কোরান কার বানী? মুহাম্মদের, নাকি আল্লাহর? পর্ব-৫(পরিস্কার প্রমান)

কোরান কখনই কোন সুস্পষ্ট সাক্ষী হাজির করতে পারে নি , যারা প্রমান করবে কোরান আল্লাহর বানী। মুহাম্মদ নিজেও সেটা জানতেন। জানতেন বলেই মুসলমানদেরকে প্রশ্ন করতে কঠিনভাবে নিষেধ করে গেছেন। সুতরাং প্রমান বিহীনভাবেই কোরানকে মুমিনেরা পূর্ন অন্ধভাবে চোখ বন্দ করে বিশ্বাস করে। ঠিক সেই কারনেই কোরান নিয়ে কোন প্রশ্ন করলে মুমিনেরা ক্ষিপ্ত হয়ে যায় , যা মুহাম্মদের শিক্ষা। তারপরেও কোরান নিজেই একজনকে সাক্ষী মানছে। দেখা যাক, সেই সাক্ষী কোরানকে ঐশী কিতাব প্রমান করে কি না।

সুরা বাকারা -২: ৮৯: যখন তাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে কিতাব এসে পৌঁছাল, যা সে বিষয়ের সত্যায়ন করে, যা তাদের কাছে রয়েছে এবং তারা পূর্বে করত। অবশেষে যখন তাদের কাছে পৌঁছল যাকে তারা চিনে রেখেছিল, তখন তারা তা অস্বীকার করে বসল। অতএব, অস্বীকারকারীদের উপর আল্লাহর অভিসম্পাত।

কোরান ইহুদি ও খৃষ্টানদের কাছে থাকা তৌরাত ও ইঞ্জিল কিতাবকে সত্যায়ন করছে। সত্যায়ন কাকে বলে ? যারা চাকরীর দরখাস্ত করেছেন তারা ভালই জানে সত্যায়ন কাকে বলে। নিজের শিক্ষাগত সার্টিফিকেটের হুবহু ফটোকপি কোন সরকারী কর্মকর্তার কাছে নিয়ে গেলে, সেই কর্মকর্তা অরিজিনাল সার্টিফিকেটের সাথে ফটোকপির হুবহু মিল দেখেই সেটা সত্যায়ন করে। তার অর্থ অরিজিনাল ও ফটোকপি হুবহু একই জিনিস। এখন কোরান মুহাম্মদের সময়কালে ইহুদি ও খৃষ্টানদের কাছে থাকা তৌরাত ও ইঞ্জিল কিতাবকে সত্যায়ন করছে। তার মানে আল্লাহ ইহুদি ও খৃষ্টানদের কাছে শত শত বছর আগে যে তৌরাত ও ইঞ্জিল কিতাব নাজিল করেছিল , মুহাম্মদের সময়কার আমলে ইহুদি ও খৃষ্টানদের কাছে থাকা তৌরাত ও ইঞ্জিল কিতাবকেই সত্যায়ন করে বলছে – তাদের সেই কিতাবে কোন ভুল নেই। ঠিক সেই কারনেই কোরান বলছে —-

সুরা ইউনুস- ১০: ৯৪:সুতরাং তুমি যদি সে বস্তু সম্পর্কে কোন সন্দেহের সম্মুখীন হয়ে থাক যা তোমার প্রতি আমি নাযিল করেছি, তবে তাদেরকে জিজ্ঞেস করো যারা তোমার পূর্ব থেকে কিতাব পাঠ করছে। এতে কোন সন্দেহ নেই যে, তোমার পরওয়ারদেগারের নিকট থেকে তোমার নিকট সত্য বিষয় এসেছে। কাজেই তুমি কস্মিনকালেও সন্দেহকারী হয়ো না।

