কোরান কার বানী? মুহাম্মদের , নাকি আল্লাহর? পর্ব-২(চাঁদ দ্বিখন্ডন)

প্রথম পর্বে মুহাম্মদের মোজেজা দেখানোর বিষয়টাকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। কারন মুহাম্মদ নিজেকে আব্রাহামিক ধর্মের একজন নবী দাবী করতেন। আব্রাহামিক ধর্ম যেমন ইহুদি, খৃষ্টান ধর্মের কথিত নবীদের মোজেজা প্রদর্শন ছিল তাদের নবুয়ত্ব প্রমানের প্রধান অবলম্বন। তাই ইহুদি ও খৃষ্টানরা প্রায়ই মুহাম্মদকে মোজেজা দেখাতে বলতেন। কিন্তু তিনি সেটা দেখাতে পারতেন না। তাই তারা তাকে নবী হিসাবে স্বীকার করতেন না। সেই মোজেজার বিষয়ে আরও কিছু বলতে হবে। অবশেষে মুহাম্মদের চাঁদ দ্বিখন্ডিত হওয়ার মোজেজা হাজির হলো , সেটা দেখা যাক —-

সুরা কামার- ৫৪: ১-৩কেয়ামত আসন্ন, চন্দ্র বিদীর্ণ হয়েছে।তারা যদি কোন নিদর্শন দেখে তবে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বলে, এটা তো চিরাগত জাদু। তারা মিথ্যারোপ করছে এবং নিজেদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করছে। প্রত্যেক কাজ যথাসময়ে স্থিরীকৃত হয়।

অর্থাৎ মুহাম্মদ চাঁদকে দ্বিখন্ডিত করে দেখালেন , কিন্তু তারপরেও ইহুদি খৃষ্টান পৌত্তলিকরা বলল ,সেটা মুহাম্মদের যাদু। কিন্তু বাস্তবেই কি চাঁদ দ্বিখন্ডিত হয়েছিল ? কোন দ্বিতীয় সাক্ষী আছে ? যদি কোন সাক্ষী থাকেও সেটা কি বাস্তব সম্মত ? সেটা বুঝতে এবার আমাদেরকে একটু হাদিসে যেতে হবে ,

সহিহ মুসলিম :: বই ৩৯ :: হাদিস ৬৭২৫:
আবু বকর ইবন আবু শায়বা,আবু কুরায়ব ইসহাক ইবন ইবরাহীম, উমার ইবন হাফস ইবন গিয়াস, ও মিসজাব ইবন তামিমী (র)……আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, মিনায় আমরা রাসুলুল্লাহ (সা)-এর সঙ্গে ছিলাম । এমতাবস্হায় হঠাৎ করে চন্দ্র বিদীর্ন হয়ে দ্বিখণ্ডিত হয়ে গেল । এক খন্ড পাহাড়ের এ পাশে পড়ল এবং অপর খন্ড পড়ল পাহাড়ের ওপাশে । তখন রাসুলুল্লাহ (সা) বললেনঃ তোমরা সাক্ষী থাক ।

উক্ত হাদিসের বয়ান বুঝতে গেলে প্রথমেই আমাদেরকে একটু চাঁদের আকার আকৃতি সম্পর্কে জানতে হবে। সেটা নিম্নরূপ:

চাদেঁর ব্যাসার্ধ: ১৭৩৭ কিলোমিটার, পরিধি: ১০,৯২১ কিলোমিটার, পৃষ্ঠতলের ক্ষেত্রের পরিমান: ৩,৭৯,৩০,০০০ বর্গকিলোমিটার।

সূত্র: https://en.wikipedia.org/wiki/Moon

চাদেঁর এই আকার আকৃতির সাথে পৃথিবীর আকার আকৃতির তুলনা করা যাক –

পৃথিবীর ব্যসার্ধ: ৬৩৭১ কিলোমিটার, পরিধি: ৪০,০৭৫ কিলোমিটার, পৃষ্ঠতলের ক্ষেত্রের পরিমান: ৫১,০০,৭২,০০০ বর্গকিলোমিটার ।
সূত্র: https://en.wikipedia.org/wiki/Earth

সুতরাং পৃষ্ঠতলের হিসাবে , পৃথিবীর পৃষ্ঠতলের ক্ষেত্রফল হলো ১৩. ৫১ টা চাঁদের পৃষ্ঠতলের ক্ষেত্রেফলের সমান।

