বাঁশখালীর পাশে আমরাঃ জয়ী হবে মানবতাই


এই চুলাতে প্রতিদিন তিনবেলা হাঁড়ি উঠত না। যেদিন চালের যোগান থাকত সেদিন বড়জোর দুইবেলা রান্না হতো। মালিকপক্ষ বাড়িতে থাকেন না অনেকদিন। সাম্প্রদায়িক হামলার শিকার বাড়িটিতে শুধুই কয়লা আর আতংকের সহাবস্থান। আগুনের আঁচের তীব্রতা টের পাওয়া যায় ভিটের পাশের দুই ফুট প্রস্থের গাছটি দেখলে। নীচের দিকের একটি ডালও অক্ষত নেই, গোড়াটুকুন জমাট কয়লা হয়ে কোনমতে টিকে আছে ভিটের মালিকের মতই। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, খড় আর টিনের বাড়িটা পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে গানপাউডার দিয়ে, তাই আগুনের এই প্রচন্ডতা।

ঊপরের ছবিতে দেখা ভস্ম আবর্জনা পুড়িয়ে হয়নি, এখানে একটা মনোহারীর দোকান ছিল। ছয় সদস্যের একটি পরিবারের একমাত্র অবলম্বন ছিল এই ছাইগুলো। হামলার প্রথমে দোকানীকে ইচ্ছে মতন পেটানো হয়। সে অবস্থাতেও তার চেষ্টা ছিল কোনমতে ঝাঁপ ফেলে পরিবারের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বনকে রক্ষা করার। তিনি পারেননি সেদিন হাজার লোকের হামলার প্রচন্ডতায় তা রক্ষা করতে, দোকানের মালামাল হাতে যতটুকুন লুট করা যায় সব নিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়। এখানেও ব্যাবহার করা হয় গান পাউডার। দোকানীর দোকান না থাকলেও প্রায়ই সেখানে এসে বসে থাকেন তিনি। দীর্ঘশ্বাস ছাইগুলোকে উড়িয়ে নিয়ে যায় না, শুধু কষ্ট আর ক্ষুধার যন্ত্রনা বাড়ে।

এখানে ছিল একটা কম্পিউটার, ফটোকপির দোকান। সেখানে দিনভর আড্ডা হতো, গ্রামের ছেলেদের কম্পিউটার ব্যাবহার শেখানো হত। মোবাইলে পছন্দের রিং টোন আর গান ঢুকানোর জন্য কিশোর-তরুনদের আনাগোনা ছিল জমজমাট, বিনিময়ে মিলত বেঁচে থাকার কড়ি। এই দোকানের মালিক হিন্দু নন। তিনি একজন কাদিয়ানী। কাদিয়ানীদের হিন্দুদের মতই ধর্মশত্রু বিবেচনা করে একই সাথে আক্রান্ত হয় এর মালিক। মাদ্রাসা থেকে বেরিয়ে আসা জনস্রোত দেখে তিনি আর মার খাওয়ার সাহস করেন নাই, কোনমতে পালিয়ে বাঁচেন।

সেদিন বিকেল ৪টা বাজে। বাশখালি উপজেলা অফিসের নিকটে বাজারে হুট করে পুর্ব-পশ্চিম দিক থেকে ছুটে আসে হাজার হাজার মাদ্রাসার ছাত্র। তাদের সাথে লুংগি জামা এবং প্যান্ট শার্ট পরা নানান বয়সী মানুষও ছিল, মাদ্রাসার ছাত্রদের বয়স ছিল ৮ থেকে ২০ এর মধ্যে। দুইদিক থেকে জংগী মিছিল নিয়ে আসেন তথাকথিত মুসলমানগন। মিছিলের সামনে রাখা হয় মাদ্রাসার বাচ্চা ছেলেদের, যাতে কেউ প্রতিরোধ করতে চাইলেও ইতস্ততঃ বোধ করেন।

