অন্ধ বিশ্বাস একটি ভয়ংকর সামাজিক ব্যাধি।

ছোট বেলায় ভয় পেতাম যখন মা’র মুখ থেকে ভুত প্রেত ভয়ংকর গল্পগুলি শুনতাম। তখন থেকে ভুতের প্রতি দুর্বল, মনে হত এখনি ভুত এসে খেয়ে ফেলবে। সেই যে মনে ভয় ঢুকে গেছে আজও সেইসব ভয় তাড়া করে। রাত্রে বেলা প্রকৃতির ডাকে একা যাওয়া যেত না। মনে হয় চারিপাশে ভুত প্রেত ঘুরাঘুরি করছে। এত ভয় দেখানো হলে একটি শিশু সুষ্ঠ পরিবেশে কি করে বেড়ে উঠবে। আমাদের দেশে বেশির ভাগ পরিবারে অন্ধ বিশ্বাস আছে। শিক্ষিত পরিবার হোক আর অশিক্ষিত পরিবার হোক কুসংস্কার রয়ে গেছে। খুব কম পরিবারে বিজ্ঞান ভিত্তিক আলোচনা করা হয়। বিজ্ঞানকে সাইড লাইনে বসে রেখে বিভিন্ন অন্ধ কুসংস্কার পরিবারে লালন পালন করা হয়। বর্তমান আধুনিক বিশ্বায়নের যুগে কোনদিন সম্ভব বিজ্ঞানকে অস্বীকার করা। কখনোই সম্ভব না। তার কারণ বিজ্ঞান ছাড়া বর্তমানে এক সেকেন্ড চলাফেরা করা যায় না। তাই আমাদের বিজ্ঞানকে মানদন্ড হিসাবে দাড় করিয়ে চলতে হবে। তাবিজ খবজ বিশ্বাস করা যাবে না। অনেক মানুষ আছে তাবিজ খবজ বিশ্বাস করতে গিয়ে নিজের জীবন পর্যন্ত হারিয়েছে। অন্ধ বিশ্বাস তাদেরকে সেই পথে নিয়ে গেছে। বর্তমানে সমাজে ভয়াবহ অন্ধ বিশ্বাস শিকর গেড়েছে। এখান থেকে মুক্ত হতে গেলে দরকার সামাজিক সচেতনতা। সাধারণ মানুষকে বিজ্ঞানের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে। অন্ধ বিশ্বাসকে ছড়িয়ে দিয়ে বিজ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে হবে সবক্ষেত্রে। সমাজে পরিবারে বাড়াতে হবে বিজ্ঞানের পরিধি। অনেক সময় ধর্মও মানুষকে অন্ধ বিশ্বাসে ধাবিত করে তার কারণ কিছু কিছু ধর্মীয়গুরু আছে ধর্ম গ্রন্থগুলির বাণী অপব্যাখ্যা করে প্রচার করতে থাকে এবং অনেকে পা দিতেছে ঐ সমস্ত ধর্মীয় উগ্রবাদীদের মতমাদে। আর যারা পা দিতেছে তারা হুজুকে নিজেকে ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি হিসাবে পরিবারে সমাজে দাড় করাচ্ছে। এখানেই মুল সমস্যা। রাতারাতি ধর্মপ্রাণ মানুষ বনে যাওয়া খুবই বিপদজনক। তার কারণ সেইসব মানুষের বিশ্বাসে যেকোন সময় মৌলবাদী ভাইরাস ঢুকার সম্ভবনা থাকে। একজন মানুষের ভিতরে যখন মৌলবাদী ভাইরাস ঢুকে যায় তখন সমাজে দেখা যায় বিভিন্ন উগ্রবাদী কার্যকলাপ। যার ফলে সমাজে দেখা দেয় অবক্ষয়। তাই ধর্ম চর্চাও করতে হবে বিজ্ঞান ভিত্তিক। অন্ধ ধর্ম বিশ্বাস দিয়ে কোনদিন শান্তি শৃঙ্খলা আসতে পারে না।

পিপল চাকমা, ব্লগার ও সমাজকর্মী।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

60 + = 65