পাহাড়ে রাজনৈতিক কৌশলে “উপস্থাপনার রাজনীতি” ও সামরিক আধিপত্য

রাজনৈতিক কৌশল যুগ যুগ ধরে স্বঘোষিত স্বীকৃত একটি ব্যবস্থার নাম। সেই কৌশলের অবলম্বনে প্র্যত্যেক দেশেই চলে আসছে রাজনীতির অপকৌশলের চর্চা। যে যেমন পারছে তেমন করে এই অপকৌশল রাজনীতি ব্যবহার করে কৌশলে ক্ষমতার হস্তক্ষেপ করে আসছে। বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। আর রাজনীতির এই কৌশল ও অপকৌশলের ডামাডোলে জনগণ অনেক ক্ষেত্রেই দিশেহারা এটা নির্ধারণ করতে যে, কোনটা রাজনৈতিক কৌশল আর কোনটা রাজনৈতিক অপকৌশল। যেমন বিচার ব্যবস্থায় কোন রাজনীতি নেই, বিচারকের নিয়োগ রাজনৈতিক বিবেচনায় হলেও বিচারক নিযুক্ত হওয়ার পর তার বিবেচনায় আর কোনো রাজনীতির চিহ্ন পাওয়া যাবে না। বিচার প্রক্রিয়ায় দেশের সাধারণ মানুষ এবং রাজনীতিবিদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। বিচারের কাঠগড়ায় সবাই সমান হিসেবে দৃষ্টিগোচর হবে। নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সাংবিধানিক সংস্থাগুলোও সম্পূর্ণভাবে রাজনীতিমুক্ত থাকবে। দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত এবং প্রণয়নের ক্ষেত্রে দুর্নীতি দমন কমিশন একেবারেই রাজনীতিমুক্ত এবং স্বাধীন থাকবে। কোনো পক্ষই এই সংস্থাগুলোর কাজকে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে আনবে না। কিন্তু এসবকিছু শুধু কাগজে কলমে ফাইলে বন্দী নীতির ও সাধারণ জনগণের প্রত্যাশার কথা। আর বাস্তবচিত্র সম্পূর্ণ হিতে বিপরীত।

আর পাহাড়ে এই অপঅপকৌশল রাজনীতির একটি রুপ হচ্ছে ‘উপস্থাপনার রাজনীতি’। ‘উপস্থাপনার রাজনীতি’ বলে একটা শব্দবন্ধ একটি অত্যন্ত প্রভাব বিস্তারকারী ধারণা হিসেবে বিগত কয়েক দশক ধরে সমালোচনামূলক এবং বিপ্লবী চিন্তাবলয়ে বেশ গুরুত্ব এবং দাপটের সঙ্গে