কোরান কার বানী ? মুহাম্মদের নাকি আল্লাহর ?পর্ব-৩(মূহুর্তের মধ্যে আয়াত পরিবর্তন)

আগের দুই পর্বে মুহাম্মদের মোজেজা প্রদর্শনে ব্যর্থতার কথা বলা হয়েছে। এবার বলা হবে , কিভাবে মুহাম্মদ তাৎক্ষনিকভাবে আয়াত পরিবর্তন করতেন। আল্লাহ প্রথমে একটা আয়াত পাঠাত, কিন্তু এরপর কেউ একজন ভিন্ন কিছু দাবী করলেই সাথে সাথে আল্লাহ ভিন্ন আয়াত পাঠাত, যা প্রমান করে , মুহাম্মদের আল্লাহ বস্তুত: সর্বজ্ঞানী না , আর তাই এই আয়াত মুহাম্মদ ও তার সাহাবীরাই দরকার মত রচনা করত। এবার সেটা দেখা যাক —-

সহিহ বুখারী :: খন্ড ৬ :: অধ্যায় ৬১ :: হাদিস ৫১২:
উবায়দুল্লাহ ইব্ন মূসা (র)…… বারা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,”যারা ঘরে বসে থাকে ও যারা আল্লাহর রাস্তায় স্বীয় ধন-প্রান দিয়ে জিহাদ করে তাদের মর্যাদা এক নয় ( ৪:৯৫)” আয়াতটি নাযিল হলে রাসূলুল্লাহ্(সা) বলেন, যায়দকে আমার কাছে ডেকে আন এবং তাকে বল সে যেন কাষ্ঠখন্ড, দোয়াত এবং কাঁধের হাড় রাবী বলেন, অথবা তিনি বলেছেন, কাঁধের হাড় এবং দোয়াত নিয়ে আসে। এরপর তিনি বললেন, লিখ— “যারা ঘরে বসে থাকে ———–“-। এ সময় অন্ধ সাহাবী আমর ইব্ন উম্মে মাকতূম (রা),রাসূলুল্লাহ্(সা) এর পেছনে বসা ছিলেন। তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি তো অন্ধ, আমার ব্যাপারে আপনার কি নির্দেশ? এ কথার প্রেক্ষিতে পূর্বোক্ত আয়াতের পরিবর্তে নাযলি হল: “মু’মিনদের মধ্যে যারা অক্ষম নয়, অথচ ঘরে বসে থাকে ও যারা আল্লাহর পথে স্বীয় ধন-প্রাণ দ্বারা জিহাদ করে তারা সমান নয়” (৪:৯৫)।

সহিহ মুসলিম :: বই ২০ :: হাদিস ৪৬৭৬:
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও মুহাম্মদ ইবন বাশশার (র)……আবু ইসহাক (র) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বারা (রাঃ)-কে কুরআন শরীফের আয়াতঃ “মুমিনদের মধ্যে যারা ঘরে বসে থাকে ও যারা আল্লাহর পথে জিহাদ করে তারা সমান নয় ।(নিসা-৪:৯৫)” সম্পর্কে বলতে শুনেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা) যায়িদ (রাঃ) কে একটি হাড় নিয়ে আসতে আদেশ করলেন এবং তিনি-তাতে তা লিখলেন । তখন ইবন উম্মে মাকতূম (রাঃ) তাঁর (অন্ধত্বের) ওযর সম্পর্কে অমুযোগ করলেন । এ প্রসঙ্গে নাযিল হলো: মুমিনদের মধ্যে যারা অক্ষম নহে অথচ ঘরে বসে থাকে তারা সমান নয় ।(নিসা-৪:৯৫)” শুবা (র) বলেনঃ, আমার কাছে সাদ ইবন ইবরাহীম বর্ণনা করেছেন জনৈক ব্যক্তি সুত্রে তিনি যায়িদ (র) থেকে এ আয়াত সম্পর্কে “ যারা বসে থাকে তারা সমান নয় ।” বাকী হাদীস বারা (রাঃ)-এর হাদীসের অনুরুপ । ইবন বাশশার তাঁর বর্ণনায় বলেছেনঃ, সাদ ইবন ইবরাহীম (র) তাঁর পিতা থেকে তিনি জনৈক ব্যক্তি থেকে তিনি যায়িদ ইবন সাবিত (রাঃ) থেকে ।

