সাভার দুর্গতদের কল্যাণে পূণর্বাসন প্রকল্প গ্রহণ আমাদের দায়িত্ব।

সাভারের দুর্গত মানুষের পাশে আজ গোটা দেশ। মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে সংগঠিত একাধিক দুর্ঘটনায় অপরূপ সুন্দর জন্মভূমি আজ ভয়াবহ দুর্যোগে জর্জরিত। তাজরিন ফ্যাশন, ফ্লাইওভার ধ্বস, সর্বশেষ সাভার ট্র্যাজেডি। লিখতে গেলে আরো অনেক ঘটনা লিখা যায়। তবে দুঃখের মধ্যে আনন্দদায়ক সংবাদ হচ্ছে, দেশের সাধারণ মানুষ রাজনীতিবিদদের মতো নয়, অন্তর থেকেই এখনো দেশকে ভালোবাসে।

ইতিপূর্বে আমরা দেখেছি বিভিন্ন দুর্ঘটনায় সাধারণ মানুষ অসহায় মানুষদের পাঁশে দাঁড়িয়েছে। সাভার ট্র্যাজেডিতেও ব্যতিক্রম হয়নি।
ফেসবুক সেলিব্রেটি আরিফ আর হোসাইন যেমন মানবতার কল্যাণে এগিয়ে এসেছেন, অভিনেতা ইরেশ জাকেরকেও আমরা একই ভূমিকায় দেখেছি। আরিফ জেবতিক সাভারে উপস্থিত থেকে যেমন স্বেচ্ছাসেবকদের ব্রিফিং করেছেন, ইমরান এইচ সরকারও একই মমতায় চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন।
ছাগু ট্যাগ পাওয়া তানভীর আর্জেল নামের ব্যক্তিও দরদ নিয়ে মানবতার সেবায় এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করছেন। দাঁড়ি-টুপিওয়ালা হেফাজত নেতাগণ সামনে দাঁড়িয়ে কর্মীদের কাজ করতে উৎসাহিত করেছেন। খেঁটে খাওয়া মানুষেরা কাজ ফেলে উদ্ধার অভিজানে অংশ নিয়েছে।
বিভিন্ন সংগঠন থেকে শুরু করে ব্যক্তি উদ্যোগে আর্ত-মানবতার সেবায় মানুষ যেভাবে এগিয়ে এসেছে, নিঃসন্দেহে এই কর্মকাণ্ডকে বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্যের সূর বলা যায়।

বিভিন্ন ইস্যুতে জাতি আজ বিভক্ত। কিন্তু আমরা দেখলাম, গণজাগরণ মঞ্চ/হেফাজতে ইসলাম পাশাপাশি কাজ করলো। খেঁটে খাওয়া সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শিল্পপতি, একই দরদ নিয়ে মানবতার সেবায় একই লাইনে দাঁড়ালেন। এ তো অন্য এক বাংলাদেশ।
তবে সাময়িক এই সহযোগিতা আলোকিত বাংলাদেশ গড়বে না। অসহায় মানুষদের দুঃখ মোচন করবে না। যেসব ভাই/বোন আজ পঙ্গু অবস্থায় মেডিক্যালে ভর্তি, হয়তো তাঁদের উপর পুরো পরিবার নির্ভরশীল। আমার যে ভাই/বোন নিহত হলো, সেই হয়তো তাঁর পরিবারের একমাত্র উপার্জন সক্ষম ব্যক্তি ছিলো।
চিরচায়িত স্বভাব অনুযায়ী কদিন পর হয়তো সেলিব্রেটিরা আর এসব নিয়ে ভাববে না। বিভিন্ন সংগঠন সাহায্য নিয়ে অসহায় পরিবারের পাঁশে দাঁড়াবে না। মনে রাখতে হবে, সেলিব্রেটিরা দুরের মানুষ। ফোকাস ছাড়া তারা কাজ করতে অভ্যস্ত নন। সংগঠনগুলো নিজেদের দাবি-দাওয়া নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়বে। অসুস্থ রাজনীতি আজ এমনভাবে দেশে বিস্তার হয়েছে, সরকার, বিরোধীদল সহ অন্যান্য দলের উপর আশা করা আজ শুধু কল্পলোকেই সম্ভব। শেষ পর্যন্ত আর্ত-মানবতার সেবায় আপনার/আমার মতো সাধারণ মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। মনে রাখতে হবে সাধারণ মানুষদের পাঁশে আমি/আপনি না দাঁড়ালে সেটা হবে তাঁদের সাথে প্রতারণা।

তবে কি আমরা আবার ফিরে যাবো সেই অসহায় দেশে! যেখানে মানবতা স্বার্থের কাছে পরাজিত। যেখানে গরীব মানুষেরা চিরকাল শোষিত। যেখানে মানুষেরা বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিভক্ত।
আমরা কি উপরের ভাবনাগুলোকে অবসরে পাঠিয়ে দিতে পারি না? এখনকার মতো একই মমতা নিয়ে দুর্গত মানুষগুলোর পাঁশে দাঁড়াতে পারি না? নিশ্চিত জানুন, বর্তমান সময়ে ত্রাণ সামগ্রী যেরূপ জরুরী, অসহায় মানুষগুলোর পূণর্বাসন নিয়ে ভাবনা এর চাইতে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।
অসহায় মানুষগুলোর পূণর্বাসন নিয়ে ভাবনা আমাদের মানবিকতা নয়, দায়িত্ব।

হতাশ হওয়ার কিছু নেই! আমরা হয়তো খুব বড় কিছু করতে পারবো না। তবে নিজেদের পকেট খরচ থেকে মাত্র ৫ হাজার টাকা বাঁচিয়ে আমার পঙ্গু বোনকে হয়তো একটা সেলাই মেশিন কিনে দিতে পারবো। কয়েকজন মিলে আমার পঙ্গু ভাইকে একটা চা স্টল কিংবা পান দোকান করার টাকা দিতে পারবো। একটা অসহায় পরিবারের জন্য হয়তো রিকশা ক্রয় করে দিতে পারবো।
চিন্তা করুন, এই সামান্য চেষ্টায় একটা পরিবার বেঁচে যাবে। সময়ের স্রোতে আপনজন হারানোর ব্যথা কিছুটা হলেও ভুলে যাবে।
কোনো সংগঠনের প্রয়োজন নেই। আপনি নিজ উদ্যোগে একজন নিঃস্ব মানুষকে খুঁজে বের করে তাঁর কাছে আপনার সাহায্য পৌঁছে দিন।
আসুন, আমরা হাতে হাত রেখে আমাদের এই অসহায় ভাই/বোনগুলোর জন্য সামান্য হলেও কিছু করি।
এভাবে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সহায়তা আমাদের মানবতা-বোধকে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য উদাহরণ হিসেবে আলোকিত রাখবে ইনশাল্লাহ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 51 = 52