প্রথম হামলার ধাক্কা যায় বাজারে অবস্থিত হিন্দুদের দোকানের উপর দিয়ে। উপস্থিত হিন্দুদের সেখানেই অমানুষিকভাবে মেরে আহত করা হয়। একাধারে লুটপাটের পরে অগ্নিসংযোগ করা হয় গান পাউডার দিয়ে, যাতে দোকানের টিন পর্যন্ত অক্ষত না থাকে। প্রতিটা হামলায় গান পাউডারের উপস্থিতি প্রমান করে এ হামলা ছিল পুর্বপরিকল্পিত এবং প্রশিক্ষিত লোকজনের মাধ্যমে। আহতদের মধ্যে অনেক’কে অমানুষিকভাবে পিটিয়ে মুর্মুর্ষ অবস্থায় ফেলে রাখা হয়।

এরপর শুরু হয় হামলার চূড়ান্ত পর্যায়, হাজার হাজার মানুষ ছুটে যায় হিন্দু বাড়িগুলোর দিকে। অনেকেই ততক্ষনে খবর পেয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন, যাদের পাওয়া যায় তাদের পিটিয়ে আধমরা করে ফেলা হয়, শিশু- তরুন-তরুনী-বৃদ্ধ কেউই রক্ষা পান নাই। নিজের বাড়িতেই প্রান হারান একজন বৃদ্ধ। বাড়িতে বাড়িতে আগুন দেয়া শুরু হয়, তারা যখন চলে যায় তখন সেখানে শুধু ছাই অবশিষ্ট ছিল। এরই মধ্যে প্রায় ২০০ হিন্দু যুবক একত্রিত হয়ে প্রতিরোধ শুরু করেন, তাদের সাথে কিছুক্ষনের মধ্যে যোগ দেয় কিছু মুসলমান যুবক। তাদের সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে পিছু হটে জামাত শিবির এবং উস্কে দেয়া মাদ্রাসার ছাত্ররা। এতে অনেকগুলো বাড়ি পুড়ে যাওয়া এবং লুন্ঠনের হাত থেকে বেঁচে যায়।

সালাউদ্দিন আইয়ুবী যখন জেরুজালেম জয় করেন তখন সেখানে টেম্পলের ভিতরে মাতা মেরীর একটি মুর্তি ছিল। টেম্পলে প্রবেশ করেই তিনি দেখতে পান সে মুর্তি’টি মাটিতে পড়ে আছে, টেম্পলের ক্ষতিসাধন দূরের কথা তিনি নিজ হাতে মুর্তিটিকে আগের জায়গায় প্রতিস্থাপন করেন। কিন্তু সেদিন বাশখালীর সেই হামলাকারীদের মধ্যকার ধর্মীয় চেতনা ছিল সালাহউদ্দিন আইয়ুবীর চাইতেও বেশী, তারা ছিল ইসলামের নবীর চাইতেও বড় মুসলমান, যিনি বিদায় হজ্জ্বের ভাষনে বলে গিয়েছিলেন “খবরদার, ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করো না। তোমাদের পুর্বে অনেক জাতি ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ির কারনে ধ্বংস হয়ে গেছে”।

দু’টি মন্দির ভেংগেচুরে তছনছ করে ফেলা হয়। প্রতিমাগুলো আর নানান ধর্মীয় গুরুদের ছবিগুলোকে চরমভাবে অবমাননা করা হয়। উপরের দুটি ছবি সেই তান্ডবের সাক্ষী।

বাজারে যখন হিন্দু দোকান এবং তাদের উপরে শারীরিক হামলা চলছিল তখন জামাত শিবিরের সস্ত্রাসীরা মাদ্রাসার ছাত্রদের উস্কে দিয়ে হামলা চালায় উপজেলা অফিসে। বিল্ডিং এর কাঠামো কোনমতে টিকে থাকলেও ভেতরে থাকা অফিসের নিত্য ব্যাবহার্য আসবাবপত্র সব পুড়ে যায়। সেইসাথে পুড়ে যায় অসংখ্য মুল্যবান প্রশাসনিক দলিল এবং কাগজপত্র। হামলার হাত থেকে রক্ষা পাননি সরকারী কর্মচারী কর্মকর্তারাও। সেদিন পুলিশ ছিল অসহায়। হাজার হাজার ধর্মান্ধ জংগী’র হামলার প্রচন্ডতায় পালিয়ে যেতে বাধ্য হন তারা।