সুতরাং দেখা যাচ্ছে , কোরানের আল্লাহ সর্বজ্ঞানী না। যদি সর্বজ্ঞানী হতো তাহলে প্রথমেই সম্পূর্ন অর্থবোধক আয়াত পাঠাত, অন্ধ মাখতুমের আপত্তির অপেক্ষায় থাকত না। এছাড়া দেখা যাচ্ছে , আয়াতটা পাল্টান হচ্ছে কয়েক সেকেন্ড বা মিনিটের মধ্যেই কারন কথিত উক্ত ৪:৯৫ আল্লাহর বানী প্রথমে ও পরে নাজিল হয়েছে মাখতুম ও মুহাম্মদের এক সাথে বসে থাকা অবস্থায়ই। এটা যে আসলে মুহাম্মদেরই বানান আয়াত , আর পরে সেটার অর্থ সম্পূর্ন না এটা বুঝতে পেরে মুহাম্মদ নিজেই যে সাথে সাথে আয়াত পাল্টে ফেলছে , অর্থাৎ তিনি নিজেই নিজের বানান কিচ্ছা কাহিনী বা কথাবার্তাকে আল্লাহর বানী বলে চালাচ্ছেন, সেটা বুঝতে বিশাল বিজ্ঞানী বা পন্ডিত হওয়ার দরকার নেই।

সেই সময়ের আরবের লোকরা সেটা বুঝত , আর বুঝত বলেই মক্কাতে মুহাম্মদের এইসব বানীকে উন্মাদের প্রলাপ বলত আর মুহাম্মদকে বলত উন্মাদ বা পাগল। কিন্তু মুহাম্মদ মক্কাতে দুর্বল ছিলেন তার কোন লোকজন ছিল না, সেই কারনে তিনি তাকে উন্মাদ বলে অভিহিতকারীকে কিছুই বলতে পারতেন না। কিন্তু যখনই মুহাম্মদ মদিনায় গিয়ে একটা রাজ্য গঠন করলেন,তারপর গঠন করলেন একটা বাহিনী, তখনই তিনি বলা শুরু করলেন , তার কথাকে বিনা প্রশ্নে বিনা দ্বিধায় গ্রহন করতে হবে , কোন প্রশ্ন করা যাবে না। প্রশ্ন করলেই সে হয়ে যাবে কাফের মুনাফিক আর তার শাস্তি হবে মৃত্যুদন্ড। কারনটাও বোধগম্য, প্রশ্ন করলেই তো মুহাম্মদের জারিজুরি সব বের হয়ে যাবে। সেকারনেই প্রশ্নকে এতটা কঠিনভাবে নিষেধ করে দেন , আর বলে দেন , বিনা প্রশ্নে সম্পূর্ন বিশ্বাস করে ইসলাম গ্রহন করতে হবে , যার অর্থ হলো বিনা প্রশ্নে আত্মসমর্পন। এভাবে নিজের অস্তিত্ব বিলীন করে বিনা প্রশ্নে আত্মসমর্পন যে করবে সেই হবে খাটি মুমিন। সেটা সুন্দরভাবে কোরানেই মুহাম্মদ বলেছেন , যেমন –

সুরা মায়দা – ৫: ১০১: হে মুমিণগন, এমন কথাবার্তা জিজ্ঞেস করো না, যা তোমাদের কাছে পরিব্যক্ত হলে তোমাদের খারাপ লাগবে। যদি কোরআন অবতরণকালে তোমরা এসব বিষয় জিজ্ঞেস কর, তবে তা তোমাদের জন্যে প্রকাশ করা হবে। অতীত বিষয় আল্লাহ ক্ষমা করেছেন আল্লাহ ক্ষমাশীল, সহনশীল।

তার মানে কোন কিছু জিজ্ঞেস করা যাবে না , করলেই সমস্যা। এই যেমন মুহাম্মদ মিনিটের মধ্যে কোরানের আয়াত (নিসা -৪: ৯৫)পাল্টে ফেলল, সেটা কিন্তু জিজ্ঞেস করা যাবে না কেন আর কিভাবেই বা আল্লাহ এভাবে কিছু পূর্বে অসম্পূর্ন আয়াত পাঠাতে পারে । এ ধরনের প্রশ্ন করলেই কিন্তু কল্লা পড়ে যাবে মুনাফিক বা কাফির হিসাবে।

কোরান কার বানী? মুহাম্মদের, নাকি আল্লাহর? পর্ব-২(চাঁদের দ্বিখন্ডন)

কোরান কারা বানী? মুহাম্মদের, নাকি আল্লাহর? পর্ব-১

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩ thoughts on “কোরান কার বানী ? মুহাম্মদের নাকি আল্লাহর ?পর্ব-৩(মূহুর্তের মধ্যে আয়াত পরিবর্তন)

  1. অসম্ভব ভালো লাগলো। টু দ্য
    অসম্ভব ভালো লাগলো। টু দ্য পয়েন্ট।
    … সূরা আনজামের কথিত শয়তানের আয়াত পরিবর্তন করতে আল্লাহর আবার বেশ কয়েক দিন লেগে গিয়েছিল!!! আবার বিবি আয়েশার নিরুর্দেশ হওয়ার শান্তির বিধান আনতে আল্লাহর লেগে গিয়েছিল এক মাসের বেশী। আসলে মোহাম্মদ সময় সুযোগ বুঝে আর ফন্দি এঁটে মোক্ষম সময়ে কথির আল্লাহর সূরা নিজেই বানিয়েছে!!!!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

85 − 81 =