জারি আছে। এখন প্রশ্ন জাগতে পারে এই ‘উপস্থাপনার রাজনীতি’ কি ? চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. রাহমান নাসির উদ্দিন স্যারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি, বিষয় কিংবা কোনো ইস্যুর ‘উপস্থাপনা’ যে কোনো আদর্শ অনুশীলন নয় কিংবা নৈর্ব্যক্তিকতার দাবি নিয়ে জ্ঞান উৎপাদন প্রক্রিয়ায় যে পরোক্ষ স্বার্থসংশ্লিষ্ট-আদর্শ তুমুলভাবে কাজ করে তা এ ‘উপস্থাপনার রাজনীতি’র ধারণা হাতেনাতে প্রমাণ করে উত্তপ্ত বিতর্কের ভেতর দিয়ে সমকালীন জ্ঞানকাণ্ডে বেশ মজবুত ও টেকসইভাবে নিজের একটা সমীহযোগ্য জায়গা তৈরি করা। এ ‘উপস্থাপনার রাজনীতি’ ক্রিটিক্যাল আলোচনার ভেতর দিয়ে বিদ্যমান, প্রতিষ্ঠিত এবং প্রচলিত জ্ঞানকাণ্ডের কাণ্ডজ্ঞানের আসল চেহারা উন্মোচিত করেছে। আর পার্বত্য চট্টগ্রামে জাতীয় ক্ষমতাসীন দল ও অন্যান্য এজেন্ডা পাহাড়ে ক্ষমতা কায়েম করতে ও স্বৈরাশাসন প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক অপকৌশলে আঞ্চলিক গণমাধ্যমকে ব্যবহারে ‘উপস্থাপনার রাজনীতির’ এ কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে। উপস্থাপনার রাজনীতিতে মিডিয়ার অবস্থান এবং ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেননা সমসাময়িককালে মানুষের চিন্তার ধরন, মগজের মেজাজ, ভাবনার বলয় এবং দেখার চোখ তৈরি করার পেছনে মিডিয়া গভীরভাবে প্রভাব বিস্তার করে। বিশেষ করে, কোনো কিছুকে বা কোনো ইস্যুকে কোন দৃষ্টিভঙ্গি, কোন আদর্শ এবং কোন দর্শন থেকে বিবেচনা করা হবে তা মিডিয়ার প্রবল প্রতাপ ও প্রভাবের ভেতর দিয়ে তৈরি হয়। এ রকম একটি তাত্ত্বিক ধারণার কাঠামোতে মিডিয়ার মাধ্যমে পাহড়ে কিভাবে ‘উপস্থাপনার রাজনীতির’ অপকৌশল কৌশলে ব্যবহৃত হচ্ছে তার একটি বাস্তব চিত্র নিচে তুলে ধরছি-

