার নয় বরং শরীরবৃত্তীয় বিষয়।
স্লীপ ডিস অর্ডারের কারনে মানুষ বোবাধরা পরিস্থিতির স্বীকার হয়। যাদের ঘুমের সমস্যা আছে, তাদের এটি বেশি হয়। তাছাড়া যথেষ্ট বিশ্রামের অভাব ঘুমের অনিয়মের কারনে এটি হয়ে থাকে।
ঘুম বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমের একধাপ থেকে আরেক ধাপে উত্তরনের সময় শরীর সাবলীলভাবে নাড়াচাড়া করতে পারে না বলেই বোবায় ধরেছে বলে মনে হয়। এছাড়া দুশ্চিন্তা, ঘুমের সময় নির্দিষ্ট না থাকা, অতিরিক্ত উদ্বেগ, নানা ধরনের ঘুম জনিত সমস্যা, বিষন্নতা, অনিদ্রা, হাত-পায়ের মাংসে খিঁচ ধরা ইত্যাদি এই সমস্যার সৃষ্টি করে।
এই সমস্যায় যদি কেউ পড়তে না চাই তাহলে প্রতিদিন একটা সুস্থ ঘুম চাই। সুস্থ ঘুম বলতে বোঝায় প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং নির্দিষ্ট সময়ে জাগা। সুন্দর ও নিরিবিলি পরিবেশে ঘুমানো। ঘুমানোর আগে টিভি দেখা বা মস্তিষ্কে চাপ পড়তে পারে এমন কোন কাজ না করা। এটি সাধারনত সাময়িক সমস্যা কিন্তু বারবার ঘটতে থাকলে চিকিৎসকএর পরামর্শ নেওয়া উচিত।

উৎসঃ প্রথম আলো, WIKIPEDIA

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “গভীর রাতের ভূত!

সুব্রত দেব শুভ শীর্ষক প্রকাশনায় মন্তব্য করুন জবাব বাতিল

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

51 − = 48