অর্থাৎ কোরান বিষয়ে কোন সন্দেহ থাকলে সন্দেহকারী যেন ইহুদি ও খৃষ্টানদের কাছে সন্দেহ নিরসনের জন্য যায়, তাহলে কোরান যে ঐশী কিতাব সেটা প্রমানিত হবে। ইহুদি ও খৃষ্টানরা তাদের তৌরাত ও ইঞ্জিল কিতাবের ভিত্তিতে কোরানকে বিচার করেই কোরানের সত্যতা প্রমানিত হবে। এখন দেখি ইঞ্জিল কিতাবে কি বলা আছে –

যোহন- অধ্যায়-৫
২১ পিতা মৃতদের জীবন দান করেন, তেমনি পুত্রও যাকে ইচ্ছা করেন তাকে জীবন দেন।
২২ পিতা কারও বিচার করেন না, কিন্তু সমস্ত বিচারের ভার তিনি পুত্রকে দিয়েছেন।
২৩ যাতে পিতাকে য়েমন সমস্ত লোক সম্মান করে তেমনি পুত্রকেও সম্মান করে। য়ে পুত্রকে সম্মান করে না, সে পিতাকেও সম্মান করে না, কারণ পিতাই সেইজন যিনি পুত্রকে পাঠিয়েছেন।
২৪ ‘আমি তোমাদের সত্যি বলছি; য়ে কেউ আমার কথা শোনে, আর যিনি আমায় পাঠিয়েছেন তাঁর ওপর বিশ্বাস করে সে অনন্ত জীবন লাভ করে এবং সে অপরাধী বলে বিবেচিত হবে না। সে মৃত্যু থেকে জীবনে উত্তীর্ণ হয়ে গেছে।
২৫ আমি তোমাদের সত্যি বলছি সময় আসছে; বলতে কি এসে গেছে, যখন মৃতেরা ঈশ্বরের পুত্রের রব শুনবে, আর যাঁরা শুনবে তারা বাঁচবে।

মার্ক, অধ্যায়- ১৪:
৬১ কিন্তু তিনি চুপচাপ থাকলেন, কোন উত্তর দিলেন না। আবার মহাযাজক তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি কি সেই পরম খ্রীষ্ট পরম ধন্য, ঈশ্বরের পুত্র?’
৬২ যীশু বললেন, ‘হ্যাঁ, আমিই ঈশ্বরের পুত্র। তোমরা একদিন মানবপুত্রকে ঈশ্বরের ডানপাশে বসে থাকতে আকাশের মেঘে আবৃত হয়ে আসতে দেখবে।’

সুতরাং ইঞ্জিল কিতাবে পরিস্কারভাবেই বলছে ,যীশু হলেন ঈশ্বরের পূত্র। গোটা ইঞ্জিলে এরকম আরও বহু উদাহরন দেখা যাবে। কোরান সত্যায়ন করেছে ইঞ্জিল আল্লাহর কিতাব , আর তাতে কোন ভুল নেই। সুতরাং কোরান স্বীকার করছে যীশু হলেন ঈশ্বরের পূত্র কারন সেটাই ইঞ্জিল কিতাবে বলা আছে। কিন্তু অত:পর কোরান যীশুর সম্পর্কে কি বলছে _

সুরা তওবা – ৯: ৩০: ইহুদীরা বলে ওযাইর আল্লাহর পুত্র এবং নাসারারা বলে ‘মসীহ আল্লাহর পুত্র’। এ হচ্ছে তাদের মুখের কথা। এরা পূর্ববর্তী কাফেরদের মত কথা বলে। আল্লাহ এদের ধ্বংস করুন, এরা কোন উল্টা পথে চলে যাচ্ছে।

অর্থাৎ কোরান বলছে , খৃষ্টানরা যীশুকে যে ঈশ্বরের পূত্র বলে সেটা তারা কুফুরি করে। আর এই কুফুরির জন্যে আল্লাহ তাদেরকে ধ্বংস করবে। শুধু তাই নয়, এই কুফুরির জন্যে কি করতে হবে খৃষ্টানদের বিরুদ্ধে সেটাও বলা আছে কোরানে যেমন –