এখন চাঁদ যদি সমানভাবে দ্বিখন্ডিত হয়, তাহলে তার অর্ধ পৃষ্ঠের ক্ষেত্রফলের আকার হবে ৩,৭৯,৩০,০০০/২=১,৮৯,৬৫,০০০ বর্গকিলোমিটার।

সুতরাং এই খন্ডটা পৃথিবীর কোন অংশের উপর পড়লে সেটা ঠিক এই ১,৮৯, ৬৫,০০০ বর্গকিলোমিটার জায়গা জুড়ে অবস্থান করবে , তবে সেই খন্ডাংশের এক পাশ গোলাকার হওয়ায় , সরাসরি সেটা মাটি স্পর্শ করবে না , তবে উক্ত অঞ্চলের সকল মানুষই সেটা দেখতে পাবে , আর তারা প্রানের ভয়ে এদিক ওদিক ছোটা ছুটি করবে। এখন দুই খন্ডই পড়েছিল , এক খন্ড পাহাড়ের ( ওহুদ পাহাড়) এক পাশে আর অপর খন্ড পাহাড়ের অন্যপাশে পড়েছিল। এই ঘটনা যদি বাস্তব হয়, তাহলে এই সমগ্র আরব অঞ্চল তো বটেই , গোটা আফ্রিকা , এশিয়া ও ইউরোপ থেকেই সেটা ঘটনা দেখা যাবে , ও তার হাজার হাজার না , বরং কোটি কোটি প্রত্যক্ষদর্শী থাকবে। তারা সেই ভয়ংকর ও বিস্ময়কর ঘটনা দেখে প্রানের ভয়ে ছোটাছুটি করবে। সেই সময় বাইজান্টাইন , পারস্য, ভারত ইত্যাদি অঞ্চলে বহু শিক্ষিত ব্যাক্তি ছিল , ইতিহাসবিদ ছিল , বহু রাজা বাদশা ছিল , আর তারা এই অবিস্মরনীয় ও অভূতপূর্ব বিস্ময়কর ঘটনাটা সবিস্তারে লিখে রাখবে। যা পরে আস্তে আস্তে সারা বিশ্বে প্রচারিত হবে। এভাবেই কিন্তু প্রাচীনকালের সকল ঘটনার কথা লিখে রাখা হয়েছে , আর তাই আজকে আমরা সেসব ঘটনার কথা জানতে পারি, এটাই ইতিহাস। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে , মুহাম্মদের কিছু মূর্খ ও অশিক্ষিত অনুচর ছাড়া আর কেউই এই ঘটনাটা দেখতে পারে নি।

তবে , পৃথিবী থেকে চাঁদকে চাক্ষুষ যে আকারে অর্থাৎ বড় একটি থালার আকারে দেখা যায়, সেটাই যদি চাদেঁর প্রকৃত আকার হয়, তাহলে সেটা ভেঙ্গে দুই টুকরো হয়ে যেখানেই পড়ুক না কেন , তা মুহাম্মদের কিছু অনুচর ছাড়া দেখা সম্ভব নয়, এমন কি দেখা সম্ভব নয় মক্কা বা মদিনার অধিবাসীদের পক্ষেও। আর সেটা ওহুদ পাহাড়ের আশপাশে পড়লেও সেটা মুহাম্মদ ও তার সাথে থাকা কিছু মূর্খ ও অশিক্ষিত অনুচর ছাড়া আর কেউই দেখতে পারবে না , সেটা নিশ্চিত।

সুতরাং চাঁদের প্রকৃত আকার বিবেচনায়, মুহাম্মদের এই চাঁদ দ্বিখন্ডনের ঘটনাটা স্রেফ একটা উন্মাদীয় কাহিনী ছাড়া আর কিছুই না , যা শুধু মাত্র কোন পাগল বা উন্মাদই দাবী করবে আর সেটা বিশ্বাস করবে তার মতই একদল উন্মাদ ও পাগল। অতএব চাঁদ দ্বিখন্ডনের এই মোজেজারও কোন দ্বিতীয় সাক্ষী পাওয়া যাচ্ছে না। আর তাই এটাকে মোজেজা হিসাবে গ্রহন করার কোন সুযোগ নেই। আর তাই মোজেজা প্রদর্শনের ভিত্তিতে যে আব্রাহামিক ধর্মের নবীরা নিজেদের নবুয়ত্ব প্রমান করতেন , সেই ভিত্তিতে মুহাম্মদ নিজেকে নবী প্রমান করতে ব্যর্থ।

চলবে=============================================

কোরান কার বানী ? আল্লাহর, নাকি মুহাম্মদের ? পর্ব-১

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

3 + 6 =