জঙ্গিবাদের পিঠস্থান এনএসইউ ও আমাদের বন্ধু সাইমুম পারভেজ

সারা দুনিয়াতে জন্মের পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আলাদা স্বাধীন একটি ভূমিকা লক্ষ্য করা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যে ধরনের শিক্ষা দেওয়া হয় তাতে একজন শিক্ষার্থী তার আগের ধারণাগুলো থেকে বেরিয়ে নতুন মানুষরুপে হাজির হওয়ার সুযোগ তৈরী হয়। জ্ঞান অর্জনের এই সুযোগ নিয়ে সবাই যে নতুন মানুষ হন তা নয়-তবে যারা নতুন মানুষ হন তারা সমাজে বড় ধরনের ভূমিকা রাখেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিস্তারিত ইতিহাস লিখতে বসিনি। এই লেখার মূল উদ্দেশ্য ইতিহাসের বয়ান নয় বরং বিশ্ববিদ্যালয় মতাদর্শ নির্মাণের কারখানা হিসেবে দেখি থাকি।

যদি খেয়াল করেন তাহলে দেখবেন ৬০ দশকে দুনিয়াজুড়ে যে আন্দোলন হয়েছে তার সামনের কাতারে ছিলেন শিক্ষার্থীরা। ফ্রান্সের ছাত্র আন্দোলন দুনিয়াজুড়ে প্রভাব রেখেছিলো। এর প্রভাব কতটা গভীর তা বুঝতে হলে ওই সময়কার একই সময় গড়ে ওঠা জার্মানির ছাত্র আন্দোলনের দিকে আমাদের নজর দিতে হবে। এরপর সেখানে সশস্ত্র ধারার কমিউনিস্ট আন্দোলন গড়ে ওঠে আর দ্রুতই তারা নিষিদ্ধ হয়ে যায়

এই একই সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, লাতিন আমেরিকার দেশগুলো, এশিয়ার দেশগুলোর ছাত্ররা লড়াই করেছে ভিয়েতনাম যুদ্ধের বিরোধীতা করে। বাংলাদেশে সেই সময় একটি শ্লোগান খুব জনপ্রিয় ছিলো, ‘তোমার নাম আমার নাম ভিয়েত নাম ভিয়েত নাম।’ যুক্তরাষ্ট্র বিরোধী সেই সময়কার শ্লোগান ও বিক্ষোভ মিছিলে গুলি চালিয়ে তৎকালিন আওয়ামী লীগ সরকার ছাত্র ইউনিয়নের দুই সংগঠক মতিউল ইসলাম ও মীর্জা কাদেরুল ইসলামকে ১৯৭৩ সালের ১ জানুয়ারি বর্তমান হাইকোর্টের সামনে হত্যা করা হয়।

একই সময় স্মরণে আনুন ষাটের দশকে ভারতে যে নকশাল আন্দোলন হলো তাতে মূলত ভারতের বিভিন্ন স্থানের শিক্ষার্থীরা ছিলেন অগ্রগামি। বাংলাদেশের কথা বাদ রাখবো এ কারনে এ দেশের জন্মের সাথেই ছাত্র আন্দোলনের ভূমিকা রয়েছে।

সেটি জাতীয়তাবাদ বলি আর কমিউনিস্টপন্থি বলি উভয় শিবিরে প্রধান যোগান ছিলো ছাত্ররা। এমন কী সশস্ত্র ধারার এখানে যে কমিউনিস্ট আন্দোলন গড়ে ওঠেছিলো তার পুরোধাই ছিলো ছাত্রদের নেতৃত্বে। আবার জাতীয়তাবাদীদের সমাজতন্ত্রী দল জাসদের ক্ষেত্রেও একই সত্য। এরপর বাংলাদেশ পর্বের সবগুলো আন্দোলনে ছাত্ররা প্রধান সারিতে ভূমিকা রেখেছেন। সর্বশেষ ২০০৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা জরুরী অবস্থার বিরুদ্ধে যে আন্দোলন করলো তার পরিনামই কিন্তু ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে নির্বাচন। অর্থাৎ বাংলাদেশের গণতন্ত্র আনার ক্ষেত্রে সর্বশেষ যে আন্দোলন হয়েছে সেখানেও ছাত্ররা নেতৃত্ব দিয়েছে।
ভারতের অন্যাতম প্রভাবশালী জওহরুলাল নেহেরু ইউনিভার্সিটি (জেএনইউ)। এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ষাটের দশকে সব থেকে বেশি নকশাল বা মাওবাদী বের হয়েছে। আর কলকাতাতে যাদবপুর ইউনিভার্সিটি। জেএনইউ’তে এখনো নকশাল প্রভাব সব থেকে বেশি। এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই আওয়াজ ওঠছে, কাশ্মির ভারতের অংশ নয়।

?oh=4d2ecd531d45b37ad99f7e20eca6b5d7&oe=58308436&__gda__=1478904179_e9d83464943d9b2cb0291c3197877fe2″ width=”500″ />
ফারাজের কাছে আপনাদের শিক্ষকদের তত্ব ও তৎপরতা হেরে গেছে

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকা নিয়ে লেখা যাবে। ফ্রান্সের গল বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ষাটের দশকে পুরো ইউরোপ কাপিয়ে দিয়েছিলো তার অগ্রভাবে দেশটির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ছিলেন। ষাটের দশকে ভিয়েতনাম যুদ্ধ বিরোধী যে আন্দোলন যুক্তরাষ্ট্রকে কাপিয়ে দেয় তার পেছনেও ছিলো দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের বড় ভূমিকা। ভারতে নকশাল আন্দোলনে যারা যুক্ত ছিলেন তার অধিকাংশই উচ্চবিত্ত ও উচ্চ মধ্যবিত্তের শহুরে পড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।

অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয় মতাদর্শ নির্মাণে সব থেকে প্রভাবশালী ভূমিকা রাখার সুযোগ পায়। পৃথিবীর বহু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এ কারণে ঝাকে ঝাকে বিপ্লবী মানুষ বের হয়।

