“বাংলাদেশে সমকামিতাঃ চুপ থাকো, মরে যাও, অগোচরে শুয়ে বেড়াও, বঞ্চিত থাকো আজীবন”

“আমি ও আজম আমরা দুজনেই পরিবারসূত্রে মুসলমান। আমরা একসাথে আছি প্রায় ৯ বছর। আমরা দু জনই স্বাবলম্বী। আমরা নামাজ পড়ি, রোজা রাখি, যাকাত দেই। ছুটির দিনে ঘুড়তে বের হই। মা বাবার সংসারে নিয়মিত টাকাও পাঠাই। আমাদের আত্মার অটুট সম্পর্ক থাকলেও আমার জীবনে ওর আইনগত কোন অধিকার নেই কিংবা ওর জীবনে আমার আইনগত কোন অধিকার নেই।” সমপ্রেমী যুগলের এরকম গোপনে যাপিত সাংসারিক জীবনের বাস্তব গল্প হাজার খানেক রয়েছে এদেশে।

ছেলে মেয়ের সম্পর্ক বিয়ের আগে বৈধ? বিয়ের পরেই তা বৈধতা পায়। তেমনিভাবে সমপ্রেমীদের ক্ষেত্রেও তাই। সমপ্রেমীসহ পুরো এলজিবিটি কমিউনিটির বিয়ের বৈধতা নিয়ে কাজ করতে গিয়ে প্রাণ দিতে হলো জুলহাস ও তনয় কে। কিছুদিন আগেও যেখানে মৃদু আলোর সম্ভাবনা ছিল সেখানে এখন ঘোরতর অন্ধকার। জুলহাস – তনয় হত্যার মধ্য দিয়ে এলজিবিটি কমিউনিটি এখন একেবারেই নিশ্চুপ থরথর নীরব।

এলজিবিটি কমিউনিটির প্রতি সবার এক ধরনের নোংরা মানসিকতা কাজ করে। প্রায় সবাই মনে করে সমকামিতা মানেই হচ্ছে সেক্স করা বা জনে জনে শুয়ে বেড়ানো। বিষমকামিতার ক্ষেত্রে আপনি যত মেয়ের সাথেই প্রেম করেন তাতে চোখ নিংড়ানোর বা নাক ছিটকানোর সুযোগ কম কেননা সেখানে ছেলে মেয়ের বিয়ের বৈধতা রয়েছে। কিন্তু সমপ্রেমীদের ক্ষেত্রে বিয়ের বৈধতা না থাকায় সমাজে তাদের ঐ শুয়ে বেড়ানোর অপবাদ নিয়েই সমাজে লড়াই করে যেতে হয়।

বিয়ের বৈধতা না থাকার ফলে পরিস্থিতি এমন যে, সেক্স এভেইলএবেল কিন্তু সম্পর্ক গড়া রেয়ার বা কঠিন। অর্থাৎ আপনি চাইলেই সেক্স করতে পারছেন কিন্তু বিয়ে করতে পারছেন না আইনগত জটিলতার কারনে। আইনগত দিক থেকে এলজিবিটি কমিউনিটির অন্তর্ভুক্তদের বিয়ের বৈধতা না থাকায় লিগ্যাল রিলেশনশিপ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তারা। অথচ আইনগতভাবে বিয়ের বৈধতা পেলে এ দেশে সমপ্রেমীদের বিয়ের সংখ্যা নেহাত কম হতো না। অনেকেই মনে করে থাকে এসব এলজিবিটি কমিউনিটির ধারণা ওয়েস্টার্ন চিন্তা চেতনা, ওসব আমাদের সমাজের সাথে যায় না। আসলেই ? আচ্ছা ভাবুনতো, দুটো মানুষ যদি একসাথে সারাটা জীবন পার করে দিতে চায়, দুজনের ভালোবাসায় জীবনটাকে সাজাতে চায় তহলে ক্ষতিটা কোথায়? ওদের ভালোবাসা ভালো থাকার মাঝে কিংবা ওদের সফলতার মাঝে ওয়েস্টার্ন ইস্টার্ণ আরো নানা বৈষম্য টেনে জীবন বিষিয়ে তোলার মাঝে কার লাভ?সমাজ কি ওদের মেধা কে কাজে লাগাতে পারে না? আবার অনেকের ধারনা সমপ্রেম হচ্ছে মানসিক রোগ। জ্বী অবশ্যই মানসিক রোগ! বিষমকামিতাও মানসিক রোগ যেটা সেক্স এডিকশন পর্যায়ে পরে। বিয়ের বৈধতা পেলে ওসব আর রোগ টোগ হবে না। আসলে মানুষকে মানুষ হিসেবে সম্মান করতে শিখলে অনেক প্রশ্নের উত্তর খুব সহজেই বের হয়ে যায়।

