ঘি

যে রুমটাতে আমাকে থাকতে দেয়া হয়েছে তার বাথরুমের দরজাটা হঠাৎ করেই থেকে আটকে গেল। চাবি ছাড়া খুলছে না। খুলবেও না মনে হচ্ছে। শেষবার তাড়াহুড়োয় কী যে করেছি মনে নেই। মনে থাকার কথাও না। এ অবস্থায় কারোর কিছু মনে থাকে না। পেট খারাপ। একেবারে বাজে ধরণের।

দোষ আমার না, দোষটা পেটের। ঘিয়ের একশন। এই একটা জিনিস আমার পেটে শয় না। অথচ দেখলে লোভ সামলাতে পারি না। চেটে পুঁটে শেষ। গত রাতে আয়নাল সাহেব যখন রসিয়ে রসিয়ে তার সংগ্রহে থাকা খাঁটি গেয়ো ঘির গল্প করছিলেন, না চেখে পারলাম না। চাখতে গিয়েই সব্বনাশটা হলো! দেশী গাভীর খাঁটি ঘি! মাথা নষ্ট করার মত ফ্লেভার! চেটে পুঁটে একেবারে.. আত্মসংযম ধরে রাখতে পারিনি। গোল্লায় যাওয়া আত্মসংযম পেটের মধ্যে গিয়ে গোল্লাছুট শুরু দিয়েছে। অদৃশ্য কেউ একজন তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে থেকে থেকে।
আমার এখনকার যে অবস্থা চাবিটা না হলেই নয়। বেশি হলে মিনিট দুয়েক চেপে রাখা যাবে। এরপর কেলেঙ্কারি!

আয়নাল সাহেব রাত জাগেন। একা একা বসে থাকেন বারান্দায়। সিগারেট খান। তাহাজ্জুদ পড়ে তবেই ঘুমোতে যান। সিগারেট আর তাহাজ্জুদ ঠিক যায় না। অভ্যাস যত সহজে ধরা যায় অত সহজে কি আর ছাড়া যায়! এতদিনের অভ্যাস উনি ছাড়তে পারেন নি।

রাত বেশি হয় নি। তার মানে উনি জেগে আছেন। আমি লম্বা পায়ে এগুলাম।
আয়নাল সাহেব ওখানে নেই। ঘরেও না। উনাকে পাওয়া গেল হাত-পা বাধা অবস্থায়। পড়ে আছেন। নাড়ি দেখলাম, মরেন নাই। বেঁচে আছেন। আমাকে দেখেই নড়েচড়ে উঠলেন। যেন আমি আসা অব্দি অপেক্ষা করছিলেন। মুখের বাঁধন খুলতেই উনি বললেন “চুরি বুঝলেন তো চুরি! জানে বেঁচে গেছি” চুরি তা তো বুঝাই যাচ্ছে। চুরির মত কীই বা থাকতে পারে এখানে? আর কয়েকটা রুম বাদেই আমি অথচ কিছুই টের পেলাম না! চেঁচামেচিও না! এ হতে পারে!
আমার বেহাল দশা। এ অবস্থায় রহস্য ভাবনা শুধু বিলাসিতা নয় অপচয়ও। “বাথরুম কোন দিকে?” বাঁধন খুলতে খুলতে জিজ্ঞেস করলাম,

“কেন কী হয়েছে বাবা?”

বাবা? আমাকে বাবা ডাকছেন কেন!
“বাথরুমের দরজা ভিতর থেকে আটকে গেছে, চাবি দিন”
“সব্বনাশ! সব্বনাশ! কী করে এমন হলো?”
“এত বলার সময় নেই, চাবিটা দিন!”
“তোমার কি পটি পেয়েছে?”
“চাবিটা দিন!”
“খুব?”

সহ্যের সীমা আছে। আমি চিৎকার করে বললাম

” চা..বি..টা দি..ন”

বলতেই ব্যাপারটা ঘটে গেল। চাবি এখন পাঁচ মিনিট পরে পেলেও চলবে। আমি ক্লান্ত হয়ে বসে পড়লাম। গন্ধ আঁচ করার চেষ্টা করলাম, আঁশটে। মুখ দেখে বুঝা যাচ্ছে উনি টের পাচ্ছেন না। এটা খুব ভাল খবর। কেলেঙ্কারির হাত থেকে অন্তত বাঁচা গেল।

চাবি না চেয়ে বাথরুম কোনদিকে জানলেও তো হতো। এতক্ষণে মাথা কাজ করতে শুরু করেছে। সব এলোমেলো হয়ে ছিল। চোরে পেটে জগাখিচুড়ি হয়ে গেছিলো একেবারে। আমি জিজ্ঞেস করলাম

“বাথারুম কোন দিকে?”

“আমাকে তো ওরা বাথরুমেই বেধে রেখে গ্যাছে”
উনি বললেন।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

1 + 7 =