পাবলিক প্রাইভেট দ্বন্ধ
সারা দুনিয়াত পাবলিক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় দ্বন্ধকে প্রকট করে দেখা হয় না যতটা বাংলাদেশে দেখা হয়। বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো একেকটি আদর্শিক হেজিমনি তৈরীর প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখা হয়। সে অর্থে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শুধু দায়সারা গোছের সনদ ও শিক্ষাজীবন শেষ করার প্রধান প্রবনতার মধ্যে থাকে। আর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিজস্ব ক্যাম্পাস, হল ও অন্যান্য অ্যাক্টিভিজম করার সুযোগ না থাকায় সেখান বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের পথটাও থাকে বেশ কঠিন। ফলে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু ইন্টেলেকচ্যুয়াল ও শিক্ষার্থীদের বলতে দেখেছি, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হলো পোল্টি মুরগির বাচ্চা। এই দ্বন্ধের মধ্য দিয়ে এতোদিন আমাদের রাজনীতিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে আলাদা শক্তি হিসেবে বা রাজনৈতিক আÍপরিচয়ে দেখা যায়নি। কিন্তু সর্বপ্রথম বিরাট আকারে এটির স্ফুরণ ঘটতে দেখা যায় ভ্যাট বিরোধী আন্দোলনে। ৯০ পরে গত আড়াই দশকে শিক্ষাকে আলু সিম লাউয়ের মত একটি পন্য হিসেবেই তুলে ধরা হয়। কিন্তু এই প্রথম সেই কথিত ফার্মের প্রডাক্টগুলো রাস্তায় দাড়িয়ে রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করে বললো, ‘নো ভ্যাট গুলি কর’। এই শ্লোগানের গভীর তাৎপর্য হচ্ছে-রাস্তায় নেমে শিক্ষার্থীরা প্রথম তাদের রাজনৈতিক আইডেন্টিটি প্রকাশ করলো, তারা নিজেরা একটি বৃহত রাজনৈতিক বর্গ হিসেবে সমাজকে জানান দিলো। এই জানান দেওয়াকে প্রথমেই অভিনন্দন জানাতে হবে। সে সময় আমরা অনেকে এটিকে অভিনন্দনও জানিয়েছে।

কিন্তু সম্প্রতি এনএসইউতে একের পর এক ‘ইসলামি জঙ্গিবাদ’ (ইসলামের অনেকগুলো ফেরকা আছে। বিশেষ একটি ধারা নিয়ে যারা সশস্ত্র জিহাদের মাধ্যমে খেলাফত প্রতিষ্ঠা করতে চায় এবং সাধারণ জনগনকে কিতালের মাধ্যমে হত্যা করা হয় তাদেরকে এই নামে অভিহীত করা হচ্ছে) ভাবধারার শিক্ষার্থী আটক হচ্ছে।

এরকম একটি সময় প্রশ্ন ওঠেছে, এনএসইউতে কি জঙ্গিবাদের চাষাবাষ হয়? আমাদের বন্ধু এনএসইউ বর্তমান শিক্ষক তিনি এরকমভাবে ভাবতে নারাজ। তার দাবি বিশেষ কোন বিশ্ববিদ্যালয়কে জঙ্গিবাদী হিসেবে আখ্যা দেওয়া উচিত না। কারণ এখানকার সবাই যেমন ধনি না, অনেক দরিদ্র মেধাবীরা আছেন। আর জঙ্গিবাদ সবখান থেকে বের হচ্ছে শুধু এনএসইউ থেকে নয়।

?oh=99e9a8ffe5b46fdc417a8e71c2e4ef39&oe=57F1430F&__gda__=1474905531_1fb34fd84ed6bff5feb7c664cf8ebf86″ width=”500″ />

আমি সাইমুমের মূল বক্তব্যের কিছুটার সাথে একমত। কিন্তু আলাপের একটা জায়গা গিয়ে আমার সাথে তার দ্বিমতের বিষয়গুলো বেরিয়ে এসেছে বলেই এই লেখার অবতারণা।

বিশ্ববিদ্যালয় মতাদর্শ ম্যানুফেকচার করে থাকে। এখন এই মতাদর্শ ম্যানুফেকচার কিভাবে হয়? এটি শিক্ষার্থীরা স্বাধীনভাবে অন্য জায়গা থেকে এনে এনএসইউতে তার চাষাবাস করতে পারেন আবার খোদ বিশ্ববিদ্যা­য় এমন কিছু কাঠামো থাকতে পারে যে ওই মতাদর্শ (যেমন ইসলামি জঙ্গিবাদ) ফুলে ফেপে ওঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মতাদর্শ বা ইডোওলোজি ম্যানুফেকচার হওয়ার ক্ষেত্রে সব থেকে বড় ভূমিকা রাখেন খোদ ওইসব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। অর্থাৎ শিক্ষক যদি হন বামপন্থি তবে ছাত্রদের মধ্যে বামপন্থার দ্রুত জনপ্রিয়তা ও বিকাশের সম্ভাবনা দেখা দেয়। আর যদি শিক্ষক হন ইসলামি জঙ্গিবাদ ভাবাদর্শের তাহলে সেখানে জঙ্গিবাদী শিক্ষার্থীরাই বের হবেন এটাই সাভাবিক।

ইতোমধ্যে এই এনএসইউ’র চারজন শিক্ষককে হিযবুত তাহরীর করার কারণে বহিস্কার করা হয়েছে। সর্বশেষ গত শনিবার ১৬ জুলাই গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারি রেস্তোরাঁয় হামলাকারী জঙ্গিদের বাসা ভাড়া দেওয়া এবং তথ্য গোপন করার অভিযোগে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। গ্রেপ্তার তিনজন হলেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব হেলথ অ্যান্ড লাইফ সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক এস এম গিয়াস উদ্দিন আহসান, তাঁর ফ্ল্যাটের তত্ত্বাবধায়ক মাহবুবুর রহমান এবং ওই অধ্যাপকের ভাগনে আলম চৌধুরী।

তাহলে জঙ্গিবাদের চাষবাসটা শুধু সাধারণ শিক্ষক লেভেলে আর নেই এনএসইউতে। এটি খোদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক তৎপরতা ও নির্বাহী ক্ষমতা যাদের মধ্যে আছে তাদের কাছ থেকে সহায়তা পাচ্ছে জঙ্গিরা। তাহলে এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কী ধরনের ছাত্র বের হবে? আলবৎ তাদের একটি অংশের মধ্যে এই প্রবনতার ঝোক থাকবে যে তারা বেসামরিক মানুষ মেরে বিপ্লবের পথে হাটবে। সেটাই হচ্ছে।

সাইমুম এনএসইউ সম্পর্কে অতিরঞ্জন ব্যাখ্যা দিয়েছে
বন্ধু সাইমুম পারভেজ তার লেখায় বলেছেন, এই বিশ্ববিদ্যালয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মত না হলেও অনেক লেখাপড়া হয়, তাদের মান ভালো ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা।