বাঁধা কোথায়? ধর্মের নিষেধাজ্ঞা? ধর্মে উল্লেখিত সডোমাইজেশনের ইতিহাস হলো ধর্ষণের, ব্যভিচারের, প্রভাব প্রতিপত্তির। লুতের সময়কারের ইতিহাস বিয়ে বহির্ভুত সেক্স এডিকশনের ইতহাস, ধর্ষণ, ব্যভিচারের ইতিহাস। এ ব্যাপারে হাজার হাজার লেখা ও প্রমান রয়েছে। ছেলে মেয়ের অবৈধ অনৈতিক যৌনাচার বন্ধের উপায় হচ্ছে বিয়ের ব্যবস্থা তেমনি বাচ্চাবাজি কিংবা সমকামি অবৈধ সম্পর্ক বন্ধের উপায় হচ্ছে সমপ্রেমীদের বিয়ের বৈধতা দেয়া। ধর্মে বিয়ের বৈধতা থাকা স্বত্তেও কেন যেন বার বার আইনগত জটিলতার কারনে আলোর মুখ আর দেখা যাচ্ছে না। এখন সাথে যোগ হয়েছে চাপাতি। আগে যেখানে সমাজে নিজের অস্তিত্ব প্রমানে মেধার লড়াই করার কিছুটা সুযোগ ছিল সেখানে এখন নিজের জীবন নিয়ে টিকে থাকাই মুশকিল ওদের। চুপ থাকো, ধর্ষিত হও, শিক্ষা-সমাজ সব কিছু থেকে বঞ্চিত থাকো।

ইসলামি দেশগুলোতে সমকামিরা সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত বা তাদের বঞ্চিত করে রাখা হয় বিশেষ উদ্দেশ্যে। ইসলামিক দেশগুলোতে মেয়ে ধর্ষণের বিচার হিসেবে ধর্ষকের সাথেই ধর্ষিতার বিয়ে দেবার এক রীতি প্রচলিত। সমকামিদের বিয়ের বৈধতা না দেয়ার এটা অন্যতম একটা কারণ। ইসলামী দেশগুলোতে বাচ্চাবাজি জনপ্রিয় এক বিলাসিতা। ধনকুবেররা কচি কচি বাচ্চাদের কে বা গেলম্যানদের ধর্ষণ করলেও তা জায়েজ ও রীতিসিদ্ধ। কচি কচি ছেলেদের যত খুশি ততো ধর্ষণ করা যায়, মাসিকের বিভ্রান্তি নেই, কন্ডম ফেটে সন্তান হবারও সম্ভাবনা নেই। বিয়ের বৈধতা থাকলে হয়তো ধর্ষনের অভিযোগে শত শত বাচ্চা কে বিয়ে করতে হতো ওসব ইসলামী ধনকুবেরদের। এদেশেও ওমন বিলাসিতার গোপন কিচ্ছা কিন্তু কম নেই, রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে গ্রামের টুপিওয়ালা মাতব্বর পর্যন্ত গোপনীয় বাচ্চাবাজির প্রকাশ্য বিলাসিতায় সৌখিন।

উপায় কি? কোন উপায় নেই। ওরা ধর্ষণ করবে, শরীর খাবে, চোষাবে, নিজেরা চুষবে। বিয়ের দাবি তুললে কল্লা কাটবে, চিকিতসা বিজ্ঞানের উদ্ভট অপ্রমানিত দোহাই দেবে, আইনের নিষেধাজ্ঞা দেখাবে, ধর্মের ভুল বাণী শোনাবে। ভালো থেকো জুলহাস – তনয়।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩ thoughts on ““বাংলাদেশে সমকামিতাঃ চুপ থাকো, মরে যাও, অগোচরে শুয়ে বেড়াও, বঞ্চিত থাকো আজীবন”

  1. বাংলাদেশে এই মুহুর্তে সবচেয়ে
    বাংলাদেশে এই মুহুর্তে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সংখ্যালঘু সমকামীরা। প্রতিনিয়ত এদের সময় কাটে চরম আতংকে, ব্লগার ও নাস্তিকদের মত এরাও যে কোন সময় আক্রান্ত হতে পারে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

77 + = 79