সুরা তওবা – ৯: ২৯:তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে।

খৃষ্টানরা যীশুকে ঈশ্বরের পূত্র বলার কারনে , আল্লাহ মুহাম্মদকে ও মুসলমানদেরকে বলছে খৃস্টানদের বিরুদ্ধে চিরকালীন যুদ্ধ করতে, তাদেরকে হত্যা করতে। তাহলে কি অর্থ দাড়াল ? কোরান নিজেই ইঞ্জিল কিতাবকে সত্য স্বীকার করে যীশুকে ঈশ্বরের পূত্র হিসাবে স্বীকার করল , আবার পরক্ষনেই বলছে যীশুকে ঈশ্বরের পূত্র বলার কারনে তাদের বিরুদ্ধে চিরকাল যুদ্ধ করতে হবে , তাদেরকে হত্যা করতে হবে।

সুতরাং পাঠকবৃন্দ , আপনারা নিজেরাই বলুক কোরান কিভাবে ঐশী কিতাব ?

কোরান কার বানী ? মুহাম্মদের, নাকি আল্লাহর ? পর্ব-৪

কোরান কার বানী ? মুহাম্মদের নাকি আল্লাহর ?পর্ব-৩(মূহুর্তের মধ্যে আয়াত পরিবর্তন)

কোরান কার বানী? মুহাম্মদের, নাকি আল্লাহর? পর্ব-২(চাঁদের দ্বিখন্ডন)

কোরান কারা বানী? মুহাম্মদের, নাকি আল্লাহর? পর্ব-১

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৪ thoughts on “কোরান কার বানী? মুহাম্মদের, নাকি আল্লাহর? পর্ব-৫(পরিস্কার প্রমান)

  1. বাজারে প্রচলিত বাইবেল, আর
    বাজারে প্রচলিত বাইবেল, আর কোরানে বর্নিত তাওরাত আর ইঞ্জিল কি একই গ্রন্থ? বাইবেলের বাণী কি যিশূর উপর নাযীল করা আল্লাহর বাণী?
    যীশু আসলে কে? স্বয়ং আল্লাহ? আল্লাহর পুত্র? নাকি নবী?
    এসব প্রশ্নের সঠিক উত্তর না পেলে, বরাবরের মত এটাও ফালতু পোস্ট বলে বিবেচিত হবে।

    1. বোঝাই যাচ্ছে তৌরাত ও ইঞ্জিল
      বোঝাই যাচ্ছে তৌরাত ও ইঞ্জিল কিতাব সম্পর্কে কোন তথ্যই আপনার জানা নেই। বর্তমান যে তৌরাত দেখা যায়, তা যীশুর জন্মেরও ২/৩ শত বছর আগে ঠিক আজকের আকারে সংকলিত হয়, আর যীশুর গসপেল যা আজকে দেখা যায়, তা যীশুর জন্মের পর ৬০ থেকে ১০০ বছরের মধ্যেই সংকলিত হয়। মুহাম্মদ সেই তৌরাত ও ইঞ্জিল কিতাবই ইহুদি ও খৃষ্টানদের কাছ থেকে দেখেছিল আর কোরান তাদেরকেই সত্যায়ন করেছে। মোল্লাদের কাছ থেকে তৌরাত ও ইঞ্জিল কিতাব বিকৃত হয়ে গেছে বলে ভূয়া খবর বিশ্বাস না করে , নিজেই একটু সার্চ করে দেখুন।

      বিষয়টা হচ্ছে , যীশু ঈশ্বরে পুত্র কি না , সেটা আসল বিষয় না। আসল বিষয় হচ্ছে কোরান তো সেই ঈশ্বরের পুত্র হিসাবে বর্ননা করা গসপেলকেই সত্যায়ন করেছিল মুহাম্মদের সময়। অর্থাৎ কোরান নিজেই স্বীকার করছে যীশু ঈশ্বরের পুত্র। বোঝা গেছে ?