২০১৫ সালের অক্টোবরে দেওয়া ইউজিসির এক প্রতিবেদন বলছে, এনএসইউতে ছাত্র সংখ্যা হলো ১৭৪৭২ জন। এই সংখ্যাক ছাত্রও প্রকৃত ছাত্র সংখ্যা তুলনায় অনেক বেশি। কারণ হলো যেখানে ৫০ জন ভর্তী করা যাবে কোন কোর্সে সেই কোর্সকে বছরের একাধিক সেমিস্টারে ভেঙ্গে কয়েকগুন ভর্তী করানো হয়। ভাবুন কতটা আপদমস্তক ব্যবসায়ী। কিন্তু ভ্যাটের কথা উঠলেই ভ্যাট দিবো না। যদিও আমি মনে করি শিক্ষা ক্ষেত্রে কোন ভ্যাট নয়-কিন্তু খোদ যারা নিজেদের প্রতিষ্ঠানকে ব্যাংক-বিমা, আলু পটলের মত মনে করেন সেইসব প্রতিষ্ঠানের উচিত স্বউদ্যেগি হয়ে ভ্যাট দেওয়া।

এনএসইউ’র বিরুদ্ধে শুধু জঙ্গিবাদ তৈরীরই অভিযোগ নেই খোদ বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু ধরনের দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগ আমলে এনে বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। ২০১৫ সালের ২৫ অক্টোবর ইউজিসির উপ পরিচালক জেসমিন পারভীন শিক্ষা সচিবের কাছে একটি প্রতিবেদন পাঠান। সেখানে বেশ কিছু ব্যবস্থা নেওয়ারও কথা বলা হয়।

?oh=aa80670ce61b1119c10c7f8493980474&oe=5832F126″ width=”500″ />

আসুন একটু দেখি কি ছিলো সেই আলোচিত প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে সাতটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে একটি হলো জঙ্গিবাদ বাকিগুলো অর্থ আত্মস্মাৎ ও ক্ষমতার অপব্যহার।

  • ১. ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যদের সীমাহীন আধিপাত্য ও স্বেচ্ছাচারিতা। ভর্তী বাণিজ্য, ভিসির বেতনের ওপর কর অব্যাহতি।
  • ২. বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ তহবিল থেকে ট্রাস্টিদের আর্থিক সুবিধা গ্রহণ ও বিদেশ ভ্রমণ।
  • ৩. বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০ এর ধারা ৪৪ (২) অনুযায়ী তহবিল পরিচালিত না হওয়া।
  • ৪. ট্রাস্টিবোর্ডের সদস্যরা জোর করে বৈধ ভিসি অধ্যাপক ড. আমিন উদ্দীন সরকারকে ছুটি দিয়ে বিদেশে যেতে বাধ্য করে।
  • ৫. ভিসির বেতনের কর অব্যাহতি।
  • ৬. ভর্তি বাণিজ্য।
  • ৭. অন্যান্য। এর মধ্যে রয়েছে অনুমোদনহীন প্রোগ্রাম পরিচালনা এবং সংখ্যাতিরিক্ত ছাত্র ভর্তী ও গ্রন্থাগারে নিষিদ্ধ বই সংরক্ষণ।

এ অভিযোগ আমলে এনে তদন্ত কমিটি যে প্রতিবেদন দাখিল করে শিক্ষা সচিবের কাছে সেখানে এসব অভিযোগের প্রত্যেকটির সত্যতা মেলে।

?oh=74e1b3c61d87d053233d87ddd092c1d1&oe=582C9E23″ width=”500″ />
গুলশানের হলি আর্টিজানে নিহত ইসরাত সম্পর্কে কবির সুমনের একটি ফেসবুক পোস্টের স্ক্রীন শট।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এনএসইউ কর্তৃপক্ষ ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যদের নামে ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে আশালয় হাউজিং লিমিটেডের কাছ থেকে প্রতিষ্ঠানটির ক্যাম্পাসের জন্য একটি জায়গা কেনে। এর মধ্যে ২৫০ কোটির টাকা এনএসইউ এর তহবিল থেকে দেওয়া হয় বাকিটা ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে পরিশোধের চুক্তি হয়। কিন্তু ২০১০ এর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারা ৯ (৩) অনুযায়ী, প্রস্তাবিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিকট হস্তান্তর করা যাইবে না।

এখানো আরো কঠিন সত্য আছে। আর তা হলো, এনএসইউ কর্তৃপক্ষ ৫০০ কোটি টাকা দিয়ে জমি কেনা ও ২৫০ কোটি বায়না দেওয়াটাও ভাওতা। মূলত এ জমির মূল্য ১০০ কোটি টাকাও হবে না। এর অর্থ হচ্ছে স্রেফ বাকি টাকা ঝেড়ে দেওয়া। এ নিয়ে ইত্তেফাক ও শিক্ষা ডট কমের প্রতিবেদন দেখতে পারেন।

এনএসইউ এর ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা প্রতি বোর্ড সভায় হাজির দিয়েই ৫০ হাজার টাকা করে সম্মানী নিয়ে থাকেন। আর বিভিন্ন শিক্ষা সংক্রান্ত চুক্তির জন্য ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা বিদেশ ভ্রমণ করেন। আর খরচ দেয় এনএসইউ কর্তৃপক্ষ।

অথচ সরকারি বিধানবলে ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা যে ১০টি ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনার সাথে যুক্ত থাকতে পারবে তার মধ্যে বিদেশ ভ্রমনের কোন বিষয় নেই।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০ এর ধারা ৪৪ (২) অনুযায়ী তহবিল পরিচালিত না হলে কি বিপদ? অনেক বিপদ। কারণ এই আইনের এ ধারায় বলা হয়েছে, ট্রাস্টি বোর্ডের মনোনিত বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মকর্তা এবং ট্রেজারের যৌথ সইয়ে সাধারণ তহবিল পরিচালিত হবে। অথচ এনএসইউ কর্তৃপক্ষ এটি মানেনি তাদের ৫০০ কোটি টাকার জমি কেনার ক্ষেত্রে। কারণ এ আইনের ৪৪ (৩) ধারা অনুযায়ী, যখন কোথাও বিনিয়োগ করতে যাবেন তখন সরকার ও ইউজিসিকে জানাতে হবে। ৫০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে এনএসইউ এটি করেনি।

ভর্তী বাণিজ্য করা হয় ট্রাস্টিবোর্ডের সদস্যদের কোটা থেকে। অর্থাৎ ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা টাকা খেয়ে তাদের কোটায় যে কাউকে ভর্তী করাতে পারে। কমিটিকে এনএসইউ কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করেছে ভবিষ্যাতে ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যদের কোন কোটা রাখা হবে না।

অনুমোদহীন প্রোগাম ও অতিরিক্ত ছাত্র ভর্তীর বিষয়টি আরো গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিবিএন/ইইই প্রোগ্রামের জন্য ইউজিসি নির্ধারিত আসন ৫০টি। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়টি ২০১৫ সালের ওই সময় (যখন ইউজিসি তাদের ওপর প্রতিবেদন তৈরী করছিলো) বেশ কয়েকটি সেকশন খুলে অতিরিক্ত ছাত্র ভর্তী করেছে।