উপজেলা অফিসে ধ্বংসযজ্ঞ শেষ করে জংগীরা হামলা শুরু করে ঢিল ছোঁড়া দুরত্বের বাশখালী আদালত ভবনে। সে সময় সেখানে যারাই ছিলেন চরমভাবে শারীরিক লাঞ্চনা এবং অকথ্য গালাগালির শিকার হয়েছিলেন। ভবনের এমন কোন অংশ নেই যেখানে আগুনের লেলিহান শিখা স্পর্শ করেনি। কাগজপত্র, আসবাবপত্র কোনকিছুর সামান্যতম অংশও রক্ষা পায়নি, এমনই ছিল সে আগুনের তান্ডব। বলাইবাহুল্য, এই দুই স্থানেও আগুন দেয়া হয়েছিল গান পাউডার দিয়ে।

প্রিয় পাঠক, এমতাবস্থায় ইস্টিশন ব্লগে আমি একটি পোস্ট দেই আর্তের সহায়তায় এগিয়ে আসার জন্য। ব্লগটিকে স্টিকি করায় ইস্টিশন ব্লগকে আন্তরিক অভিবাদন। দেশ-বিদেশ থেকে সবাই যার যার অবস্থান থেকে হাত বাড়িয়ে দেন। তাদের সবাইকে আমার হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে অভিবাদন এবং শুভেচ্ছা। বিশেষ শুভেচ্ছা আমার ব্লগ ফাউন্ডেশন’কে, তারাও আমাদের এই উদ্যোগে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে সাধ্যমতন সহযোগিতা করেছেন।

আমাদের মোট টাকা উঠে দুই লক্ষ ছয় হাজার টাকা। দেশের সার্বিক নিরাপত্তার কারনে আমাদের যাত্রার উদ্যোগ ব্যাহত হয় বারে বারে, তারপরেও শেষ পর্যন্ত আমরা সেখানে গিয়ে উপস্থিত হয়েছিলাম। গিয়ে দেখেছি এক অমানবিক অবস্থা। সেখানে অনেক সাহায্য পৌছালেও তা এখনো প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তবু নানান জনের উদ্যোগ অব্যাহত আছে, আশা করা যায় দ্রুতই ক্ষতিগ্রস্তরা স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাবেন।

আমরা সেখানে ইচ্ছে করেই চিঁড়া মুড়ি কিংবা কাপড়-চোপড় নিয়ে যাইনি। উদ্দেশ্য ছিল আমাদের ক্ষুদ্র টাকার মধ্যেই আমরা প্রয়োজনে অল্প কয়েকজনকে সাহায্য করব, যাতে তারা আবার মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেন। তবে তারও আগে অগ্রাধিকার ছিল আহতদের উপযুক্ত চিকিৎসার ব্যাবস্থা করা। প্রশাসনের ভূমিকা ছিল এক্ষেত্রে চরম প্রশংসনীয়, বিশেষ করে স্থানীয় ঊপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাব্বির ইকবাল আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা হতে শুরু করে সকল প্রকারের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। কাদের সাহায্য করা হবে সে তালিকা আমাদের চাহিদা অনুযায়ী প্রস্তত করে দেন স্থানীয় সাংবাদিক এবং মানবাধিকার কর্মীরা। ক্ষতির পরিমান অনুযায়ী টাকার অংক তারাই নির্ধারন করে দেন। অসীম ধৈর্য নিয়ে আমাদের ঘুরিয়ে দেখান ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়ি, দোকান এবং তাদের সাথে কথা বলার সুযোগ করে দেন। উনাদের প্রতি ধন্যবাদ কিংবা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন অনেক কম কিছু হয়ে, তাদের আমাদের সকলের পক্ষ থেকে টুপি খোলা লাল সালাম।

