“বেদূঈন শিশু আর অবহেলিত মানুষেরা

বেদে সম্প্রদায় নামে আমাদের দেশে খুব উচ্চ পর্যায়ের একটা সম্প্রদায় বাস করে। তাদের প্রত্যেক পরিবারের ৭০০ বিঘার উপরে জমি জমা আছে, ঢাকায় ৪, ৫টা এপার্টমেন্ট আছে। বেদে বাচ্চা কাচ্চারা বিদেশে যায় উচ্চ শিক্ষার জন্য। তারপর সেখান থেকে পিএইচডি ডিগ্রি নিয়ে দেশে ফিরে আসে এবং বাপ দাদার পেশা সাপ ধরাতে লেগে যায়! (অবাস্তব অবস্থা)

বাস্তবে এখনো বেদেরা আছে নাকি? আছে হয়তো! তবে তারা এখনো তো অবহেলিত। সবসময় ভাসমান ভাবে বাস, নিজস্ব নিবাসের কথা তারা তো কখনো কল্পনাই করে না। আর তাদের বাচ্চা কাচ্চা বিদেশে পরবে? ঠিক মতো প্রাথমিক শিক্ষাই তো শেষ করতে পারে না। আজ এখানে তো কাল ওখানে থাকার কারনে বাচ্চাদের ঠিক মতো পড়ালেখা হয় না। এদের শিক্ষার ব্যাপারে সরকারের কোনো উদ্যোগ আছে কি না জানি না। তবে নওগার আত্রাই নদীতে ব্যাক্তি উদ্যোগে একটা ভাসমান স্কুল দেখছিলাম জানি না এখনো টিকে আছে কিনা! কিন্তু ওটা তো শুধু প্রাথমিক শিক্ষা! ওইটূকু শিক্ষা দিয়া তো আর সরকারি চাকরি পাওয়া যায় না। আর অবহেলিত হিসেবে সরকারি কোটা আছে নাকি! থাকলেও তারা ওই কোটা দিয়া করবেটা কি? আবেদন করার যোগ্যতাই তো অনেকের নাই। বাচ্চা থাক্তেই হয়ে যায় একেকজন সাপুড়ে, কবিরাজ বা ঝারফুক দেয়া ওঝা!

প্রাথমিক শিক্ষা শেষে এই বেদে বাচ্চাদের মতো দেশের বিরাট একটা অংশ ঝরে পরে। যেখানে ৫ম স্রেনীর সমাপনী পরীক্ষা দেয় ২৬ লাখের বেশি ছাত্র-ছাত্রী, সেখানে ৬ বছর পর এস এস সি তে মোট পরীক্ষার্থী হয়ে যায় তার অর্ধেক। এই বিপুল পরিমান ছাত্র ছাত্রী যায় কোথায়? সরকার তো খালি পাশের হার নিয়া ব্যস্ত, এই ঝরে পরা এতগুলা মানুষ যায় কই তা কি কখনো খুজে বের করার চেষ্টা করেছে? না কোনো এনজিও এইটা গুরুত্তের সাথে দেখছে। শিক্ষা আমাদের মৌলিক অধিকারের মধ্যে পরে, তা কি শুধুমাত্র প্রাথমিক শিক্ষা!

৬ বছরে ১৩ লাখ সে হিসাবে প্রতি বছর গড়ে ২লাখের বেশি শিক্ষার্থী ঝড়ে গেছে। এদের বেশির ভাগই হয়তো ওই বেদে সম্প্রদায়য়ের মতো নিজের কাজ নিজেই বুঝে নিয়েছে। তারা তাহলে আর শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের আওতায় নাই। বেশির ভাগ যেহেতু স্রম কাজ করে তাই তাদের নতুন জায়গা স্রম মন্ত্রনালয়।

এই ঝড়ে পরা নিয়ে চিন্তা করার দায়িত্বটা আসলে কার? সরকার এ নিয়ে বেশি চিন্তিত না হয়তো এতো শিক্ষিত বাইর হলে তাদের চাকরি দিবে কিভাবে! কর্মসংস্থান তো খুব বেশি নাই।
নারী শিক্ষার জন্য সরকারী নানা উদ্যোগ অনেক প্রশংসনীয়। কিন্তু এখানেও অনেকে অবহেলার শিকার। কোনো মেয়ে হয়তো তার উপবৃত্তির টাকা পাচ্ছে তারপর চলে যাচ্ছে পারলারে কিংবা পার্টিতে। অথচ ওই টাকাটা যদি অবহেলিত গরীব কোনো মেয়ে পেতো হয়তো সে তার ভাইয়ের লেখা পড়ার দায়িত্বটা নিতে পারতো। তাই এই সেবাটা ঢালাও ভাবে না দিয়ে ধনী-গরীব বিবেচনা করেই দেয়া উচিত। দুর্নীতির দেশে কিভাবে সুষ্ঠভাবে তা বন্টন করা যাবে তাও গভীর চিন্তায় ফেলে দেয়।

যত সমস্যাই থাকুক না কেনো বাঙ্গালী হিসাবে আমরা কখনোই আশাহত হই না। তাই আশা থাকেই, হয়তো একসময় আসবে বেদের বহরে বড় হওয়া কোনো বাচ্চা বিসিএস এ টিকেছে কিংবা দেশের দায়িত্ব নিয়েছে। সরকারী সকল সেবা যাদের সত্যি সত্যি পাবার কথা তারাই পাবে। আশা নিয়াই থাকি,আশাই ভরসা।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

53 − = 44