এবার আসি মূল পয়েন্টে জঙ্গিবাদ
ইউজিসির তদন্ত দল সরেজমিন গিয়ে এনএসইউতে ইসলামি নিষিদ্ধ জঙ্গিবাদী সংগঠনের কিছু পুস্তক পান। এসব বই কেনা লাইব্রেরিতে তোলা হয়েছিলো ১৩ আগস্ট ২০১৫ সালে। প্রতিবেদনে বইগুলোর নাম উল্লেখ না থাকলেও বলা হয়েছে, ‘সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ (জঙ্গি তৎপরতার) বই গ্রন্ধগারে দেখতে পান।’

প্রতিবেদনে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে সুপারিশ করা হয় ৮টি। এসব সুপারিশের মধ্যে ৮ নম্বরটি ছিলো, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় স্বার্থ ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর বিবেচনায় বইগুলো পুড়িয়ে ফেলতে হবে। ২০১০ এ ধারা ৬ (১০) অনুযায়ী বর্ণিত বিষয় উল্লেখপূর্বক ৩০০ টাকার নন জুডিশিয়াল স্টাম্পে অঙ্গিকারনামা প্রদানের নির্দেশ দেয়া যেতে পারে।

তবে শিক্ষা মন্ত্রনালয় আদৌ এসব সুপারিশ পালন করেছে কিনা তা জানা যায়নি। তবে বাস্তবতা দেখে মনে হচ্ছে, এই প্রতিবেদনটি হীমঘরে চলে গেছে।

অডিটেও ঘাপলা
এনএসইউ’র অডিট করিয়েছে হাওলাদার ইউনুস এন্ড কোং দিয়ে। ২০১৫ সালের ৪ জুন করা অডিটে ধরা পড়েছে ব্যাপক অনিয়ম। কোটি কোটি টাকার কথিত উন্নয়ন কাজ হয়েছে কিন্ত কোন দরপত্র আহবানই করা হয়নি। তাহলে এটি নিশ্চিতভাবে ধরেই নেওয়া যায় যে, এসব উন্নয়ন বরাদ্দগুলো সোজা হাপিস করে দিয়েছে ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা।


জেএনইউ ’র কানাই কুমারের জন্য তার সতীর্থরা দেখুন কিভাবে মাঠে নেমেছে। আর আপনারা জঙ্গিদের লাশ সনাক্তও করলেন না।

স্বীকার করুন জঙ্গিবাদ তৈরীর মধ্য দিয়ে এনএসইউ বিশ্ববিদ্যালয়ের পথে হাটছে : জঙ্গিবাদের মতাদর্শ আপনার আমার পছন্দ নাও হতে পারে। কিন্তু কোন ধরনের অ্যাক্টিভিজম যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হোত না সেখানে খোদ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দাড়িয়ে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে দেশের মধ্যে যেসব কথিত আইএস তাদের নেতারা সব এনএসইউ’র। এই ঘোষণা দেওয়ার মধ্য দিয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মত এনএসইউ বিশ্ববিদ্যালয়ের পথে যাত্রা শুরু করলো। এখন আপনি প্রশ্ন তুলতে পারেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের লড়াইতো বাংলাদেশের স্বাধীনতা থেকে শুরু করে সব ধরনের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাস। এটির সাথে কেন এনএসইউকে এক কাতারে দাড় করানো হবে?

?oh=bbe88759f11a7199dd0db8b2c9f97222&oe=5824D8FE” width=”500″ />
দেখুন রাষ্ট্র বিরোধী এক শিক্ষার্থীর জন্য ছাত্র শিক্ষকের কেমন প্রতিবাদ।

আপনার আমার ব্যাখ্যা একটি সেক্যুলার ব্যাখ্যা। বিশ্ববিদ্যালয় মানেই সেখানে সেক্যুলার চর্চা হবে। ওল্টোটাও হতে পারে যেমন এনএসইউতে হচ্ছে। এতোদিন এনএসইউ সহ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কোন চর্চা হোত না বলেই এটিকে ফার্ম বলা হোত-সেই অচলায়তন ভেঙ্গে এনএসইউ এক নতুন দিনের পথে যাত্রা শুরু করেছে।

?oh=f734ce18d96d6c9bcdd0cba33b855df7&oe=57EEC1B3&__gda__=1474924439_406f0a2e6ab2e071603c10037f3ef864″ width=”500″ />
অরুন্ধতী আপনাদের থেকে এখানেই আলাদা। যা বিশ্বাস করেন তার জন্য তিনি বস্তার জঙ্গলে যেতেও ভয় পান না। আর আপনারাতো স্বীকারও করেন। কিন্তু গোপনে গোপনে আপনারা শিক্ষার্থীদের কিন্তু রাষ্ট্র বিরোধী হতে শিক্ষা দেন।

এই মৃত্যু লাশ আপনার আমার ব্যাখ্যা যেনো পাল্টে না দেয়। জ্ঞানের প্রতি অবিচল থাকুন। যা বিশ্বাস করেন তাই বলুন। কোন অশ্রু যেনো মতাদর্শকে পাল্টে না দেয়।এই মৃত্যু লাশ আপনার আমার ব্যাখ্যা যেনো পাল্টে না দেয়। জ্ঞানের প্রতি অবিচল থাকুন। যা বিশ্বাস করেন তাই বলুন। কোন অশ্রু যেনো মতাদর্শকে পাল্টে না দেয়।জঙ্গিবাদ উত্থানের বহু কারনের একটি নিয়ে ক’লাইন লিখে শেষ করবো। যারা নিহত হয়েছেন জঙ্গিবাদী আক্রমন করতে গিয়ে তারা প্রায় সবাই উচ্চবিত্ত ঘরের শিক্ষার্থী। গত আড়াই দশকে বাংলাদেশে অন্তত ২১০ লাখ নতুন কোটিপতি তৈরী হয়েছে। এটি এনবিআরের তথ্য। বাস্তবে অন্তত ৪০ লাখ নতুন কোটিপতি তৈরী হয়েছে গত আড়াই দশকে। এই কোটিপতিরা রাষ্ট্রকে ব্যবহার করে চরম লুটপাটের মাধ্যমে অর্থ বানিয়েছে। সমাজের ভেতরই তারা একটি অবজেক্টিভ কনডিশান তৈরী করে দিয়েছে বিদ্রোহের।

জঙ্গিবাদের শেকড় গভীরে
এনএসইউ উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা ভিসি ছিলেন বিএনপি মতাদর্শী অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল আহাদ। উদ্যোক্তা হিসেবে আরও ছিলেন শায়েস্তা আহমদ, ব্যবসায়ী নুরুল এইচ খান, মাহবুব হোসেন ও জামায়াতের নীতিনির্ধারক সাবেক সচিব শাহ আবদুল হান্নান। এই শাহ আবুল হান্নান বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বিবিএ প্রোগ্রামের পরিচালক’ হিসেবে কাজ করছেন ।