      1. মোল্লাদের কাছ থেকে তৌরাত ও

        মোল্লাদের কাছ থেকে তৌরাত ও ইঞ্জিল কিতাব বিকৃত হয়ে গেছে বলে ভূয়া খবর বিশ্বাস না করে , নিজেই একটু সার্চ করে দেখুন। –

        মোল্লাদের কাছ থেকে শোনার প্রয়োজন নাই। তাওরাত আর ইঞ্জিলের লেখক, অর্থাত আল্লাহ স্বয়ং বাজারে প্রচলিত বাইবেল সম্পর্কে বলেছে–

        অতএব তাদের জন্যে আফসোস! যারা নিজ হাতে গ্রন্থ লেখে এবং বলে, এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ-যাত ে এর বিনিময়ে সামান্য অর্থ গ্রহণ করতে পারে। অতএব তাদের প্রতি আক্ষেপ, তাদের হাতের লেখার জন্য এবং তাদের প্রতি আক্ষেপ, তাদের উপার্জনের জন্যে। [সুরা বাকারা: ৭৯]

        আর তাদের মধ্যে একদল রয়েছে, যারা বিকৃত উচ্চারণে মুখ বাঁকিয়ে কিতাব পাঠ করে, যাতে তোমরা মনে কর যে, তার কিতাব থেকেই পাঠ করছে। অথচ তারা যা আবৃত্তি করছে তা আদৌ কিতাব নয়। এবং তারা বলে যে, এসব কথা আল্লাহর তরফ থেকে আগত। অথচ এসব আল্লাহর তরফ থেকে প্রেরিত নয়। তারা বলে যে, এটি আল্লাহর কথা অথচ এসব আল্লাহর কথা নয়। আর তারা জেনে শুনে আল্লাহরই প্রতি মিথ্যারোপ করে। [সুরা ইমরান: ৭৮]

        তারা কালামকে তার স্থান থেকে বিচ্যুত করে দেয় এবং তাদেরকে যে উপদেশ দেয়া হয়েছিল, তারা তা থেকে উপকার লাভ করার বিষয়টি বিস্মৃত হয়েছে। আপনি সর্বদা তাদের কোন না কোন প্রতারণা সম্পর্কে অবগত হতে থাকেন, তাদের অল্প কয়েকজন ছাড়া। অতএব, আপনি তাদেরকে ক্ষমা করুন এবং মার্জনা করুন। আল্লাহ অনুগ্রহকারীদেরকে ভালবাসেন। [সুরা মায়েদা: ১৩]

        আসলে এর পর আর যুক্তি তর্কের কোন অবকাশ নাই। বা থাকলেও গ্রহনযোগ্য হবে না।

        1. সেই আল্লাহই আবার বলছে দেখুন –
          সেই আল্লাহই আবার বলছে দেখুন —

          সুরা ইউনুস- ১০: ৯৪:সুতরাং তুমি যদি সে বস্তু সম্পর্কে কোন সন্দেহের সম্মুখীন হয়ে থাক যা তোমার প্রতি আমি নাযিল করেছি, তবে তাদেরকে জিজ্ঞেস করো যারা তোমার পূর্ব থেকে কিতাব পাঠ করছে। এতে কোন সন্দেহ নেই যে, তোমার পরওয়ারদেগারের নিকট থেকে তোমার নিকট সত্য বিষয় এসেছে। কাজেই তুমি কস্মিনকালেও সন্দেহকারী হয়ো না।

          সেই কথিত বিকৃত বাইবেলকেই কোরান নিজের সাক্ষী মানছে। তাই না ?তার মানে কোরান নিজেই নিজের স্ববিরোধী কথা বলছে। সেটা কি বুঝতে পারেন ? নাকি আরবের বালুর মধ্যে মাথা গুজে বসে আছেন ? আর চোখ বন্দ করে বসে আছেন ?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 87 = 96