আহতদের চিকিৎসার জন্য অদ্বৈতানন্দ ঋষিমঠ ও মিশনের উদ্যোগে একটি কেন্দ্র খোলা হয়েছে সেখানে আমরা দান করি সর্বমোট এক লক্ষ ছয় হাজার টাকা এবং দোকান-বাড়ি পুড়িয়ে নিঃস্ব হয়ে যাওয়াদের চারজন’কে আমরা দান করি যথাক্রমে ত্রিশ হাজার এবং বিশ হাজার করে ষাট হাজার টাকার। দুইজন অসহায় নারীকে আলাদা করে দেয়া হয় পাঁচ হাজার করে দশ হাজার টাকা, যাতে তারা ছোট্র করে হলেও কিছু শুরু করে স্বাবলম্বী হতে পারেন।

ছবির মাঝখানে চেক টি-শার্ট পরা লোকটি হচ্ছেন ইউ,এন,ও শাব্বির আহমেদ। তার চারপাশে যাদের দেখতে পাচ্ছেন তাদের টাকা দেয়া হয়েছে এবং তিনজন আহত থাকায় তাদের মনোনীত প্রতিনিধি এসেছিলেন। পত্রপত্রিকার মারফত আমরা দেখেছি, যাদেরই সাহায্য করা হয়েছে বলে ছবি-নাম পত্রিকায় এসেছে, তাদের উপর পুনঃ পুনঃ হামলা হয়েছে। তাই সতর্কতাবশত কারো নামধাম এখানে প্রকাশ করা হয়নি এবং ছবিগুলো ব্লার করে দেয়া হয়েছে।

আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় উঠে আসা অর্থ আসলে প্রয়োজনের তুলনায় কিছুই না। কিন্তু আমরা সেখানে আহতদের পাশে বসে যখন বলেছিলাম, আমরা অনলাইন থেকে এসেছি এবং কোটি মানুষ আছেন আমাদের মতন যারা আপনাদের দুঃখে সমব্যাথী। তাদের মুখে যে কষ্ট অনিশ্চয়তার মেঘ ছিল, তা অনেকটাই কেটে গিয়েছিল। তারা আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ জানিয়েছে পাশে এসে দাঁড়াবার জন্য। আমরা যখন চলে আসি অনেকের চোখেই জল ছিল, সেখানে দুঃখবোধ ছিল না, ছিল নির্ভরতার প্রকাশ। সেখানে আমাদের জন্য অসীম মায়া এবং ভালোবাসা ছিল, এবার আমাদের সে ঋন শোধ করার পালা। জামাত-শিবির এবং সকল প্রকার ধর্মান্ধ গোষ্ঠীকে বাংলাদেশ থেকে সমূলে বিতাড়ন করাই সে ঋন শোধের একমাত্র উপায়।

লড়াই চলবে!

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২৫ thoughts on “বাঁশখালীর পাশে আমরাঃ জয়ী হবে মানবতাই

  1. বাঁশখালীতে ক্ষতিগ্রস্থদের
    বাঁশখালীতে ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের নির্মম অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হওয়াটা ছিল একটা নতুন ধরনের এবং বিশাল অভিজ্ঞতা। যারা সাহায্য দিয়েছেন, যারা সমর্থন দিয়ে আমাদের উৎসাহ দিয়েছেন তাঁদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। ইস্টিশন কর্তৃপক্ষকে স্পেশাল ধন্যবাদ আমাদের সাপোর্ট দেওয়ার জন্য।
    আশা আছে, আমার অভিজ্ঞতা নিয়ে আলাদা একটা পোস্ট দেবো, তাই আর বেশী কিছু বলছি না। সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ সাথে থাকার জন্য। :bow:

  2. ইস্টিশন এর এই উদ্যোগ সফল
    ইস্টিশন এর এই উদ্যোগ সফল হওয়ায় সবাইকে অভিনন্দন। ব্যস্ততার জন্য যেতে পারিনি। কিন্তু এটা সব সময়ই পুড়িয়েছে। গেলে হয়তো অনেক কিছু দেখা যেত, অনেক কিছু জানা যেত। যার মাধ্যমে আগামীতে আরো ভালোভাবে কাজ করা সম্ভব হতো। ধন্যবাদ মহামান্য ও ডা. আতিককে।

  3. ইস্টিশন ব্লগ কে অসংখ্য
    ইস্টিশন ব্লগ কে অসংখ্য ধন্যবাদ , সেই সাথে আরো ধন্যবাদ মহামান্য কহেন এবং ড. আতিককে। :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :ফুল: :ফুল: :ফুল: :ফুল: :ফুল: :ফুল:

  4. কাপুরুষ না হলে নিরস্ত্র অসহায়
    কাপুরুষ না হলে নিরস্ত্র অসহায় মানুষের উপর হামলা করাটা কোন মহাপুরুষের কাজ নয়। ইস্টিশন কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ এহেন মহতী কাজের জন্য। সাথে আছি। :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :ফুল: :ফুল: :ফুল: :ফুল:

  5. ধন্যবাদ যারা এই উদ্যোগে
    ধন্যবাদ যারা এই উদ্যোগে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সাহায্য করেছেন। জেহাদ মানে অসহায় সিভিলায়নদের হত্যা করা নয়।পারলে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে দেখা। সেনাবাহিনীর একটা সেকটরে আক্রমন করে দেখা…তাইলে বুঝব তোরা জেহাদি। নিরীহ মানুষ মেরে কি প্রমান করতে পারবি তোরা?

  6. স্যালুট। আর কিছু বলার নেই।
    :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল:
    স্যালুট। আর কিছু বলার নেই।

  7. কোটি মানুষ আছেন আমাদের মতন
    কোটি মানুষ আছেন আমাদের মতন যারা আপনাদের দুঃখে সমব্যাথী। তাদের মুখে যে কষ্ট অনিশ্চয়তার মেঘ ছিল, তা অনেকটাই কেটে গিয়েছিল।
    ধন্যবাদ কহেন দা,ও তার টিম কে।

    জেহাদ মানে অসহায় সিভিলায়নদের হত্যা করা নয়।পারলে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে দেখা। সেনাবাহিনীর একটা সেকটরে আক্রমন করে দেখা…তাইলে বুঝব তোরা জেহাদি। নিরীহ মানুষ মেরে কি প্রমান করতে পারবি তোরা?-
    — সাদাসিধা সত্য কথা কইছেন আশফাক দা

  8. মানুষের যে কোনো দুঃসময়ে
    মানুষের যে কোনো দুঃসময়ে ইস্টিশন পাশে দাঁড়াবে এই প্রত্যাশা করছি। সাথে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
    অফিসের ঝামেলায় যেতে পারলাম না। এজন্য অনেক মনখারাপ হচ্ছে। সামনের দিনে ইস্টিশনের যে কোনো উদ্যেগের সাথে আছি

  9. ইস্টিশনের এরূপ মহান উদ্যোগকে
    ইস্টিশনের এরূপ মহান উদ্যোগকে আমি সাধুবাদ জানাচ্ছি ! সে সাথে ভবিষ্যতে এরুপ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহবান জানাচ্ছি…