বাইরে থেকে একটা ‘সুবেশিত এবং আধুনিক’ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেজ তৈরি হলেও দিনের পর দিন জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত ট্রাস্টি বোর্ডের দুই সদস্য ও পাঁচ শিক্ষককের প্রত্যক্ষ মদদে উগ্র মৌলবাদীদের আস্তানায় পরিণত হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি এমন আলামত বেরিয়ে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে পাঠচক্রের আড়ালে নিয়মিতভাবে হয় শিবির ও হিযবুত তাহরীরের ‘ঐক্যবদ্ধ বৈঠক’। এর পেছনের শক্তি হিসেবে কাজ করছেন বিশ্ববিদ্যালয়েরই শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন শিক্ষক-পরিচালনা পরিষদ কর্মকর্তা।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষক, ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে হিযবুত তাহরীরের বীজ ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা ভিসি ছিলেন বিএনপি মতাদর্শী অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল আহাদ। উদ্যোক্তা হিসেবে আরও ছিলেন শায়েস্তা আহমদ, ব্যবসায়ী নুরুল এইচ খান, মাহবুব হোসেন ও জামায়াতের নীতিনির্ধারক সাবেক সচিব শাহ আবদুল হান্নান।

শাহবাগ আন্দোলন চলাকালীন শাহ আব্দুল হান্নান, এমবি আই মুন্সি এবং শমশের মোবিন চৌধুরীর একটি কথোপকথন ইন্টারনেটে ফাঁস হয়ে যায়। BJI International Relations (বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস) এর গ্রুপ ইমেইল চালাচালিতে এই জামায়াতি মতাদর্শের সৈনিকেরা শাহবাগ আন্দোলনকে ‘ফ্যাসিবাদী আন্দোলন’ হিসেবে অভিহিত করেন। ব্যাপারটা খুবই তাৎপর্যময় এজন্য যে, ‘আমার দেশ’ জামায়াতে ইসলামীর প্রপাগান্ডিস্ট এম বি আই মুন্সি এবং হান্নান শাহ-এর লাইনগুলোই হুবহু টুকে নিয়ে এরপর দিন পত্রিকার শিরোনাম করেছিল ‘শাহবাগে ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি’ শিরোনামে। এ নিয়ে নিউ অরলিন্স প্রবাসী গবেষক ড. জাফর উল্লাহর একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে ‘Unmasking Jamaat’s chief international propagandist’ শিরোনামে।

শায়েস্তা আহমদ, নুরুল এইচ খান, মাহবুব হোসেন ও শাহ আবদুল হান্নানের সুপারিশে এবং প্রভাবে প্রথম থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের একটি বড় অংশ বিএনপি-জামায়াত মতাদর্শের নিয়োগ লাভ করে। উপাচার্য অধ্যাপক হাফেজ জি এ সিদ্দিকী রাজনৈতিকভাবে জামায়াত মতাদর্শে বিশ্বাসী বলে পত্রিকায় এসেছে। জামায়াত এবং হিজবুত তাহরীর কর্মকান্ড অব্যাহত রাখার মানসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ড. মঞ্জুরুল হক খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিলো। জঙ্গি কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ড. মঞ্জুরুল হক, কতিপয় শিক্ষক ও পরিচালনা পরিষদ সদস্যদের নিয়ে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। এছাড়া জামায়াতি মতাদর্শের আরেক প্রভাবশালী শিক্ষক ড. গোলাম মোহাম্মদও রয়েছেন। এরা সবাই মিলে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে তৈরি করেছে এক জঙ্গিবাদের অভয়ারণ্য।

এ নিয়ে নিউ অরলিন্স প্রবাসী গবেষক ড. জাফর উল্লাহর একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে ‘Unmasking Jamaat’s chief international propagandist’ শিরোনামে।

ডিসক্লেইমার : এ তথ্যগুলোর বড় অংশই ড. অভিজিত রায়ের লেখা থেকে নেয়া। তিনি নিহত হওয়ার আগেই বুঝতে পেরেছিলেন, কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে এনএসইউকে কেন্দ্র করে।

এ ছাড়া আরো ঘটনা আছে। তাদের একজন হলেন রাগীব আলী। ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য এই রাগীব আলী একজন জামাতের লোক। সিলেটের ধনকুবের। তিনি সিলেটে হিন্দু মন্দিরের জমি মেরে রাগীব রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ বানিয়েছেন। সেটি অবশ্য উচ্চ আদালত খালি করে মন্দিরের জমি মন্দিরকে ফেরত দিতে বলেছে। রাগিব রাবেয়া মেডিকেল কলেজে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকবার ভারতীয় জঙ্গি ধরা পড়েছে। ওই মেডিকেল কলেজে জঙ্গিবাদের বিশেষ চাষাবাস হয় কিনা তাও খতিয়া দেখা হচ্ছে। তবে তিনি লিডিং ইউনিভার্সিটি ও সাউথ ইস্ট ইউনিভাসির্টিরও প্রতিষ্ঠাতাদেরও একজন।

রাগিব আলীকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যেমর নিউজ হয়েছে। অনলাইনে সার্চ দিলেই পাওয়া যাবে। এই লোকের অন্য একটা পরিচয় আছে। বাংলাদেশের জঙ্গিবাদের উত্থান নিয়ে যারা খুব ক্লোজলি মনিটর করেন তারা মাত্রেই জানেন, যে বড় রকমেরডর ফান্ড মধ্যপ্রাচ্য ছাড়াও ব্রিটেন থেকে আসে। ওয়ার অন টেররের এই লড়াইয়ে বিট্রেন বড় ভূমিকা রাখছে। আবার ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত আনোয়ার সাদতের ওপরও হামলা হয়েছে। যা হোক এই রাগবী আলী ব্রিটেনের সাথে লেনদেন ভালো। আপাতত এটুকু বলে রাখি যে, তার সিলেটের মেডিকেল কলেজে থেকে ভারতীয় জঙ্গি পাওয়া গেছে। আর মোটামুটি সেটি তিনি পুষেই থাকেন বলে মনে হচ্ছে।

যারা জঙ্গি হয়েছেন তাদের বাবারা কখনোই ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে কোন নৈতিক উপদেশ দেবার সাহস রাখে না। কারণ বাবা জানে তিনি কিভাবে সম্পদ অর্জন করেছে। এখন এনএসইউ কিছু শিক্ষক ও তার পরিবেশ ওই শিক্ষার্থীদেরকে আÍঘাতি হতে শিখিয়েছে। কিন্তু এই ছেলেরাই যদি জেএনইউ কিম্বা যাদবপুরে পড়তো তাহলে হয়তো তারা মাওবাদী হতেন না সেটা কিন্তু নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। কারণ তরুনদের একটা ধর্ম আছে সেটি হলো বিদ্রোহ করার।