উল্লেখ্যঃ

১. ১২ জুন ২০১৬ খাগড়াছড়ি ব্রিগেড অফিস থেকে জেলার সকল বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে একটি করে ফরম পাঠানো হয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের নাম, ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা (পাহাড়ি-বাঙালি অনুপাতসহ), শিক্ষকের সংখ্যা (পাহাড়ি-বাঙালি অনুপাতসহ), ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ধর্মযাজকের সংখ্যা, এলাকার জনগণের মধ্যে ইউপিডিএফ, জেএসএস(মূল) ও জেএসএস(সংস্কার) -এর সমর্থিত সংখ্যার শতকরা হার সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছে।

২. ১৩ জুন ২০১৬ রাতে বান্দরবান সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মংপ্রু মারমা উপজেলার রাজভিলা ইউনিয়নের জামছড়ি এলাকা হতে অপহৃত হয়।

৩. গণমাধ্যমে প্রকাশিত গত ০৫ জুলাই ২০১৬ রোয়াংছড়ি উপজেলার বেতছড়ার তালুকদার পাড়ায় দু-গ্রুপের সংঘর্ষে একজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছে।

১.১
আদমশুমারি একটি দেশের জনসংখ্যার সরকারি গণনা হিসেবে গণ্য করা হয়। জাতিসংঘের সংজ্ঞা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে আদমশুমারি একটি জনগোষ্ঠীর বা দেশের জনসংখ্যা গণনার সামগ্রিক প্রক্রিয়ায় তথ্য সংগ্রহ। তথ্য একত্রীকরণ এবং জনমিতিতে অর্থনৈতিক ও সামাজিক তথ্যাদি প্রকাশ করা বোঝায়। প্রাচ্য অথবা প্রতিচ্যের মধ্যযুগীয় সরকারসমূহ কর অথবা সামরিক বাহিনীতে জনসাধারণের অন্তর্ভুক্তির প্রয়োজনে কখনো কখনো আদমশুমারির আশ্রয় নিতেন। ইংল্যান্ডের রাজা প্রথম উইলিয়ম ১০৮৬ খ্রিস্টাব্দে ডুমস ডে বুক অথবা ডোমসডে বুক নামে জমি অথবা জমিতে বসবাসকারী মানুষের একটি জরিপ পরিচালনা করেন। এটি ইতিহাসের সর্বপ্রথম নথিভুক্ত আমদশুমারি হিসেবে পরিচিত। এখানে লক্ষ্য করুন, আদমশুমারি বা তথ্য হালনাগাত করার কারন হচ্ছে একটি জনগোষ্ঠীর তথ্য একত্রীকরণ এবং অর্থনৈতিক, সামাজিক তথ্যাদি প্রকাশ ও সংরক্ষণ। বাংলাদেশেও সর্বশেষ আদমশুমারি বা ঘর গণনা হয়েছিল ১৯৯১ সালে। এবং বাংলাদেশে এই আদমশুমারি বা গণনার কাজ পরিচালিত হয় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো(বিবিএস), উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসের তত্ত্বাবধানে। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে সরকারিভাবে অঘোষিত ব্রিগেড অফিস কর্তৃক শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং তিন আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য চেয়ে জেলার সকল বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে ফরম পাঠানোর কারন কি ? তাহলে কি ২০১৬ সালে খাগড়াছড়ি জেলায় ব্রিগেড অফিস আদমশুমারির কাজ করছে! ফরমের উপরে “শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং জনসংখ্যা সংক্রান্ত হালনাগাত তথ্যাদি” এই লেখাটি দেখে আপাত দৃষ্টিতে তাই মনে হতে পারে। কারন পার্বত্য এলাকার অধিবাসী বিশেষকরে সাধারণ আদিবাসীদের সেসব বিবেচনা করার মত যথেষ্ট জ্ঞানসম্পন্ন না। আর শিক্ষিত সুশীল সমাজ বিবেচ্য জ্ঞানসম্পন্নবোধ হলেও তারা খুব সাধারণভাবেই গ্রহণ করছেন, কারন এটি উপস্থাপিত হচ্ছে “শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং জনসংখ্যা সংক্রান্ত হালনাগাত তথ্যাদি” হিসেবেই। এবং গণমাধ্যমগুলোতেও ঠিক একিভাবেই উপস্থাপন করে প্রকাশিত হচ্ছে। কিন্তু আসলে কি তাই ? যদি এটি আদমশুমারির মত খুব সাধারণ তথ্য হালনাগাত হয়ে থাকতো তাহলে ফরমের নিচে জনসংখ্যা বিবরণের অংশে কেন পার্বত্য আঞ্চলিক দলগুলোর সদস্য সংখ্যার তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে ? এর মাধ্যমে এটি সুস্পষ্ট যে এই তথ্য হালনাগাতের আড়ালে আঞ্চলিক দলগুলোর সকল তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে পাহাড়ে সামরিক আধিপত্য ও রাজনৈতিক ক্ষমতা কায়েমের একটি সুক্ষ প্রক্রিয়া। যা সাধারণ মানুষের কাছে সাধারণ একটি হালনাগাত হিসেবে উপস্থাপিত করে ‘উপস্থাপনার রাজনীতি’ কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে।