  10. টিমের সাথে যাওয়ার খুব ইচ্ছে
    টিমের সাথে যাওয়ার খুব ইচ্ছে ছিল। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি অনুকেলে না থাকার কারণে যেতে পারলাম না। পোস্টে ধর্মের নামের ববর্তার চিত্রগুলো দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে গেলাম। উদ্যোগে জড়িত সকলের প্রতি শ্রদ্ধা। যারা সহযোগীতা পাঠিয়েছেন তাদেরকে স্যালুট। ইস্টিশন কর্তৃপক্ষকে উদ্যোগে সহযোগী হিসাবে থাকার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

    অনেক আগেই বাঁশখালীতে এই সহযোগীতা পৌছানোর জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্ত বিভিন্ন ধরনের প্রতিকুলতার কারণে হয়ে উঠেনি।

  11. জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আপনারা যা
    জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আপনারা যা করেছেন তাতে আপনাদের প্রশংসা করার ভাষা আমার জানা নেই। প্রতিটা অসহায় মানুষের পাশে এভাবে আপনারা দাঁড়াবেন এই বিশ্বাস রাখি। ছবিগুলো দেখতে দেখতে হাত মুষ্টিবদ্ধ হয়ে উঠছিল। সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষ উপড়ে ফেলার জন্য আপনাদের সাথে আছি। এই অসামান্য কাজের জন্য :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :ফুল: :ফুল: :ফুল: :salute: :salute:

  12. এখানে ছিল একটা কম্পিউটার,

    এখানে ছিল একটা কম্পিউটার, ফটোকপির দোকান। সেখানে দিনভর আড্ডা হতো, গ্রামের ছেলেদের কম্পিউটার ব্যাবহার শেখানো হত। মোবাইলে পছন্দের রিং টোন আর গান ঢুকানোর জন্য কিশোর-তরুনদের আনাগোনা ছিল জমজমাট, বিনিময়ে মিলত বেঁচে থাকার কড়ি। এই দোকানের মালিক হিন্দু নন। তিনি একজন কাদিয়ানী। কাদিয়ানীদের হিন্দুদের মতই ধর্মশত্রু বিবেচনা করে একই সাথে আক্রান্ত হয় এর মালিক। মাদ্রাসা থেকে বেরিয়ে আসা জনস্রোত দেখে তিনি আর মার খাওয়ার সাহস করেন নাই, কোনমতে পালিয়ে বাঁচেন।

    কিচ্ছুই বলবার নাই যা বলার তা আগে অনেকবার বলেছি।

    অনেক ইচ্ছে ছিলো স্বশরীরে যাবো কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির কারণে সম্ভব না হলেও মনে-প্রাণে আশা করি ছিলাম। আপনারা যেই সাহস নিয়ে সেখানে গিয়ে বিপদগ্রস্থ মানুষগুলোর পাশে দাড়িয়েছেন তার জন্য হ্যাটস অফ :bow: :bow: :bow:

    একদিক থেকে বিলম্ব হওয়াতে কিছুটা ভালো হয়েছে, কেননা এর আগে দিলে হয়তো উনারা জীবন-বাচানো সামগ্রী কিনে ফেলত, কিন্তু এই মুহুর্তে অন্তত তারা মাথা গোজার ঠাই টুকু নির্মান করে আসন্ন ঝড়-বাদলে কিছুটা হলেও নিরাপদে থাকবে।

    এর থেকে আবারো প্রমান হলো নামধারী আস্তিকরা জানে হানাহানি আর যারা এসবের বিরুদ্ধে সেইসকল তথাকথিত নাস্তিকরা জানে মানব সেবা করতে যেটি ধর্মতেই নির্দেশ দেয়া আছে।

  13. শুধু বাঁশখালী না, রামু বৌদ্ধ
    শুধু বাঁশখালী না, রামু বৌদ্ধ মন্দির পোরানোর জন্য একজন মুসলমান হিসেবে লজ্জিত। কিছুদিন আগে আমার কাছের এক বান্ধবী থাট্টাচ্ছলে বলছিলো, এইবার তো আমাদের পালা, কবে মারতে আসবি?

    আর আপনাদের উদ্যোগ কে সাধুবাদ জানাই :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 5 = 1