?oh=92a871ae7a885db89bb29033e3076dd1&oe=581E0D06″ width=”500″ />
এই মৃত্যু লাশ আপনার আমার ব্যাখ্যা যেনো পাল্টে না দেয়। জ্ঞানের প্রতি অবিচল থাকুন। যা বিশ্বাস করেন তাই বলুন। কোন অশ্রু যেনো মতাদর্শকে পাল্টে না দেয়।

নর্থ সাউথের দুনীতি নিয়ে অনেক আগেই সমকাল নিউজ করেছে।
পড়ুন
http://bangla.samakal.net/2015/11/18/174297

ফেসবুক নোট-এ প্রকাশিত

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৮ thoughts on “জঙ্গিবাদের পিঠস্থান এনএসইউ ও আমাদের বন্ধু সাইমুম পারভেজ

  1. পরিকল্পিতভাবে দীর্ঘদিন ধরে
    পরিকল্পিতভাবে দীর্ঘদিন ধরে নর্থ সাউথ বিশ্বাবিদ্যালয়ে জঙ্গিবাদী কর্মকান্ডকে সংগঠিত করা হচ্ছে। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে সরকারীভাবে অধিগ্রহন করা হোক। অভিভাবকদের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তাদের সন্তানদের ভর্তি না করানো উচিত।

    1. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ,
      রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় , চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সরকারিভাবে পরিচালিত হওয়া সত্ত্বেও সেখানে বহুদিন ধরে শিবির শক্ত ঘাটি গেঁড়ে বসে আছে । সেখানের ব্যাপারে তো কেউ কিছু বলে না কিংবা ব্যবস্থা নিতে যায় না ! সেখানে কেন অভিভাবকেরা সন্তানদের ভর্তি করাবেন?

      1. ঐ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভিসি,
        ঐ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভিসি, প্রো-ভিসি বা পুরো প্রসাশন সিলেবাস করে ছাত্রদের জঙ্গিবাদের শিক্ষা দেয় না। ওসব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় যেসব অভিভাবকদের চাহিদা মত শিক্ষাদান করতে পারে না তারাই প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের সন্তানদের ভর্তি করায়। দেশের সবচেয়ে বড় ও এলিট প্রাইভেট বিশ্বাবিদ্যালয়কে ওগুলোর সাথে তুলনা করা কি ঠিক হল?

        1. ঐ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভিসি,

          ঐ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভিসি, প্রো-ভিসি বা পুরো প্রসাশন সিলেবাস করে ছাত্রদের জঙ্গিবাদের শিক্ষা দেয় না।

          আপনিও তো সেই হুজুগের কথাই বলে বসলেন। দেখাতে পারবেন প্রমাণ সহ যে এমন হয় ? দেখাতে পারলে আমি মেনে নেব । এখান থেকে আমি আরেকটা প্রশ্ন করতে চাই , আপনি আদৌ কোন ধারণা রাখেন যে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় গুলো কীভাবে চলে? সবাই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বলে যে এড়িয়ে যান ( আমি তাদের এই ব্যবসার পক্ষে সাফাই গাবো না । অবশ্যই শিক্ষা কোন পণ্য না । ) সরকার কি পাবলিকের বাইরে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ভর্তুকি দেয় যে মাসে কয়েকশো টাকা খরচ করে যে কেউ পড়তে পারবে? শিক্ষকদের বেতন কই থেকে আসে ? কিংবা শিক্ষার্থীদের সুযোগ সুবিধা কই থেকে আসে ?

          এবার একটা মজার প্রশ্ন করি , জর্জ বুশ Yale এর গ্র্যাজুয়েট ছিলেন। আমি কি বলবো যে সেখানের সবাই সিলেবাস করে শেখায় যে কীভাবে তেল মজুদের জন্য যুদ্ধ বাধাতে হয়? জেনারাইলেজশন করবেন তো করবেন, এমনভাবে করবেন যে সেটা হাস্যকর শোনায় ।

          1. সংবাদঃ জঙ্গিদের ‘আশ্রয়দাতা’
            সংবাদঃ জঙ্গিদের ‘আশ্রয়দাতা’ নর্থ সাউথের প্রো ভিসি বরখাস্ত

            এই প্রো-ভিসিরে বরখাস্ত কেন করছে? হুদাই বরখাস্ত করছে? আপনি মশা মারতে কামান দাগানোর কাহিনী পেতে বসছেন। যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষকদের দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গিবাদের সাথে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে, তার সাথে বুশ আর বুশের বিশ্ববিদ্যালয়, তেল লুটের কাহিনী ফাঁদতেছেন। মাদ্রাসার সাথে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন পার্থক্য আছে? দেশের আধুনিক একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসাশন থেকে শুরু করে ছাত্র-শিক্ষক অনেককে জঙ্গিবাদের সাথে জড়িত দেখার পরও আপনি কিভাবে সাফাই গাচ্ছেন আমি বুঝি না।

          2. সাময়িক বরখাস্ত আর পুরো
            সাময়িক বরখাস্ত আর পুরো বরখাস্তের মানে জানেন আগে । হুদাই ফাল পাইরেন না । আর পুলিশ কি বলেছে তারা জড়িত ছিলো? শুধু সন্দেহের খাতিরে তাদের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে । পুলিশ প্রমাণ দিয়েছে এখনো? চিলে কান নিসে বইলা দৌড়াইয়েন না ড্রেনে পড়বেন।

            অনেক != সব । প্রশাসনের কেউ জড়িত এইটা কোন ব্যাটায় কয় নাই এখনো । একজন সন্দেহের তালিকায় আছে মানে এই না সবাই জড়িত । যে শিক্ষকের কথা আপনি বলছেন তাকে ২০১৩ তেই বরখাস্ত করা হয় । দেশে থাকেন নাকি হুযুগের সময় গর্ত থেকে বের হয়ে আসেন?