২.১
১২ জুন ২০১৬ খাগড়াছড়ি ব্রিগেড অফিস থেকে “শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং জনসংখ্যা সংক্রান্ত হালনাগাত তথ্যাদি” ফরম এর মাধ্যমে অঞ্চলিক দলের সদস্যদের তথ্য জানতে চাওয়ার মধ্যেই অনতিবিলম্বের একটি ইন্দ্রিয় ইঙ্গিত পাওয়া যায় অর্থাৎ পার্বত্য এলাকায় আরেকটি অঘোষিত ধরপাকড় অভিযান। যেটি সন্ত্রাসী দমন অভিযান নামেই প্রচলিত। এর ঠিক একদিন পরেই অর্থাৎ ১৩ জুন ২০১৬ গণমাধ্যমের প্রকাশিত সংবাদের বরাতে বান্দরবান সদর উপজেলার আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও রাজভিলা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার মংপু মারমা অপহরণের খবর জানতে পারি। জেলা আওয়ামীলীগের দাবি আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) তাকে অপহরণ করে এবং জেএসএসের শীর্ষ নেতাদের নাম উল্লেখ করে বান্দরবান সদর থানায় ৩৮ জনের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা করা হয়। আর এর পর থেকেই বান্দরবানে শুরু হয়ে যায় জেএসএসের নেতা কর্মীদের গ্রেফতার অভিযান। এবং এর পরবর্তীতে অপহৃত নেতার উদ্ধারের দাবিতে বান্দরবান প্রেসক্লাবের সামনে জেলা আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনগুলো মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে (http://goo.gl/Y2o9In)। এবং এর কিছুদিন পরেই অর্থাৎ ০৫ জুলাই ২০১৬ রোয়াংছড়ি উপজেলার বেতছড়ার তালুকদার পাড়ায় দু-গ্রুপের সংঘর্ষে একজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছে বলে গণমাধ্যমে আরেকটি খবর প্রকাশিত হয়। কিন্তু এই সশস্ত্র দু-গ্রুপ কারা তার কোন সঠিক তথ্য গণমাধ্যমগুলো প্রকাশ করেনি। বরং সশস্ত্র সন্ত্রাসীর তকমায় মূল ঘটনাটি আড়ালের চেষ্টা করা হয়েছে। সেই সাথে সেইসব গণমাধ্যমের মাধ্যমে আরো জানতে পারি সেই দু-গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় আতংকিত হয়ে ও অস্ত্রধারীদের হুমকির মুখে সেই বেতছড়ার তালুকদার পাড়ার পরিবারগুলো নিজ বাড়ি ছেড়ে বান্দরবান শহরে একটি হোটেলে আশ্রয় নিয়েছে। এবং এবারো সম্প্রীতির শহর নামে খ্যাত বান্দরবানে বেতছড়ার তালুকদার পাড়ার ঘটনায় ঘরছাড়া মানুষগুলো তাদের নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন করে। অধিকার ও নিরাপত্তার দাবিতে রাস্তায় তাদের অবস্থান কর্মসূচি দেখে আমি সত্যি খুশি হয়েছিলাম এই ভেবে যে আমার পাহাড়ের জুম চাষ করে বেঁচে থাকার সংগ্রাম করা মানুষগুলো আজ নিজেদের অধিকার, নিরাপত্তা নিয়ে সচেতন হয়েছে। কিন্তু পাহাড়ের এই সহজসরল সাধারণ আদিবাসী মানুষগুলো কি সত্যি সচেতন হয়েছে না তাদের এই সরলতাকে পুঁজি করে কোন গোষ্ঠী ফায়দা নিতে চাচ্ছে সংশয় থেকে যায়। আর আমার সেই সন্দেহ, মনে সংশয় যে একেবারেই ভুল ছিলনা তা বুঝতে পারলাম সেই গণমাধ্যমের মাধ্যমেই। নিচে যে দুটি ছবি দেখতে পাচ্ছেন একটু ভালো করে খেয়াল করে দেখুন, ছবি দুটো আলাদা আলাদা কর্মসূচির হলেও দুটোর মধ্যে একটা মিল আছে-

  • প্রথম ছবিটি বান্দরবানে রোয়াংছড়ি উপজেলার তারাছা ইউনিয়নের ৫০টি পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন করে, গণমাধ্যমের শিরোনাম ছিল “জেএসএস কর্তৃক খুন, গুম, হত্যা, চাঁদাবাজির প্রতিবাদে বান্দরববানে মানববন্ধন”(http://goo.gl/QyjyCP)।
  • দ্বিতীয় ছবিটি অপহৃত আওয়ামীলীগ নেতা মংপ্রু মারমার মুক্তির দাবিতে আওয়ামীলীগের মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের ছবি (http://goo.gl/ZWEhMl)।

