মডারেট মুসলমান ও জঙ্গীবাদ

মডারেট মুসলমান আজকের দিনের সবচেয়ে রহস্যে ঘেরা বিষয়। ইদানীংকালে একে আত্মঘাতী মুসলমানদের থেকে আলাদা করাই মুশকিল। কান টানলে যেমন মাথা আসে তেমনই জঙ্গীবাদী জিহাদী মুসলমানদের কথা বললে অবধারিত ভাবেই মডারেট মুসলমান প্রসঙ্গ আসতে বাধ্য। অবধারিতভাবেই আসে বলে এটা মনে করা কি দোষের যে মডারেট মুসলমান আর জঙ্গীবাদী জিহাদী মুসলমান একে অপরের পরিপূরক?

মডারেট মুসলমান আজকের দিনের সবচেয়ে রহস্যে ঘেরা বিষয়। ইদানীংকালে একে আত্মঘাতী মুসলমানদের থেকে আলাদা করাই মুশকিল। কান টানলে যেমন মাথা আসে তেমনই জঙ্গীবাদী জিহাদী মুসলমানদের কথা বললে অবধারিত ভাবেই মডারেট মুসলমান প্রসঙ্গ আসতে বাধ্য। অবধারিতভাবেই আসে বলে এটা মনে করা কি দোষের যে মডারেট মুসলমান আর জঙ্গীবাদী জিহাদী মুসলমান একে অপরের পরিপূরক?

সম্ভবত মডারেট মুসলমানরা উগ্রপন্থী জঙ্গীদের চেয়ে বেশী ভয়ংকর। একটা যদি খরগোশ হয় তাহলে অন্যটি কচ্ছপ, একটা যদি বন্দুক হয় তাহলে অন্যটি ধারালো ছুরি।দুটোই খারাপ কিন্তু মডারেট মুসলমানরা স্লো পয়জন। দেখা যায় না কিন্তু সর্বদা সর্বত্র উপস্থিত । জঙ্গীদের মেরে ফেলা যায় কিন্ত মডারেট মুসলমানদের কোন আকার আকৃতি তো নয়ই, কোন প্রকার প্যটার্নই নেই।এরা দ্রুত গতিতে পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নেয়। এই কারনে এরা অনেক বেশী বিপজ্জনক। এরা উপরেরটাও খায় আবার নিচেরটাও কুড়োয়। এরা মুসলিম বিজ্ঞানী দেখলে বুকের ছাতি ফুলায় আবার টুইন টাওয়ার হামলার পর চাপা পুলকও অনুভব করে। এরাই আবার ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ইচ্ছা থাকার পরেও নিজের ছেলের নাম ওসামা না রেখে জনি বা জেমস্ রাখে। এরাই নিজের ছেলেকে ধার্মিক হতে দেখলে হূরের স্বপ্নে বিছানা ভিজিয়ে ফ্যালে, কিন্তু ছেলেকে জঙ্গী হতে দেখলেই বুক চাপরায়ে মরে। এরাই আবার সবকিছুর ভেতরে মোসাদ, র, ইহূদী-নাসারা, পুজিবাদ, ইম্পেরিয়ালিজম, আমেরিকা জাতীয় শব্দযোগ আবিষ্কার করে বসেন।রং মেখে সং সাজা তো অনেক হলো, এবার একটু ক্ষ্যান্ত দ্যান প্লিজ। একবার একটু নিজের চেহারাটা আয়না নামক বস্তুতে দেখুন। আপনি বামুন হয়ে চাঁদ ধরার স্বপ্ন দেখতেই পারেন, কিন্তু তথাকথিত মিসকিন হয়ে আরবের শেখ সাজার ব্যার্থ চেষ্টা করে নিজেরে ভাঁড় বানানোর প্রতিযোগিতায় বার বার তৃতীয় শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হওয়া আর নিজের মুখে নিজেই থুথু মারার চেয়ে কোন অংশে কম না। ভাঁড় বানানোর প্রতিযোগিতায় অভিনয় করতে করতে এতটা স্বাভাবিক আর মেইনস্ট্রীম হয়ে গেছে যে মডারেট মুসলমানরা পশ্চিমী সাম্রাজ্যবাদ আর আরবীয় সাম্রাজ্যবাদের মধ্যেকার পার্থক্য পর্য্যন্ত ভুলতে বসেছেন। সাম্রাজ্যবাদের কোনো ভালো-মন্দ, সাদা-কালো নেই; সাম্রাজ্যবাদের স্বরূপই হচ্ছে সাম্রাজ্যবাদী । আরবীয় সাম্রাজ্যের একটা ভালো পোশাকী নামও আছে – “খেলাফত”; এটার বিশেষত্ব হচ্ছে এটা ইসলাম নামক ফয়েল পেপারে (Foil paper) মোড়ানো আর আশ্চর্য্য রকমের চতুর বিপনন কিন্তু অসত্য( smart marketing with misleading information ) তথ্যে ভরা- যেখানে বিক্রীত প্রোডাক্ট কখনও ফেরত নেয়া হয় না। এক্ষেত্রে উদাহরন হিসেবে বলা যেতে পারে ইসলাম ধর্মত্যাগকারীদের কথা- একমাত্র অপশন মৃত্যুদণ্ড।এক কথায় ঢোকার পথ আছে মাগার বেরোনোর পথ নাই।শুধুমাত্র এই একটি ইস্যুই আজকের দিনে ইসলামের অসারতা প্রমানের জন্য যথেষ্ট, যদিও এরকম শত শত ইস্যু ধামাচাপা দেওয়া হাজার বছর ধরে স্রেফ চাপাতির জোরে।ইদানীংকালের চাপাতির ঝনঝনানী ঐসব ইস্যুগুলোর ঝাকানি দেওয়ারই ফল মাত্র- সামনের দিনগুলিতে যা বাড়াবাড়ি রকমের বাড়বে বৈ কমবে না।

জঙ্গীবাদী জিহাদীদের এই বাড় বাড়ন্তের পুষ্টিকরন লুকিয়েই আছে মডারেট মুসলমানদের মৌন সমর্থনে।
মডারেট মুসলমানদেরই এইটা ঠিক করতে হবে তারা শুধুই উপরেরটাই খাবে-না শুধুই নিচেরটা কুড়োবে অথবা তেলাপোকা হয়ে জগতের বিবর্তনের সাক্ষী হবে- না ডাইনোসোর হয়ে ইতিহাসের পাতায় ঠঁ্যায় নেবে।

Dedicated to Susupto Pathok.

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

41 + = 42