        2. IUT তে রেগুলার স্কিমে ভর্তি
          IUT তে রেগুলার স্কিমে ভর্তি হতে ৫ হাজার ডলারের মতন লাগে । এককালীন প্রদেয়। এবং রেগুলার স্কিমের অল্প সংখ্যক সীটের জন্য ৪ বছরের ফুল ফি এটা । বাকিদের লাগে প্রায় ১৬-১৭ হাজার ডলার (৪ বছরের জন্য) । এক শিক্ষক একবার ক্লাসে বলেছিলেন, তোমরা কি জানো যে এই ৪ হাজার ডলার যে দিয়েছ তোমরা , শিক্ষকদের বেতন, পরীক্ষা , ক্লাস এগুলোর ফি ও কুলায় না এই টাকা দিয়ে? উল্টো আরো বেশি লাগে । যারা পাবলিকে জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পড়েন তারা বুঝেন না যে কি পরিমাণ টাকা ব্যয় হয় । যারা জমি বেচে ধারদেনা করে ভর্তি হয় এসব প্রাইভেটে কারণ বাঙালি জাতি ডিগ্রীর কাঙ্গাল এবং ডিগ্রী ছাড়া ভবিষ্যৎ অন্ধকার তাদের সমস্যা কেউ বুঝে না । প্রাইভেটের শিক্ষার্থী মানেই মানুষের কাছে ধনীর দুলাল, অভদ্র, এবং বর্তমান ট্রেন্ড অনুসারে জঙ্গি ।

        3. এরপর প্রাইভেটে
          এরপর প্রাইভেটে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বেশিরভাগ সময়ই পাবলিকের শিক্ষকেরা ক্লাস নেন। অনেকে হায়ার লেভেলের কোর্স ও করান। তারা কি শিখান সেখানে?

  2. লেখাটার ফোকাস যে কোন জায়গায়
    লেখাটার ফোকাস যে কোন জায়গায় ঠিক খুঁজে পেলাম না আসলে । কখনো লেখা ছাত্র আন্দোলনের দিকে গেছে , কখনো অনিয়মের দিকে । যে বিষয় নিয়ে বলার কথা সেদিকের কোন খবর আসলে নেই । আপনার লেখার শিরোনাম অনুসারে , লেখার বিষয়বস্তু হওয়ার কথা ছিলো নর্থ সাউথের জঙ্গিবাদের উত্থান নিয়ে । যাই হোক ।

    আপনি তথ্যবহুল লেখা লিখছেন। কিন্তু তার রেফারেন্স দেননি । যেমন ইউজিসির অনুসন্ধানে হিজবুত তাহরিরের বই পাওয়া । কয়েকটি ভুঁইফোড় অনলাইন পোর্টাল বাদে কোন প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমে এ খবর আসেনি । আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে এ খবর সেসব নিউজ পোর্টালে আসার ৪ দিন পর ইউজিসির কর্মকর্তারা প্রকৃতপক্ষে নর্থ সাউথে তদন্ত করতে আসেন । বলা বাহুল্য তারা এমন কিছুই পাননি যা আপনার কথার সাথে মিলে ।

    পুরো লেখাটা অগোছালো । তথৈবচ। পাবলিক প্রাইভেট দ্বন্দ্ব এবং আপনার বন্ধুর অতি রঞ্জিত কথন টানতে গিয়ে আপনি একরকম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের যে এলিটিস্ট মনোভাব সেটাকেই তুলে এনেছেন। লেখার কোথাও আসেনি যে বাংলাদেশে একমাত্র নর্থ সাউথের নর্থ আমেরিকান এক্রেডিটেশন আছে ।

    প্রশাসন শিক্ষকের মতাদর্শের ব্যাপার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে সেকুলারিজম চর্চার ব্যাপারে আসি । আপনি আঙুল তুলে দেখাতে পারবেন বাংলাদেশের কোন জায়গায় সেকুলারিজম চর্চা হয়? কিংবা আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার কোন একটা অংশ যাতে এমন হয়? প্রাইমারি স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বারান্দা পর্যন্ত কোথাও এমন দেখা যায় না । হাতে গোনা কিছু পরিবার বাদ দিলে সবাই দিনশেষে ধর্মকাতর ।

    অডিটেও ঘাপলা

    এ বিষয়ে অনেক আগেই তদন্ত হয়েছে এবং এসব অভিযোগ ভুয়াও প্রমাণিত হয়েছে । আপনি চাইলে প্রথম আলো এবং অন্যান্য পত্রিকা ঘেঁটে দেখতে পারেন ।

    এই মৃত্যু লাশ আপনার আমার ব্যাখ্যা যেনো পাল্টে না দেয়। জ্ঞানের প্রতি অবিচল থাকুন। যা বিশ্বাস করেন তাই বলুন। কোন অশ্রু যেনো মতাদর্শকে পাল্টে না দেয়।

    আপনার তো সিনেমার ডায়ালগ লেখা উচিত ! কি সুন্দর আবেগ । চুয়ে চুয়ে পড়ছে । তা আপনার কথাটাই যদি আমি ঘুরিয়ে বলি , জঙ্গিদের ও তো তাদের ট্রেনার রা বলবে এখান থেকে অনুপ্রেরণা নাও, সামনে যাও, মারো । অশ্রু তো মতাদর্শকে বদলাবে না তাই না!

    পুরো লেখাটা একগাদা আবেগ আর অপ্রাসঙ্গিক কথায় ভরপুর । ফোকাসের কোন বালাই নেই । এমন লেখা কি করে মানুষ ব্লগে দিতে পারে আমার জানা নেই ।

    যাই হোক আমি এবার আবেগের কথা বলি আপনাকে । শুনুন। আসলে জায়গাটা একটা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়। নর্থ সাউথ না হয়ে অন্য কোন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় হলেও সবার চুলকানি কন্সপিরেসি থিওরি ওখানেও কেন্দ্রীভূত হতো । জায়গাটা কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় না । এখানকার ছেলেমেয়েরা আন্দোলনের সময় বাস ভাঙেনি। কাউকে মারে নি । এখানে কেউ কোন ছেলেকে হোস্টেলের বহুতল ভবন থেকে ফেলে দেয় নি । যারা এসেছে তারা পড়ালেখা করতেই এসেছে । যদি ১০-১২ জন বিপথগামীর জন্য বাকি সবাইকে দোষারোপ করতে হয়, (আপনার লেখার একটা ভুল ঠিক করি , নর্থ সাউথের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২২ হাজার ) তাহলে চলুন , গোলাম আজম , নিজামি, মুজাহিদ সবাই ঢাবির ছাত্র ছিলো, ঢাবিকে এখন রাজাকারের কারখানা বলি । কিংবা বলি কিছু শিক্ষক তাদের সে মতাদর্শ দিয়েছিলেন, প্রশাসনে ঝামেলা ছিলো । ইত্যাদি ইত্যাদি ।

    1. শিক্ষকদের জঙ্গি সংশ্লিষ্টটা
      শিক্ষকদের জঙ্গি সংশ্লিষ্টটা কি প্রমাণ করে না যে বিশ্ববিদ্যালয়টি জঙ্গিবাদকে প্রমোট করেছে?