উপরের দুটো ছবি যদি একটু ভালো করে খেয়াল করেন তাহলে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের একজন নেত্রীর উপস্থিতি দেখতে পাবেন। এবার নিচের দুটো ছবির পোষ্টারগুলো খেয়াল করুন, পোস্টারের ধরণ, লেখা সবি এক অথচ দুই ছবি দুই প্রোগ্রামের। একটি আওয়ামীলীগের মানববন্ধন ও আরেকটি গণমাধ্যমের সৃষ্ট নাম নিরাপত্তার দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন। অথচ এলাকাবাসীর নাম ব্যবহার করে সরল আদিবাসীদের নিজেদের প্রয়োজনে ব্যবহার করে পাহাড়ে আইন শৃঙ্খলার অবনতি উপস্থাপনে সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে আঞ্চলিক দলগুলোকে কোণঠাসা করার জন্য রাজনৈতিক কৌশলে ব্যবহার করা হচ্ছে “উপস্থাপনার রাজনীতি”।

৩.১
গত ০৫ জুলাই ২০১৬ রোয়াংছড়ি উপজেলার বেতছড়ার তালুকদার পাড়ায় দু-গ্রুপের সংঘর্ষে একজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছে। এটি সত্যি উদ্দেকজনক একটি ঘটনা। গণমাধ্যমে সুবাদে খবরটি জানতে পারলাম এবং বলা হয়েছে সেই সন্ত্রাসী গ্রুপের একজন গ্রেফতার হয়। অথচ সংবাদ সংগ্রহকারী ও প্রকাশ করা গণমাধ্যমগুলো সেই দু-গ্রুপ কারা কোন কিছুই প্রকাশ করেনি এবং নিহত ব্যক্তি ও গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির কোন তথ্যয় প্রকাশ করা হয়নি। বরং আঞ্চলিক কিছু গণমাধ্যমে সেই একই ব্যক্তি বিমল চাকমা নামের এক ব্যক্তিকে নিহত আবার গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির নামও বিমল চাকমা বলে প্রকাশিত হয়। সন্দেহ থেকে যায় ঘটনার আড়ালে কোন ঘটনাটি চাপা দেওয়া হচ্ছে। আর সেইসব এলাকার পরিবারগুলোর যেখানে দিনের একবেলা খাবারের যোগান দিতে জুমই একমাত্র অবলম্বন, নুন আনতে পান্তা ফুরায় সেই মানুষগুলোই আবার সদর জেলার হোটেলে দিনের পর দিন আশ্রয় নেওয়া ব্যাপারটা হাস্যকর নয় কি ?

বৈরি আবাহাওয়ার কারনে জুমচাষ বিপর্যয়ে যে মানুষগুলোর খাদ্য সংকটে ভোগেন সেই মানুষগুলোর হোটেলে আশ্রয় নেওয়াটা কি স্বাভাবিক মনেকরেন! গত ১১ জুলাই সেইসব পরিবার আবার এলাকায় ফিরেছেন। আর সেই ঘটনার উজুহাতে জেলা প্রশাসক দীলিপ কুমার বণিক নিরাপত্তার কারন দেখিয়ে স্থায়ী সেনা ক্যাম্প স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন। শান্তিচুক্তি অনুযায়ী পাহাড়ে সেনাক্যাম্প পরিহার উল্লেখ থাকায় নতুন সেনাক্যাম্প স্থাপনের জন্য ইস্যুর প্রয়োজন পরে, আর এভাবে ইস্যু সৃষ্টির কারিগররা আড়ালে থেকেই নিত্যনতুন ঘটনার জন্ম দিয়ে পাহাড়কে উত্তপ্ত রাখেন। স্বার্থের প্রয়োজনে, ক্ষমতা কায়েমের জন্য পাহাড়ের আদিবাসীদের উদবাস্তুতে পরিণত করতে এই পাহাড়কে পুঁজি করেই এজেন্ডারির মাধ্যমে একেক সময় একেক ঘটনার জন্ম দেওয়া হয়। কখনো সাম্প্রদায়িক হামলা, কখনো নিরাপত্তার উজুহাতে ঘরে ঘরে তল্লাশি। আর ইদানিং নতুন একটি মাধ্যম হচ্ছে ব্যাঙের ছাতার মত বেড়ে উঠা গণমাধ্যমকে ব্যবহারে বিকৃত মানসিকতার খবর প্রচার করা।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 87 = 89