        1. আপনি এলিটিজম পানিতে গুলিয়ে
          আপনি এলিটিজম পানিতে গুলিয়ে খেয়ে দেখতে পারেন । কাজে দিবে । পোস্টদাতাকে ফেসবুকে রেফারেন্স জানতে চাওয়ায় তিনি নোট ডিলিট করে দিয়েছেন । এই হচ্ছে অবস্থা ।

      1. হাসনাত করিম ২০১৩ সালে বরখাস্ত
        হাসনাত করিম ২০১৩ সালে বরখাস্ত হন । তাকে কেন এখনো মিডিয়া শিক্ষক বলে যাচ্ছে আমি জানি না । এরপর যদি প্রো ভিসির কথা ধরেন, তাহলে পুলিশ জানিয়েছে তাকে শুধু সন্দেহের কারণে আটক করা হয়েছে । সন্দেহ শব্দটা কখন ব্যবহার করে সেটা বোধকরি জানেন। বাঙালি এক আজব চিড়িয়া জাতি । ২ ইঞ্চি বলে সাড়ে ৫ ইঞ্চি বুঝে ।

        1. তাহলে আপনি এখনো মনে করছেন
          তাহলে আপনি এখনো মনে করছেন প্রো-ভিসি নির্দোষ? যদিও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে বহিষ্কার করছে। উনি নির্দোষ হলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কেন বহিষ্কার করল?

          1. http://bangla.bdnews24.com
            http://bangla.bdnews24.com/bangladesh/article1184871.bdnews

            আমি কোথাও বহিষ্কার শব্দটি পাইনি । আপনি কি নতুন বাংলা অভিধান লিখছেন? সন্দেহের খাতিরে সাময়িক বরখাস্ত করার নজির কি নতুন নাকি?

          2. আমি তাকে দোষী নির্দোষ কিছুই
            আমি তাকে দোষী নির্দোষ কিছুই বলতে পারবো না যতক্ষণ পর্যন্ত না তদন্ত শেষ হচ্ছে । আন্দাজে কিছু বলার চেয়ে না বলাই শ্রেয়।

    2. এখানকার ছেলেমেয়েরা আন্দোলনের

      এখানকার ছেলেমেয়েরা আন্দোলনের সময় বাস ভাঙেনি। কাউকে মারে নি । এখানে কেউ কোন ছেলেকে হোস্টেলের বহুতল ভবন থেকে ফেলে দেয় নি

      বুঝলাম নর্থ সাউথের কিছু শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে জঙ্গী সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠায় ঢালাওভাবে নর্থসাউথের শিক্ষার্থীদের জঙ্গী আখ্যা দিয়ে জেনারালাইজ করার টেন্ডেন্সির বিরুদ্ধে আপনার আপত্তি কিন্ত নিজেও তো ঠিকই উপরের উক্তির মধ্য দিয়ে পাবলিক ইউনিভার্সিটির ছাত্রদের জেনারালাইজ করেছেন। কাজটা কি ঠিক হয়েছে?

      আপনি বলছেন যে বাংলাদেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে সেকুলারিজম চর্চা হয় ? সামগ্রিক ভাবে বলতে গেলে বাংলাদেশে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে সেকুলারিজম চর্চা হয় না। তবে নর্থ সাউথের কেইস ব্যতিক্রম। এই ভার্সিটির প্রশাসনে জামাত সংশ্লিষ্ট লোকজন,প্রশাসনের বিরুদ্ধে হিজবুত তাহরীর বা জামাত সমর্থক শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ আছে।প্রয়াত লেখক অভিজিৎ রায় এই বিষয়ে রেফারেন্স সহ এক পোস্ট লিখেছিলেন পড়ে দেখতে পারেন। (https://blog.mukto-mona.com/2013/03/05/34105/)

      সাম্প্রতিক ইস্যুতে নর্থ সাউথের বিরুদ্ধে সাধারন মানুষের বিরুপ মনোভাব ষ্পষ্ট তাতে কোন
      সন্দেহ নেই। কিন্ত এই সমস্যার গোড়াটা অন্যখানে। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি যখন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তখন এর গ্রাহক কাঠামোর ধারণাটা ছিল অনেকটাই উচ্চবিত্ত কেন্দ্রীক। ফলে উচ্চ বিত্ত পরিবারের ছেলে মেয়েদেরকে কেন্দ্র করে সেসময় এর ব্রান্ডিং করা হয়েছে। পরবর্তীতে পাশের হার বৃদ্ধির ফলে নর্থ সাউথের মার্কেট এক্সপ্যান্ড হলেও এর উদ্যোক্তারা তাদের প্রতিষ্ঠানের ব্রান্ডকে সেই অর্থে সাধারন মানুষের কাছে তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছে। মানুষ নর্থ সাউথ বলতে উচ্চ বিত্ত পরিবারে ছেলেমেয়েদেরকেই বোঝে। ফলে প্রতিকুল পরিস্থিতিতে সাধারন মানুষের কাছ থেকে সমর্থন পাবার আশা করাটা তাদের জন্য বাহুল্যই বটে। এটাকে সমাজে বিদ্যমান শ্রেনী বৈষম্যের প্রকাশ হিসেবেও ধরে নেয়া যায়। নর্থ সাউথের উপাচার্যও তাদের ভার্সিটির সমস্যা প্রকারান্তরে স্বীকার করে নিয়ে জঙ্গীবাদের ক্যান্সার অপসারনের আশা ব্যক্ত করেছেন। নর্থ সাউথের প্রশাসনে, পরিচালন ব্যবস্থায় সমস্যা আছে তাই প্রতিষ্ঠান হিসেবে নর্থ সাউথের সমালোচনা হওয়াই উচিত কিন্ত এই সমালোচনাকে কেন নর্থ সাউথের শিক্ষার্থীরা পার্সোনালি নিচ্ছে এটাই বোধগম্য নয়।

  3. শাওন আশরাফের বক্তব্যের
    শাওন আশরাফের বক্তব্যের প্রতিবাদ

    আপনি মিথ্যা কথা বলছেন। নোট সরানো হয়নি। আর আপনার বক্তব্য শুনে নোট সরাবো আপনি এরকমটা ভাবলেন কেন?
    দ্বিতীয় বিষয়টি ঠিক নয়। আমি প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করেই দিছি। এই তথ্য কোথায় পেয়েছি।
    আরো সুনির্দিষ্ট করে ওই তদন্ত প্রতিবেদন স্মারক নম্বর দিচ্ছি। যদি প্রতিবেদনটি নিজে সংগ্রহ করার ক্ষমতা বা সুযোগ থাকে তাহলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা ইউজিসি যে কোন জায়গায় যোগাযোগ করতে পারেন।
    প্রতিবেদনটির স্মারক নম্বর ছিলো…৩৭.০০.০০০০.০৭৮.০৬.০০১.১৩-৬২১

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

70 + = 73